সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

জুলাই-সেপ্টেম্বরে এল নিনোর শঙ্কা: বাংলাদেশের বর্ষা ও কৃষিতে কী ঝুঁকি, করণীয় কী

২০২৬ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসন (নোয়া) প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো শুরু হওয়ার কথা জানায়; জুলাইয়ের শুরুতে প্রকাশিত এই ব্যাখ্যায় দেখা হয়েছে, বর্ষার মূল সময়ে এটি বাংলাদেশের বৃষ্টি, তাপমাত্রা ও ফসলে কী প্রভাব ফেলতে পারে এবং প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত।

জুলাই-সেপ্টেম্বরে এল নিনোর শঙ্কা: বাংলাদেশের বর্ষা ও কৃষিতে কী ঝুঁকি, করণীয় কী
পরিবেশ

২০২৬ সালের জুলাইয়ের শুরুতে, বর্ষার ভরা মৌসুমে, এল নিনো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসনের (নোয়া) জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্র ১১ জুন সতর্কতা বাড়িয়ে ‘এল নিনো অ্যাডভাইজরি’ জারি করে, অর্থাৎ এল নিনো পরিস্থিতি তখন বিরাজমান। জাগো নিউজ ২৪ ৮ জুলাই এক ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনে তুলে ধরে, এল নিনো কী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত।

এল নিনো কী এবং ২০২৬ সালের পূর্বাভাস


স্প্যানিশ ভাষায় এল নিনো মানে ‘ছোট ছেলে’। নোয়ার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার জেলেরা বড়দিনের সময় উপকূলের পানি উষ্ণ হওয়া ও মাছ কমে যাওয়া লক্ষ করে যিশুর জন্মদিনের সঙ্গে মিলিয়ে নামটি দেন। এটি মধ্য ও পূর্ব বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়া, যা এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন (এনসো) চক্রের উষ্ণ পর্যায়; পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে চলা বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হলে উষ্ণ পানি পূর্ব দিকে জমে এর সূচনা হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানায়, চক্রটি সাধারণত ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘুরে আসে; নোয়ার হিসাবে একেকটি পর্ব সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস থাকে।

২০২৬ সালের পূর্বাভাস ছিল জোরালো। ডব্লিউএমও ২ জুন জানায়, জুন থেকে আগস্টে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরে প্রায় ৯০ শতাংশ। সংস্থাটির মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, ‘উষ্ণ সমুদ্র জলবায়ু ব্যবস্থায় তাপ ও আর্দ্রতা যোগ করে, যা তাপপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টির মতো কিছু চরম আবহাওয়াকে আরও খারাপ করতে পারে।’ নোয়ার ১১ জুনের বিশ্লেষণে সাপ্তাহিক নিনো-৩.৪ সূচক ছিল +০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর নভেম্বর থেকে জানুয়ারিতে ‘খুব শক্তিশালী’ এল নিনোর সম্ভাবনা ছিল ৬৩ শতাংশ।

প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পর্যবেক্ষণের টাও বয়া রক্ষণাবেক্ষণ করছেন নোয়ার কর্মীরা। ছবি: Lieutenant Elizabeth Crapo, NOAA Corps / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পর্যবেক্ষণের টাও বয়া রক্ষণাবেক্ষণ করছেন নোয়ার কর্মীরা। ছবি: Lieutenant Elizabeth Crapo, NOAA Corps / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

বাংলাদেশের বর্ষায় সম্ভাব্য প্রভাব


জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষার মূল সময়, আর বাংলাদেশের বছরের বৃষ্টির বড় অংশ এ সময়েই হয়। ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, এল নিনোর সময় মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশ, অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় খরা দেখা দিতে পারে, আর এল নিনো সাধারণত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ায়। তবে নোয়া বলছে, উষ্ণ পৃথিবী এনসো চক্রকে ঠিক কীভাবে বদলাবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের আস্থা এখনো কম।

দেশের বিশেষজ্ঞরাও ঝুঁকি নিয়ে মত দেন। দ্য ডেইলি স্টারের ৪ জুনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, এ বর্ষায় বৃষ্টি কম হবে এবং তাপমাত্রা বেশি থাকবে। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির জলবায়ুবিজ্ঞানী ড. রাশেদ চৌধুরীর মতে, ২০২৬ সালের বর্ষায় এল নিনোর প্রভাব হতে পারে মাঝারি।

বর্ষাকালে বাংলাদেশের একটি গ্রামে বৃষ্টি। ছবি: Mayeenul Islam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বর্ষাকালে বাংলাদেশের একটি গ্রামে বৃষ্টি। ছবি: Mayeenul Islam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ফসল, বাজার ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি


জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২২ জুন জানায়, এল নিনো ভারতের বড় অংশে গ্রীষ্মকালীন বর্ষাকে দুর্বল করে ধান ও ভুট্টার মতো বৃষ্টিনির্ভর ফসলকে গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধির সময়ে চাপে ফেলতে পারে; ২০১৫ সালের এল নিনোতে প্রধান উৎপাদক দেশগুলোতে ভুট্টা ও ধানের উৎপাদন কমে দাম বেড়েছিল। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কম বৃষ্টিতে ধান, গম, ডাল ও সবজির ফলন কমতে, সেচের খরচ বাড়তে এবং খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে; অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের।

গ্রামীণ বাংলাদেশে চারা রোপণের পর ধানখেত। ছবি: MdRamjanAliWiki / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
গ্রামীণ বাংলাদেশে চারা রোপণের পর ধানখেত। ছবি: MdRamjanAliWiki / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

প্রস্তুতি: সরকার, কৃষক ও সাধারণ মানুষের করণীয়


এল নিনো ঠেকানো যায় না, তবে ক্ষতি কমানো যায়। এফএও ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ১৮ জুন ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ৮৮ লাখ মানুষকে সুরক্ষা দিতে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলারের যৌথ আগাম পদক্ষেপ আবেদন করে। এফএওর উপমহাপরিচালক বেথ বেকডল বলেন, ‘সংকট বাড়ার পর সাড়া দেওয়ার চেয়ে আগাম পদক্ষেপ বেশি কার্যকর ও কম ব্যয়বহুল।’ জাগো নিউজ ও এফএওর পরামর্শে করণীয়:

  • আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কবার্তা জোরদার করা এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা মেনে চলা।
  • পূর্বাভাস দেখে বপন ও রোপণের সময় ঠিক করা, প্রয়োজনে দেরিতে বোনা।
  • খরাসহিষ্ণু জাতের ফসল বেছে নেওয়া।
  • পানি সাশ্রয়ী সেচ ব্যবহার এবং বৃষ্টির পানি ধরে রেখে বাড়তি মজুত গড়া।
  • গবাদিপশুর জন্য আগেভাগে খাদ্য মজুত করা।
  • তীব্র গরমে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দুপুরের রোদে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া।

ছবি: NOAA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসন (নোয়া) জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্র, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), দ্য ডেইলি স্টার

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)