সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে নগর বনায়ন শুরু করল ডিএনসিসি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ২০২৬ সালের ১৮ মে উত্তরার দিয়াবাড়ীতে জাপানি মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে নগর বনায়নের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ শুরু করে, যেখানে প্রায় ২ দশমিক ৬০ একরে ২৫০ প্রজাতির প্রায় ৩৯ হাজার ৪০০ গাছ লাগানোর কথা।

উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে নগর বনায়ন শুরু করল ডিএনসিসি
পরিবেশ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২০২৬ সালের ১৮ মে উত্তরার দিয়াবাড়ীর একটি গ্রিনবেল্টে জাপানি মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে চারা রোপণের মাধ্যমে নগর বনায়নের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করে, যাকে সংস্থাটি দেশের সর্ববৃহৎ নগর বনায়ন প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছে। ডিএনসিসি জানায়, ঢাকা শহরের বায়ু, পানি ও মাটিদূষণের প্রেক্ষাপটে নগরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

জাগো নিউজ ২৪ ও প্রথম আলোর সেদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৮ মে) বিকেলে উত্তরা দিয়াবাড়ীর ৪ নম্বর ব্রিজ-সংলগ্ন ১১ নম্বর লেকপাড়ের পূর্ব পাশে গ্রিনবেল্ট হিসেবে চিহ্নিত স্থানে গাছ লাগিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

প্রথম ধাপ শেষ, শুরু দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ


এই জায়গায় গাছ লাগানো নতুন নয়। ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, একই স্থানে প্রথম ধাপে, অর্থাৎ ফেইজ-১-এ (চেইনেজ শূন্য থেকে ১৫০ মিটার পর্যন্ত অংশ) ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ১৪ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছিল। সংস্থাটি ওই ধাপকে সফলভাবে সম্পন্ন বলে উল্লেখ করেছে।

১৮ মে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে প্রায় ২ দশমিক ৬০ একর এলাকাজুড়ে আরও প্রায় ৩৯ হাজার ৪০০ গাছ রোপণের কথা। প্রথম আলো জানায়, ডিএনসিসি এই রোপণ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা করেছে। তালিকায় রয়েছে প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ: দেশীয় ফলজ, ফুলের গাছ, ঔষধি, কাঠজাত, শোভাবর্ধনকারী গাছ, কনিফার, গুল্ম ও ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, এই বনভূমি ঢাকা শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ গাছ রোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখানে ৩৯ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।

ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, একটি দীর্ঘমেয়াদি সবুজ অবকাঠামো গড়ে তুলে নগরের বায়ুমান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সংস্থাটি এই প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, গাছের উপকারিতা সবাই জানেন, কিন্তু নগরজীবনে এর বাস্তব প্রভাব অনুভব করা যায় এমন উদ্যোগ খুব কম; এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। এখানে এসে মানসিক স্বস্তি অনুভব করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিবেশ নগরবাসীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ঢাকার উত্তরায় মেট্রোরেল লাইনের পাশের একটি লেক, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তোলা। ছবি: Faa Noa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার উত্তরায় মেট্রোরেল লাইনের পাশের একটি লেক, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তোলা। ছবি: Faa Noa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

দিয়াবাড়ীর বনটি যেভাবে নকশা করা হয়েছে


ডিএনসিসি জানায়, এই বন বায়োফিলিক ডিজাইন ও বায়োমিমিক্রির নীতিমালা অনুসরণ করে তৈরি হচ্ছে। জমিকে উঁচু-নিচু টিলার আকার দেওয়া হয়েছে, গাছের ফাঁকে ফাঁকে আঁকাবাঁকা পথ রাখা হয়েছে এবং লেকপাড় ঘেঁষে হাঁটার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বায়োফিলিক ডিজাইন হলো স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনার এমন একটি ধারা, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও ভালো থাকার জন্য প্রকৃতি এবং প্রকৃতির মতো গড়নের সঙ্গে মানুষের সংযোগ বাড়াতে চায়। এর মূল শব্দ 'বায়োফিলিয়া' ১৯৭৩ সালে ব্যবহার করেছিলেন মনোবিশ্লেষক এরিখ ফ্রম; পরে মার্কিন জীববিজ্ঞানী এডওয়ার্ড ও. উইলসন ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত তাঁর 'বায়োফিলিয়া' বইয়ে ধারণাটি বিস্তৃত করেন এবং একে বর্ণনা করেন জীবন ও জীবনের মতো প্রক্রিয়ার প্রতি মনোযোগী হওয়ার সহজাত প্রবণতা হিসেবে। বায়োমিমিক্রি বা বায়োমিমেটিকস মানে মানুষের সমস্যা সমাধানে প্রকৃতির নকশা, ব্যবস্থা ও উপাদান অনুকরণ করা। গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতেও একই ভাবনা আছে: আকিরা মিয়াওয়াকি লিখেছেন, চারাগুলো মিশিয়ে ঘন করে 'প্রাকৃতিক বনের ব্যবস্থা অনুসরণ করে' লাগাতে হবে, কাঠ উৎপাদনের জন্য করা এক প্রজাতির বাগানের মতো নয়, যার তিনি সমালোচনা করেছেন।

মাটিও বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। দোআঁশ মাটির সঙ্গে ভার্মি কম্পোস্ট, কোকোডাস্ট (নারকেলের ছোবড়ার আঁশ থেকে পাওয়া গুঁড়া), ধানের তুষ, বোনমিল ও জৈব সার মিশিয়ে বনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এটি মিয়াওয়াকির নিজের নির্দেশনার মূল কথার সঙ্গে মেলে। ১৯৯৯ সালে জাপানের 'প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি' সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় তিনি লেখেন, যেখানে উপরিভাগের মাটি হারিয়ে গেছে, সেখানে চারা লাগানোর আগে ঝরা পাতা, কম্পোস্ট ও কাটা ঘাসের মতো জৈব উপকরণ স্থানীয় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীর উপরিমাটি ফিরিয়ে আনতে হবে।

ঘন সবুজের ভেতর দিয়ে হাঁটার পথগুলো রাখা হয়েছে জাপানি ধারণা 'শিনরিন ইয়োকু' বা 'বন স্নান'-এর অভিজ্ঞতা দিতে, অর্থাৎ গাছের মাঝে ধীরে হাঁটা। বন স্নান নিয়ে জাপানে গবেষণায় কী পাওয়া গেছে, তা নিচে আলাদা অংশে বলা হয়েছে।

অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শকেরা


ডিএনসিসির এই নগর বনায়ন কার্যক্রমে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন অধিদপ্তর, শক্তি ফাউন্ডেশন, গ্রিন সেভার্স, গ্রিন ভয়েস, ব্রাইটার্স, ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, ওএবি ফাউন্ডেশন এবং যুব ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা। এ ছাড়া ইডিফেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান মিয়াওয়াকি বনায়নের সম্ভাব্যতা যাচাই ও জরিপের কাজে সহায়তা করছে।

বন অধিদপ্তর বাংলাদেশের বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা, যার প্রধান কার্যালয় ঢাকার মহাখালীতে। শুরুতে প্রাকৃতিক বন দেখাশোনার জন্য গঠিত হলেও আশির দশকে সংস্থাটি সামাজিক বনায়নে, অর্থাৎ স্থানীয় মানুষকে যুক্ত করে গাছ লাগানোর কাজে নামে। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া জানায়, ১৯৬২-৬৩ সালে রাজশাহী ও ঢাকায় দুটি বন সম্প্রসারণ বিভাগ গঠন করা হয় এবং একই সময়ে ১ জুন বৃক্ষরোপণ দিবস চালু হয়; পরে এই অভিযান এক দিন থেকে এক সপ্তাহ, এক মাস এবং তারপর তিন মাসে বিস্তৃত হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে এবং এফএওর কারিগরি সহায়তায় প্রথম বড় কমিউনিটি বনায়ন প্রকল্প চলে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত সাতটি জেলায়, যার লক্ষ্য ছিল সড়ক, রেলপথ ও খালের বাঁধ ধরে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান গড়ে তোলা।

গ্রিন সেভার্স এই প্রকল্পের আগেও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কাজ করেছে: বাংলা ট্রিবিউন ২০২৫ সালের জুনে জানায়, ডিএনসিসি সে বছরের বর্ষাকালীন বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরুর সময় গ্রিন সেভার্সের মাধ্যমে পরিচালিত একটি বৃক্ষসেবা ও ছাদবাগান সহায়তা কেন্দ্রের কথাও ঘোষণা করে। শক্তি ফাউন্ডেশন ফর ডিসঅ্যাডভান্টেজড উইমেন বাংলাদেশের একটি বেসরকারি সংস্থা, যার কর্মসূচির মধ্যে আছে নারীদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ, স্বাস্থ্যসেবা ও জলবায়ু বিষয়ক কাজ।

বায়ুমান বিশ্লেষণ ও করণীয় নির্ধারণে ডিএনসিসির টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন দুজন শিক্ষাবিদ: স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. আহম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রওফা খানম। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অধীনে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিও বেসরকারি; স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাকের অংশ হিসেবে ২০০১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন, এর অবস্থান ঢাকার মেরুল বাড্ডায়। মিয়াওয়াকি পদ্ধতি, বায়োফিলিক ডিজাইন ও ল্যান্ডস্কেপ ধারণায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন আরহাম উল হক চৌধুরী।

পাঁচ বছরে ৫ লাখ গাছ


ডিএনসিসি জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নিজের অংশ হিসেবে সংস্থাটি আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ গাছ রোপণের কর্মপরিকল্পনা এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রথম বছরে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে, ৫০ হাজার গাছ রোপণের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

জাতীয় এই কর্মসূচির সূত্রপাত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে, যেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও ফারমার্স কার্ডের মতো অঙ্গীকারের পাশাপাশি ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কথাও ছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জয়ী হয়।

দিয়াবাড়ীর বনই সিটি করপোরেশনের প্রথম বড় বৃক্ষরোপণ উদ্যোগ নয়। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার পরিবেশ রক্ষা ও বায়ুদূষণ কমাতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন ডিএনসিসি বর্ষা মৌসুমে ৫ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে তিন মাসব্যাপী একটি বনায়ন কর্মসূচি শুরু করে। পূর্বাচল নতুন শহরের হারারবাড়ি চত্বরে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়, প্রধান অতিথি ছিলেন তখনকার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তখনকার প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছিলেন, ঢাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে সেই বর্ষায় ৩ থেকে ৫ লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উপদেষ্টা সতর্ক করেছিলেন, শহরের ইকোসিস্টেম একবার নষ্ট হলে তা পুনরুদ্ধার করা কঠিন; তাই শুধু গাছ লাগানো যথেষ্ট নয়, নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, সবুজায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিএনসিসি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৭৭ হাজার গাছ রোপণ করেছে এবং ভবিষ্যতে ১২০ কিলোমিটার সড়ক মিডিয়ান ও ১০৮ কিলোমিটার খালপাড়ে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ওই অভিযানে রোপণের জায়গা হিসেবে সড়কের মিডিয়ান, পার্ক, খেলার মাঠ, খালপাড়, কবরস্থান ও নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসস্থলের কথা বলা হয়েছিল। দিয়াবাড়ীর বন ভিন্ন ধরনের রোপণ: অনেক প্রজাতির গাছ ঘন করে লাগানো একটি খণ্ড, যা বেড়ে একটি ছোট বনে পরিণত হওয়ার কথা।

মিয়াওয়াকি পদ্ধতি কী


পদ্ধতিটির নাম জাপানি উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও উদ্ভিদ-বাস্তুবিদ আকিরা মিয়াওয়াকির নামে। তাঁর জন্ম ১৯২৮ সালের ২৯ জানুয়ারি, মৃত্যু ২০২১ সালের ১৬ জুলাই। তিনি জাপানের ইয়োকোহামা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক এবং জাপানিজ সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইন ইকোলজির পরিচালক ছিলেন; ২০০৬ সালে তিনি ব্লু প্ল্যানেট পুরস্কার পান। পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে তিনি জার্মানিতে উদ্ভিদবিজ্ঞানী রাইনহোল্ড টুক্সেনের সঙ্গে 'সম্ভাব্য প্রাকৃতিক উদ্ভিদ' (পটেনশিয়াল ন্যাচারাল ভেজিটেশন) ধারণা নিয়ে কাজ করেন, যা পরে তাঁর কাজের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

১৯৯৯ সালের পর্যালোচনায় মিয়াওয়াকি ব্যাখ্যা করেন, সম্ভাব্য প্রাকৃতিক উদ্ভিদ হলো মানুষের কোনো প্রভাব না থাকলে একটি জমি যে উদ্ভিদ ধারণ করতে পারত, অর্থাৎ জমিটি তাত্ত্বিকভাবে কোন উদ্ভিদ টিকিয়ে রাখতে সক্ষম তার একটি পরিমাপ। এটি নির্ধারণ করতে বাস্তুবিদেরা এলাকায় টিকে থাকা প্রাকৃতিক উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণ করে তার জায়গায় গজানো দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্ভিদের সঙ্গে তুলনা করেন, এবং মাটির স্তর, ভূপ্রকৃতি ও জমির ব্যবহার পরীক্ষা করেন।

মিয়াওয়াকি তাঁর আদর্শ নিয়েছিলেন জাপানের একটি ঐতিহ্য থেকে। তিনি লিখেছেন, জাপানে গ্রাম ও শহর গড়ার সময় মানুষ সাধারণত মন্দির ও উপাসনালয়ের চারপাশে স্থানীয় গাছের বন রেখে দিত, যার নাম 'চিনজু-নো-মোরি'। এই বনগুলোকে তিনি আদি বনের অবশেষ হিসেবে দেখতেন এবং নিজের পদ্ধতিকে বলতেন 'দেশি গাছ দিয়ে দেশি বন' ফিরিয়ে আনা। ১৯৯৯ সালের পর্যালোচনায় তিনি ধাপগুলো এভাবে বর্ণনা করেন।

  • এলাকার উদ্ভিদ জরিপ করে সেখানকার সম্ভাব্য প্রাকৃতিক উদ্ভিদ নির্ধারণ করা এবং তা থেকে প্রধান গাছের প্রজাতি বেছে নেওয়া।
  • ওই প্রজাতিগুলোর বীজ বা ফল সংগ্রহ করে টবে চারা তৈরি করা এবং শিকড় পুরোপুরি বেড়ে ওঠা পর্যন্ত টবেই রাখা।
  • যেখানে উপরিভাগের মাটি হারিয়ে গেছে, সেখানে ঝরা পাতা, কম্পোস্ট ও কাটা ঘাসের মতো জৈব উপকরণ স্থানীয় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার উপরিমাটি ফিরিয়ে আনা।
  • প্রধান প্রজাতির টবের চারার সঙ্গে যত বেশি সম্ভব সহযোগী প্রজাতি মিশিয়ে প্রাকৃতিক বনের ব্যবস্থা অনুসরণ করে ঘন করে লাগানো; মিয়াওয়াকির মতে প্রতি বর্গমিটারে দুই বা তিনটি চারা উপযুক্ত।
  • মাটির ক্ষয় ও আর্দ্রতা হারানো ঠেকাতে ধানের খড়ের মতো জৈব উপকরণ দিয়ে মালচিং করা।
  • দুই-তিন বছর আগাছা কেটে বা তুলে চারার চারপাশে রেখে দেওয়া, যাতে তা বাড়তি মালচের কাজ করে; প্রায় তিন বছরের মধ্যে গাছগুলো মাটি ঢেকে ফেলে।

মিয়াওয়াকি এই পদ্ধতি নিয়ে বড় দাবি করেছিলেন। তিনি লেখেন, সম্ভাব্য প্রাকৃতিক উদ্ভিদের বহুস্তরবিশিষ্ট বনের সবুজ উপরিতল এক স্তরের ঘাসের লনের প্রায় ৩০ গুণ; এমন বন লনের চেয়ে অনেক বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ ও সঞ্চয় করতে পারে; আর এ পদ্ধতিতে জাপানে ১৫ থেকে ২০ বছরে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৪০ থেকে ৫০ বছরে প্রায় প্রাকৃতিক বহুস্তর বন গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে স্বাভাবিক নিয়মে কয়েক শ বছর লাগে। তাঁর কাজ নিয়ে বিশ্বকোষীয় বিবরণে প্রচলিত হিসাবটি দেওয়া আছে: খালি মাটিতে একটি তরুণ বহুস্তর দেশি বন নিজে থেকে গড়ে উঠতে জাপানে ১৫০ থেকে ২০০ বছর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলে অন্তত ৩০০ বছর লাগে।

ভারতের কেরালায় একটি মিয়াওয়াকি বন, ২০২০ সালের জুনে তোলা। ছবি: Anish nellickal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভারতের কেরালায় একটি মিয়াওয়াকি বন, ২০২০ সালের জুনে তোলা। ছবি: Anish nellickal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

যেখানে যেখানে পদ্ধতিটি প্রয়োগ হয়েছে


মিয়াওয়াকির প্রথম বড় কাজ আসে সত্তরের দশকের শুরুতে জাপানের নিপ্পন স্টিল করপোরেশনের কাছ থেকে। প্রচলিত পদ্ধতিতে লাগানো আগের বাগান মরে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ওইতার ইস্পাত কারখানার চারপাশের বাঁধে বন চেয়েছিল; পরে তারা আরও কয়েকটি কারখানায় একই ধরনের বন গড়ে। ১৯৯৯ সালে মিয়াওয়াকি জানান, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা জাপানে প্রায় ৫৫০টি স্থানে বন ফিরিয়ে এনেছেন, এবং তাঁর দাবি, এর একটিতেও ব্যর্থতা দেখা যায়নি।

দেশের বাইরের তিনটি প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ আছে তাঁর ১৯৯৯ সালের পর্যালোচনায়। মালয়েশিয়ায় মিতসুবিশি করপোরেশন ও দেশটির কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ প্রকল্প শুরু হয় ১৯৯০ সালে, বোর্নিও দ্বীপের সারাওয়াক রাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনতুলু ক্যাম্পাসের ৮০০ হেক্টর অনুর্বর জমিতে; ১৯৯৯ সাল নাগাদ ৫০ হেক্টরে ৩ লাখ ৩০ হাজার চারা লাগানো হয় এবং রোপণের ছয় বছর পর গাছগুলো ছয় থেকে দশ মিটার উঁচু হয়। ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের বেলেমের কাছে ১৯৯২ সালের ১৮ মে প্রথম রোপণ উৎসব হয় ৯২টি প্রজাতি নিয়ে, আর কিছু গাছ পাঁচ বছরে দশ থেকে পনেরো মিটার পর্যন্ত বাড়ে। চীনে বেইজিংয়ের কাছে মহাপ্রাচীর বরাবর প্রথম রোপণ হয় ১৯৯৮ সালের ৪ জুলাই, জাপানের প্রায় ১ হাজার ৪০০ এবং চীনের প্রায় ১ হাজার ২০০ স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে; তিন বছরের ওই কর্মসূচিতে ৩ লাখ ৯০ হাজার চারা লাগানোর পরিকল্পনা ছিল।

বাংলাদেশের কাছাকাছি পাকিস্তানে ২০২১ সালের আগস্টে সাগিয়ানে একটি মিয়াওয়াকি বন প্রকল্পের উদ্বোধন হয়, যাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নগর মিয়াওয়াকি বন প্রকল্প বলে বর্ণনা করা হয়েছিল: সাড়ে ১২ একর জমিতে ১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি উদ্ভিদ। তার আগে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে, করাচির উপকূলের একটি ভরাট করা আবর্জনাস্থলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিয়াওয়াকির কৌশল অনুসরণ করে ক্লিফটন আরবান ফরেস্ট শুরু হয়। ভারতে অন্তত ২০১৩ সাল থেকে পদ্ধতিটি ব্যবহৃত হচ্ছে; সে বছর উত্তর-পূর্ব ভারতের উমিয়ামের বারাপানি শিল্প এলাকায় এটি প্রয়োগ হয়, পরে বেঙ্গালুরুতে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে পুদুচেরির সরকারি স্কুলে এবং আরও নানা জায়গায়।

পদ্ধতিটি নিয়ে সংশয়ও আছে। ভূমধ্যসাগরীয় বাস্তুতন্ত্রে প্রথম পরীক্ষা হয় ২০০০ সালে ইতালির সার্ডিনিয়ায়, এমন জমিতে যেখানে প্রচলিত বনায়ন ব্যর্থ হয়েছিল। বার্তোলোমিও শিরোনে, আন্তোনেল্লো সালিস ও ফেদেরিকো ভেস্সেলার 'ল্যান্ডস্কেপ অ্যান্ড ইকোলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং' সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, দুই ও এগারো বছর পরের ফলাফলে উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের দিক থেকে ইতিবাচক চিত্র পাওয়া গেলেও বারো বছরের মাথায় রোপণ করা গাছের ৬১ থেকে ৮৪ শতাংশ মারা গিয়েছিল। অন্য সমালোচকেরা মাটি প্রস্তুত ও এত ঘন করে গাছ লাগানোর উচ্চ খরচের কথা বলেন, এবং প্রশ্ন তোলেন, মানুষের লাগানো বন প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বনের জায়গা কতটা নিতে পারে।

বাংলাদেশে প্রথম আলো ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি এক সম্পাদকীয়তে দেশের প্রথম মিয়াওয়াকি বন হিসেবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়া একটি বনের কথা লেখে। জমিটি আগে ইটভাটার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পত্রিকাটি জানায়, তখন ১৩ মাস বয়সী ওই বনে শত শত প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে; এর পরামর্শক ছিলেন প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্রের দেলোয়ার জাহান এবং উদ্যোগটি নিয়েছিলেন আমজাদ হোসেন। সম্পাদকীয়তে বলা হয়, প্রকৃতিবিদ ও পরিবেশবিশেষজ্ঞরা দেশি প্রজাতি দিয়ে এই মডেল সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে।

ভারতের কেরালার তিরুবনন্তপুরমের কনককুন্নুতে বনায়ন, ২০১৯ সালের আগস্টে তোলা। ছবি: BemanHerish / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভারতের কেরালার তিরুবনন্তপুরমের কনককুন্নুতে বনায়ন, ২০১৯ সালের আগস্টে তোলা। ছবি: BemanHerish / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সংখ্যায় ঢাকার বাতাস


ডিএনসিসি যে দূষণকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তার প্রমাণ নানা সূত্রে আছে। সুইজারল্যান্ডের বায়ুমান প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ তাদের ২০২৫ সালের বিশ্ব বায়ুমান প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত দেশ; দেশটিতে সূক্ষ্ম বস্তুকণার (পিএম২.৫) বার্ষিক গড় ঘনত্ব ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৬৬ দশমিক ১ মাইক্রোগ্রাম, প্রথম স্থানে থাকা পাকিস্তানে ৬৭ দশমিক ৩। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকায় বার্ষিক গড়ের সীমা প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম। আইকিউএয়ারের আগের, অর্থাৎ ২০২৪ সালের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ দ্বিতীয় ছিল, ঘনত্ব ছিল ৭৮ দশমিক ০ মাইক্রোগ্রাম, শীর্ষে ছিল চাদ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাইরের বাতাসের মান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যপত্র, যা ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর হালনাগাদ করা হয়, অনুযায়ী ২০১৯ সালে বিশ্বে বাইরের বায়ুদূষণে ৪২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছে, এবং সে বছর বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ এমন জায়গায় বাস করত যেখানে সংস্থাটির নির্দেশিকার মাত্রা মানা হয়নি। তথ্যপত্রে আরও বলা হয়, এই অকালমৃত্যুর ৮৯ শতাংশ ঘটেছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে।

বাংলাপিডিয়া ঢাকাকে বাংলাদেশে বায়ুদূষণ সমস্যার সবচেয়ে তীব্র জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে দূষণের দুটি প্রধান উৎস হিসেবে শিল্প ও যানবাহনের নির্গমনের কথা বলা হয়েছে, শিল্প উৎসের মধ্যে আছে ইটভাটা; এবং বলা হয়েছে, ঢাকায় বায়ুদূষণ সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মার্চের শুষ্ক মাসগুলোতে সবচেয়ে বেশি থাকে।

বন স্নান নিয়ে গবেষণা যা বলে


'শিনরিন ইয়োকু' শব্দটি, যার অর্থ বনের পরিবেশ গ্রহণ করা, ১৯৮২ সালে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় চালু করে। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে 'এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড প্রিভেনটিভ মেডিসিন' সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে জাপানের চিবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি. জে. পার্কের নেতৃত্বে গবেষকেরা জাপানের ২৪টি বনে ২৮০ জন তরুণকে নিয়ে মাঠ পরীক্ষার ফল জানান। অংশগ্রহণকারীরা এক দিন বনে এবং অন্য দিন শহরের এলাকায় হেঁটেছেন ও চারপাশ দেখেছেন। শহরের তুলনায় বনে তাঁদের মানসিক চাপের হরমোন কর্টিসলের মাত্রা, নাড়ির গতি ও রক্তচাপ কম এবং বিশ্রামের সঙ্গে যুক্ত প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুর কার্যকলাপ বেশি পাওয়া যায়।

একই সংখ্যায় টোকিওর নিপ্পন মেডিকেল স্কুলের চিং লি ২০০৫ সাল থেকে চলা একাধিক গবেষণার পর্যালোচনা প্রকাশ করেন, যেখানে প্রাপ্তবয়স্করা তিন দিন দুই রাতের জন্য বনাঞ্চলে বেড়াতে যান। রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার অংশ ন্যাচারাল কিলার কোষের সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় বনে কাটানো দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল, এবং বাড়তি কার্যক্ষমতা ভ্রমণের পর ৩০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়; পর্যটক হিসেবে শহর ঘোরায় এমন প্রভাব দেখা যায়নি। এসব গবেষণা হয়েছে জাপানের পুরোনো, প্রতিষ্ঠিত বনে, শহরে নতুন লাগানো বাগানে নয়; ঢাকার লেকপাড়ে লাগানো একটি বন দর্শনার্থীদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এগুলোতে মাপা হয়নি।

দিয়াবাড়ী, উত্তরা ও সিটি করপোরেশন


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর, যখন সাবেক ঢাকা সিটি করপোরেশন বিলুপ্ত করে উত্তর ও দক্ষিণ দুটি করপোরেশনে ভাগ করা হয়। ২০১৬ সালে সরকার এর সঙ্গে আটটি ইউনিয়ন যুক্ত করে, ফলে আয়তন দাঁড়ায় ১৯৭ বর্গকিলোমিটার। করপোরেশনটি ৫৪টি ওয়ার্ডে বিভক্ত, আর ২০২২ সালের জনশুমারিতে এর আওতাধীন এলাকায় ৫৯ লাখ ৯০ হাজার ৭২৩ জন মানুষ গণনা করা হয়।

করপোরেশনের উত্তরে উত্তরার যাত্রা শুরু একটি পরিকল্পিত উপশহর হিসেবে। ১৯৬৫ সালে ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট, আজকের রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), টঙ্গী ও কুর্মিটোলা বিমানবন্দরের মাঝখানের আজমপুর ও ফায়দাবাদ এলাকায় নতুন শহরের জন্য জরিপ চালায়, এবং ১৯৬৭ সালের ২৫ জুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ১৯৮০ সালে প্রকল্পটির নাম হয় উত্তরা আবাসিক মডেল টাউন। এর তৃতীয় পর্ব ঘোষণা হয় ১৯৯৯ সালে এবং চূড়ান্ত হয় ২০০৯ সালে: পশ্চিম দিকে আরও চারটি সেক্টর নিয়ে ২ হাজার ৮ একর জমিতে সম্প্রসারণ, যেখানে ৫ লাখ মানুষের আবাসনের পরিকল্পনা ছিল।

দিয়াবাড়ী উত্তরার ১৫ ও ১৬ নম্বর সেক্টরের খোলা নিচু জমি নিয়ে গঠিত। ঢাকা মেট্রোরেলের লাইন-৬-এর ট্রেন দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে, আর উত্তরা মেট্রোরেলের আওতায় আসে ২০২২ সালে। এই বনায়নের আগেও দিয়াবাড়ী ছিল নগরবাসীর বেড়ানোর জায়গা, শহরের ভেতরেই গ্রামীণ পরিবেশের জন্য: এর খাল, পাখি, প্যাডেল বোট ও কায়াকিং, আর সাদা কাশফুল, যা দেখতে মানুষ সেখানে যান।

ছবি: G. Hameed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি (আকিরা মিয়াওয়াকি, ১৯৯৯), এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড প্রিভেনটিভ মেডিসিন (পার্ক ও সহকর্মী, ২০১০; লি, ২০১০), ল্যান্ডস্কেপ অ্যান্ড ইকোলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (শিরোনে ও সহকর্মী), আইকিউএয়ার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)