সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

মাটিতে ভালো ফলনে অনুখাদ্যের ভূমিকা

শুধু মাটিতে গাছ লাগালেই কি ভালো ফলন পাওয়া যায়? প্রশ্নটি অনেকেরই মনে আসে। বাস্তবতা হলো, শুধু মাটি থাকলেই গাছ সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে না। অনেক সময় দেখা যায় গাছ ঠিকমতো বড় হয় না, পাতা হলুদ হয়ে যায়, ফুল-ফল কম ধরে বা একেবারেই ধরে না। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো গাছের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি। গাছ যেমন

শুধু মাটিতে গাছ লাগালেই কি ভালো ফলন পাওয়া যায়? প্রশ্নটি অনেকেরই মনে আসে। বাস্তবতা হলো, শুধু মাটি থাকলেই গাছ সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে না। অনেক সময় দেখা যায় গাছ ঠিকমতো বড় হয় না, পাতা হলুদ হয়ে যায়, ফুল-ফল কম ধরে বা একেবারেই ধরে না। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো গাছের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি। গাছ যেমন মানুষের মতোই জীবন্ত; তেমনই তারও সুষম খাদ্যের প্রয়োজন হয়। মাটি গাছকে একটি ভিত্তি দেয় কিন্তু সঠিক পুষ্টি সরবরাহ না হলে গাছ তার পূর্ণ সম্ভাবনা অনুযায়ী বৃদ্ধি পায় না। তাই মাটির পাশাপাশি সঠিক অনুখাদ্য ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম।

গাছের জন্য পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ গাছের পুষ্টি উপাদানকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—প্রধান পুষ্টি: এ উপাদানগুলো গাছের বেশি পরিমাণে প্রয়োজন হয়। যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম। অনুখাদ্য বা ক্ষুদ্র পুষ্টি: এগুলো অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও গাছের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- লোহা, জিংক, বোরন, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, মলিবডেনাম।

প্রধান পুষ্টি উপাদানগুলোর কাজ

নাইট্রোজেননাইট্রোজেন গাছের সবুজ অংশ তৈরিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ক্লোরোফিল তৈরিতে সাহায্য করে, যার মাধ্যমে গাছ খাদ্য তৈরি করে। অভাবের লক্ষণ: পাতা হলুদ হয়ে যায়, গাছের বৃদ্ধি কমে যায়। উপকারিতা: পাতা সবুজ ও সতেজ রাখে, দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।

ফসফরাসফসফরাস গাছের শেকড় বৃদ্ধিতে এবং ফুল ও ফল ধরাতে সহায়তা করে। অভাবের লক্ষণ: গাছের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়, পাতায় বেগুনি আভা দেখা যায়। উপকারিতা: শক্তিশালী শেকড় তৈরি করে, ফুল ও ফলের সংখ্যা বাড়ায়।

পটাশিয়াম পটাশিয়াম গাছের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভাবের লক্ষণ: পাতার কিনারা শুকিয়ে যায়, গাছ রোগে আক্রান্ত হয়। উপকারিতা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ফলের গুণগত মান উন্নত করে।

অনুখাদ্য উপাদানগুলোর ভূমিকা

লোহালোহা ক্লোরোফিল তৈরিতে সাহায্য করে। অভাবের লক্ষণ: নতুন পাতা হলুদ হয়ে যায় (শিরা সবুজ থাকে)।

জিংকগাছের বৃদ্ধি ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অভাবের লক্ষণ: পাতা ছোট হয়ে যায়, গাছ খাটো থাকে।

বোরনফুল ও ফল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অভাবের লক্ষণ: ফুল ঝরে যায়, ফল বিকৃত হয়।

ম্যাঙ্গানিজফটোসিন্থেসিসে সহায়তা করে।

কপারএনজাইম কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মলিবডেনামনাইট্রোজেন ব্যবহারে সাহায্য করে।

কেন গাছের পুষ্টির ঘাটতি হয়গাছের পুষ্টির ঘাটতির কয়েকটি প্রধান কারণ হলো: মাটিতে পুষ্টি উপাদানের স্বাভাবিক ঘাটতি, একই মাটিতে বারবার চাষ করা, অতিরিক্ত পানি বা পানি জমে থাকা, ভুল সার প্রয়োগ, মাটির পিএইচ ভারসাম্যহীনতা, বিশেষ করে টব বা ছাদ বাগানে গাছের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। কারণ সীমিত মাটিতে দ্রুত পুষ্টি শেষ হয়ে যায়।

সঠিক অনুখাদ্য ব্যবহারের উপকারিতাসঠিকভাবে অনুখাদ্য ব্যবহার করলে গাছের যে পরিবর্তনগুলো দেখা যায়: গাছের দ্রুত ও সুস্থ বৃদ্ধি, গাছ শক্তিশালী হয় এবং দ্রুত বড় হতে পারে। পাতা সবুজ ও সতেজ থাকে, ক্লোরোফিল উৎপাদন বাড়ে, ফলে পাতা উজ্জ্বল সবুজ হয়। ফুল ও ফলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, ফুল ঝরা কমে এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গাছ সহজে রোগে আক্রান্ত হয় না।

টব, ছাদ বাগান ও বাড়ির বাগানে পুষ্টি ব্যবস্থাপনাবর্তমানে অনেকেই টব, ছাদ বা বাড়ির ছোট জায়গায় বাগান করছেন। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি—

নিয়মিত সার প্রয়োগ: প্রতি ১০–১৫ দিনে একবার তরল সার ব্যবহার করা যেতে পারে, জৈব সার (কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পোস্ট) ব্যবহার করা উত্তম। মাটি পরিবর্তন বা রিফ্রেশ করা। ২–৩ মাস পর মাটির উপরের স্তর পরিবর্তন করুন। সুষম সার ব্যবহার শুধু ইউরিয়া নয়, এনপিকে এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ সার ব্যবহার করুন।

পানি ব্যবস্থাপনা: অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না, পানি যেন জমে না থাকে।

জৈব বনাম রাসায়নিক সার: জৈব সার, পরিবেশবান্ধব, মাটির গুণাগুণ উন্নত করে, দীর্ঘমেয়াদে উপকারী।

রাসায়নিক সার: দ্রুত ফল দেয়, সঠিক মাত্রা না মানলে ক্ষতি হতে পারে। সর্বোত্তম ফল পেতে দুই ধরনের সারের সমন্বয় করা যেতে পারে।

কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ কৃষিতে আইওটি প্রযুক্তিলোকেশন বেইজ, রিয়েল টাইম সয়েল সেন্সর ব্যবহার করে মাটির এনপিকে, পিএইচ জেনে নিয়ে সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহার করা। গাছের পাতা দেখে সমস্যা চিহ্নিত করুন, নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট পুষ্টি ব্যবহার করুন, অতিরিক্ত সার ব্যবহার করবেন না, সকালে বা বিকেলে সার প্রয়োগ করুন।

গাছের সুস্থ বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য শুধু মাটি যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা। নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মতো প্রধান পুষ্টি উপাদান যেমন জরুরি; তেমনি লোহা, জিংক, বোরনের মতো অনুখাদ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক অনুখাদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই আমাদের গাছকে সুস্থ, সবল ও ফলপ্রসূ করতে পারি। বিশেষ করে টব, ছাদ বাগান ও বাড়ির ছোট বাগানে নিয়মিত পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করলে গাছের উৎপাদনশীলতা অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। অতএব গাছ লাগানোর পাশাপাশি তার সঠিক যত্ন ও পুষ্টি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। মনে রাখবেন, ‌'সঠিক পুষ্টি মানেই সুস্থ গাছ, আর সুস্থ গাছ মানেই ভালো ফলন।'

ভালো ফলন নিশ্চিত করতে অনুখাদ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনুখাদ্য বিশেষ অবদান রাখে। অনেক সময় দেখা যায়, প্রধান সার (যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ) যথেষ্ট পরিমাণে প্রয়োগ করা হলেও গাছ প্রত্যাশিত ফলন দেয় না। এর অন্যতম কারণ হলো অনুখাদ্যের ঘাটতি, যা গাছের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

দস্তা, বোরন, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি অনুখাদ্য গাছের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। যেমন- বোরন ফুল ও ফল ধারণে সাহায্য করে, দস্তা গাছের বৃদ্ধি ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, আর লোহা ক্লোরোফিল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব উপাদানের সামান্য ঘাটতিও গাছের পাতা হলুদ হওয়া, ফুল ঝরে যাওয়া বা ফলন কমে যাওয়ার মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

তাই মাটির গুণাগুণ যাচাই করে সঠিক মাত্রায় অনুখাদ্য প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক কৃষিতে মাটির পরীক্ষা ও সুষম সার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনুখাদ্যের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব, যা ফলনের পরিমাণ ও গুণগত মান উভয়ই বৃদ্ধি করে। এছাড়া সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করলে গাছ প্রতিকূল পরিবেশেও ভালোভাবে টিকে থাকতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, অধিক ফলন ও টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে অনুখাদ্যের সঠিক ব্যবহার অপরিহার্য। কৃষকের সচেতনতা ও সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে অনুখাদ্যের কার্যকর প্রয়োগই হতে পারে কৃষিতে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)