সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

খরায় ফলন কম, দামও পড়তি: লোকসানের শঙ্কায় কোটালীপাড়ার বাঙ্গিচাষিরা

২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৪৩৪ হেক্টর জমির বাঙ্গিচাষিরা লোকসানের শঙ্কায় ছিলেন। খরায় ফলন কমেছিল, বেপারী না আসায় যে বাঙ্গি আগের বছর ৩০ থেকে ৬০ টাকায় বিকিয়েছিল, তা বিক্রি হচ্ছিল ১৫ থেকে ২০ টাকায়।

খরায় ফলন কম, দামও পড়তি: লোকসানের শঙ্কায় কোটালীপাড়ার বাঙ্গিচাষিরা
পরিবেশ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাঙ্গিচাষিরা ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে লাভের বদলে লোকসানের শঙ্কায় ছিলেন। জাগো নিউজ ২৪-এর গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ৫ এপ্রিল জানান, খরা ও বৃষ্টির অভাবে সে মৌসুমে ফলন আগের বছরের চেয়ে কম হয়েছিল, আর ক্রেতা না থাকায় বাজারে বাঙ্গির দাম পড়ে গিয়েছিল। উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাবে সে বছর কোটালীপাড়ায় ৪৩৪ হেক্টর জমিতে বাঙ্গির চাষ হয়েছিল।

কলাবাড়ি ইউনিয়নের বুরুয়া গ্রামের বাঙ্গিচাষি আলম বিশ্বাস বলেছিলেন, ‘গতবছর প্রকারভেদে একটা বাঙ্গি বিক্রি করছি ৩০ থেকে ৬০ টাকা দামে। কিন্তু এবছর একটা বাঙ্গি ১৫-২০ টাকা করে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রচুর খরা ও বৃষ্টি না হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলনও কম হয়েছে। তারপর আবার দামও কম।’ তাঁর আশঙ্কা ছিল, ওই দামে খরচই উঠবে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলমের মতো শত শত চাষি একই শঙ্কায় ছিলেন।

খরায় ফলন কম, বেড়েছিল খরচ


উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যে, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় সে বছর ফলন ভালো হয়নি। একই সময়ে সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাঙ্গি চাষের খরচও বেড়েছিল। ফলে কম ফলন, কম দাম ও বাড়তি খরচ, তিন দিক থেকেই চাপে পড়েছিলেন কৃষকেরা।

হিজলবাড়ী গ্রামের কৃষক মধু বিশ্বাস জানান, আগের বছর বাঙ্গি চাষ করে তিনি বেশ লাভ করেছিলেন এবং এবারও তেমন আশা করেছিলেন। কিন্তু খরা ও বৃষ্টির অভাবে ফলন খারাপ হয়, দামও মেলেনি। তেতুলবাড়ি গ্রামের লোকনাথ মণ্ডল দুই বিঘা জমিতে বাঙ্গি করেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘যে দামে বিক্রি করছি তাতে লাভতো দূরের কথা চালান ঘরে নেওয়াই কষ্ট।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার দেবাশীষ দাস জানিয়েছিলেন, কৃষি অফিস থেকে বাঙ্গিচাষিদের সার, বীজ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছিল। তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, সে বছর ফলন একটু দেরিতে আসায় কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছিলেন না।

বাংলাদেশের বাঙ্গি। ছবি: Faisal Photography / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
বাংলাদেশের বাঙ্গি। ছবি: Faisal Photography / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

কালীগঞ্জ বাজারে বেপারী নেই, অলস আড়ত


কোটালীপাড়ার কলাবাড়ি ইউনিয়নের বুরুয়া, মাছপাড়া, নলুয়া, তেতুলবাড়ি ও হিজলবাড়ী গ্রামে বাঙ্গির চাষ সবচেয়ে বেশি। এসব গ্রামের কৃষকদের বছরের আয়ের বড় উৎস তরমুজ ও বাঙ্গি। বাঙ্গি বেচাকেনার জন্য স্থানীয় কালীগঞ্জ বাজারে গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০টি আড়ত। সেখান থেকে বাঙ্গি যায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, খুলনাসহ দেশের নানা এলাকায়।

সে মৌসুমে ওই এলাকাগুলো থেকে বেপারীরা আসছিলেন না। কালীগঞ্জের আড়তদার বিষ্ণু টিকাদার বলেন, প্রতিবছর এ সময়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বেপারীরা বাঙ্গি কিনতে আসতেন, কিন্তু এবার না আসায় আড়তদারদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছিল।

পাকলে ফেটে যায় এমন জাতের বাঙ্গি (স্ন্যাপ মেলন), মোজাম্বিকে তোলা। ছবি: Ton Rulkens / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
পাকলে ফেটে যায় এমন জাতের বাঙ্গি (স্ন্যাপ মেলন), মোজাম্বিকে তোলা। ছবি: Ton Rulkens / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

কোটালীপাড়া ও বাঙ্গি ফসল


বাংলাপিডিয়ার তথ্যে, কোটালীপাড়া উপজেলার আয়তন ৩৫৫.৯০ বর্গকিলোমিটার। ঘাঘর ও বিশারকান্দি এর প্রধান নদী, আর জানিহানিয়া খাল ও গোপালগঞ্জ বিল উল্লেখযোগ্য জলাশয়। উপজেলার প্রধান ফলের তালিকায় তরমুজ, ফুটি (বাঙ্গি) ও তাল রয়েছে; প্রধান ফসল ধান, গম, চিনাবাদাম ও মেস্তা।

বাঙ্গি বা ফুটি Cucumis melo প্রজাতির ফল, যে প্রজাতি থেকে নানা জাতের মেলন উদ্ভাবিত হয়েছে। এটি একবর্ষজীবী, মাটিতে লতিয়ে চলা গাছ, যা উষ্ণ আবহাওয়ায় ভালো জন্মায়। এই ফসল উষ্ণ, উর্বর ও পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থাযুক্ত মাটি পছন্দ করে, তবে ডাউনি মিলডিউ ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কাঁচা মেলনের প্রায় ৯০ শতাংশই পানি।

Cucumis melo প্রজাতির গাছের ফুল (হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপে তোলা)। ছবি: Forest & Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
Cucumis melo প্রজাতির গাছের ফুল (হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপে তোলা)। ছবি: Forest & Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

ছবি: Talat 99 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া (কোটালীপাড়া উপজেলা), উইকিপিডিয়া (Cucumis melo)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)