ভারতের শহরগুলোতে শব্দদূষণ গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি, অথচ তা খুব কমই মাপা হয়। পুনের গণেশ উৎসবে ডিজে ও উচ্চক্ষমতার সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে বিতর্কের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে বলে মোঙ্গাবে ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন গবেষক ও আন্দোলনকর্মীরা। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাসিন্দাদের কঠোর প্রয়োগের দাবির পর একটি সংসদীয় কমিটি শব্দ ও আলোদূষণ পর্যালোচনা করে, আর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন মহারাষ্ট্রের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কাছে নিয়ম ভঙ্গের বিষয়ে প্রতিবেদন চায়।
নেদারল্যান্ডসের ইউএমসি উট্রেখটের সহযোগী অধ্যাপক ড্যানিয়েলা ভিয়েনো (Danielle Vienneau) বলেন, শব্দ যে নিছক বিরক্তি নয়, হৃদ্রোগের গুরুতর কারণ, তা অনেক দিন ধরেই জানা। ২০২৩ সালের একটি পর্যালোচনায় নিয়মিত উচ্চ শব্দের সঙ্গে শ্রবণশক্তি হারানো, হৃদ্স্বাস্থ্যের অবনতি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মানসিক চাপ, এমনকি প্রজননজনিত জটিলতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় আছে ঘুমের ব্যাঘাত, কাজ ও পড়াশোনায় খারাপ ফল, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা।
আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, মুম্বাইয়ের পরিবেশকর্মী সুমাইরা আবদুলালি (Sumaira Abdulali) ২০০৩ সাল থেকে শহরের শব্দ মাপছেন। তাঁর হিসাবে বাইরের শব্দ গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, মোটরসাইকেলের হর্ন ১১০ ডেসিবেল পর্যন্ত, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল বা তার কম; উৎসবে আতশবাজির শব্দ উঠেছে ১৪৫ ডেসিবেলে। ভারতে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিশেষ অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্য স্থানে উচ্চ শব্দে গান, আতশবাজি ও শিল্পের শব্দ নিষিদ্ধ, আর মহারাষ্ট্রের মতো দূষণ পর্ষদ এখন নিয়মিত শব্দ মাপে; তবে সে তথ্য ভালো গবেষণার জন্য যথেষ্ট নয়।
বুলগেরিয়ার প্লভদিভ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. অ্যাঞ্জেল জাম্বভ (Angel Dzhambov) বলেন, মানুষ দিনভর নানা জায়গায় চলাফেরা করে বলে কে কতটা শব্দের মধ্যে থাকে তা মাপা কঠিন; আর শব্দের মানচিত্র তৈরির মডেল ব্যয়বহুল, বায়ুদূষণের মডেলের মতো পুরো দেশের জন্য তা পাওয়াও যায় না। স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে বেশির ভাগ গবেষণা এখনো ইউরোপের। আন্দোলনকর্মীদের মতে, বিদ্যমান নিয়মের প্রয়োগই অগ্রগতির চাবিকাঠি। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অদিতি ট্যান্ডন (Aditi Tandon)।
বিশ্বের অন্যতম কোলাহলপূর্ণ শহর হিসেবে বারবার তালিকায় আসা ঢাকাও হর্ন, নির্মাণকাজ ও দুর্বল আইনপ্রয়োগের একই সমস্যায় ভুগছে।
ছবি: Yann / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: মোঙ্গাবে ইন্ডিয়া





মন্তব্য
(০)