ঘুমানোর আগে ফোন দেখা আর জেগেই ফোন চেক করা এখন অনেকের অভ্যাস; কেউ বালিশের পাশে, কেউ চার্জে রেখেই ঘুমান। ইত্তেফাক ডিজিটালের এক প্রতিবেদন বলছে, এই অভ্যাসের আসল ঝুঁকি ঘুমের মান আর চার্জ দেওয়ার সময়কার নিরাপত্তায়।
বিকিরণ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও শুধু বিছানার পাশে ফোন রাখলেই ক্যানসার হয়, এমন প্রমাণ মেলেনি। ফোন থেকে বের হয় রেডিওফ্রিকোয়েন্সি শক্তি, যা নন-আয়োনাইজিং বিকিরণ; এক্স-রের মতো ডিএনএ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করার শক্তি এর নেই। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (আইএআরসি) একে 'সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী' গ্রুপ ২বি-তে রেখেছে, তবে তার মানে ফোন ক্যানসারের কারণ, এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে তা নয়; পরের গবেষণাতেও ফোন ব্যবহার ও মস্তিষ্কের টিউমারের নিশ্চিত কার্যকারণ সম্পর্ক মেলেনি।
ঘুমের ক্ষতি অবশ্য স্পষ্ট। স্ক্রিনের নীল আলো শরীরের ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমে প্রভাব ফেলে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণ কমাতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে স্ক্রল বা ভিডিও দেখায় মস্তিষ্ক সজাগ থাকে। কল, বার্তা আর ভাইব্রেশনে ঘুম বারবার ভাঙলে দিনে ক্লান্তি, বিরক্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়।
প্রতিবেদনের পরামর্শ: ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে ফোন বন্ধ রাখুন, 'ডু নট ডিস্টার্ব' বা সাইলেন্ট মোড চালু করুন, জরুরি কলের অনুমতি রেখে ফোন বালিশ থেকে কিছুটা দূরে রাখুন। নাইট মোড নীল আলো কিছুটা কমায়, তবে দীর্ঘ ব্যবহারের প্রভাব পুরো দূর করে না।
সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি চার্জের সময়। বালিশ, কম্বল বা তোশকের নিচে চার্জ দিলে তাপ বের হতে পারে না; ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাটারি বা ত্রুটিপূর্ণ চার্জার-তারে যা আরও বাড়ে। তাই চার্জের সময় ফোন দাহ্য জিনিস থেকে দূরে শক্ত, সমতল জায়গায় রাখা এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশিত চার্জার ব্যবহার জরুরি।
প্রতিবেদন: ইত্তেফাক ডিজিটাল
সূত্র: ইত্তেফাক




মন্তব্য
(০)