সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০২৬: ঘরের আশেপাশের বন্যপ্রাণী রক্ষায় যা করণীয়

২০২৬ সালের ৩ মার্চ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসে লোকালয়ের পাখি, কাঠবিড়ালি, বাদুড় ও ছোট সরীসৃপ কংক্রিটের চাপে গাছ, পানি ও বাসার জায়গা হারাচ্ছিল। দেশি গাছ লাগানো, পরিষ্কার পানি রাখা, কম কীটনাশক, বুনো পাখি খাঁচায় না রাখা এবং আহত প্রাণী ঘরে না এনে বন বিভাগকে খবর দেওয়া তাদের রক্ষায় সহায়ক।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০২৬: ঘরের আশেপাশের বন্যপ্রাণী রক্ষায় যা করণীয়
পরিবেশ

আমাদের আশেপাশে যে পাখি, কাঠবিড়ালি, বাদুড়, শালিক, চড়ুই কিংবা ছোট সরীসৃপগুলো থাকে, আমাদের মতো তারাও প্রকৃতির অংশ। ২০২৬ সালের ৩ মার্চ, বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসে জাগো নিউজ ২৪-এর লাইফস্টাইল ডেস্ক প্রশ্ন তুলেছিল, তাদের জন্য আমরা কি কিছু করছি? সঙ্গে তুলে ধরেছিল প্রতিদিনের কয়েকটি অভ্যাস, যা তাদের রক্ষায় কাজে লাগে: দেশি গাছ লাগানো, বুনো পাখিকে মুক্ত রাখা, পরিষ্কার পানি রাখা, কম কীটনাশক ব্যবহার, আহত প্রাণীর জন্য ঠিক মানুষকে খবর দেওয়া এবং শিশুদের প্রাণীর প্রতি সদয় হতে শেখানো। এই প্রতিবেদনে সেই পরামর্শগুলোর সঙ্গে তার পেছনের তথ্যও দেওয়া হলো: ২০২৬ সালের দিবসটির বিষয় কী ছিল, দেশের বন্যপ্রাণী কতটা হুমকিতে, কোন কোন প্রাণী আমাদের শহর ও গ্রামে বাস করে এবং সেদিন বলবৎ বন্যপ্রাণী আইন কী বলত।

আমাদের গড়ে তোলা কংক্রিটের শহর দিনদিন এই প্রাণীদের আরও কোণঠাসা করে ফেলছে। গাছ, জলাশয় আর নিরাপদে বাসা বাঁধার জায়গা কমে যাচ্ছে, ফলে লোকালয়ের সবচেয়ে কাছে বাস করা বন্যপ্রাণীই সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে পড়ছে। মূল প্রতিবেদনের যুক্তি ছিল, এদের রক্ষার কাজ শুরু হতে হবে ঘর থেকেই: বারান্দা, ছাদ আর উঠান থেকে।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ও ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য


প্রতিবছর ৩ মার্চ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস পালিত হয়। ১৯৭৩ সালের এই দিনে বিপন্ন বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক কনভেনশন, সংক্ষেপে সাইটেস (CITES), স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তার ৬৮তম অধিবেশনে ৩ মার্চকে জাতিসংঘ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ঘোষণা করে, আর একই প্রস্তাবে সাইটেস সচিবালয়কে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালনের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেনেভা এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্কের দিবসবিষয়ক পাতাটি (সর্বশেষ হালনাগাদ ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি) বলছে, দিনটি বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের নানা রূপ এবং তাদের সংরক্ষণে মানুষের যে উপকার হয় তা উদযাপন করে, আর মনে করিয়ে দেয় বন্যপ্রাণী অপরাধ ও মানুষের কারণে প্রজাতি হারানোর বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার জরুরি প্রয়োজনের কথা।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ছিল "ঔষধি ও সুগন্ধি উদ্ভিদ: স্বাস্থ্য, ঐতিহ্য ও জীবিকার সংরক্ষণ" (Medicinal and Aromatic Plants: Conserving Health, Heritage and Livelihoods)। একই পাতার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার প্রজাতির ঔষধি ও সুগন্ধি উদ্ভিদ সংগ্রহ করা হয়; এর মধ্যে আনুমানিক দেড় হাজার প্রজাতি সাইটেসের পরিশিষ্টে তালিকাভুক্ত, আর ৮০০-র বেশি পরিশিষ্ট ২-এ। ঔষধি ও সুগন্ধি কাজে ব্যবহৃত উদ্ভিদ প্রজাতির ২০ শতাংশের বেশি আইইউসিএনের লাল তালিকায় বিলুপ্তির হুমকিতে আছে বলে বিবেচিত; প্রধান কারণ অতিরিক্ত আহরণ, আবাসস্থল হারানো, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনিয়ন্ত্রিত বা অবৈধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। পাতাটিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতিও উল্লেখ করা হয়েছে যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রথাগত চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে, এবং প্রতি পাঁচজনে একজন মানুষ খাদ্য ও আয়ের জন্য বুনো উদ্ভিদ, শৈবাল ও ছত্রাকের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৬ সালে দিবসটির জাতিসংঘ আয়োজন হয়েছিল অনলাইনে।

এই প্রতিপাদ্য মনে করিয়ে দেয়, সাইটেসের ভাষায় বন্যপ্রাণী বলতে প্রাণীর পাশাপাশি উদ্ভিদকেও বোঝায়। এই প্রতিবেদনের ঘরোয়া পরামর্শগুলো মূলত প্রাণী নিয়ে, তবে প্রথম পরামর্শটি, অর্থাৎ দেশি গাছ লাগানো, দুই দিকেই কাজ করে: গাছ নিজেও বন্যপ্রাণী, আর পাড়ার পাখি ও বাদুড় সেই গাছের ওপরই বেঁচে থাকে।

বন্যপ্রাণী শুধু বনে থাকে না


অনেকে বন্যপ্রাণী বলতে সুন্দরবনের বাঘ বা চট্টগ্রামের পাহাড়ের হাতিকেই বোঝেন। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া বন্যপ্রাণীর সংজ্ঞা দিয়েছে আরও বিস্তৃতভাবে: মানুষ, গৃহপালিত প্রাণী ও মাছ ছাড়া যেকোনো মেরুদণ্ডী প্রাণী, যা তার প্রাকৃতিক আবাসে বাস করে; উভচর, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং তাদের ডিম ও বাচ্চাও এর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাপিডিয়া বলছে, বন্যপ্রাণীকে বনে বা জঙ্গলেই থাকতে হবে এমন নয়: দেয়ালের টিকটিকি, চড়ুই, কবুতর, শালিক বা কাকও বন্য প্রাণিকুলের সদস্য। ২০২৬ সালের ৩ মার্চ বলবৎ বন্যপ্রাণী আইনেও সংজ্ঞাটি ছিল একই রকম বিস্তৃত: বিভিন্ন প্রকার ও জাতের প্রাণী বা তাদের জীবনচক্রের যেকোনো পর্যায়, যাদের উৎস বন্য হিসেবে বিবেচিত।

এই বন্যপ্রাণী ছিল প্রবল চাপে। আইইউসিএন বাংলাদেশ ও বন অধিদপ্তরের "রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ ২০১৫" ঢাকায় প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালের ২২ জুন। এতে সাতটি গোষ্ঠীর ১ হাজার ৬১৯ প্রজাতির প্রাণীর অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়: ১৩৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৫৬৬ প্রজাতির পাখি, ১৬৭ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪৯ প্রজাতির উভচর, ২৫৩ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ, ১৪১ প্রজাতির ক্রাস্টেশিয়ান এবং ৩০৫ প্রজাতির প্রজাপতি। এর মধ্যে ৩৯০টি প্রজাতিকে হুমকির মুখে থাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়: ৫৬টি মহাবিপন্ন, ১৮১টি বিপন্ন এবং ১৫৩টি সংকটাপন্ন। ৩১টি প্রজাতি আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত, অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গেছে, আর ২৭৮টি প্রজাতির বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আইইউসিএন জানায়, তালিকাটি দেখাচ্ছে বহু প্রজাতির সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত কমেছে, এবং প্রধান হুমকি হিসেবে অতিরিক্ত আহরণ ও আবাসস্থলের অবক্ষয়কে চিহ্নিত করে। ২০০০ সালে আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রথম লাল তালিকা প্রকাশের পর এটিই ছিল প্রথম পূর্ণাঙ্গ হালনাগাদ।

আবাসস্থল কতটা সংকুচিত হয়েছে, তার বিবরণ দিয়েছে বাংলাপিডিয়া: এর হিসাবে ১৯৭০-এর দশক থেকে দেশের বনভূমি অর্ধেকের বেশি কমেছে এবং দেশের ৮ শতাংশেরও কম এলাকায় বন রয়েছে। গত শতাব্দীতে দেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া প্রাণীর তালিকায় বাংলাপিডিয়া তিন প্রজাতির গন্ডার, বুনো মহিষ, বারশিঙা হরিণ ও গোলাপি-শির হাঁসের নাম উল্লেখ করেছে।

বিশ্বজুড়েও চিত্র একই। জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রসেবাবিষয়ক আন্তঃসরকার বিজ্ঞান-নীতি প্ল্যাটফর্ম (আইপিবিইএস) ২০১৯ সালের ৬ মে প্রকাশিত বৈশ্বিক মূল্যায়নে জানায়, প্রায় ১০ লাখ প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির হুমকিতে আছে, যার অনেকগুলো কয়েক দশকের মধ্যেই হারিয়ে যেতে পারে। প্রকৃতি হ্রাসের পাঁচটি প্রত্যক্ষ কারণকে প্রভাবের ক্রম অনুযায়ী সাজিয়েছে সংস্থাটি: স্থল ও সমুদ্রের ব্যবহারে পরিবর্তন, জীবের সরাসরি আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতি। স্থলভাগের পরিবেশের তিন-চতুর্থাংশ মানুষের কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে, আর ১৯৯২ সালের পর থেকে বিশ্বে নগর এলাকা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। প্রথম দুটি কারণ, অর্থাৎ আবাসস্থল হারানো এবং প্রকৃতি থেকে প্রাণী ধরে নেওয়া, ঠিক সেই জায়গা যেখানে সাধারণ পরিবারও কিছু করতে পারে।

আমাদের প্রতিবেশী: ঘরের আশেপাশের পাখি ও স্তন্যপায়ী


মূল প্রতিবেদনে যে প্রাণীগুলোর নাম এসেছে, সেগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত প্রাণীদের মধ্যে পড়ে, আর প্রত্যেকেই এমন কিছুর ওপর নির্ভর করে, যা মানুষের হাতে।

দোয়েল বাংলাদেশের জাতীয় পাখি। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় এটি সাদা-কালো, বুলবুলির আকারের, লম্বা লেজের পাখি, যা সাধারণত মানুষের বসতিকে ভয় পায় না। দোয়েল খায় পোকামাকড়, শামুক, কেঁচো, শতপদী, ছোট টিকটিকি জাতীয় প্রাণী এবং কিছু উদ্ভিজ্জ খাবার। এর প্রজননকাল ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই, সবচেয়ে বেশি এপ্রিল ও মে মাসে। অর্থাৎ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসে দোয়েলের প্রজনন মৌসুম শুরু হয়ে গিয়েছিল, পুরুষ পাখিরা গান গাইছিল আর নিজের এলাকা আগলে রাখছিল।

বাংলাপিডিয়া শালিককে বর্ণনা করেছে দলবদ্ধ পাখি হিসেবে, যা লোকালয় ও চাষের জমির আশেপাশে সচরাচর দেখা যায়। এরা মূলত পোকামাকড়, ফল, শস্যদানা ও ফুলের মধু খায় এবং গাছ বা দালানের গর্ত ও ফোকরে বাসা বাঁধে। বাংলাদেশে শালিকের ১২টি প্রজাতি আছে, যার তিনটি পরিযায়ী; আবাসিক প্রজাতির মধ্যে আছে ভাত শালিক, গাঙ শালিক, ঝুঁটি শালিক ও পাহাড়ি ময়না। জ্ঞানকোষটি জানাচ্ছে, কিছু প্রজাতি খাঁচার পাখি হিসেবে জনপ্রিয়।

ঢাকার মিরপুরের একটি পার্কে একটি চড়ুই পাখি। ছবি: WildRaisins / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার মিরপুরের একটি পার্কে একটি চড়ুই পাখি। ছবি: WildRaisins / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কাঠবিড়ালি সরু দেহের, লম্বা ঝোপালো লেজওয়ালা ইঁদুরগোত্রীয় প্রাণী, যাদের বেশির ভাগই গাছে থাকে। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, বিশ্বের প্রায় ২৭০ প্রজাতির কাঠবিড়ালির মধ্যে বাংলাদেশে আছে আটটি, গ্রামের বাগানের ডোরাকাটা কাঠবিড়ালি থেকে পাহাড়ি বনের বড় উড়ন্ত কাঠবিড়ালি পর্যন্ত।

দেশের স্থলচর স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে বড় দল বাদুড়। বাংলাপিডিয়া লিখেছে, বাংলাদেশের ১১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ীর এক-চতুর্থাংশই বাদুড়, আর চামচিকা (ইন্ডিয়ান পিপিস্ট্রেল) দেশের সবচেয়ে ছোট স্তন্যপায়ী হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে সাধারণ ও সবচেয়ে বিস্তৃতও। বড় বাদুড় বা কলা বাদুড় এক ডজন থেকে হাজারের বেশি সদস্যের দলে বট, ডুমুর, আম, বাঁশ, নারকেল, সুপারি, খেজুর ও তালগাছে বাস করে এবং আম, লিচু, পেয়ারা, কলা ও সফেদা খায়। ফলখেকো বাদুড় মাঝে মাঝে ফলের ক্ষতি করলেও বাংলাপিডিয়ার মতে বুনো উদ্ভিদের পরাগায়ন ও বীজ ছড়ানোর বড় অংশ তাদের কাজ, আর তারা ক্ষতিকর পোকামাকড়ও নিয়ন্ত্রণ করে।

পাখির দিক থেকে দেশটি সমৃদ্ধ: বাংলাপিডিয়ার হিসাবে বাংলাদেশে ৬২৮ প্রজাতির পাখি আছে, যার ৩৮৮টি আবাসিক ও ২৪০টি পরিযায়ী। বারান্দার চড়ুই, সন্ধ্যায় উড়ে যাওয়া বাদুড় আর গাছের ডালে বসা দোয়েল এই বন্যপ্রাণীরই অংশ, ঠিক যেমন বাঘ আর হাতি, যাদের ছবি সাধারণত বন্যপ্রাণীর প্রতীক হয়ে ওঠে।

দেশি গাছ লাগান


শহর ও গ্রামে পাখি ও ছোট প্রাণীর প্রধান ভরসা গাছ। মূল প্রতিবেদনের পরামর্শ ছিল, দেশি ফলদ ও ফুলের গাছ পাখিকে খাবার ও বাসা বাঁধার জায়গা দেয়, আর শুধু শোভাবর্ধক বিদেশি গাছ নয়, স্থানীয় প্রজাতির গাছ লাগালে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়।

ওপরের প্রাণীগুলোই দেখায় কেন। শালিক ও অনেক টিয়া গাছের কোটরে বাসা বাঁধে; কলা বাদুড় বট, ডুমুর, আম ও তালজাতীয় গাছে থাকে এবং তাদের ফল খায়; দোয়েল বাগান ও ঝোপঝাড়ে পোকা শিকার করে। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, বটগাছ (Ficus bengalensis) সারা দেশেই পাওয়া যায়, আর ছড়ানো ডালপালা ও ঝুরিমূলের একটি পুরোনো বটগাছ পুরো একটি প্রাণিসমাজকে আশ্রয় দিতে পারে।

সেদিন বলবৎ বন্যপ্রাণী আইনেও গাছের স্থান ছিল। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর তফসিল ৪-এ বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের জন্য সহায়ক ১০০ প্রজাতির গাছকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল বলে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে অধ্যাদেশটি অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম আলো জানায়। অধ্যাদেশের ১০ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স বা পারমিট ছাড়া ওই তফসিলের কোনো উদ্ভিদের ক্ষতিসাধন, ধ্বংস, সংগ্রহ বা পরিবহন নিষিদ্ধ ছিল। ১৬ ধারায় ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ এবং কুঞ্জবন, অর্থাৎ সামাজিক, ধর্মীয় বা ঐতিহ্যগত মূল্য আছে এবং বন্যপ্রাণীর আবাসও রয়েছে এমন গাছ ও লতাগুল্মের সমাহার, ঘোষণা ও সংরক্ষণের সুযোগ রাখা হয়।

বুনো পাখি মুক্ত রাখুন: পাখির ব্যবসা ও আইন


শখ করে টিয়া, ময়না বা অন্য বুনো পাখি কিনে খাঁচায় রাখা অবৈধ ও অমানবিক, মূল প্রতিবেদন বলেছিল, আর এতে অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য বাড়ে। বুনো পাখি প্রকৃতির জন্য, ঘর সাজানোর জন্য নয়।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার (ডব্লিউডব্লিউএফ) তাদের বন্যপ্রাণী অপরাধবিষয়ক পাতায় (২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর আর্কাইভ করা সংস্করণ) অনুমান দিয়েছে, অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য বছরে ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আয় করে। সংস্থাটির ভাষায়, বিশ্বের সবচেয়ে হুমকির মুখে থাকা বহু প্রজাতির ভবিষ্যতের জন্য এটি সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষ হুমকি, আর সার্বিকভাবে আবাসস্থল ধ্বংসের পরেই এর স্থান। ক্রেতারা যেসব কারণে পাচার হওয়া প্রাণী কেনেন, তার মধ্যে শৌখিন পোষা প্রাণী হিসেবে রাখার কথাও উল্লেখ করেছে ডব্লিউডব্লিউএফ।

খাঁচার পাখির ব্যবসা কোথা থেকে আসে, তা দেখা যায় দেশের নিজস্ব অভিযানের অভিজ্ঞতায়। ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের একজন বন্যপ্রাণী পরিদর্শক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, পাখি, বিশেষ করে টিয়া, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে, কারণ এদের একসঙ্গে অনেক ধরা যায়, রাখতে কম জায়গা লাগে আর পাচার করা সহজ। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ধান কাটা জমিতে হাজার হাজার টিয়া জড়ো হয়, তখনই ফাঁদ পেতে এদের ধরা হয়; গুদামমালিকেরা প্রতিটি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় কেনেন, আর এপ্রিল-মে মাসে পাখি দুর্লভ হলে বিক্রি করেন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। ওই পরিদর্শক জানান, ২০১৭ সালে র‍্যাবের একটি দলের সঙ্গে চট্টগ্রামের রিয়াজুদ্দিন বাজারের পাখির দোকান থেকে ১ হাজার ৪৪৫টি টিয়া উদ্ধার করা হয়েছিল, আর ২০১৬ সালের জুনে বাগেরহাটের ভাদাল বাজার থেকে উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ২০০টি মুনিয়া, যেগুলো রাতে জাল পেতে উপকূলীয় বন থেকে ধরা হয়েছিল। তিনি এ-ও বলেন, ইউনিটটির তদন্তের ক্ষমতা ও অস্ত্র নেই, অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হয়।

ঢাকার কাছেও আগের অভিযানগুলোতে একই চিত্র মিলেছিল। প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণের খবর অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ইউনিটটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সাভারে অভিযান চালিয়ে ৩০৪টি পাখি উদ্ধার করে, যার মধ্যে ছিল টিয়া, লটকন টিয়া ও তিনরঙা মুনিয়া; সেদিনই পাখিগুলো ঢাকার একটি উদ্ভিদ উদ্যানে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার আগের মাসে ইউনিটটি ১ হাজার ৪৫১টি পাখি উদ্ধার করেছিল।

ঢাকা সেনানিবাসে এক জোড়া টিয়া, ২০১৬ সালে তোলা ছবি। ছবি: Shadman Samee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
ঢাকা সেনানিবাসে এক জোড়া টিয়া, ২০১৬ সালে তোলা ছবি। ছবি: Shadman Samee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

খাঁচায় সবচেয়ে বেশি রাখা পাখির মধ্যে আছে টিয়া। বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশে ছয় প্রজাতির টিয়ার কথা লিখেছে: লটকন টিয়া, তোতা, চন্দনা বা বড় টিয়া, কালোমাথা টিয়া, টিয়া এবং লালমাথা টিয়া বা হীরামন; এর মধ্যে চন্দনাকে মহাবিপন্ন হিসেবে উল্লেখ করেছে। বেশির ভাগ টিয়া গাছের কোটরে বাসা বাঁধে এবং দুই থেকে তিন মাস ধরে বাচ্চার যত্ন নেয়।

২০২৬ সালের ৩ মার্চ খাঁচার পাখিসংক্রান্ত আইন ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬, যা ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে কার্যকর ছিল এবং বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর জায়গা নিয়েছিল। সাধারণ পরিবারের জন্য এর প্রধান বিধানগুলো ছিল এমন:

  • ধারা ১০(১): লাইসেন্স, পজেশন সার্টিফিকেট বা পারমিট ছাড়া কেউ কোনো বন্যপ্রাণী লালন-পালন বা আবদ্ধ রাখতে পারবেন না, এবং কোনো বন্যপ্রাণী বা তার ট্রফি দখলে রাখা, কেনা, বেচা বা পরিবহন করতে পারবেন না।
  • ধারা ১০(২): সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে, হাট-বাজারে বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্যপ্রাণী কেনাবেচা করা যাবে না।
  • ধারা ১০(৩): সব বন্যপ্রাণী, তাদের দেহের অংশ, মাংস ও ট্রফি সরকারের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য।
  • ধারা ৪৪: ১০ ধারা লঙ্ঘনের শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

প্রথম আলো ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জানায়, অধ্যাদেশটি প্রাণী ও উদ্ভিদ মিলিয়ে ১ হাজার ৫৯৯টি প্রজাতিকে সুরক্ষার আওতায় এনেছে, যার মধ্যে ৭৪১ প্রজাতির পাখি, ১৩৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৬০ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৬০ প্রজাতির উভচর। এর তফসিল ১ তিন ভাগে ভাগ করা হয়: তফসিল ১(ক)-তে বাঘ ও হাতি, তফসিল ১(খ)-তে ২৫০টি এবং তফসিল ১(গ)-তে ১২৭টি প্রজাতি; তফসিল ২-এ ছিল ১ হাজার ২০৭টি প্রজাতি। ৪৬ ধারায় তফসিল ১(ক) ও ১(খ)-এর প্রাণী শিকারকে আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ করা হয়। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর পত্রিকাটিকে বলেন, আগের আইনে পাখি ধরা আমলযোগ্য অপরাধ ছিল না, ফলে পাখিসহ কাউকে ধরা গেলেও বন কর্মকর্তারা প্রায়ই পাখি জব্দ করা ছাড়া আর কিছু করতে পারতেন না। তফসিল ৩-এ ছিল ১৫ প্রজাতির ইঁদুর, যেগুলো কৃষক তাড়াতে পারবেন এবং যেগুলো আইনে সুরক্ষা পায় না।

পাখির জন্য পরিষ্কার পানি, তবে মশার জন্ম নয়


গরমের মাসগুলোতে বারান্দা, ছাদ বা জানালার কার্নিশে ছোট একটি পাত্রে পরিষ্কার পানি রাখলে পাখিরা উপকৃত হয়, মূল প্রতিবেদন পরামর্শ দিয়েছিল। তবে নিয়মিত পানি বদলানো জরুরি, যাতে সেখানে মশার বংশবিস্তার না হয়।

বাংলাদেশে এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশা, যা পানি জমে থাকা পাত্রে ডিম পাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের ২১ আগস্টের ডেঙ্গুবিষয়ক তথ্যপত্রে পানি জমতে পারে এমন কৃত্রিম আধার সরিয়ে ফেলা এবং ঘরের পানি রাখার পাত্র প্রতি সপ্তাহে ঢেকে রাখা, খালি করা ও পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাখির পানির পাত্রকেও একইভাবে দেখতে হবে: অন্তত সপ্তাহে একবার খালি করে, ঘষে পরিষ্কার করে নতুন পানি দিতে হবে।

বাগান ও ছাদে কম কীটনাশক


বাড়ির বাগান বা ছাদবাগানে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করলে অনেক পাখির খাবার পোকামাকড় কমে যায়, মূল প্রতিবেদন সতর্ক করেছিল, আর বিষাক্ত রাসায়নিক ছোট প্রাণীরও সরাসরি ক্ষতি করে। পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহার করলে স্থানীয় প্রাণিবৈচিত্র্য রক্ষা পায়।

কীটনাশক ও পোকাখেকো পাখির এই সম্পর্কের পক্ষে গবেষণার প্রমাণ আছে। ক্যাসপার হলমান ও সহকর্মীদের একটি গবেষণা ২০১৪ সালের জুলাইয়ে বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত হয়। নেদারল্যান্ডসে তাঁরা দেখেন, যেসব এলাকায় ভূপৃষ্ঠের পানিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নিওনিকোটিনয়েড কীটনাশক ইমিডাক্লোপ্রিডের ঘনত্ব বেশি, সেখানে পোকাখেকো পাখির স্থানীয় সংখ্যার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ। প্রতি লিটারে ২০ ন্যানোগ্রামের বেশি ঘনত্বের এলাকায় পাখির সংখ্যা গড়ে বছরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কমার প্রবণতা দেখা যায়। গবেষকেরা উল্লেখ করেন, প্রজনন মৌসুমে অনেক পাখির খাদ্যের বড় অংশ পোকামাকড় ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী, আর বাচ্চা বড় করতে এগুলো অপরিহার্য। আইপিবিইএসের বৈশ্বিক মূল্যায়নেও প্রকৃতি হ্রাসের পাঁচটি প্রধান কারণের একটি দূষণ।

দোয়েল মাটিতে পোকামাকড়, শামুক, কেঁচো ও শতপদী শিকার করে এবং ফেব্রুয়ারি থেকে প্রজনন শুরু করে; বাগানে কীটনাশক ছিটালে এ ধরনের পাখিই খাবার হারায়। বাড়ির বাগান বা ছাদবাগানের পোকা দমনে ভারী স্প্রে ছাড়া কী কী পদ্ধতি আছে, সে বিষয়ে পাঠকেরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে পারেন।

ঢাকায় একটি ভাত শালিক। ছবি: Mdmunabbir / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকায় একটি ভাত শালিক। ছবি: Mdmunabbir / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আহত বা আটকে পড়া প্রাণী: প্রশিক্ষিতদের খবর দিন


অনেক সময় আহত পাখি বা বন্যপ্রাণী দেখে আমরা ঘরে তুলে আনি, মূল প্রতিবেদন মনে করিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু ভুল যত্ন তাদের আরও ক্ষতি করতে পারে। স্থানীয় বন বিভাগের কার্যালয় বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ উপায়। প্রশিক্ষণ ছাড়া কারও বন্যপ্রাণী ধরা বা হাতে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়, আর সাপ বা কামড়াতে পারে এমন কোনো প্রাণী তো কখনোই নয়।

সেদিন বলবৎ আইন এই দায়িত্ব দিয়েছিল বন অধিদপ্তরকে। অধ্যাদেশের ৫ ধারা অনুযায়ী, প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন ও অন্যান্য ওয়ার্ডেনের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা, কল্যাণ ও নিরাপত্তার প্রাথমিক দায়িত্ব বন অধিদপ্তরের; উদ্ধার করা ও আহত বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় নির্দেশিকা তৈরি এবং তাদের শুশ্রূষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা তার কাজ, আর বন্যপ্রাণীর কল্যাণে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছিল। ৩৪ ধারায় বন অধিদপ্তর বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা, খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তার জন্য উদ্ধার কেন্দ্র স্থাপন করতে পারত, আর ১৪ ধারায় উদ্ধার করা বা জব্দ করা প্রাণীকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করতে হতো, যদি না রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে বা প্রাণীটির শুশ্রূষার প্রয়োজন হয়। ৩৫ ধারায় বন অধিদপ্তরের অধীনে বন কর্মকর্তা, কাস্টমস কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠনের বিধান ছিল, যা বিমানবন্দর, স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দরসহ দেশের যেকোনো স্থানে কাজ করতে পারে।

কোনো বন্যপ্রাণী মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠলে ১২ ধারা অনুযায়ী প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন নিয়ে বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন প্রাণীটি সরানো বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেবেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে উপদেষ্টা বোর্ড ও বৈজ্ঞানিক কমিটিকে প্রতিবেদন দেবেন। অর্থাৎ বিপজ্জনক প্রাণী সামলানো কর্মকর্তাদের কাজ, প্রতিবেশীদের নয়।

সতর্ক থাকার একটি স্বাস্থ্যগত কারণও আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারির নিপাহ ভাইরাসবিষয়ক তথ্যপত্র অনুযায়ী, টেরোপোডিডি পরিবারের ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক, বাংলাদেশে এর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং আক্রান্তদের মৃত্যুহার আনুমানিক ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ। সংস্থাটি খেজুরের রস সংগ্রহের জায়গা থেকে বাদুড় দূরে রাখা, সদ্য সংগ্রহ করা খেজুরের রস ফুটিয়ে খাওয়া, কাঁচা রস কখনো না খাওয়া, ফল ধুয়ে ও খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া এবং বাদুড়ে খাওয়ার চিহ্ন আছে এমন ফল ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তাই মাটিতে পড়ে থাকা বা আহত বাদুড় খালি হাতে তোলা উচিত নয়, আর কোনো বন্যপ্রাণী কামড়ালে বা আঁচড় দিলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

ঢাকার রমনা পার্কের লেকের ধারে দেশের সবচেয়ে বড় ফলখেকো বাদুড়, কলা বাদুড়। ছবি: Malliksagar333 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার রমনা পার্কের লেকের ধারে দেশের সবচেয়ে বড় ফলখেকো বাদুড়, কলা বাদুড়। ছবি: Malliksagar333 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

শিশুদের প্রাণীর প্রতি সদয় হতে শেখানো


প্রকৃতি রক্ষার শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই শুরু হওয়া উচিত, মূল প্রতিবেদন বলেছিল। পাখির বাসা নষ্ট না করা, প্রাণীর দিকে ঢিল না ছোড়া এবং প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, এই অভ্যাসগুলোই ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব নাগরিক তৈরি করে।

অধ্যাদেশে নিষ্ঠুরতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। ১০(৪) ধারায় বন্যপ্রাণীর প্রতি যেকোনো নিষ্ঠুর আচরণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলা হয়, আর এর ব্যাখ্যায় নিষ্ঠুর আচরণের তালিকায় ছিল প্রহার করা, উত্ত্যক্ত করা, চোখ বেঁধে রাখা, অপ্রয়োজনে আটকে রাখা, ভয় দেখানো, পরিবহনের সময় কষ্ট দেওয়া, মাত্রাতিরিক্ত ভার বহন করানো, বৈদ্যুতিক তারের বেড়া দিয়ে হত্যা করা এবং বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা। ১৩ ধারায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের স্বার্থে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে এয়ারগান আমদানি, বিক্রি, ব্যবহার বা বহনে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারত; নিবন্ধিত শুটিং ক্লাব এবং বনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন এর বাইরে রাখা হয়।

দিবসটির সময়ও এই পরামর্শকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছিল। দোয়েলের প্রজননকাল ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই এবং সবচেয়ে বেশি এপ্রিল ও মে মাসে, তাই বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসের পরের সপ্তাহগুলোতেই বাগান ও দালানের বাসাগুলোতে ডিম বা ছানা থাকার সম্ভাবনা ছিল সবচেয়ে বেশি।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনটি মনে করিয়ে দিয়েছিল, বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস শুধু বনের বাঘ বা হাতির কথা বলে না; বারান্দায় আসা চড়ুই, সন্ধ্যায় উড়ে যাওয়া বাদুড় কিংবা গাছের ডালে বসা দোয়েল রক্ষা করাও এর অংশ। বন্যপ্রাণী রক্ষা দূরের কোনো কাজ নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের আচরণেরই অংশ।

ছবি: Arif tonmoy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, জেনেভা এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক, আইইউসিএন বাংলাদেশ, আইপিবিইএস, বাংলাপিডিয়া, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ (সরকারি পাঠ, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ), প্রথম আলো, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ডব্লিউডব্লিউএফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, নেচার (হলমান ও সহকর্মী, ২০১৪)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)