সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

পাথরঘাটায় লোকালয়ে আসা আহত দুই হরিণ উদ্ধার, সুন্দরবনে অবমুক্ত

২০২৬ সালের ১১ মে বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের দুটি এলাকা থেকে আহত দুটি হরিণ উদ্ধার করে বন বিভাগ। প্রাথমিক চিকিৎসার পর হরিণ দুটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়; কীভাবে সেগুলো আহত হলো, তা তদন্ত করছে বন বিভাগ।

পাথরঘাটায় লোকালয়ে আসা আহত দুই হরিণ উদ্ধার, সুন্দরবনে অবমুক্ত
পরিবেশ

২০২৬ সালের ১১ মে, সোমবার, সুন্দরবন থেকে বেরিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের লোকালয়ে চলে আসা আহত দুটি হরিণ উদ্ধার করে বন বিভাগ। প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে হরিণ দুটিকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় জাগো নিউজ এ খবর প্রকাশ করে।

প্রথম হরিণটি উদ্ধার করা হয় সকালে, চরদুয়ানী ইউনিয়নের গাববাড়িয়া এলাকা থেকে। দ্বিতীয়টি পাওয়া যায় দুপুরের দিকে, একই ইউনিয়নের কালিয়ারখাল এলাকায়। হরিণ দুটি কোন প্রজাতির, সেগুলোর বয়স কত বা সেগুলো পুরুষ না স্ত্রী, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। হরিণ দুটি কেন বন ছেড়ে লোকালয়ে এসেছে এবং কীভাবে আহত হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানায় বন বিভাগ।

যেভাবে উদ্ধার হলো হরিণ দুটি


জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়, গাববাড়িয়া এলাকায় সুন্দরবন থেকে একটি হরিণ চলে আসার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বন বিভাগের সদস্যরা। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ওই এলাকার একটি পুকুরের কিনারা থেকে হরিণটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ সময় হরিণটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে বন বিভাগের সদস্যরা হরিণটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং খাবার খাওয়ান।

দুপুরের দিকে কালিয়ারখাল এলাকায় আরও একটি হরিণ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্বিতীয় হরিণটিকেও উদ্ধার করেন। চিকিৎসা শেষে দুটি হরিণকেই বনে অবমুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জ্ঞানপাড়া বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, 'সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে আসা দুটি হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী সুন্দরবনের বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। তবে কী কারণে হরিণ লোকালয়ে এসেছে এবং শরীরের ক্ষত হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান।'

হরিণ দুটির শরীরে ক্ষত কীভাবে হলো, প্রতিবেদনে তার কোনো কারণ জানানো হয়নি; খবর প্রকাশের দিন পর্যন্ত বন বিভাগও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। বনের প্রান্তে আগের কয়েকটি ঘটনাতেও, যার কথা নিচে বলা হয়েছে, লোকালয়ে পাওয়া হরিণ নিজে নদী পেরিয়ে এসেছে নাকি মানুষ সেটিকে বন থেকে বের করে এনেছে, সে প্রশ্ন তুলেছিলেন বন কর্মকর্তারা।

পাথরঘাটা, চরদুয়ানী ও বনের প্রান্ত


পাথরঘাটা বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার একেবারে দক্ষিণের একটি উপকূলীয় উপজেলা। এর আয়তন ৩৮৭.৩৬ বর্গকিলোমিটার। উপজেলাটির উত্তরে বামনা উপজেলা এবং পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। পূর্বে বরগুনা সদর উপজেলা ও বিষখালী নদী, আর পশ্চিমে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলা ও হরিণঘাটা নদী। পাথরঘাটা পৌরসভা ছাড়াও উপজেলায় সাতটি ইউনিয়ন রয়েছে: চরদুয়ানী, কাকচিড়া, কালমেঘা, কাঁঠালতলী, নাচনাপাড়া, পাথরঘাটা ও রায়হানপুর।

এই জনপদ একসময় সুন্দরবনেরই অংশ ছিল। বিশ শতকের গোড়ার দিকে মঠবাড়িয়া, বামনা ও বেতাগী থেকে মানুষ এসে এখানকার সুন্দরী গাছের বন কেটে বসতি গড়েন। ১৯৮৩ সালের ২৪ মার্চ পাথরঘাটা উপজেলায় উন্নীত হয়। এলাকার মানুষের প্রধান পেশা কৃষি, তবে স্থানীয় অর্থনীতি অনেকটাই সামুদ্রিক মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল; উপজেলায় মাছ অবতরণ ও পাইকারি মাছ বেচাকেনার ব্যবস্থাও আছে। ২০২২ সালের জনশুমারিতে পাথরঘাটায় ৪৭ হাজার ১৬৬টি খানায় ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯৩ জন মানুষ গণনা করা হয়, যেখানে ২০১১ সালের শুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯২৭ জন।

পুরো বরগুনা জেলার আয়তন ১ হাজার ৯৩৯.৩৯ বর্গকিলোমিটার, আর ২০২২ সালের জনশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১০ হাজার ৫৩১ জন। জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে পায়রা, বিষখালী, বলেশ্বর ও হরিণঘাটা; নদীর পানি জেলার মোট আয়তনের প্রায় ২২ শতাংশ জুড়ে আছে। জেলায় সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৩৩.৯০ একর।

বলেশ্বর, যাকে বলেশ্বরীও বলা হয়, প্রায় ১৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নদী। এটি বাগেরহাট জেলার পূর্ব সীমানা আর বরগুনা জেলার পশ্চিম সীমানা তৈরি করেছে, এবং নদীর ওপারেই সুন্দরবন সংরক্ষিত বন। নদীটি দক্ষিণে গিয়ে হরিণঘাটায় মিশেছে, আর হরিণঘাটা গিয়ে পড়েছে বঙ্গোপসাগরে। ইউনেসকোর বর্ণনায় বাংলাদেশের সুন্দরবনের অবস্থান পূর্বে বলেশ্বর আর পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙা নদীর মধ্যে। অর্থাৎ পাথরঘাটার মানুষের কাছে সুন্দরবন শুরু হয় নদীর ঠিক ওপার থেকে।

বরগুনা জেলার পাথরঘাটায় মাছ ধরার নৌকা। ছবি: Emdad Tahsin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বরগুনা জেলার পাথরঘাটায় মাছ ধরার নৌকা। ছবি: Emdad Tahsin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

উদ্ধার করল যে বন বিভাগ


হরিণ দুটি উদ্ধার ও অবমুক্ত করেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কর্মীরা। বন অধিদপ্তরের খুলনা সার্কেলের অধীন এই বিভাগ সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ দেখভাল করে।

সুন্দরবনে সংগঠিত বন ব্যবস্থাপনার শুরু উনিশ শতকে। সুন্দরবনের ওপর এখতিয়ারসম্পন্ন প্রথম বন ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠিত হয় ১৮৬৯ সালে, আর বর্তমান খুলনায় সদর দপ্তর রেখে একটি বন বিভাগ গঠন করা হয় ১৮৭৯ সালে। ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ অংশের দক্ষিণে তিনটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৭৭ সালে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, টহল বাড়ানো হয়েছে, তাই ফাঁদ উদ্ধারও হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। অনেক সময় ফাঁদে আটকা পড়া হরিণ উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয় বলেও জানান তিনি। তাঁর বিভাগের দুটি স্মার্ট প্যাট্রল টিম মাসে দুবার টহলে যায়, আর একবার টহলে গেলে টানা দুই সপ্তাহ বনে থাকতে হয়। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগেরও দুটি স্মার্ট প্যাট্রল টিম রয়েছে বলে পত্রিকাটিকে জানান ওই বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড হাসিনুর রহমান।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বনের বাঘের বিপদ কমাতে দুই বিভাগীয় বন কর্মকর্তাই পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, নৌযানের সংখ্যা বাড়ানো, টহল বাড়ানো এবং স্থানীয়ভাবে সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন


সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অবিচ্ছিন্ন ম্যানগ্রোভ বন। ইউনেসকোর হিসাবে বনের মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার, যার ৬০ শতাংশ বাংলাদেশে এবং বাকিটা ভারতে। বাংলাদেশ অংশে জেগে থাকা চরসহ স্থলভাগ ৪ লাখ ১৪ হাজার ২৫৯ হেক্টর, যা প্রায় ৭০ শতাংশ; আর নদী, খাঁড়ি ও খাল মিলিয়ে জলভাগ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩ হেক্টর, প্রায় ৩০ শতাংশ। ১৯৯৭ সালে সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়; বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত এলাকার আয়তন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ হেক্টর।

বনের নামটি সাধারণত সুন্দরী গাছ (Heritiera fomes) থেকে এসেছে বলে ধরা হয়; এই ম্যানগ্রোভ গাছটি বনে প্রচুর জন্মে। ইউনেসকোর হিসাবে সুন্দরবনে ৭৫টি গোত্র ও ২৪৫টি গণের ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। বন্যপ্রাণী রয়েছে ৬৯৩ প্রজাতির, যার মধ্যে ৪৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৫৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর, ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া ও ৪৩ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক জাতীয় প্রাণী; পাখি রয়েছে ৩১৫ প্রজাতির। ইউনেসকো সুন্দরবনকে বাঘের জন্য বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ আবাসস্থল বলে উল্লেখ করেছে।

বনের ওপর চাপের কথাও তুলে ধরেছে ইউনেসকো: কাঠ ও বন্যপ্রাণীর অতিরিক্ত আহরণ, অবৈধ শিকার ও ফাঁদ পাতা এবং কৃষিকাজের জন্য বনভূমি দখল। খুলনা ও মোংলা বন্দরের আশপাশের মানুষের জন্য এই ম্যানগ্রোভ বন ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে সুন্দরবনের প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

পিরোজপুরে বলেশ্বর নদী। ভাটিতে এই নদীই বরগুনা জেলাকে সুন্দরবন থেকে আলাদা করেছে। ছবি: Asifimtiaz4 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
পিরোজপুরে বলেশ্বর নদী। ভাটিতে এই নদীই বরগুনা জেলাকে সুন্দরবন থেকে আলাদা করেছে। ছবি: Asifimtiaz4 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

চিত্রা হরিণ ও মায়া হরিণ


সুন্দরবনে মূলত দুই প্রজাতির হরিণ দেখা যায়: চিত্রা হরিণ ও মায়া হরিণ। এর মধ্যে চিত্রা হরিণের সংখ্যাই অনেক বেশি বলে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়। হরিণ লাজুক প্রাণী; দূর থেকে মানুষের শব্দ পেলেই ঘন বনে লুকোনোর চেষ্টা করে।

চিত্রা হরিণের বৈজ্ঞানিক নাম Axis axis; ইংরেজিতে একে চিতল বা স্পটেড ডিয়ার বলা হয়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয় প্রজাতি। মাঝারি আকারের এই হরিণের পুরুষগুলো কাঁধ পর্যন্ত ৯০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার এবং স্ত্রীগুলো ৬৫ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার উঁচু হয়। স্ত্রী হরিণের ওজন সাধারণত ২৫ থেকে ৪৫ কেজি, আর পূর্ণবয়স্ক পুরুষের ওজন ৯৮ থেকে ১১০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। শরীরের ওপরের অংশ সোনালি থেকে লালচে বাদামি, তার ওপর সাদা ফোঁটা; পেট, গলা, পায়ের ভেতরের দিক, কান ও লেজ সাদা। শিং থাকে শুধু পুরুষ হরিণের। তিন শাখার এই শিং প্রায় এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং প্রতিবছর ঝরে পড়ে আবার গজায়।

চিত্রা হরিণ প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী হরিণ ও তাদের বাচ্চাদের ঘিরে গড়ে ওঠা ঢিলেঢালা দলে চলাফেরা করে। বিপদ টের পেলে দলবেঁধে দৌড়ে পালায়, তারপর ঘন ঝোপের ভেতর লুকিয়ে পড়ে; সাধারণত আড়াল থেকে ৩০০ মিটারের বেশি দূরে যায় না। এরা মূলত ঘাস খায়; শীতকালে ঘাস খাওয়ার উপযোগী না থাকলে পাতা, গুল্ম ও ফল বেশি খায়। বাঘ, চিতাবাঘ, অজগর ও বন্য কুকুর (ঢোল) এদের শিকারি প্রাণী। বনে সাধারণত এরা পাঁচ থেকে দশ বছর বাঁচে।

আইইউসিএনের লাল তালিকায় চিত্রা হরিণকে 'ন্যূনতম উদ্বেগজনক' প্রজাতি হিসেবে রাখা হয়েছে, কারণ এর বিস্তার অনেক বড় এলাকাজুড়ে এবং বহু জায়গায় বড় বড় দল রয়েছে। তবে মাংসের জন্য শিকারে বিভিন্ন জায়গায় এদের সংখ্যা অনেক কমেছে, কোথাও কোথাও বিলুপ্তও হয়েছে। বাংলাদেশে প্রজাতিটি টিকে আছে সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগরের আশপাশের কয়েকটি ইকোপার্কে; দেশের মধ্য ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে এটি হারিয়ে গেছে।

হরিণের সংখ্যা ও বাঘ


বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের জরিপে সুন্দরবনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি হরিণ পাওয়া যায়। ২০০৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার; সেই হিসাবে ১৯ বছরে হরিণ বেড়েছে ৫৩ হাজার ৬০৪টি। পর্যটকেরা তখন খাল ও নদীর ধারে এবং বন বিভাগের কার্যালয়ের আশপাশে নিয়মিত হরিণের দল দেখতে পাচ্ছিলেন।

খুলনা অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগে বনে সারা বছর দস্যুরা থাকত, আর বছরের শেষ দিকে দুবলার চরের রাসমেলায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ আসত; সে সময় বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকার হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগের নিয়মিত টহল, দস্যু কমে যাওয়া এবং রাসমেলা বন্ধ হওয়ায় হরিণ শিকার আগের তুলনায় অনেকাংশে কমেছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে বনের ভেতরের খালে পানি শুকিয়ে গেলে হরিণের বিচরণ বাড়ে, আর তখন চোরাশিকারিরাও তৎপর হয়।

বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি হরিণ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত বন বিভাগের জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে ১২৫টি বাঘ গণনা করা হয়, যা ২০১৮ সালের ১১৪টি এবং ২০১৫ সালের ১০৬টির চেয়ে বেশি। জরিপটি চালানো হয় ২০২৩ সালের জানুয়ারি, এপ্রিল ও নভেম্বরে এবং ২০২৪ সালের মার্চে, বনের ২ হাজার ২৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকায়। এতে ৬৫৭টি ক্যামেরা ফাঁদ বসানো হয় এবং ১ হাজার ৩০৬ কিলোমিটার খালপাড়ে বাঘের পায়ের ছাপ গোনা হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ২.৬২টি বাঘের উপস্থিতি পাওয়া যায় এবং ২১টি অপরিণত বা শিশু বাঘ পাওয়া যায়, যেখানে ২০১৫ ও ২০১৮ সালের আগের দুটি জরিপে এই সংখ্যা ছিল ৫টি।

সরকারের ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা 'টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭)'-এ বলা হয়েছে, একটি এলাকায় বাঘের সংখ্যা কেমন হবে, তা নির্ভর করে সেখানে হরিণের প্রাপ্যতার ওপর; প্রতিটি বাঘের বিপরীতে কমপক্ষে ৫০০ হরিণ থাকতে হয়। সুন্দরবনে বাঘের মূল খাবার চিত্রা হরিণ, এর পরে বন্য শূকর ও মায়া হরিণ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বাঘবিশেষজ্ঞ এম এ আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি সপ্তাহে একটি বাঘের ৫০ বা ৬০ কেজি ওজনের একটি হরিণ প্রয়োজন হয়। ২০২৩ সালে তাঁদের এক গবেষণায় হরিণের পর্যাপ্ত সংখ্যা পাওয়া গিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু যে হারে হরিণ শিকারে ফাঁদ পাতা হচ্ছে, তাতে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

সুন্দরবনের কটকায় চিত্রা হরিণ। ছবি: Mohammad Shafayet Habib Khan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সুন্দরবনের কটকায় চিত্রা হরিণ। ছবি: Mohammad Shafayet Habib Khan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বনের প্রান্তে ফাঁদ ও চোরাশিকার


২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বন বিভাগ প্রথম আলোকে জানায়, সুন্দরবনে হরিণ ধরতে চোরাশিকারিরা চার ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করে। সবগুলোই বানানো হয় নাইলনের রশি দিয়ে:

  • মালা ফাঁদ: এক গাছ থেকে রশি টেনে নির্দিষ্ট দূরত্বে আরেকটি গাছে বাঁধা হয়, তারপর ওই রশিতে মালার মতো পাশাপাশি অনেকগুলো ফাঁদ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এই ফাঁদই সবচেয়ে বেশি পাতা হয়।
  • ছিটকা ফাঁদ: বৃত্তাকারে পাতা ফাঁদ, যা একটি একটি করে বসানো হয়।
  • গলা ফাঁদ: ভূমি থেকে অল্প উঁচুতে পাতা ফাঁদ, যাতে হরিণের গলা আটকে যায়।
  • হাঁটা ফাঁদ: ভূমির কাছাকাছি পাতা ফাঁদ, যাতে হরিণের পা আটকে যায়।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে ডিসেম্বর, এই আট মাসে পূর্ব বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে ৬১ হাজার ১০ ফুট মালা ফাঁদ, ৩৮০টি ছিটকা ফাঁদ, ২ হাজারটি হাঁটা ফাঁদ এবং ২০ ফুট গলা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। পশ্চিম বিভাগ জানায়, দুই বছরে তারা ১ হাজার ২০০ ফুট মালা ফাঁদ, ১ হাজার ২০০ ফুট গলা ফাঁদ এবং ৭৪৮টি হাঁটা ফাঁদ উদ্ধার করেছে। একই দুই বছরে দুই বিভাগ মিলে চোরাশিকারিদের কাছ থেকে ১ হাজার ১৪৮ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করে। পূর্ব বিভাগ ৬৯ জনকে আসামি করে ২২টি মামলা করে, যাঁদের মধ্যে ৬২ জন গ্রেপ্তার হন; পশ্চিম বিভাগ ১৩০ জনকে আসামি করে ৫০টি মামলা করে, যাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার হন ১৯ জন।

বন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, পাথরঘাটা থেকে আসা লোকজন বলেশ্বর নদী পার হয়ে কচিখালী ও কোকিলমনি এলাকায় বনে ঢুকে ফাঁদ পাতে। পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবন এলাকার অনেকের পেশাই হরিণের মাংস বিক্রি করা; তাঁর দাবি অনুযায়ী যেসব এলাকার অনেক মানুষ যুগ যুগ ধরে সুন্দরবনে হরিণ শিকার করে আসছে, তার মধ্যে পাথরঘাটা উপজেলার কয়েকটি এলাকা ও শরণখোলাও রয়েছে।

এসব ফাঁদ বাঘের জন্যও বিপদ। ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব বিভাগের মোংলা অংশে শরকির খালসংলগ্ন বনে হরিণের জন্য পাতা ছিটকা ফাঁদে আটকে পড়া একটি আহত বাঘ উদ্ধার করা হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে এমন ফাঁদে আটকে একটি বাঘ পা হারিয়েছিল, আর ২০১৪ সালে ফাঁদ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা আরেকটি বাঘ পরে মারা যায়। টাইগার অ্যাকশন প্ল্যানে হরিণের ফাঁদকে বাঘের অন্যতম হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; সেখানে বলা হয়েছে, অনেক বনজীবী আয়ের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে হরিণ শিকারে ফাঁদ পাতেন, কারণ স্থানীয় বাজারে হরিণের মাংসের চাহিদা আছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বনের পাশের এলাকায় প্রতি কেজি হরিণের মাংস ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় এবং জেলা শহরে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, আর জীবিত হরিণের দাম চাওয়া হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। খুলনার সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে যে পরিমাণ হরিণের মাংস ও চামড়া আটক হয়, তার কয়েক গুণ বেশি হরিণ শিকার করা হয়। হরিণসংক্রান্ত অপরাধ উদ্‌ঘাটনে তথ্য দিলে বনের ভেতরের ঘটনায় ২০ হাজার টাকা এবং বনের বাইরের ঘটনায় ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা ছিল সরকারের।

লোকালয়ে হরিণ পাওয়ার আগের ঘটনা


সুন্দরবনসংলগ্ন লোকালয়ে হরিণ চলে আসার ঘটনা নতুন নয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মোংলার চিলা ইউনিয়নের তেলিখালী এলাকা থেকে গ্রামবাসীর সহায়তায় একটি মায়া হরিণ উদ্ধার করে বনে ফেরত পাঠায় বন বিভাগ। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দীপন চন্দ্র দাস জানান, হরিণটিকে ছোটাছুটি করতে দেখে স্থানীয়রা বন বিভাগকে খবর দেন। হরিণটি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকায় সেটিকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।

স্থানীয়রা বলেছিলেন, পশুর নদী পার হয়ে হরিণটি তাঁদের এলাকায় চলে আসে। দীপন চন্দ্র দাস এই দাবি মানেননি; তাঁর ভাষ্য, বিশাল পশুর নদী পাড়ি দিয়ে একটি হরিণের লোকালয়ে চলে আসা সম্ভব নয়। প্রাথমিক ধারণা, চোরাশিকারিরা হরিণটিকে ধরে আনার পর জনসম্মুখে ধরা পড়ার ভয়ে ছেড়ে দিয়েছে, এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মোংলার বিভিন্ন লোকালয় থেকে একাধিক হরিণ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

১১ মে পাথরঘাটার ঘটনাতেও বন বিভাগ জানায়, হরিণ দুটি কীভাবে লোকালয়ে এল এবং কীভাবে আহত হলো, সে বিষয়ে তাদের তদন্ত চলছে।

বন্যপ্রাণী আইনে যা বলা ছিল


হরিণ উদ্ধারের দিন বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সুরক্ষিত ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ দিয়ে। ২০২৬ সনের ৮৬ নং এই আইনের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২৬। এটি ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি জারি করা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯ নং অধ্যাদেশ) রহিত করে তার জায়গা নেয়, এবং আইনটি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হয়। আইনের ৫৪ ধারায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ রহিত করা হয়; তবে পুরোনো আইনে দায়ের হওয়া মামলা এমনভাবে নিষ্পত্তি হবে যেন সেই আইন রহিত হয়নি। আগের আইনের মতো নতুন আইনেও সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে, যেখানে জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।

আইনের তফসিল ১(খ), যার শিরোনাম 'রক্ষিত বন্যপ্রাণী', তাতে সুন্দরবনের দুই হরিণই রয়েছে: চিত্রা হরিণ (Axis axis) ও মায়া হরিণ (Muntiacus muntjak); সঙ্গে আছে প্যারা হরিণ ও সাম্বার হরিণ। তফসিলে বলা হয়েছে, গবেষণা বা বৈজ্ঞানিক প্রয়োজন ছাড়া অথবা লাইসেন্স বা পজেশন সার্টিফিকেট ছাড়া এসব প্রাণী কোনো অবস্থাতেই শিকার, উত্ত্যক্ত, পরিবহন, ক্রয়, বিক্রয় অথবা আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না। আইনে 'শিকার'-এর সংজ্ঞাও বিস্তৃত: কোনো বন্যপ্রাণীকে হত্যা করা, ধরা, বিষ প্রয়োগ করা, এসব উদ্দেশ্যে তাড়িয়ে নেওয়া, কিংবা আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত করা। সরকারের 'লজ অব বাংলাদেশ' ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পাঠ অনুযায়ী হরিণের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো হলো:

  • ধারা ৪১(৩) ও ধারা ৪৪: তফসিল ১(খ)-এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণী শিকার করলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
  • ধারা ৪১(৫) ও ধারা ৪৪: পারমিট ছাড়া এমন প্রাণীর মাংস, দেহের অংশ বা ট্রফি সংগ্রহ, দখলে রাখা, ক্রয় বা বিক্রয় করলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
  • ধারা ১০: লাইসেন্স, পজেশন সার্টিফিকেট বা পারমিট ছাড়া কেউ কোনো বন্যপ্রাণী লালন-পালন বা আবদ্ধ রাখতে, দখলে রাখতে, কেনাবেচা বা পরিবহন করতে পারবে না; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে বা হাট-বাজারে বন্যপ্রাণী কেনাবেচা করা যাবে না; সব বন্যপ্রাণী, এর দেহের অংশ ও মাংস সরকারের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে; আর বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
  • ধারা ১৪: উদ্ধার করা, জব্দ করা বা ধরা পড়া বন্যপ্রাণীকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে হবে; তবে রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে বা শুশ্রূষার প্রয়োজন হলে আবদ্ধ রাখা যাবে।
  • ধারা ১২: কোনো বন্যপ্রাণী মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হলে, কিংবা শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ বা ছোঁয়াচে বা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন নিয়ে বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন কারণ উল্লেখ করে সেটিকে অপসারণ, কালিং বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেবেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে উপদেষ্টা বোর্ড ও বৈজ্ঞানিক কমিটিতে প্রতিবেদন দেবেন।
  • ধারা ৩৪: বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা, খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তার জন্য বন অধিদপ্তর উদ্ধার কেন্দ্র স্থাপন করতে পারে এবং উদ্ধার কেন্দ্র থেকে বন্যপ্রাণী প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার নির্দেশিকা প্রণয়ন করতে পারে।

আইনের ৩৫ ধারায় বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠনের ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে। বন অধিদপ্তরের অধীন এই ইউনিটে থাকবেন আইনে উল্লিখিত কর্মকর্তা, কাস্টমস কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা, এবং তাঁরা বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরসহ দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

ছবি: Ashis Kumar Datta / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, প্রথম আলো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, লজ অব বাংলাদেশ (লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ), ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)