সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

খাঁচার পাখি লাভবার্ড পালনের খুঁটিনাটি

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

লাভবার্ড হলো ছোট বাহারি রঙের চঞ্চল পাখি। এদের মূল নিবাস আফ্রিকা ও মাদাগাস্কার। প্রজাতিগত নাম আগাপোরনিস। এদের ওজন সাধারণত ৬০-৭০ গ্রাম। লম্বা ৫-৭ ইঞ্চি বা ১৩-১৭ সেন্টিমিটার। লাভবার্ডের আয়ু প্রায় ২০ বছর। লেজের দৈর্ঘ ১-১.৫ ইঞ্চি।রোগবালাই খুব কম হয়। এরা খাঁচায় সুন্দরভাবে ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা উৎপাদন করে। জীবন বৈচিত্র্যময় ও মনোজ্ঞ। যা মানুষকে আকৃষ্ট করে। এসব কারণে লাভবার্ড এখন সবার প্রিয় পাখির মধ্যে একটি।

জেনে নিন লাভবার্ড পালনের নানা খুঁটিনাটি এবং যত্ন-আত্তি। যা এই সুন্দর পাখিকে সুস্থ ও দীর্ঘায়ু রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

লাভবার্ডকে খাঁচার পাখি বলা হয়। কারণ এরা খাঁচায় থাকতে পছন্দ করে। খাঁচায় থাকা-খাওয়া, ডিম-বাচ্চা উৎপাদন করতে এরা পছন্দ করে। লাভবার্ডের খাঁচার আদর্শ মাপ: ৩৬×২৪×২৪; তবে ২৪×২৪×২৪ অথবা ১৮×১৮×২৪ ইঞ্চি হলেও অসুবিধা নেই। মরিচা পড়া খাঁচা ব্যবহার করা যাবে না। অনেক সময় লাভবার্ড তাদের দর্শনীয় ঠোঁট দিয়ে খাঁচা কামড়ে ধরে থাকে।

বারান্দা বা ছাদে, এমনকি আপনার রুমের এক কোনায়ও খাঁচায় লাভবার্ড পালন করতে পারবেন। বিদেশিরাও ঘরের মধ্যে লাভবার্ড পালন করে থাকেন। তবে এমন জায়গা বেছে নিন, যেখানে আলো-বাতাস ভালো আসে। ছায়াযুক্ত, স্যাঁতসেঁতে জায়গা পরিহার করুন।

লাভবার্ডের প্রধান খাবার হলো সিড মিক্স (পরিমাণমতো চিনা, কাউন, সূর্যমুখীর বীজ, কুসুম ফুলের বীজ, ধান, তিসি, গম, গুজি তিল ইত্যাদি মিশিয়ে বানানো হয়)। সিড মিক্স তৈরির বিভিন্ন অনুপাত আছে, যেমন: চিনা ৩ কেজি, কাউন ১ কেজি ৫০০ গ্রাম, সূর্যমুখীর বীজ ২৫০ গ্রাম, পোলাউর চালের ধান ১ কেজি ৫০০ গ্রাম, ক্যানারি ১ কেজি, গুজি তিল ২০০ গ্রাম, হেম্প সিড ২০০ গ্রাম, সিড মিক্সের পাশাপাশি কলমি শাক, পালং শাক, লাল শাক, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, কাচা মরিচ, সজনে পাতা, ধনে পাতা, বরবটি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ভাঙা ভুট্টা সিদ্ধ, বুটের ডাল সিদ্ধ (মাঝে মাঝে) দেওয়া ভালো। শীতকালে সিড মিক্সে সূর্যমুখীর বীজ একটু বেশি দেওয়া উত্তম। এ ছাড়া মধু ও আপেল সিডার ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে দিলে পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গোসলের পানিতে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারি দিলে পোকার আক্রমণ কম হয়। ড্রাই এগ ফুড কিনে বা বাসায় বানিয়ে দিলে পাখি সুস্থ ও সবল থাকে।

১টি ডিম (দেশি মুরগির হলে ভালো) সিদ্ধ, শাক বা সবজি (কুমড়া, পটল, ঝিঙা, শিম, আমড়া ইত্যাদি) ধুয়ে ছোট করে কাটা। ডিম ও শাক মিশিয়ে দিলে সম্পূর্ণ এগ ফুড তৈরি। কাচা শাক ভালো, সেদ্ধ করলে পুষ্টিমান কমে যায়। তবে চকলেট, লবণ, মাশরুম, পেঁয়াজ, আপেলের বীজ লাভবার্ডকে দেওয়া যাবে না।

এক বছর বয়স হলে লাভবার্ডের ব্রিডিং বা ডিম-বাচ্চা উৎপাদন করা উত্তম। বছরে দুই থেকে তিনবার বাচ্চা উৎপাদন করা যায়। বাকি সময় পাখি বিশ্রামে থাকে। অনেক সময় পাখি ডিম দেয় কিন্তু বাচ্চা হয় না। কারণগুলো হতে পারে: ক্যালসিয়ামের অভাব, সঠিকভাবে পেয়ার না মেলা, বয়স কম, দুটি মেয়ে পাখি, আর্দ্রতার অভাব, ডিমে যথাযথ যত্ন না দেওয়া, পরিবেশ অনিরাপদ মনে করা, খাঁচা নড়বড়ে হওয়া, পাখি ভয় পেলে, ডিম পাড়ার সময় সঠিকভাবে মেটিং না হওয়া ইত্যাদি। ব্রিডিং খাঁচার মাপ: লম্বা ৮ ইঞ্চি, চওড়া ৬ ইঞ্চি, উচ্চতা ৬ ইঞ্চি।বাসা তৈরির জন্য: খেজুর পাতার ঝাড়ু দিতে হবে।

সপ্তাহে একবার খাঁচা পরিষ্কার করা উচিত। অপরিষ্কার খাঁচায় রোগবালাই বাড়ে। পানির পাত্র প্রতিদিন রাতে ধুয়ে রেখে দিতে হবে। সকালে নতুন পানি দেওয়া উচিত। ঘরে বানানো এগ ফুড নষ্ট হওয়ার আগে সরিয়ে ফেলুন। ড্রাই এগ ফুড দীর্ঘসময় খাঁচায় রাখা যায়। খাঁচায় বাটিতে পানি রাখুন, পাখি নিজে সময়মতো গোসল করবে।

লাভবার্ড সাধারণত শক্ত পাখি। তেমন রোগবালাই হয় না। মাঝে মাঝে বদহজম বা পাতলা পায়খানা হতে পারে। মাইটসের আক্রমণও হতে পারে। ঠান্ডা লাগলে মধু, আদা, তুলসি পাতা, পুদিনা পাতা, অপরিশোধিত আপেল সিডার ভিনেগার দিতে পারেন। আঘাতপ্রাপ্ত হলে আঘাতের স্থানে অ্যালোভেরা জেল লাগান। এটি ব্যথা কমায় ও ক্ষত দ্রুত সারায়। যে কোনো সমস্যায় ছবি তুলে ফেসবুকের পাখি গ্রুপে পোস্ট করলে অভিজ্ঞরা বিনা মূল্যে পরামর্শ দেয়।

যে কোনো পাখির দোকান, হাট এবং কাঁটাবন ইত্যাদিতে জায়গায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া সরাসরি ব্রিডারের কাছে গিয়ে কিনতে পারেন। ব্রিডারদের ফেসবুকের পাখি গ্রুপে খুঁজে পাওয়া যায়। লক্ষ্য রাখবেন আমদানিকৃত নয়, দেশের উৎপাদিত লাভবার্ড কিনুন। আমদানিকৃত পাখি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কম দামে হলেও এসব কেনা উচিত নয়। পাখি কেনার আগে ব্রিডার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিন। ডিএনএ পেপারসহ কিনবেন।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)