সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

তীক্ষ্ণ চোখের ৯ ফুটের সাগর ঈগল

মানুষ হোক বা পশু-পাখি। দৃষ্টিশক্তির প্রয়োজনীয়তা সবার জন্যই সমান। চলাফেরার জন্য দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব কতটুকু তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সবার দেখার ক্ষমতা আবার এক রকম হয় না। অল্পতেই কেউ ঠিকঠাক দেখে। কেউ বেশি দেখে। কেউ কম।

মানুষ হোক বা পশু-পাখি। দৃষ্টিশক্তির প্রয়োজনীয়তা সবার জন্যই সমান। চলাফেরার জন্য দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব কতটুকু তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সবার দেখার ক্ষমতা আবার এক রকম হয় না। অল্পতেই কেউ ঠিকঠাক দেখে। কেউ বেশি দেখে। কেউ কম।

তবে পৃথিবীতে অনেক প্রাণী আছে, যাদের দৃষ্টিশক্তি আমাদের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। এ ধরনের প্রাণীর উদাহরণ দিতে গেলে প্রথমেই চলে আসে সাগর ঈগলের কথা। সাগরের বাজপাখি বলা হয় এদের।

পুরো নাম-স্টেলারস সি-ঈগল। রাশিয়ার কামচাটকার কুরিলস্কো লেকে এদের দেখতে পাওয়া যায়। শীতের প্রায় পুরো সময় ওরা কাটায় নিজের বাসায়। অপেক্ষা করে লেকে মাছ ভেসে ওঠার জন্য। আকাশে ডানা না মেলা পর্যন্ত বোঝা যায় না, কি বিশাল আকৃতি ওদের।

পূর্ণ বয়স্ক একটি সাগর-ঈগলের মেলে দেওয়া ডানার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তের দূরত্ব প্রায় ৯ ফুট। ওজনও কম নয়। প্রায় ২০ পাউন্ড। যা উত্তর আমেরিকার ন্যাড়া শকুনের চেয়েও অনেক বেশি। শীতে ওরা জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত ওড়ে গেলেও ঘর বাঁধে শুধু পূর্ব রাশিয়ার বলকান শ্যান্টান্টের মতো দ্বীপাঞ্চলে।

এদের নামকরণ হয়েছে জর্জ স্টেলারের নামে। একজন জার্মান প্রকৃতি বিজ্ঞানী ছিলেন তিনি। ১৭৪০ সালে কামচাটকায় গবেষণা করতে গিয়ে তিনি এদের দেখতে পান- স্যামন মাছের জন্য বিখ্যাত কুরিলস্কো লেকে।

শুনলে অবাক হতে হয়, এই সাগর ঈগল বা স্টেলার'স সি ঈগল পাখির দৃষ্টিশক্তি মানুষের চেয়ে ৩-৪ গুণ বেশি তীক্ষ্ম। শিকারি পাখি হিসেবে এই সাগর ঈগলের সুনাম আছে সর্বত্র। কয়েক মাইল দূর থেকে ওরা শিকার দেখতে পায়।

৮-১০ হাজার ফুট ওপর থেকে শিকার খোঁজে এই সাগর ঈগল। শিকার পেয়ে গেলে তো কথাই নেই! ১০০ মাইল বেগে ওরা ওই শিকার ধরতে নিচে নামা শুরু করে। আরও অবাক করা বিষয় হলো, এতো গতিতে চলেও শিকারের দিকে ঠিকই নজর রাখে স্টেলার'স সাগর ঈগল।

তবে স্টেলার'স সাগর -ঈগলরা মারামারি না করে খাবার খেতে পারে না। একা একা খাবার সুযোগ পায় না কেউই। যুদ্ধ ছাড়া খাবার জোটে না কারও। দিনের শুরু করে ওরা দোয়েল আর কাকের গতিবিধি দেখে। দোয়েল ও কাক নিজেরা প্রস্তুত থাকলেও ওরা যেনো পছন্দ করে ছোট ছোট তীক্ষ্ম চোখের পাখিগুলোর পথ প্রদর্শনে। বিনিময়ে ছিটে-ফোঁটা খাবার ওদের ভাগ্যেও জোটে। ঈগলের বিশাল ঠোঁট স্যামনের শক্ত চামড়া ফেঁড়ে ফেললেই ছোট পাখিগুলো ভেতরে উঁকি ঝুঁকি মেরে কামড়ে ছিড়ে একটু আধটু খুবলে নিয়েই তুষ্ট থাকে।

প্রথমে একটি ঈগল শিকার করলেই মুহুর্তের মধ্যে হাজির হয় অন্যরা। শুরু হয়ে যায় উম্মত্ততা। প্রথম শিকারী ডানা দিয়ে আগলে রাখতে চায় শিকার। ডান-বাম থেকে তখন চলতে থাকে টানা-হেঁচড়া। পুরষ্কারও অবশ্য মেলে। তখন লুণ্ঠনকারীর চেষ্টা চলে জিতে নেয়া খাবারকে আগলে রাখার।

কৌতূহলী গবেষকদের প্রশ্ন জাগে, পর্যাপ্ত খাবার থাকতেও কেন ওদের এই ধস্তাধস্তি-টানা হেচড়া? প্রাণী বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার লেজিজিন বিশ্বাস করেন স্যামনের চামড়া এতোটাই শক্ত যে ছেঁড়ার চাইতে চুরি করা বরং সহজ। কেউ কেউ অবশ্য মনে করেন, ওরা এভাবেই খেতে পছন্দ করে।

চকিতে চমকিত লাজুক স্টেলার'স সাগর ঈগল দেখতে পাওয়া যায় পৃথিবীর দূর্গম জনবিরল কিছু অঞ্চলে। কামচাটকা থেকে ৭০০ মাইল পশ্চিমে সি অব ওস্টস্কের মরিসাইজ দ্বীপে থাকে ওরা। প্রতি বসন্তেই এই ঈগলেরা একই বাসায় একই সঙ্গীকে নিয়ে ফিরে আসে।

উঁচু গাছের পছন্দসই ডালে বাসা বাঁধে এমনভাবে যেন দূর থেকে নিজের বাড়ি আর মাছের খাঁড়ি দুদিকেই স্পষ্ট নজর রাখা যায়। গাছের ছোট ছোট ডাল, শুকনো ঘাস আর ছোট ছোট উদ্ভিদ দিয়ে তৈরি হয় প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত কিং সাইজ বেডের চাইতেও চওড়া প্লাটফর্ম।

সুনসান নিরবতায় মাঝে মাঝে শোনা যায় খাদ্যের জন্য বাচ্চাদের চেচাঁমেচি আর বাড়ির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া দুই ঈগলদের উদ্দেশে বাবা মায়ের শাসানি। স্যামনের আনাগোনার শুরু হওয়ার আগে, বড় ঈগলেরা রাতে ছোট ছোট মাছ ধরে ঘরে আনে বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য।

গবেষকরা লক্ষ্য করেন, শুধু মা-ঈগলই বাচ্চাদের খাওয়ায়। ৯০ দিন লাগে বাচ্চা ঈগলের ওড়া শিখতে। সাদা ধবধবে ঘাড়, লেজ, পা আর কপাল পুরোপুরি শক্তপোক্ত হতে সময় লাগে প্রায় ৬-৮ বছর।

স্টেলার'স সাগর ঈগলের এই জীবন বৈচিত্র্য, বৈশিষ্ট্য, আচরণ মানুষকে সহনশীল, একতাবদ্ধ জীবনের প্রেরণা জোগায় বৈকি!

লেখক: বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)