সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

মতলব উত্তরে মেঘনার পাড়ে রাসেলস ভাইপারের কামড়, সাপটি ধরে বাড়ি নিলেন যুবক

২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনার পাড়ে জালে আটকে থাকা একটি রাসেলস ভাইপার ছাড়াতে গিয়ে এক যুবক কামড় খান। কামড়ের পরও সাপটি ব্যাগে ভরে বাড়ি নিয়ে যান, পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম নেন।

মতলব উত্তরে মেঘনার পাড়ে রাসেলস ভাইপারের কামড়, সাপটি ধরে বাড়ি নিলেন যুবক
পরিবেশ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীর পাড়ে জালে আটকে থাকা একটি রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) ছাড়াতে গিয়ে সাপের কামড় খেয়েছেন এক যুবক। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল সোমবার সকালে। কামড়ের পরও তিনি সাপটি ধরে পলিথিন ব্যাগে ভরে বাড়িতে নিয়ে যান, তারপর চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিভেনম নেন। সেদিন সন্ধ্যায় জাগো নিউজ ২৪ এ খবর প্রকাশ করে; সমকালও ঘটনাটির খবর দেয়। চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানা যায়। এ ঘটনায় মেঘনার পাড় ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভয়ংকর বিষধর এই সাপকে ঘিরে আবারও আতঙ্ক ছড়ায়।

জাল থেকে সাপ ছাড়াতে গিয়ে কামড়


জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের এখলাসপুর আবাসন (সরকারি আবাসন প্রকল্প) এলাকায় মেঘনা নদীর পাড়ে। আহত মো. সোহেল (৩১) একই এলাকার সেলিম প্রধানের ছেলে।

সোহেল পত্রিকাটিকে জানান, সকালে নতুন বাড়িতে যাওয়ার পথে নদীর পাড়ে একটি জালে বড় আকারের একটি রাসেলস ভাইপার আটকে থাকতে দেখেন। সাপটি তখন ছটফট করছিল। জাল থেকে ছাড়াতে গেলে হঠাৎ সাপটি তার হাতে কামড় দেয়।

কামড়ের পরও তিনি সাপটি ধরে পলিথিন ব্যাগে ভরে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং একটি প্লাস্টিকের বয়ামে রেখে দেন। এরপর দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিভেনম নেন। চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফেরেন; প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তিনি সুস্থ ছিলেন বলে জানা যায়। কামড়ের কতক্ষণ পর তিনি হাসপাতালে পৌঁছান, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি।

মেঘনা নদীতে একটি মাছ ধরার নৌকা; উইকিমিডিয়া কমন্সে নির্দিষ্ট স্থানের উল্লেখ নেই। ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মেঘনা নদীতে একটি মাছ ধরার নৌকা; উইকিমিডিয়া কমন্সে নির্দিষ্ট স্থানের উল্লেখ নেই। ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

এলাকাবাসীর উদ্বেগ, কর্মকর্তাদের বক্তব্য


স্থানীয় বাসিন্দারা জাগো নিউজকে জানান, কয়েক বছর ধরে মেঘনা নদীর পাড় ও চরাঞ্চলে, বিশেষ করে বোরচর, চর উমেদ ও এখলাসপুর এলাকায় বিষধর সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আগের বছরও এখলাসপুরে নদীর পাড়ে কয়েকটি রাসেলস ভাইপার মারা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, অনেক সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার ওষুধ, যাকে তারা ভ্যাকসিন বলেন, না থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দ্রুত পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহের দাবি জানান তারা।

এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, 'ঘটনাটি জেনেছি। সামনে বর্ষা মৌসুম, তাই কৃষক ও জেলে ভাইদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যদি কাউকে সাপে কামড় দেয়, তাহলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক নয়, তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হবে।'

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, 'আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম রয়েছে। একজন সাপে কাটা রোগীকে প্রথম ধাপে ১০টি ভেনম দিতে হয়। প্রয়োজনে আরও ১০টি দেওয়া হয়। প্রতিটি ভেনমের দাম এক হাজার ৪০০ টাকা। আমরা বর্তমানে ২০০টি ভেনম সংগ্রহ করেছি।' এখানে 'ভেনম' বলতে তিনি অ্যান্টিভেনমের ভায়াল বুঝিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম কিনতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, এবং তিনি আশা করেন আগামী দুই বছরেও এই মজুত শেষ হবে না। তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া রাসেলস ভাইপারটির বিষয়ে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেঘনার তীরের উপজেলা মতলব উত্তর


মতলব উত্তর চাঁদপুর জেলার আটটি উপজেলার একটি। দেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী উপজেলাটির আয়তন ২৬০.২৯ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে দাউদকান্দি ও গজারিয়া, দক্ষিণে মতলব দক্ষিণ ও চাঁদপুর সদর, পশ্চিমে মুন্সিগঞ্জ সদর ও ভেদরগঞ্জ। এখলাসপুর ও মোহনপুরসহ এখানে ইউনিয়ন ১৪টি, পৌরসভা একটি, ছেংগারচর। উপজেলার নদী মেঘনা, গোমতী ও ধনাগোদা। ১৯১৮ সালে মতলব থানা গঠিত হয়, আর ২০০০ সালে তা মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ, এই দুই উপজেলায় ভাগ হয়। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৭ জন।

এখানকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে প্রায় অর্ধেক মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; প্রায় ৬৭ শতাংশ বাসিন্দার কৃষিজমি আছে, ৩৩ শতাংশ ভূমিহীন। প্রধান ফসল ধান, গম, আলু, পাট, আখ, সরিষা ও তিসি; ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, নারকেল ও পেঁপে উল্লেখযোগ্য। এ ধরনের মাঠ আর মাছ ধরার জায়গাতেই মানুষ ও সাপের দেখা হয় সবচেয়ে বেশি।

চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর জেলার আয়তন ১ হাজার ৬৪৫.৩২ বর্গকিলোমিটার। ১৮৭৮ সালে এটি মহকুমা হয়, জেলা হয় ১৯৮৪ সালে। মেঘনা, ডাকাতিয়া, গোমতী ও ধনাগোদা এর প্রধান নদী, আর জেলার পশ্চিম সীমানার একাংশ জুড়ে মেঘনা। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ১৬ হাজার ১৮ জন, যাদের ৪৪.৪২ শতাংশের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি।

মেঘনা দেশের বড় নদীগুলোর একটি। বাংলাপিডিয়া বলছে, বর্ষাকালে চাঁদপুরের কাছে প্রায় ১১ কিলোমিটার চওড়া মোহনায় পদ্মা এসে মেঘনায় মেশে; সেখান থেকে নদীটি নিম্ন মেঘনা নামে পরিচিত। নিম্ন মেঘনায় কয়েকটি চর নদীটিকে একাধিক ধারায় ভাগ করেছে। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরে নদীটির গড় প্রবাহ প্রায় ২৫ লাখ কিউসেক, আর শীতকালে তা কমে প্রায় আট ভাগের এক ভাগে নেমে আসে।

চাঁদপুরের মতলবে একটি কলাবাগান, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁদপুরের মতলবে একটি কলাবাগান, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

এর আগেও মেঘনার চরে রাসেলস ভাইপার


এখলাসপুরে রাসেলস ভাইপার দেখা যাওয়া এবারই প্রথম নয়। দৈনিক ইত্তেফাক ২০২৪ সালের ৩০ মে জানায়, এখলাসপুর ইউনিয়নের নয়ানগর বটতলা এলাকায় একটি রাসেলস ভাইপার দেখা গেলে স্থানীয়রা সেটিকে পিটিয়ে মারেন। সে বছরের ১৬ মে একই ইউনিয়নের বোরচর চরাঞ্চল থেকে একই প্রজাতির আরেকটি সাপ উদ্ধার হয়েছিল। পত্রিকাটি লেখে, কয়েক দিন ধরে মেঘনার তীরে মতলবের চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপার দেখা যাচ্ছিল, আর উপজেলার মূল ভূখণ্ডে সেবারই প্রথম দেখা মেলে। ইউপি চেয়ারম্যান মুন্না ঢালী তখন জানান, কয়েক দিন ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সাপ পাওয়া যাচ্ছে এবং পরিষদ থেকে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ চলছে।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাসিবুল ইসলাম তখন ইত্তেফাককে জানান, সাপটি ডাবোইয়া রাসেলি (Daboia russelii), ভাইপারিডি পরিবারের অত্যন্ত বিষধর সাপ। তার ভাষ্য, এর বিষ রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না, ফলে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয়।

দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ২০২৪ সালের ৩ জুন জানায়, রাসেলস ভাইপার ততদিনে অন্তত ২৫টি জেলায় পাওয়া গেছে, যার মধ্যে উপকূলীয় বরিশাল, পটুয়াখালী এবং চাঁদপুরও আছে; আক্রান্তদের বেশির ভাগই দরিদ্র কৃষক ও কৃষিশ্রমিক। পত্রিকাটি উল্লেখ করে, ২০০২ সালে আইইউসিএন সাপটিকে বাংলাদেশে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিল, আর একসময় এটি মূলত শুষ্ক বরেন্দ্র অঞ্চলে পাওয়া যেত। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শুধু রাজশাহী অঞ্চলেই রাসেলস ভাইপারের কামড়ে ২০২ জন ভর্তি হন, তাদের ৬২ জন মারা যান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ফরিদ আহসান পত্রিকাটিকে বলেন, দেশে অল্প সংখ্যায় এই সাপ সব সময়ই ছিল, শুধু নথিভুক্ত হয়নি। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের জার্নালে ২০১৮ সালে প্রকাশিত তার গবেষণায় ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের ২০টি দংশনের ঘটনা বিশ্লেষণ করে ১৭টি জেলায় সাপটির উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিস্তারের কয়েকটি কারণ তিনি তুলে ধরেন: সাপটি ডিম না পেড়ে সরাসরি বাচ্চা দেয়, তাই বেশি বাচ্চা বাঁচে; বরেন্দ্রের যে জমিতে আগে বছরে একটি ফসল হতো, সেখানে এখন দুই-তিনটি ফসল হয়, ফলে এর প্রধান খাদ্য ইঁদুর বেড়েছে; আর বন্যার পানিতে ভাসমান কচুরিপানার সঙ্গে সাপ ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। মোঙ্গাবে ২০২৩ সালের এপ্রিলে একইভাবে জানায়, দীর্ঘদিন বাংলাদেশে সাপটিকে অত্যন্ত বিরল মনে করা হতো; ২০১৩ সাল থেকে একের পর এক দংশনের ঘটনা ঘটতে থাকে, যার অনেকগুলোই প্রাণঘাতী, আর আক্রান্তদের বেশির ভাগ মাঠে কাজ করা কৃষক।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ২২ জুনের নির্দেশনায় জানায়, রাসেলস ভাইপার দক্ষ সাঁতারু এবং নদীর স্রোত ও বন্যার পানির সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়েছে। মেঘনার মতো নদীর চরে এর উপস্থিতির একটি ব্যাখ্যা এখানেই।

রাসেলস ভাইপার কেমন সাপ


রাসেলস ভাইপারের (Daboia russelii) বর্ণনা দেন শ এবং নডার, ১৭৯৭ সালে। সাপটির নাম স্কটিশ সার্জন প্যাট্রিক রাসেলের নামে, যিনি ১৭৯৬ সালে সাপটি নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার যে চারটি সাপ এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি গুরুতর দংশন ঘটায়, সেই "বিগ ফোর"-এর একটি এটি। এর শরীর মোটা, মাথা চ্যাপ্টা ও ত্রিভুজাকার; বাদামি, হলদে বা খয়েরি গায়ে কালো বৃত্তে ঘেরা গাঢ় ছোপের তিনটি সারি থাকে। এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে প্রাপ্তবয়স্ক সাপ গড়ে প্রায় ১২০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়, সর্বোচ্চ প্রায় ১৬৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত। মন্ত্রণালয় জানায়, বাদামি-ধূসর রঙের কারণে সাপটি সহজে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। বাংলায় একে চন্দ্রবোড়া, বোড়া বা উলুবোড়া বলা হয়।

সাপটি খোলা ঘাসবন, ঝোপঝাড় ও কৃষিজমিতে থাকে, ঘন বন এড়িয়ে চলে। প্রাপ্তবয়স্ক সাপের প্রধান খাবার ইঁদুরজাতীয় প্রাণী, তাই যেখানে মানুষ চাষাবাদ করে ও ফসল রাখে, সেখানেই একে বেশি পাওয়া যায়। এটি মূলত রাতে সক্রিয়। বিপদ টের পেলে শরীর ইংরেজি 'এস' অক্ষরের মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে জোরে হিসহিস শব্দ করে; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই শব্দকে সতর্কসংকেত বলেছে, যা দিয়ে অন্ধকারেও সাপটিকে চেনা যায়। এরা ডিম পাড়ে না, সরাসরি বাচ্চা দেয়; এক দফায় প্রায়ই ২০ থেকে ৪০টি।

বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ২০২৪ সালের জুনে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, রাসেলস ভাইপার হুমকি বোধ না করলে মানুষকে আক্রমণ করে না। তার ভাষ্য, সাপটি মানুষ এড়িয়ে চলে এবং সাধারণত ঘরে ঢোকে না; ধানখেতে নামার আগে শব্দ করা বা টর্চ জ্বালানোর পরামর্শ দেন তিনি। বিষের তীব্রতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত ভিন্ন: ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞরা একে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর সাপ বলেছেন, আবার ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোখরার বিষ এর চেয়ে তীব্র এবং দেশে সাপের কামড়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে কালাচের কামড়ে।

মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের নির্দেশনায় বলা হয়, বেজি, গুইসাপ, গন্ধগোকুল, বনবিড়াল, মেছোবিড়াল, কিছু ঈগল, সারস, মদনটাক এবং কিছু সাপ রাসেলস ভাইপার খেয়ে এর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে; এসব প্রাণী নির্বিচারে মারা এবং তাদের আবাসস্থল ধ্বংসের ফলে ভাইপারের সংখ্যা বাড়ছে। বৈশ্বিকভাবে আইইউসিএনের লাল তালিকায় প্রজাতিটি 'ন্যূনতম উদ্বেগ' শ্রেণিতে আছে।

একটি রাসেলস ভাইপার, প্রজাতিটি চেনানোর জন্য দেওয়া; এটি এই ঘটনার সাপ নয়, ছবিটি কোথায় তোলা তা উল্লেখ নেই। ছবি: Mittal Gala / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
একটি রাসেলস ভাইপার, প্রজাতিটি চেনানোর জন্য দেওয়া; এটি এই ঘটনার সাপ নয়, ছবিটি কোথায় তোলা তা উল্লেখ নেই। ছবি: Mittal Gala / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

বাংলাদেশে সাপে কাটা: জরিপ যা বলে


বাংলাদেশে সাপে কাটা একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি) ২০২১ ও ২০২২ সালে "ন্যাশনাল সার্ভে অন অ্যানুয়াল ইনসিডেন্স অ্যান্ড এপিডেমিওলজি অব স্নেকবাইট ইন বাংলাদেশ" নামে একটি জরিপ করে। ২০২৩ সালের ১৮ জুন প্রকাশিত ফলাফল নিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, দেশে বছরে প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন, মারা যান ৭ হাজার ৫১১ জন। প্রায় প্রতি চারটি দংশনের একটি বিষধর সাপের, ৯৫ শতাংশ ঘটনা গ্রামাঞ্চলে, আর নারীর তুলনায় পুরুষের সাপে কাটার ঝুঁকি চার গুণ। জরিপে আরও দেখা যায়, আক্রান্তদের ১০.৬ শতাংশ হালকা থেকে মাঝারি শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার হন, আর সাপের কামড়ে বছরে প্রায় আড়াই হাজার গরু মারা যায়।

এর আগের একটি জাতীয় জরিপ রহমান ও সহকর্মীদের, যা ২০১০ সালে পিএলওএস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। ২০০৯ সালে গ্রামীণ পরিবারের ১৮ হাজার ৮৫৭ জনকে প্রশ্ন করে গবেষকেরা হিসাব করেন, গ্রামাঞ্চলে বছরে প্রতি লাখে ৬২৩.৪ জন সাপের কামড় খান; বছরে আক্রান্ত হন প্রায় ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৯১৯ জন, মারা যান ৬ হাজার ৪১ জন। বেশির ভাগ দংশন ঘটে পানিতে (২৭ শতাংশ) বা মাঠে (২৪ শতাংশ), আর ৭১ শতাংশ কামড় পায়ে বা পায়ের নিচের অংশে। দংশন সবচেয়ে বেশি হয় জুন থেকে অক্টোবর, বর্ষার মাসগুলোতে; এর মধ্যে অক্টোবর ও জুলাইয়ে সর্বোচ্চ।

একই গবেষণায় দেখা যায়, সাপে কাটার পর ৮৬ শতাংশ মানুষ প্রথমে ওঝার কাছে যান, সরাসরি নিবন্ধিত চিকিৎসক বা হাসপাতালে যান মাত্র ৩ শতাংশ। ৬০ শতাংশের ক্ষেত্রে মন্ত্র পড়া হয়, ৪৩ শতাংশের দংশনের চারপাশে কাটা হয়, আর অনেকের হাত-পায়ে এক বা একাধিক শক্ত বাঁধন দেওয়া হয়। ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ২০১৬ সালের নির্দেশিকায় বাংলাদেশের চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাপের তালিকায় রাসেলস ভাইপারের পাশাপাশি কালাচ, খইয়া ও খড়মপায়া গোখরা এবং সবুজ বোড়া রয়েছে।

বিষ শরীরে কী করে, হাসপাতালে কীভাবে চিকিৎসা হয়


ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের "গাইডলাইনস ফর দ্য ম্যানেজমেন্ট অব স্নেকবাইটস" (দ্বিতীয় সংস্করণ, ২০১৬) অনুযায়ী, রাসেলস ভাইপারের কামড়ের সাধারণ লক্ষণ হলো দংশনের জায়গা ফুলে যাওয়ার সঙ্গে রক্তক্ষরণ ও রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা, শক বা কিডনির আকস্মিক ক্ষতি। ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা তীব্র ব্যথা ও ফোলা, টিস্যুর ক্ষতি, রক্তক্ষরণ, রক্ত জমাট না বাঁধা, চোখের পাতা ঝুলে পড়া, পক্ষাঘাত এবং কিডনি ও ফুসফুসের ক্ষতির কথা বলেন; তাদের মতে গুরুতর রোগীর আইসিইউ দরকার হয়। উইকিপিডিয়ায় সংকলিত চিকিৎসা-গবেষণা অনুযায়ী, চিকিৎসা না পাওয়া দংশনের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল হয়।

ভাইপারের বিষ রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না বলে ডব্লিউএইচওর নির্দেশিকা রোগীর শয্যার পাশেই একটি সহজ পরীক্ষার পরামর্শ দেয়: ২০ মিনিটের হোল ব্লাড ক্লটিং টেস্ট। চিকিৎসক বা নার্স দুই মিলিলিটার তাজা রক্ত একটি নতুন, পরিষ্কার, শুকনো কাচের পাত্রে রেখে ২০ মিনিট পর পাত্রটি একবার কাত করেন। রক্ত তখনও তরল থাকলে বোঝা যায় রক্ত জমাট বাঁধছে না; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি গোখরা বা কালাচ নয়, ভাইপারের কামড়ের ইঙ্গিত দেয়।

চিকিৎসা হলো অ্যান্টিভেনম। ডব্লিউএইচওর নির্দেশিকা একে জীবনরক্ষাকারী অত্যাবশ্যক ওষুধ এবং বিষক্রিয়ার একমাত্র কার্যকর প্রতিষেধক বলেছে, যা গুরুতর বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়া রোগীকে দেওয়া হয়; সংস্থাটি বলছে, দংশনের পর যত দ্রুত দেওয়া যায়, ফল তত ভালো। বাংলাদেশে অ্যান্টিভেনম তৈরি হয় না, ২০২৩ সালে জানায় দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। ডেইলি স্টার বাংলা ২০২৪ সালে জানায়, দেশে ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম ভারত থেকে আমদানি করা এবং চারটি সাপের বিষ থেকে তৈরি। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনা মূল্যে অ্যান্টিভেনম দেয়, আর ওষুধ কোম্পানি ইনসেপ্টা রাসেলস ভাইপার, গোখরা, কালাচ ও স-স্কেলড ভাইপারের বিপরীতে কার্যকর অ্যান্টিভেনম বিক্রি করে।

দেশেই অ্যান্টিভেনম তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। মোঙ্গাবে ২০২৩ সালের এপ্রিলে জানায়, সরকারি অর্থায়নে ২০১৮ সালে ভেনম রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়; এর প্রধান গবেষক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অনিরুদ্ধ ঘোষ, আর মূল লক্ষ্য দেশের বিষধর সাপের জন্য অ্যান্টিভেনম তৈরি। ২০২৪ সালে ফরিদ আহসান ডেইলি স্টার বাংলাকে বলেন, চট্টগ্রামের একটি গবেষণাকেন্দ্রে মুরগি ও ছাগলের শরীরে তৈরি অ্যান্টিবডি নিয়ে পরীক্ষা চলছে, তবে বাণিজ্যিকভাবে অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের কোনো কারখানা নেই।

রাসেলস ভাইপারের কামড় খাওয়া আরও কয়েকজন সাপটি নিয়েই হাসপাতালে গেছেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আইটিভি জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ধানখেতে কামড় খাওয়া এক কৃষক জীবিত রাসেলস ভাইপারটি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান; তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মার চরে ধানখেতে কামড় খাওয়া এক কৃষক আশপাশের কৃষকদের ধরে দেওয়া সাপটি একটি কৌটায় ভরে হাসপাতালে আসেন; চিকিৎসকেরা সাপটিকে রাসেলস ভাইপার হিসেবে শনাক্ত করেন এবং জানান, তিনি আশঙ্কামুক্ত।

কামড়ের পর কী করবেন, সাপ দেখলে কী করবেন


ডব্লিউএইচওর ২০১৬ সালের নির্দেশিকা বলছে, প্রচলিত প্রাথমিক চিকিৎসার বেশির ভাগই অকার্যকর বা বিপজ্জনক: দংশনের জায়গা কাটা বা খোঁচানো, মুখ দিয়ে বিষ চুষে বের করার চেষ্টা, 'সাপের পাথর', শক্ত বাঁধন (টুর্নিকেট), বৈদ্যুতিক শক, ক্ষতে রাসায়নিক, গাছগাছড়া বা বরফ লাগানো। এসব যেন চিকিৎসায় দেরি না ঘটায়। নির্দেশিকায় সুপারিশ করা প্রাথমিক চিকিৎসা হলো:

  • আক্রান্ত ব্যক্তি খুব ভয় পেতে পারেন; তাকে আশ্বস্ত করুন।
  • পুরো শরীর স্থির রাখুন: আরামদায়ক ও নিরাপদ অবস্থায়, সম্ভব হলে বাঁ কাত করে শুইয়ে দিন, আর দংশিত হাত বা পা স্প্লিন্ট বা স্লিং দিয়ে নড়াচড়া বন্ধ রাখুন; হাঁটা বা যেকোনো পেশির নড়াচড়ায় বিষ দ্রুত ছড়ায়।
  • ক্ষতে হাত দেবেন না: কাটা, ঘষা, জোরে পরিষ্কার করা, মালিশ, গাছগাছড়া বা রাসায়নিক লাগানো চলবে না।
  • কখনো শক্ত বাঁধন দেবেন না; আগেই দেওয়া থাকলে চিকিৎসা শুরুর পর হাসপাতালের কর্মীরাই তা খুলবেন।
  • দেরি না করে রোগীকে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।

মতলব উত্তরে যা ঘটেছে, নির্দেশিকায় সে বিষয়েও পরামর্শ আছে। সাপ মারার চেষ্টা না করতে বলা হয়েছে, কারণ তা বিপজ্জনক হতে পারে; আর মরা সাপও খালি হাতে ধরতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ বিচ্ছিন্ন মাথাও কামড় দিতে পারে। বরং বিশেষজ্ঞরা যাতে শনাক্ত করতে পারেন, সে জন্য মোবাইল ফোনে সাপটির কয়েকটি কাছ থেকে তোলা ছবি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের জুনের নির্দেশনাতেও সাপ ধরা বা মারার চেষ্টা না করে জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩-এ ফোন করতে বা স্থানীয় বন বিভাগের কার্যালয়ে জানাতে বলা হয়। কামড়ের পর আক্রান্ত অঙ্গ নড়াচড়া না করা, পায়ে কামড়ালে না হেঁটে বসে পড়া, দংশনের জায়গা সাবান দিয়ে আলতো করে ধোয়া বা ভেজা কাপড়ে মুছে দেওয়া, ঘড়ি, গয়না, তাবিজ ও সুতা খুলে ফেলা, এবং ক্ষত কাটা, সুই ফোটানো বা কোনো প্রলেপ না লাগানোর কথা বলা হয়। ওঝার কাছে সময় নষ্ট না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে বলা হয়, আর জানানো হয়, সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম বিনা মূল্যে পাওয়া যায়।

কামড় এড়াতে মন্ত্রণালয় উঁচু ঘাস, ঝোপ ও কৃষিজমিতে হাঁটার সময় সাবধান থাকা, গর্তে হাত-পা না ঢোকানো, যেখানে সাপটি দেখা গেছে সেখানে কাজের সময় বুট ও লম্বা প্যান্ট পরা, রাতে টর্চ নিয়ে চলা, বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং পড়ে থাকা গাছ, লাকড়ি বা খড় সরানোর সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। ফরিদ আহসান কাজে নামার আগে লম্বা বাঁশ দিয়ে খেত পরখ করে নিতে বলেন, আর ডব্লিউএইচও বলছে, সস্তা ও কাজের উপযোগী জুতা পেলে বহু দংশন ঠেকানো যেত।

২০২৬ সালের এপ্রিলে বন্যপ্রাণী আইন যা বলত


দংশনের দিন বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সুরক্ষা দিত বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৬ নং আইন)। আইনটি ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিলের, আর ৭ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য। এর ৫৪ ধারায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ রহিত করা হয়, যে আইনের কথা মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের জুনের নির্দেশনায় উল্লেখ করেছিল।

২০২৬ সালের ১০ এপ্রিলের বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত আইনের তফসিল অনুযায়ী রাসেলস ভাইপার (Daboia russelii) তফসিল ২-এ ভাইপার পরিবারের তালিকায় আছে, দুই প্রজাতির সবুজ বোড়া, হোয়াইট-লিপড ও স্পট-টেইলড পিট ভাইপারের সঙ্গে। খইয়া ও খড়মপায়া গোখরা এবং কালাচও একই তফসিলে, আর রাজগোখরা আছে তফসিল ১-এ। সরকারের 'বাংলাদেশ আইন' ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আইনের যে বিধানগুলো ধরা পড়া সাপের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক:

  • ধারা ২-এ শিকারের সংজ্ঞা ব্যাপক: কোনো বন্যপ্রাণীকে হত্যা করা, ধরা, বিষ প্রয়োগ করা, এসব উদ্দেশ্যে তাড়িয়ে নেওয়া, কিংবা আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত করা।
  • ধারা ৪২(১) অনুযায়ী লাইসেন্স বা পারমিট ছাড়া তফসিল ২-এর কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করা যাবে না। ধারা ৪৪ অনুযায়ী এর শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
  • ধারা ১০ অনুযায়ী লাইসেন্স, পজেশন সার্টিফিকেট বা পারমিট ছাড়া কেউ বন্যপ্রাণী আবদ্ধ রাখতে, দখলে রাখতে, কেনাবেচা বা পরিবহন করতে পারবে না। সব বন্যপ্রাণী সরকারের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য, আর বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
  • ধারা ১৪ অনুযায়ী উদ্ধার করা, জব্দ করা বা ধরা পড়া বন্যপ্রাণীকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করতে হবে; তবে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকলে বা শুশ্রূষার প্রয়োজন হলে আবদ্ধ রাখা যাবে।

মতলব উত্তরে ইউএনও জানিয়েছিলেন, ধরা পড়া ভাইপারটির বিষয়ে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর সাপটির কী হয়েছিল, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি।

ছবি: Supratim Deb / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, সমকাল, দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা), ঢাকা ট্রিবিউন, আইটিভি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, মোঙ্গাবে, পিএলওএস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস (রহমান ও অন্যান্য, ২০১০), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশ আইন (বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ ও বাংলাদেশ গেজেট), বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)