বায়ুদূষণের আলোচনা প্রায় সব সময় ঢাকাকেন্দ্রিক, অথচ সমস্যাটি সারা দেশের, এমন যুক্তি তুলেছেন লেখক ও গবেষক গওহার নঈম ওয়ারা। প্রথম আলোর মতামত পাতায় প্রকাশিত তাঁর কলামের মতামত লেখকের নিজস্ব।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বারপাখিয়ার একটি দাখিল মাদ্রাসার কথা লিখেছেন, যেখানে পাশের মুরগির খামারের দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে খোলা মাঠে ক্লাস করছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, দেশে নিবন্ধিত পোলট্রি খামার ৯০ হাজার, অনিবন্ধিত আরও প্রায় দুই লাখ।
সরকারের নতুন পোলট্রি নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতি থেকে অন্তত ৩০০ মিটার এবং এক খামার থেকে আরেক খামারের ২০০ মিটার দূরত্ব রাখার কথা আছে, বাণিজ্যিক খামারে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বাধ্যতামূলক। লেখক এফএওর বরাতে বলছেন, এমন ‘বাফার জোন’ দুর্গন্ধ ও ধুলা কমানোর পাশাপাশি রোগ নিয়ন্ত্রণেও কাজে দেয়, আর মুরগির বিষ্ঠার বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ ও জৈব সার দুটোই মেলে।
দূষণের আরেক উৎস পাটকাঠি পুড়িয়ে চারকোল তৈরির অবৈধ কারখানা, যার কার্বন চীনে রপ্তানি হয়। পাবনা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ীতে তিনি এসব কারখানা দেখেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাই ও কালো ধোঁয়ায় মানুষ অসুস্থ হচ্ছে, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের বরাতে লেখক বলছেন, ধোঁয়ায় তাপমাত্রা বাড়ায় পরাগায়ন ব্যাহত হয়, মৌমাছিও থাকে না।
২০২২ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় চারকোল নীতিমালার উদ্যোগ নিয়েছিল, যাতে যত্রতত্র চুল্লি নিষিদ্ধ, পরিবেশ ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক ও ধোঁয়া শোধনব্যবস্থা রাখার কথা ছিল। লেখকের মতে, সেসব নির্দেশ এখনো কাগজেই আটকে আছে।
রাস্তার পাশে মেহগনি ও কাঠবাদামের মতো পাতাঝরা গাছ লাগানোর ফলেও শীতে ঝরাপাতা স্তূপ করে পোড়ানো হয়, যা বাতাস দূষিত করে। তাঁর পরামর্শ, ছাতিম, দেবদারু, বকুল ও জামের মতো চিরহরিৎ গাছ লাগানো এবং আকাশমণির মতো গাছ এড়ানো, যার পরাগ শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।
সূত্র: প্রথম আলো


মন্তব্য
(০)