রাঙ্গামাটি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাঙ্গাপানির নোয়াদাম ব্রাহ্মণটিলা এলাকায় একটি পেঁপে বাগানের প্রায় ৮০০টি ফলন্ত গাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে। ৩১ জুলাই সকালে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সারি সারি গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে, আর প্রায় প্রতিটি গাছেই ঝুলছিল কাঁচা ও আধাপাকা পেঁপে। জাগো নিউজ ২৪ প্রথম এই খবর প্রকাশ করে।
বেছে বেছে কাটা হয় সবচেয়ে ফলনশীল গাছ
জমির মালিক আহমদ ফজলুর রশিদ সেলিম জাগো নিউজকে জানান, খলিল নামের এক ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে প্রায় এক একর জমি লিজ নিয়ে পেঁপে চাষ করছিলেন এবং সেখানে প্রায় এক হাজার ৮০০টি গাছ লাগিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, "এর মধ্যে যেসব গাছে সবচেয়ে বেশি পেঁপে ধরেছিল, বেছে বেছে সেই ৮০০টি ফলবান গাছই কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।" তিনি আরও বলেন, "এভাবে ফল ধরা গাছ কেটে ফেলা কৃষকের জন্য খুবই কষ্টের ও নির্মম।"
বাগানের তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহিদ জানান, রাতে খাবার খেয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন; সকালে উঠে দেখেন বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা। তাঁর কথায়, কাটা গাছগুলোর পেঁপে পরের এক মাসের মধ্যেই বাজারে বিক্রির কথা ছিল। বাগান সংশ্লিষ্টদের হিসাবে এক রাতেই কয়েক লাখ টাকার বাজারজাত করার উপযোগী পেঁপে নষ্ট হয়।

থানায় তখনো অভিযোগ হয়নি
দুঃখ প্রকাশ করে জমির মালিক বলেন, "রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে কিছুই বুঝতে পারছি না।" লিজ গ্রহীতা ও পেঁপে চাষি মো. খলিল তখন রাঙ্গামাটির বাইরে ছিলেন। বাগান মালিক জানান, তিনি ফিরে এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে; ফলে ৩১ জুলাই পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

পাহাড়ে বাড়ছিল বাণিজ্যিক পেঁপে চাষ
রাঙ্গামাটি আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় জেলা, ৬ হাজার ১১৬ বর্গকিলোমিটার। এর অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, ভুট্টা ও সরিষার পাশাপাশি আম, কাঁঠাল ও আনারসের মতো ফল এখানে চাষ হয়। একসময় পেঁপে মূলত পারিবারিক চাহিদা মেটাতে বাড়ির উঠানে লাগানো হতো। ঢাকা ট্রিবিউনের ২০২০ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভালো দাম ও উচ্চফলনশীল জাতের কারণে জেলার চাষিরা তখন পুঁজি খাটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষে ঝুঁকছিলেন; রাজস্থলী থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালের ব্যবসায়ীরা পেঁপে কিনে নিয়ে যেতেন।

দেশজুড়েও পেঁপের উৎপাদন দ্রুত বেড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে পেঁপে উৎপাদন ছিল ৪ লাখ ৯২ হাজার টন, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ টনে পৌঁছায়। পার্বত্য জেলা বান্দরবান তখন উৎপাদনে দ্বিতীয় ছিল। চাষ হয় মূলত দুটি জাত: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবিত শাহী পেঁপে এবং বিদেশ থেকে আনা রেড লেডি। এমন প্রেক্ষাপটে ফলন্ত বাগান এক রাতে ধ্বংস হওয়া পাহাড়ের চাষিদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দেখা দেয়।
ছবি: Salim_Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)