একই কলোনির সুস্থ প্রবালের সংস্পর্শে কয়েক দিন রাখলে মৃত্যুর মুখে থাকা বিবর্ণ প্রবাল আবার বেঁচে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এ পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউরোনিউজ। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে।
সমুদ্রের পানি বেশি গরম হলে প্রবাল তার শক্তির বড় উৎস আণুবীক্ষণিক শৈবাল বের করে দেয়। এটিকে বলে বিবর্ণ হওয়া বা ব্লিচিং, যাতে প্রবাল অনাহারে পড়ে। এরপর সেরে উঠতে মাস বা বছর লাগে, কখনো সারেই না। গবেষণার প্রধান লেখক, স্ট্যানফোর্ডের পিএইচডি শিক্ষার্থী ড্যানি কলিন্স (Danny Collins) বলেন, বিবর্ণ প্রবাল হয়তো মারা যাচ্ছে, কিন্তু এখনো মরে যায়নি।
আবিষ্কারটি ঘটে দৈবক্রমে, ২০২৫ সালে। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী স্টিভ পালুম্বি (Steve Palumbi) গবেষণাগারের ট্যাংকে দেখেন, একটি সুস্থ প্রবালের গায়ে পড়ে থাকা বিবর্ণ টুকরাটি যেখানে ছুঁয়ে আছে, সেখানে রং ফিরছে। এরপর কলিন্স একই কলোনির সুস্থ ও বিবর্ণ টুকরার ১০টি জোড়া সাজান: পাঁচটি গায়ে গায়ে, পাঁচটি কয়েক মিলিমিটার দূরে। সাত সপ্তাহের মধ্যে গায়ে লাগানো পাঁচটি বিবর্ণ টুকরাই সেরে ওঠে; দূরে রাখাগুলো মারা যায়। অণুবীক্ষণে দেখা যায়, প্রবাল দুটি জুড়ে গিয়ে সরু নালি তৈরি করেছে, যা দিয়ে শৈবাল ও পুষ্টি এক থেকে অন্যটিতে যায়। তিন দিনের মধ্যে শৈবাল বিবর্ণ প্রবালে ঢুকতে শুরু করে, আর দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রতি চার দিনে দ্বিগুণ হয়, যা প্রকৃতির প্রবালের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ দ্রুত।
তবে পদ্ধতিটি এখনই প্রবাল প্রাচীরে প্রয়োগের উপযোগী নয়, কারণ টিস্যু জুড়তে হলে প্রবাল দুটিকে জিনগতভাবে অভিন্ন হতে হয়। সরাসরি স্পর্শ ছাড়াই শৈবাল পৌঁছানোর উপায় খুঁজছেন গবেষকেরা। গ্লোবাল কোরাল রিফ মনিটরিং নেটওয়ার্কের হিসাবে চার দশকে বিশ্বের প্রবাল প্রাচীর জীবন্ত প্রবালের প্রায় ১০ শতাংশ হারিয়েছে, শুধু ২০২৩-২০২৪ সালের বৈশ্বিক বিবর্ণতায় হারিয়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। পালুম্বি বলেন, এটি সেরে ওঠার গল্প, তাপপ্রবাহ ঠেকানোর নয়; তাপপ্রবাহ কমানোই জরুরি।
বঙ্গোপসাগরের মৎস্যজীবী জনগোষ্ঠীর জন্যও প্রবাল প্রাচীর গুরুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনসের আশপাশেও।
ছবি: J. Roff / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)