২০২৬ সালের ১৫ জুলাই, বুধবার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানায়, পরের ২৪ ঘণ্টায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু ও খোয়াই নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। একই দিনে দেশের তিনটি স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছিল: গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী। অন্যদিকে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দেয় কেন্দ্রটি।
এফএফডব্লিউসি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সরকারি সংস্থা; দেশের নদ-নদীর পানি সমতল পর্যবেক্ষণ করে বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা দেওয়া এর কাজ।
মনু ও খোয়াইয়ের পানি বাড়ছিল
কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী (দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভন সেদিনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের মনু, খোয়াই ও ধলাই নদীর পানি সমতল বেড়েছিল এবং পরের এক দিন তা দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে পরের ২৪ ঘণ্টায় মনু নদী মৌলভীবাজারে এবং খোয়াই নদী হবিগঞ্জে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়, আর তাতে দুই জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
দুটি নদীই সীমান্তের ওপারের ত্রিপুরার পাহাড় থেকে নেমে এসেছে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মনু মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে মনুমুখে কুশিয়ারায় মিশেছে। খোয়াই হবিগঞ্জের বাল্লা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে হবিগঞ্জ শহরের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।
এই পূর্বাভাসের কয়েক দিন আগেই হবিগঞ্জে খোয়াইয়ের পানিতে ক্ষতি হয়েছিল। বাংলা ট্রিবিউন ১০ জুলাই জানায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে ৯ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিনের অবৈধ বালু উত্তোলনে বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল হক তখন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ৮৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিপৎসীমার ওপরে তিন নদী
১৫ জুলাই তারাপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ ও কলমাকান্দা, এই তিন স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল। এর মধ্যে কুশিয়ারা ভারতের বরাক নদীর একটি শাখা: বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলসিদে বরাক দুই ভাগ হয়ে উত্তর-পশ্চিমের শাখা সুরমা ও দক্ষিণ-পশ্চিমের শাখা কুশিয়ারা নামে বয়ে গেছে, আর কুশিয়ারা ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলা পেরিয়ে গেছে।

সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও গাইবান্ধায় উন্নতির আভাস
এফএফডব্লিউসির তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল কমেছিল, যা পরের তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পরের ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানানো হয়।
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস নদীর পানিও কমছিল এবং পরের তিন দিনে আরও কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়। এতে পরের ৪৮ ঘণ্টায় নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা ছিল।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগের ২৪ ঘণ্টায় বাড়লেও পরের এক দিন তা স্থিতিশীল থাকতে এবং পরের দুই দিনে কমতে পারে বলে জানানো হয়। এতে গাইবান্ধা জেলার তিস্তা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে কেন্দ্রটি জানায়। একই সময়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল, যা পরের দুই দিনে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানায়।


ছবি: Rocky Masum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (১৫ জুলাই ২০২৬), বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর (১৫ জুলাই ২০২৬), বাংলা ট্রিবিউন (১০ জুলাই ২০২৬), বাংলাপিডিয়া (মনু, খোয়াই ও কুশিয়ারা নদী), উইকিপিডিয়া (বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র)





মন্তব্য
(০)