ফেনীর একটি আবাসিক হোটেলের টয়লেটে চিনি জ্বাল দিয়ে আসল মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ভেজাল মধু তৈরির খবর দিয়ে কলাম শুরু করেছেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আফিফা খাতুন। পুলিশের ভাষ্য ছিল, ২ কেজি আসল মধুতে ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে ১২ কেজি ‘খাঁটি মধু’ বিক্রি হতো, প্রায় আট বছর ধরে। প্রথম আলোর মতামত পাতায় প্রকাশিত লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।
তাঁর প্রশ্ন, অভিযান ও শাস্তি হলেও একই ঘটনা বারবার ফিরে আসে কেন। একটি কারণ, আসল মধু প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভরশীল, আর চিনি সস্তা ও সহজলভ্য। লেখকের মতে, ক্ষতি শুধু পকেটের নয়; চিনি মেশালে মোট শর্করা বাড়ে, যা ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, আর জীবদেহে করা কয়েকটি গবেষণায় ভেজাল উপাদানে যকৃৎ, কিডনি, হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের ক্ষতির কথা এসেছে।
রং, গন্ধ, ঘনত্ব বা পানিতে মেশার মতো ঘরোয়া পরীক্ষায় মধু চেনা নির্ভরযোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি, কারণ ফুলের উৎস, অঞ্চল আর প্রক্রিয়াজাতকরণভেদে মধুর এসব বৈশিষ্ট্য বদলায়। বিশ্বজুড়ে রাসায়নিক বিশ্লেষণ, বর্ণালিবীক্ষণ, সমস্থানিক বিশ্লেষণ ও ক্রোমাটোগ্রাফির মতো পদ্ধতিতে ভেজাল শনাক্ত করা হয়।
লেখায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য উল্লেখ আছে: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরীক্ষা করা ১ হাজার ৭১৩টি খাদ্য নমুনার ৫৭১টিতে, অর্থাৎ ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশে ভেজাল, দূষণ বা পুষ্টিমানের সমস্যা পাওয়া যায়, যার মধ্যে মধুও ছিল। কর্তৃপক্ষ মধুর আর্দ্রতা, শর্করার ধরন ও অনুপাত, এইচএমএফ ও পরাগরেণু পরীক্ষা করে।
এওএসি ৯৯৮ দশমিক ১২-এর মতো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিশুদ্ধ মধুতে সি৪ উদ্ভিজ্জ শর্করা ৭ শতাংশের কম থাকার কথা। লেখক জানান, বাংলাদেশি মধুর ওপর এক গবেষণায় প্রায় ১৮ শতাংশ নমুনায় সি৪ শর্করার ভেজাল মিলেছে, যেখানে এর মাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৯০ থেকে ৮৬ দশমিক ৬১ শতাংশ।
ক্রেতাদের তিনি লেবেল, উৎপাদক, উৎস ও অনুমোদন দেখে যাচাইযোগ্য উৎস থেকে মধু কেনার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তাঁর মূল কথা, মান নিশ্চিত করার দায় উৎপাদক, বিক্রেতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার; নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা এবং ভেজাল পণ্য কোথা থেকে এল তা খতিয়ে দেখা ছাড়া শুধু জরিমানায় সমস্যা মিটবে না।
সূত্র: প্রথম আলো


মন্তব্য
(০)