২০২৬ সালের ২৮ জুলাই, মঙ্গলবার, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার দুটি চা বাগান থেকে বিশাল আকারের দুটি অজগর উদ্ধার করা হয়। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলের জাগছড়া চা বাগান থেকে উদ্ধার করা অজগরটি প্রায় ১৬ ফুট লম্বা ও প্রায় ৩০ কেজি ওজনের ছিল, আর কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী চা বাগানের অজগরটি ছিল ১৭ ফুট লম্বা। দুটি সাপই উদ্ধার করে বন বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জাগছড়া চা বাগানে কাজের মধ্যে অজগর
সেদিন দুপুরে জাগছড়া চা বাগানের ১৭ নম্বর সেকশনে কাজ করার সময় চা শ্রমিকেরা হঠাৎ একটি বিশাল অজগর দেখতে পান। আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা কাজ বন্ধ করে দেন। শ্রমিকেরা বিষয়টি বাগানের বাবু সেলিম মিয়াকে জানালে তিনি বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফাউন্ডেশন ও বন বিভাগের সদস্যরা যৌথ অভিযানে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। সিলেটের দৈনিক প্রথম সিলেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট ও ওজন প্রায় ৩০ কেজি বলে জানান। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল কার্যালয় জানায়, সাপটিকে উদ্ধারকেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর প্রাকৃতিক আবাসে ছেড়ে দেওয়া হবে।

একই দিনে ফুলবাড়ী চা বাগানে আরেকটি অজগর
একই দিনে কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী চা বাগান থেকে ১৭ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করেন ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের সদস্যরা। উদ্ধারের পর অজগরটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শ্রীমঙ্গলের বন রেঞ্জ কর্মকর্তা দুটি সাপ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘অজগর সাপগুলো বনে অবমুক্ত করা হবে।’
ঘন ঘন অজগর উদ্ধারের বিষয়ে স্থানীয়রা জাগো নিউজকে বলেন, তাঁদের ধারণা খাবারের সংকটের কারণে সাপগুলো বন থেকে লোকালয়ে চলে আসে, আর এ কারণেই বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে প্রায়ই অজগর উদ্ধার করা হয়।

লাউয়াছড়ার বন ও বার্মিজ অজগর
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের চা বাগানগুলোর কাছেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। উদ্যানটি কমলগঞ্জ উপজেলায়, শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে। ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই সরকার একে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে; এর আয়তন ১,২৫০ হেক্টর এবং চারপাশ ঘিরে রয়েছে চা বাগান। আধা-চিরসবুজ ও মিশ্র পাতাঝরা এই বনের সরীসৃপের মধ্যে বার্মিজ অজগরও রয়েছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধার হওয়া সাপ দুটির প্রজাতি উল্লেখ করা হয়নি। এ অঞ্চলের বনে যে বার্মিজ অজগর (Python bivittatus) থাকে, সেটি বিষধর নয়; শিকারকে পেঁচিয়ে মারে। এরা প্রধানত পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী খায়, রাতে বেশি সক্রিয় থাকে এবং বেশির ভাগ সময় ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকে। বুনো অবস্থায় এরা সাধারণত প্রায় ৫ মিটার (১৬ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়। প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন ২০১২ সালে প্রজাতিটিকে সংকটাপন্ন (ভালনারেবল) তালিকাভুক্ত করে।
বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী রক্ষার প্রধান আইন বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২। এ আইনে লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া কোনো বন্যপ্রাণী শিকার নিষিদ্ধ। জাগছড়া ও ফুলবাড়ী দুই জায়গাতেই সাপ দুটিকে না মেরে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মীদের খবর দেওয়া হয়েছিল।

ছবি: MD sajjad hossain photography / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক প্রথম সিলেট, উইকিপিডিয়া (বার্মিজ অজগর; লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান), বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ (এফএও ফাওলেক্স)





মন্তব্য
(০)