সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

হাওরের চার জেলায় বন্যার পূর্বাভাস, নেত্রকোনায় পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা

২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ৭ মে পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা হতে পারে এবং নেত্রকোনার হাওরে চলমান বন্যার অবনতি হতে পারে।

হাওরের চার জেলায় বন্যার পূর্বাভাস, নেত্রকোনায় পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা
পরিবেশ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার জানায়, পরবর্তী সাত দিনে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চার জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে নেত্রকোনার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও রয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকস্মিক বন্যা নিয়ে কেন্দ্রের সাত দিনের ধারণাগত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসটি এমন সময়ে আসে, যখন হাওরের কৃষকেরা বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান ঘরে তুলতে প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন।

সাত দিনের পূর্বাভাসে যা বলা হয়


পূর্বাভাসে বলা হয়, ৩০ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও সীমান্তের ওপারের উজান এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে মোট ১৫০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে অববাহিকার প্রধান নদীব্যবস্থা সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংসের পানি সমতল বাড়তে পারে। এতে নেত্রকোনা জেলার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতি কীভাবে সহজ হতে পারে, সেটিও কেন্দ্র জানায়। সপ্তাহের শেষ দিকে বৃষ্টিপাত কমে এলে নদ-নদীর পানি কমে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

ইতিমধ্যে যা ঘটেছে, পূর্বাভাসে তারও বিবরণ ছিল। ২৭ এপ্রিল থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভুগাই-কংস, সোমেশ্বরী, মথরা ও সুতাং নদী প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, এবং এতে নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যের বরাতে কেন্দ্র জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে আগের সাত দিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমা বর্ষাকালের বিপৎসীমা নয়। কেন্দ্রের বুলেটিন নিয়ে ২৯ এপ্রিলের প্রতিবেদনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড একে বোরো ফসল রক্ষার জন্য নির্ধারিত একটি মৌসুমি সীমা হিসেবে ব্যাখ্যা করে। এপ্রিল ও মে মাসে মূল চিন্তা হাওরের নিচু মাটির বাঁধের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা পাকা ও আধাপাকা ধান।

এক সপ্তাহ ধরে বাড়তে থাকা সতর্কবার্তা


৩০ এপ্রিলের পূর্বাভাস ছিল এক সপ্তাহেরও বেশি আগে শুরু হওয়া ধারাবাহিক সতর্কবার্তার সর্বশেষটি। ২১ এপ্রিল পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয় নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে যেসব জমির প্রায় ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে, সেসব জমির ধান কেটে ফেলার অনুরোধ জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পাউবোর তথ্য অনুযায়ী সুরমা, কুশিয়ারা ও বাউলাইসহ বিভিন্ন নদীর উজান এলাকায় বৃষ্টিপাত বেড়েছে, নদ-নদীর পানি বাড়ছে এবং আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়তে পারে। যেকোনো সময় আগাম বন্যা পরিস্থিতি এবং হাওরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, সেদিন পর্যন্ত সুনামগঞ্জের হাওরে ২১ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমির বোরো ধান কাটা হয়েছিল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এ খবর দেয়।

২৭ এপ্রিল, সোমবারের নিয়মিত বুলেটিনে কেন্দ্র জানায়, সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হাওর অববাহিকা ও উজানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে, এবং পরের তিন দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর প্রভাবে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চলে বন্যা হতে পারে, এবং বুধবারের মধ্যে সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই ও জুড়ি নদী ও এদের প্রধান উপনদীগুলোর পানি দ্রুত বেড়ে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। তবে সেদিন সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাইয়ের পানি আগের ২৪ ঘণ্টায় কমেছিল, আর ভুগাই-কংসের পানি বাড়লেও তখনো বিপৎসীমার নিচে ছিল। কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা মূলত তিন দিনের জন্য সতর্কতা বার্তা দিয়েছি। বুধবার থেকে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এই বন্যা বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। বৃষ্টিপাত কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।”

২৮ এপ্রিল, মঙ্গলবার কেন্দ্র জানায়, সুরমা, কুশিয়ারা, ধনু, বাউলাই, ভুগাই ও কংস নদীর পানি বেড়েছে এবং আগামী তিন দিন আরও বাড়তে পারে। হাওরাঞ্চলের সম্ভাব্য বন্যা কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকির জন্য পাউবো একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলে, যার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর রহমান। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কক্ষ থেকে পাউবোর মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোর বন্যার তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার করার কথা জানানো হয়। সেদিন ভোরেই সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বাঁধ ভেঙে ইকড়াছই হাওরে পানি ঢুকতে থাকে, এতে প্রায় ৬৪ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

২৮ এপ্রিল সন্ধ্যার বুলেটিনে নদীর পানি কত দ্রুত বাড়ছিল, তা স্পষ্ট হয়। মৌলভীবাজারের মনু নদী মৌলভীবাজার পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ১১০ সেন্টিমিটার এবং নেত্রকোনার ভুগাই-কংস নদী জারিয়াঝাঞ্জাইল পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। বুলেটিনে বলা হয়, মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলো দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে এবং যাদুকাটা নদী তিন দিনের মধ্যে বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে; সারিগোয়াইন নদী সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। সোমেশ্বরী দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনে সতর্কসীমায় পৌঁছে কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে, আর নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ধনু-বাউলাই অববাহিকার নদীগুলো সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে, বাউলাই কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সিলেট অঞ্চলসহ সারা দেশে আরও তিন-চার দিন বৃষ্টি চলতে পারে, সিলেট অঞ্চলে এক-দুই দিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, সারা দেশে আরও কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি চলবে এবং হাওরের উজানে আসাম ও মেঘালয়েও বৃষ্টি হচ্ছে।

নেত্রকোনার পূর্বধলায় দেওটুকুন ফেরিঘাটের কাছে কংস নদ, ২০১৮ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: Salim_Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
নেত্রকোনার পূর্বধলায় দেওটুকুন ফেরিঘাটের কাছে কংস নদ, ২০১৮ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: Salim_Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ধান কাটা শেষের আগেই পানির নিচে খেত


ধান কাটা শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টি আসে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) বরাতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২৯ এপ্রিল জানায়, হাওরাঞ্চলে ৫৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। শ্রমিকসংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে পাকা ধানও কৃষকেরা কাটতে পারছিলেন না, আর মাঠে থাকা ধানের প্রায় ১৭ শতাংশ বন্যার ঝুঁকিতে ছিল। নেত্রকোনার খালিয়াজুরির কাদিরপুর হাওরের এক কৃষক পত্রিকাটিকে জানান, তাঁর প্রায় আড়াই একর জমির বেশির ভাগ ধান কোমরসমান পানির নিচে, আর যে ধান কেটেছেন তা-ও শুকাতে পারছেন না।

প্রথম আলো ২৭ এপ্রিল জানায়, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২৫ এপ্রিল শনিবার পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২২৮ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছিল, অতিবৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতায় ৫ হাজার ৫০ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছিল এবং তখনো ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৮২ হেক্টর জমিতে ধান রয়ে গিয়েছিল। মাঠের ধানের অর্ধেক তখনো পাকেনি, কারণ মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় ধান পাকতে বেশি সময় নিচ্ছিল। জেলায় ৬০২টি কম্বাইন হারভেস্টার থাকলেও জলাবদ্ধতায় অনেক জায়গায় সেগুলো দিয়ে ধান কাটা কঠিন হচ্ছিল। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক পত্রিকাটিকে বলেন, ‘এখন জমিতে ফসল থাকা মানেই ঝুঁকি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকাতে সমস্যা হচ্ছে।’ তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, শতভাগ ধান কাটতে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

দৈনিক ইত্তেফাক ৩০ এপ্রিল জানায়, ২৯ এপ্রিল বুধবার সকালে সুনামগঞ্জের বোলাই নদীর পাশের একটি খালের বাঁধ ভেঙে জিনারিয়া হাওরের ফসলি জমি তলিয়ে যায়। উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, হাওরের ২৬ হেক্টর জমির মধ্যে বাঁধ ভাঙার আগেই জলাবদ্ধতায় ৮ হেক্টর তলিয়ে ছিল, বাঁধ ভাঙার পর আরও প্রায় ৩ হেক্টর পানির নিচে চলে যায়। দোয়ারাবাজার উপজেলার নাইন্দার হাওর, কাংলার হাওর, দেখার হাওর ও কনস্কাই বিলসহ বেশির ভাগ হাওর টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় বলে পত্রিকাটির সংবাদদাতা জানান।

নেত্রকোনার পাঁচ হাওর উপজেলা মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরি, কলমাকান্দা ও আটপাড়ায় এবার ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। কৃষি বিভাগের মতে, বুধবার পর্যন্ত এর প্রায় ৬৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছিল এবং তাদের হিসাবে ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যায়; স্থানীয় সংবাদদাতারা তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার হেক্টর বলে জানান, আর কৃষকদের মতে তখন পর্যন্ত ৫০ ভাগ ধান কাটা গিয়েছিল। কলমাকান্দার সোনাডুবি, সাইডুবি, পেটকি, মহিশাশুরা, গোরাডোবা ও আঙ্গাজুরাসহ কয়েকটি হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে, এবং উপজেলা প্রশাসন ২৮ এপ্রিলের মধ্যে ধান কাটার জন্য মাইকিং করে। ধান কাটা শুরুর সময়, ১৮ এপ্রিল, নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আমিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন, হাওরের প্রায় ১৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে এবং সাড়ে ৪০০ হারভেস্টার মাঠে নামানো হয়েছে; পুরো জেলায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিল।

ইত্তেফাকের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার সব নদ-নদীর পানি বেড়ে ৩৯টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা বোরো ধান ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি তলিয়ে গেছে; ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা, শায়েস্তাগঞ্জ ও সদর উপজেলার মাছুলিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছিল, আর কুশিয়ারা, কালনী-কুশিয়ারা, সুতাং ও সোনাই নদীর পানি দ্রুত বাড়ছিল। মৌলভীবাজারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন; জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছিল এবং কুশিয়ারা, মনু ও ধলাই নদীর পানি বাড়ছিল। হাকালুকি হাওরে জেলা প্রশাসন জানায়, ২৭ হাজার ৩৫০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২২ হাজার ৪০৯ হেক্টর, অর্থাৎ ৮২ শতাংশ জমির বোরো ধান কাটা হয়েছে, যদিও কৃষকেরা বলছিলেন, বাড়তে থাকা পানিতে পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে।

মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার কয়েকটি উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি, ২০১৯ সালের আগস্টে তোলা। ছবি: Khowshik Bhowmik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার কয়েকটি উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি, ২০১৯ সালের আগস্টে তোলা। ছবি: Khowshik Bhowmik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

শ্রমিক, যন্ত্র ও ধানের দাম


ধান কাটার শুরু থেকে কৃষকেরা যেসব সমস্যার কথা বলছিলেন, বন্যার শঙ্কা সেগুলোকে আরও তীব্র করে। দেশ রূপান্তর ১৮ এপ্রিল নেত্রকোনা থেকে জানায়, একসময় ধান কাটার মৌসুমে দিনাজপুর, যশোর, বগুড়া ও উত্তরবঙ্গ থেকে দলে দলে শ্রমিক হাওরে আসতেন, কিন্তু যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের কারণে এখন আর আগের মতো শ্রমিক মেলে না। সরকার ও কৃষি বিভাগ কম্বাইন হারভেস্টারের ওপর জোর দিলেও কৃষকদের অভিযোগ, প্রত্যন্ত হাওরে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় মাঠের মাঝখানে যন্ত্র অচল পড়ে থাকছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার ব্রি ধান২৮ ও ব্রি ধান২৯ এর মতো স্বল্পমেয়াদি জাতের বদলে হাইব্রিড জাতের আবাদ বেশি হয়, এবং কৃষকেরা জানান, প্রতি ১০ শতাংশ জমিতে ৬ থেকে ৮ মণ ধান হচ্ছে। হাইব্রিড মোটা ধান প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল; প্রান্তিক কৃষকেরা বলেন, সার ও ডিজেলের দাম বাড়ায় মণপ্রতি অন্তত হাজার টাকা না পেলে তাঁদের লোকসান হবে।

সুনামগঞ্জেও একই হিসাব শোনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। দিরাই উপজেলার কৃষকেরা জানান, মিলমালিকেরা ৮০০ টাকা মণ দরে ধান কিনছেন, অথচ ধান কাটতে একজন শ্রমিককে দিতে হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা; জমিতে পানি জমে থাকা ও রাস্তা খারাপ হওয়ায় এক কিয়ার (স্থানীয় হিসাবে ২৮ শতাংশ) জমির ধান কেটে ঘরে তুলতে অন্তত আটজন শ্রমিক লাগে। সিলেট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান জানান, ধানের সরকারি দর মণপ্রতি ১ হাজার ৪৪০ টাকা, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে সরকারি ধান সংগ্রহ শুরু হওয়ার কথা, আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সব ধান কাটা সম্ভব হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জামাল উদ্দীন বলেন, বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে এবং হারভেস্টার দিয়েও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

কালবৈশাখীর কালো মেঘের নিচে কাটা বোরো ধান মাথায় নিয়ে যাচ্ছেন কৃষকেরা, গ্রামবাংলা, ২০২২ সালের মে; প্রসঙ্গচিত্র। ছবি: ZahidTushar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কালবৈশাখীর কালো মেঘের নিচে কাটা বোরো ধান মাথায় নিয়ে যাচ্ছেন কৃষকেরা, গ্রামবাংলা, ২০২২ সালের মে; প্রসঙ্গচিত্র। ছবি: ZahidTushar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

হাওর অববাহিকা ও এর নদ-নদী


বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, হাওর হলো ভূ-আলোড়নে সৃষ্ট বিশাল গামলাকৃতির নিম্নভূমি, যা বর্ষায় নদী ও খালের পানিতে বিস্তীর্ণ জলাশয়ে পরিণত হয় এবং বর্ষার পরে বেশির ভাগই শুকিয়ে যায়। ‘হাওর’ শব্দটি সংস্কৃত ‘সাগর’ শব্দের আঞ্চলিক রূপ। বাংলাদেশে হাওর মূলত বৃহত্তর সিলেট ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে। এ অববাহিকার উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়, দক্ষিণে ত্রিপুরা ও মিজোরামের পাহাড় এবং পূর্বে মণিপুরের উচ্চভূমি। অববাহিকায় প্রায় ৪৭টি বড় হাওর ও প্রায় ৬ হাজার ৩০০ বিল আছে, যার প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি স্থায়ী। বর্ষায় এখানে ৬ মিটার পর্যন্ত গভীর বন্যা হয় এবং সমভূমি সাত থেকে আট মাস পানির নিচে থাকে; শুকনো মৌসুমে পানি নেমে বিলে জমে, আর উন্মুক্ত উর্বর পলিমাটিতে ব্যাপকভাবে ধান চাষ হয়।

বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের ২০১২ সালের ‘মাস্টার প্ল্যান অব হাওর এরিয়া’ অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এই সাত জেলায় ৩৭৩টি হাওর রয়েছে, যার আয়তন প্রায় ৮ লাখ ৫৯ হাজার হেক্টর, অর্থাৎ এসব জেলার মোট আয়তনের প্রায় ৪৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ফ্রেশওয়াটার বায়োডাইভারসিটি পোর্টালে মাস্টার প্ল্যানের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, বৃহত্তর হাওর অঞ্চলের আয়তন প্রায় ১৯ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর এবং এখানে প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বাস। সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকির আয়তন প্রায় ১৮১ বর্গকিলোমিটার; মৌলভীবাজার ও সিলেটের পাঁচ উপজেলায় বিস্তৃত এ হাওরে ২৩৮টির বেশি পরস্পর সংযুক্ত বিল আছে।

পূর্বাভাসে যেসব নদীর নাম এসেছে, সেগুলো একটি সংযুক্ত ব্যবস্থার অংশ। বাংলাপিডিয়া জানায়, ভারত থেকে আসা বরাক নদী সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলসিদে দুই ভাগ হয়ে উত্তর-পশ্চিমে সুরমা ও দক্ষিণ-পশ্চিমে কুশিয়ারা নাম নেয়; বরাকের প্রবাহের প্রায় ৮৫ শতাংশ এখন কুশিয়ারা দিয়ে যায়। সুরমা মেঘালয় মালভূমি থেকে দক্ষিণে নেমে আসা কয়েকটি নদীর পানি পায়, যার মধ্যে যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও কংস রয়েছে। কংস নদ ভারতের তুরার কাছে গারো পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে সোমেশ্বরীর সঙ্গে মেলে; দুটির মিলিত প্রবাহ বাউলাই নামে পরিচিত। মোহনগঞ্জের দক্ষিণে একটি পশ্চিমা ধারা ওপরের অংশে ধনু, মাঝখানে বাউলাই এবং নিচে ঘোড়াউত্রা নামে কুলিয়ারচরের কাছে মেঘনায় মেশে। মনু ও খোয়াই নদী এসেছে ত্রিপুরার পাহাড় থেকে: মনু মৌলভীবাজারের মনুমুখে কুশিয়ারায় মেশে, আর খোয়াই হবিগঞ্জের বাল্লা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

পূর্বাভাসে আলাদা করে উল্লেখ করা নেত্রকোনা জেলা ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত, আয়তন ২ হাজার ৭৯৪.২৮ বর্গকিলোমিটার; এর উত্তরে ভারতের মেঘালয় ও পূর্বে সুনামগঞ্জ। জেলার প্রধান নদীর মধ্যে আছে ধনু, ঘোড়াউত্রা ও সোমেশ্বরী, আর দশ উপজেলার মধ্যে কলমাকান্দা আয়তনে সবচেয়ে বড়। সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার আয়তন ২ হাজার ৫৭৪.৭ বর্গকিলোমিটার; এর উত্তরে সুনামগঞ্জ এবং দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য।

মেঘালয়ের বৃষ্টি কেন গুরুত্বপূর্ণ


হাওরের কৃষকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সীমান্তের ওপারে। ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদনে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জের বৃষ্টির চেয়ে ভারতের চেরাপুঞ্জির বৃষ্টি হাওরের ধানের জন্য বেশি ঝুঁকি তৈরি করে, কারণ উজানের পাহাড়ি ঢলে দ্রুত হাওর তলিয়ে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুনামগঞ্জের বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়, কিন্তু উজানের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদীগুলো ভরে হাওরে পানির চাপ বাড়ায় এবং বাঁধ ভেঙে ফসলহানি ঘটে। তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকেও বলেন, চেরাপুঞ্জিসহ উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে, যা হাওরে চাপ সৃষ্টি করবে।

চেরাপুঞ্জি, যার আরেক নাম সোহরা, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ইস্ট খাসি হিলস জেলার একটি শহর। একে প্রায়ই পৃথিবীর সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল স্থান বলা হতো; এখন সে খেতাব কাছের মৌসিনরামের। তবে এক মাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড, ১৮৬১ সালের জুলাইয়ে ৯ হাজার ৩০০ মিলিমিটার, এবং এক বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড, ১৮৬০ সালের আগস্ট থেকে ১৮৬১ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৬ হাজার ৪৬১ মিলিমিটার, এখনো চেরাপুঞ্জির। বাংলাপিডিয়া জানায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নেমে আসা পাহাড়ি অববাহিকাগুলোতে আকস্মিক বন্যা হয়, যা সাধারণত স্বল্পস্থায়ী কিন্তু কখন ও কতটা তীব্র হবে তা অনুমান করা কঠিন; আকস্মিক বন্যায় পানি হঠাৎ বাড়ে এবং হঠাৎ কমে।

২৯ এপ্রিল মোঙ্গাবে লেখে, মেঘালয়ের পাদদেশে ভারী বৃষ্টির পানি আন্তসীমান্ত নদী দিয়ে নেমে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওরে বন্যা ঘটায়, এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীর তলদেশ ভরাট হওয়া বন্যার প্রভাব বাড়াচ্ছে। প্রতিবেদনটি বলে, সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ইতিমধ্যে মে মাসের দিকে সরে আসছে, ফলে মার্চ থেকে মে মাসের প্রাক-বর্ষা মৌসুমে হাওরে স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে। হিজল ও করচের জলাবন এবং নলখাগড়ার বন উজাড় হওয়ায় হাওরে ঢোকা পানির গতি কমানোর প্রাকৃতিক বাধাও হারিয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদী। ছবি: Saimon Chandra Shil / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদী। ছবি: Saimon Chandra Shil / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বছরে একটি ফসল এবং ২০১৭ সালের স্মৃতি


হাওরের জেলাগুলোর কাছে বোরোই বছরের ফসল। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যের বরাতে জানায়, দেশের বেশির ভাগ চাল উৎপাদন হয় বোরো মৌসুমে, যার প্রায় ২০ শতাংশ আসে হাওরভুক্ত সাত জেলা থেকে। ২০২৬ সালের মৌসুমে এই সাত জেলায় ৯ লাখ ৬৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়, যার ৪ লাখ ৫৫ হাজার হেক্টর হাওরে এবং ৫ লাখ ৮ হাজার হেক্টর হাওরের বাইরে। কৃষি কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানান, শুধু সুনামগঞ্জে বছরে চালের চাহিদা সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন আর উৎপাদন সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন; উদ্বৃত্ত প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন যুক্ত হয় জাতীয় খাদ্যভান্ডারে। জেলায় উৎপাদিত বোরো ধানের দামই প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

কৃষকদের আতঙ্কের পেছনে ছিল অভিজ্ঞতা। প্রথম আলো স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০১৭ সালে অকালবন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে সুনামগঞ্জের হাওরের সব ফসল তলিয়ে যায়। জেলায় খাদ্যসংকট দেখা দেয়, দেশে চালের দাম বেড়ে যায়, এবং সরকার জেলার প্রায় ২ লাখ কৃষক পরিবারকে টানা এক বছর খাদ্যসহায়তা দেয়। দেশ রূপান্তর লেখে, ২০১৭, ২০২০ ও ২০২২ সালের আগাম পাহাড়ি ঢলের স্মৃতি এখনো নেত্রকোনার হাওরবাসীর মনে; সেসব বছরে গোলায় ওঠার আগেই হেক্টরের পর হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গিয়েছিল। মোঙ্গাবে জানায়, ২০২২ সালের বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার ৯৪ শতাংশ এবং সিলেট জেলার ৮৪ শতাংশের বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় একই প্রতিবেদনে প্রথম আলোকে বলেন, হাওরের কৃষকেরা জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তায় ভূমিকা রাখেন, কিন্তু ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় তাঁদের ঘুম নেই; এই সংকট মোকাবিলায় পরিকল্পিত উদ্যোগ দরকার।

ফসল রক্ষা বাঁধ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র


হাওরের ফসল রক্ষা করে মাটির ডুবন্ত বাঁধ, যা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে নির্মাণ ও মেরামত করা হয়। দেশ রূপান্তর জানায়, নেত্রকোনায় পাউবো এবার প্রায় সাড়ে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯১টি পিআইসির মাধ্যমে ১৪৬ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ মেরামত ও নির্মাণ করে, এবং পাউবোর কর্মকর্তারা আশা করছিলেন, বাঁধগুলো অন্তত এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত পাহাড়ি ঢল ঠেকিয়ে রাখতে পারবে। একই প্রতিবেদনে পরিবেশবিদেরা বলেন, প্রতিবছর অপরিকল্পিতভাবে নদী বা খালের পাড় থেকে মাটি তুলে বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে ও নাব্য কমছে, ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে; স্থায়ী সমাধান হিসেবে তাঁরা নদী খনন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দেন।

প্রথম আলো জানায়, সুনামগঞ্জে পাউবো এবার ১৪৫ কোটি টাকা প্রাক্কলন ধরে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করে। মামুন হাওলাদার ২৬ এপ্রিল বিকেলে সতর্ক করেন, বৃষ্টিতে ফসল রক্ষা বাঁধের মাটি এমনিতেই দুর্বল হয়ে আছে, উজানের ঢল নামলে সেই চাপ অনেক বাঁধ সামলাতে পারবে না। মোঙ্গাবে জানায়, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় পাগনার হাওর ও কানাইখালী নদীর চারপাশে সাতটি সমাজভিত্তিক করচবন স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আকস্মিক বন্যার তোড় থেকে রক্ষা করে আসছে।

৩০ এপ্রিলের পূর্বাভাস দেওয়া বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় কাজ করে। কেন্দ্রটি নদ-নদীর পানি সমতল নিয়ে নিয়মিত বুলেটিন দেয় এবং প্রাক-বর্ষা মৌসুমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস প্রকাশ করে, যেমন ৩০ এপ্রিলের এই সাত দিনের পূর্বাভাস।

ছবি: Redmin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দৈনিক ইত্তেফাক, দেশ রূপান্তর, মোঙ্গাবে, বাংলাপিডিয়া, ফ্রেশওয়াটার বায়োডাইভারসিটি পোর্টাল অব বাংলাদেশ (মাস্টার প্ল্যান অব হাওর এরিয়া, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড, ২০১২), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)