কৃষি সচিবের সরকারি বাসভবনে ছাদকৃষি
কৃষি সচিবের সরকারি বাসভবনের ছাদে চলছে ফল ফসলের আবাদ। সেখানে ছাদকৃষি উদ্যোক্তা সচিব স্ত্রী নাসিমা খানম। নাগরিক জীবনেও কৃষির সঙ্গে মিশে থাকার নজির গড়েছেন তিনিও।
কৃষি সচিবের সরকারি বাসভবনের ছাদে চলছে ফল ফসলের আবাদ। সেখানে ছাদকৃষি উদ্যোক্তা সচিব স্ত্রী নাসিমা খানম। নাগরিক জীবনেও কৃষির সঙ্গে মিশে থাকার নজির গড়েছেন তিনিও।
ছাদকৃষি জনপ্রিয়তা এখন রাজধানীর বাইরেও সম্প্রসারণ হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এক চিকিৎসক দম্পতি ছাদকৃষি গড়ে তুলেছেন পাবনা শহরে নিজ বাসভবনের ছাদে।
সব আশা নিরাশার মধ্যেও বছরটি ভালো ছিল ফল ফসল উৎপাদন ও বাণিজ্যে। আগের চেয়ে কিছুটা ভালো দিন কাটিয়েছেন কৃষক। ফসলের মাঠে সৌন্দর্যে মিশে সে হয়েছে আত্মবিশ্বাসী। সুখের স্বপ্ন দেখিয়েছে শহর নগরের মানুষকে। এই দৌড়ে এবারও অনেকটা এগিয়ে সৌন্দর্যের কারবারি যশোরের ফুলচাষীরা।
দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ছাদকৃষির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন রাজধানীর ইন্দিরা রোডের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম। মনের প্রশান্তি আর পারিবারিক চাহিদা পূরণের চিন্তা থেকেই দিনের পর দিন স্বপ্নের মতো সাজাচ্ছেন নিজের কৃষি।
ছাদ-কৃষি সহায়ক উপকরণ তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন চুয়াডাঙ্গার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আলিমুজ্জামান মিল্টন। নিজের গড়ে তোলা কৃষি খামারে তিনি সমাবেশ ঘটিয়েছেন নতুন নতুন প্রযুক্তি ও কৌশলের।
রাজধানীর রামপুরা উলন রোডে সমৃদ্ধ ছাদ-কৃষি গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মুশহেদা খানম রেনু। সবজি ও ফুল-ফলের পাশাপাশি দেশি বিদেশি গাছের চারাও তৈরি করছেন তিনি। ব্যবহার করছেন নানা কারিগরী কৌশল ও প্রযুক্তি।
যশোরে মাত্র সাড়ে নয়’শ বর্গফুটের ছাদে শতাধিক গাছ-গাছালির পসরা সাজিয়েছেন ফারহানা ইয়াসমিন নামের এক গৃহিনী। তার ছাদকৃষি এখন প্রেরণা হয়ে উঠেছে স্থানীয় নারীদের।
রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায় রয়েছে ফলে ফসলে পূর্ণ দুই দশকের এক সফল ছাদ-কৃষি। সময়ের ব্যবধানে এক প্রজন্মের পর আরেক প্রজন্ম হাতে নিয়েছেন এই উদ্যোগ। সেখানে থেকেই মিটছে পারিবারিক পুষ্টি ও মানসিক চাহিদার অনেকটা।
যশোর শহরের আর এন রোডের তিন-তলা ভবনের ছাদে আট বছরে অনন্য কৃষি সাফল্যের নজির গড়েছেন ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান। ছাদ থেকেই মেটাচ্ছেন তিনি পারিবারিক ফল ও সবজি চাহিদার বড় অংশটি। মিটছে কৃষিকাজের যুক্ত থাকার সাধও।
ছাদের বাসভবনকে গাছপালার শৈল্পিক সৌন্দর্যে সাজিয়েছেন ঢাকার কল্যানপুরের এক তরুণ দম্পতি। ছাদ থেকেই মিটছে পরিবারের সবজি ও ফলের চাহিদার অনেকটা। মিটছে মনের খোরাকও।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাটি ও মানুষ’র অনুষ্ঠান দেখে অনুপ্রেরণা নিয়ে চারতলা ভবনে ছাদ কৃষি গড়ে তুলেছেন মামুনুর রশীদ। চারতলা ভবনের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলেই বোঝার কোনো উপায় থাকে না যে তা ভবনের ছাদ। গাছপালাপূর্ণ ছায়াঘেরা কোনো বাগান, অসংখ্য ফলের গাছ এখানে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রসার ঘটছে নার্সারি শিল্পের। ছাদ-কৃষি, সৌখিন বাগান কিংবা বাণিজ্যিক খামারে উপকরণের চাহিদা মেটাচ্ছে নার্সারিগুলো। কয়েক’শ রকমের ফুল ফল সবজি ও ঔষধী গাছের চারা, সারসহ অন্যান্য উপকরণের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বহু সংখ্যক উদ্যোক্তা।
রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র আরকে রোডের পরিচিতি এখন অভিজাত এলাকা হিসেবে। সেখানেই ব্যাংকার উসমান আলীর চারতলা ভবনের ছাদে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট ছাদকৃষি। ছাদের আয়তন এক হাজার ৯শ ফিট। সেখানে গত তিন বছর ধরে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন গাছ। ফুল-ফলের গাছপালা শোভিত সেই ছাদ কৃষির উদ্যোক্তা গৃহকর্তী আলেয়া খাতুন।