চা-কফি থেকে শিশুর খাবার, দুধ লাগে প্রতিদিন। কিন্তু বাজারের দুধে পানি মেশানো আর ঘনত্ব বা ফেনা বাড়াতে ডিটারজেন্ট দেওয়ার অভিযোগে অনেকেরই সংশয় থাকে। ইত্তেফাক ডিজিটালের এক প্রতিবেদনে ঘরে বসে দুধে ডিটারজেন্টের সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি সহজ পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে, ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) যার কথা বলেছে।
পদ্ধতিটি এমন: পরিষ্কার কাচের গ্লাস বা ছোট বোতলে অল্প দুধ নিয়ে মুখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড ঝাঁকান, তারপর ওপরের অংশে ফেনা হচ্ছে কি না এবং তা কতক্ষণ থাকছে খেয়াল করুন। ঘন ফেনা দীর্ঘক্ষণ থাকলে ডিটারজেন্ট বা অন্য কিছু মেশানো হয়েছে কি না, সে সন্দেহ জাগতে পারে।
এর পেছনের যুক্তি হলো, পানি মেশালে দুধের ঘনত্ব ও স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বদলায়; ফেনা বাড়াতে কেউ ডিটারজেন্ট দিলে তার রাসায়নিক উপাদান তরলের পৃষ্ঠটান বদলে ফেনাকে স্থির রাখে।
তবে সতর্কতাও আছে। খাঁটি দুধেও ঝাঁকালে ফেনা হয়, আর চর্বির পরিমাণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে ফেনা কতক্ষণ থাকবে তাতে পার্থক্য হয়। তাই ফেনা দ্রুত মিলিয়ে গেলেই খাঁটি, বেশিক্ষণ থাকলেই ভেজাল, এমন সিদ্ধান্ত ঠিক নয়। এই পরীক্ষা কেবল প্রাথমিক ধারণা দেয়; ভেজাল নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করাতে হবে।
কেনার সময় বিশ্বস্ত বিক্রেতা বা মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আছে এমন প্রতিষ্ঠানের দুধ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্যাকেটজাত দুধে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ, উপাদানের তালিকা, লাইসেন্সের তথ্য ও সিল দেখুন; ছেঁড়া, ফুটো বা ফুলে ওঠা প্যাকেট এড়িয়ে চলুন। টেট্রা প্যাক হোক বা প্লাস্টিক, শুধু মোড়ক দেখে দুধকে নিরাপদ ধরা যায় না; মান নির্ভর করে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহের ওপর।
রং, গন্ধ বা স্বাদে অস্বাভাবিকতা থাকলে সে দুধ না খাওয়াই ভালো, শিশুদের তো নয়ই। সন্দেহ হলে খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন: ইত্তেফাক ডিজিটাল
ছবি: Janine Chedid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ইত্তেফাক




মন্তব্য
(০)