শেরপুরে পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে শুরু করায় ২০২৬ সালের ১০ জুলাই শুক্রবার সকাল থেকে জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। জাগো নিউজের ১১ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমে আসে। তবে পানি নামতেই ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হয়: বুধ ও বৃহস্পতিবারের টানা বর্ষণ এবং উজানে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে নালিতাবাড়ী উপজেলার গোল্লারপাড় এলাকায় শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজীরখামার সড়কের একটি অংশ বিধ্বস্ত হয়।
নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১১ জুলাই শনিবার সকাল ৯টায় নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩০৮ সেন্টিমিটার এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ২৭০ সেন্টিমিটার নিচে, আর সদর উপজেলায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৩৮৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। ঝিনাইগাতী ও সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচে ছিল।
জাগো নিউজ জানায়, সে সময় ফসলি জমিতে কোনো আবাদ না থাকায় কৃষকদের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

গোল্লারপাড়ে সড়ক বিধ্বস্ত
জাগো নিউজ ও কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢলের পানিতে গোল্লারপাড়ে সড়কটির প্রায় ৩০ মিটার অংশ বিধ্বস্ত হয়। দৈনিক ইনকিলাব ১১ জুলাই প্রায় ১০০ মিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার কথা জানায় এবং লেখে, প্রায় ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কের অন্তত ১২ ফুট ধসে যাওয়ায় অবশিষ্ট ৬ থেকে ৭ ফুট অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কেবল ছোট যানবাহন চলছিল। এতে চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েন।
ইনকিলাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলজিইডি সূত্র জানায়, চেল্লাখালী নদীর ভাঙন থেকে সড়কটি রক্ষায় ২০১৩ সালে প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে প্যালাসাইডিং নির্মাণ করা হয়েছিল, পরে সেখানে সিসি ব্লকও বসানো হয়। জুন মাসের ঢলে ওই প্যালাসাইডিং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান পত্রিকাটিকে বলেন, নদীর বিপরীত পাশের দুটি বক্স কালভার্ট মাটি ফেলে বন্ধ করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে এবং আশপাশে অবৈধভাবে বালু ও মাটি তোলায় সড়ক ও প্রতিরক্ষা কাঠামো দুর্বল হয়েছে। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী ইনকিলাবকে বলেন, নদীঘেঁষা সড়কটি এলজিইডির, তবে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু বস্তা পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডিকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন। ইনকিলাবকে তিনি জানান, শনিবার দুই দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে এবং পানি চলাচলের জন্য বক্স কালভার্টগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

আকস্মিক বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ৮ জুলাই সতর্ক করেছিল, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রভাবে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে থাকা জেলার তালিকায় শেরপুরও ছিল বলে প্রথম আলো জানায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জাগো নিউজকে জানান, নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে জরুরি মেরামতের জন্য জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুকনো খাবারসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ঢলপ্রবণ সীমান্ত জেলা শেরপুর
ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলার আয়তন ১,৩৫৯.৮৭ বর্গকিলোমিটার। জেলার উত্তরে ভারত, পূর্বে ময়মনসিংহ এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে জামালপুর জেলা। ব্রহ্মপুত্র ও ভোগাইসহ জেলার নদীগুলো বর্ষায় উজানের পাহাড়ি ঢলে দ্রুত ফুলে ওঠে। জেলায় বছরে গড়ে ২,১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরের শুরুতে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। দ্য ডেইলি স্টারের তখনকার প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় প্রায় ৪,৩০০ হেক্টর আমন খেত ও প্রায় ১০০ হেক্টর সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের এই ঢলে মাঠে আবাদ না থাকায় ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি বলে জাগো নিউজ জানায়; ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায় মূলত সড়কে।

ছবি: Anup Sadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক ইনকিলাব, কালবেলা, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, উইকিপিডিয়া (শেরপুর জেলা)





মন্তব্য
(০)