কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশ বিপুল পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করে, তবু গত পাঁচ বছরে সেখানে খাদ্য ব্যাংকের ব্যবহার দ্বিগুণ হয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে কৃষকেরা বড় ভূমিকা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ম্যানিটোবা কো-অপারেটরের মিরান্ডা লেবোর্ন।
২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হারভেস্ট ম্যানিটোবার (Harvest Manitoba) ২০২৫-২৬ সালের প্রতিবেদন বলছে, শুধু সে বছরের মার্চেই ৬১ হাজার ১৮৮ জন খাদ্য ব্যাংক থেকে খাবার নিয়েছেন, আর প্রতি মাসে যাঁরা খাদ্য ব্যাংকের ওপর নির্ভর করেন তাঁদের প্রায় অর্ধেক শিশু। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে বছরটি ছিল রেকর্ড: গড়ে প্রতি মাসে ২৪ হাজার ৮৮০টি পরিবার খাদ্য ব্যাংকে এসেছে। তারা দান ও উদ্ধার করা ৮৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড খাবার সংগ্রহ করেছে, যার মূল্য ৩ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার, আরও ৪৬ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড কিনেছে এবং ৪০০ খাদ্য ব্যাংক ও সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে বিতরণ করেছে।
হারভেস্ট ম্যানিটোবার প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী ভিন্স বারলেটা জানান, গত বছর বিতরণ করা ১ কোটি ৩৪ লাখ পাউন্ড খাবারের ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি এসেছে সরাসরি কৃষিখাত থেকে। শুধু পিক অব দ্য মার্কেট নামের প্রতিষ্ঠানটিই ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি সবজি সামলায়, আর খামার থেকে সরাসরি আসে আরও কয়েক লাখ পাউন্ড। মৌসুম অনুযায়ী আসে আলু, বাঁধাকপি, স্কোয়াশ, জুকিনি, গাজর ও পেঁয়াজ; মাশরুম ও গ্রিনহাউসের টমেটো আসে সারা বছর।
প্রাণিসম্পদ খাতও পিছিয়ে নেই। ম্যানিটোবা পর্ক বহু বছর ধরে স্থানীয় খাদ্য ব্যাংকে ফ্রিজার দিয়ে আসছে, যাতে শূকরের মাংসসহ হিমায়িত খাবার রাখা যায়। ম্যানিটোবা এগ ফার্মার্স ২০২০ সাল থেকে ডিম দিচ্ছে; ২০২৫ সালের মে মাসে তারা মাসিক দান ১,৮০০ ডজন থেকে বাড়িয়ে ৩,৬০০ ডজন করেছে, আর কয়েক বছরে মোট ১ লাখ ডজনের বেশি ডিম দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নিবন্ধিত গ্রেডিং কেন্দ্রে পরিদর্শন, শ্রেণিবিন্যাস ও প্যাকেট করার পর ডিম পৌঁছায় উইনিপেগের ৮৬টির বেশি খাদ্য ব্যাংক ও আরও ৪৫টি জনপদে। সংস্থার মহাব্যবস্থাপক জিলিয়ান আইনারসন বলেন, পুষ্টিকর, নানাভাবে রান্না করা যায় এবং পরিবারগুলোর চেনা বলে ডিম হারভেস্ট ম্যানিটোবায় সবচেয়ে বেশি চাওয়া খাবারের একটি।
তবে সব কৃষিপণ্য সরাসরি খাদ্য ব্যাংকে যেতে পারে না। কিস্টোন অ্যাগ্রিকালচারাল প্রডিউসার্সের (কেএপি) সভাপতি জিল ভারওয়ে বলেন, শস্য, ক্যানোলা ও গবাদিপশুর মতো কৃষকের উৎপাদনের বড় অংশ সরাসরি খাদ্য ব্যাংকে দেওয়া যায় না, আর অনেক খামার শহর থেকে দূরে। কেএপি প্রস্তাবিত ম্যানিটোবা ফুড ট্রান্সফরমেশন সেন্টারকে সমর্থন করছে: ১ লাখ বর্গফুটের এই কেন্দ্রে থাকবে দ্রুত হিমায়ন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, হিমাগার ও বিতরণের ব্যবস্থা। হারভেস্ট ম্যানিটোবার হিসাবে প্রদেশে বছরে ১২ লাখ টন খাবার নষ্ট হয়, সেটিই এর লক্ষ্য।
প্রাদেশিক সরকারের এক মুখপাত্র জানান, দান ও উদ্ধার করা খাবারের আলাদা তথ্য তাঁদের কাছে নেই। তাঁর মতে, পচনশীল উদ্বৃত্ত খামার ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাদ্য ব্যাংকে পৌঁছাতে অবকাঠামো, পরিবহন ও সমন্বয়ই সবচেয়ে বড় সমস্যা। ম্যানিটোবা কৃষি বিভাগ হারভেস্ট ম্যানিটোবার খাদ্য রূপান্তর কমিটিতে ছিল, আর প্রদেশের ফুড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার খাদ্য অপচয় কমানোর কাজে সংস্থাটির সঙ্গে পরীক্ষামূলক কাজ করেছে।
ছবি: Trevor Bauer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Manitoba Co-operator




মন্তব্য
(০)