চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ডাকঘর এলাকায় কৃষিজমির চারপাশে দেওয়া জালে আটকে পড়া একটি অজগর সাপ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের ২০ জুন, শনিবার দুপুরে সাপটি উদ্ধার করেন ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশের সদস্যরা। উদ্ধারকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী অজগরটি ১২ ফুট লম্বা, ওজন আনুমানিক ১৫ কেজি। পরে সেটিকে বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানের আওতাধীন বাওয়াছড়া লেকের গহিন জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়। ঘটনাটি পরদিন ২১ জুন জাগো নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত হয়।
জালে আটকে ছিল সাপটি
জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডাকঘর এলাকায় ফসলের জমি ঘিরে দেওয়া জালে একটি অজগর আটকে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধারকারী দলকে খবর দেন। দলের সদস্যরা এসে সাপটিকে জাল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
দলের সদস্য মো. নাইমুল ইসলাম নিলয় জাগো নিউজকে বলেন, জালে অজগর আটকা পড়ার খবর পেয়ে তাঁরা সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাঁর হিসাবে সাপটির দৈর্ঘ্য ১২ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১৫ কেজি। পরে সেটি বাওয়াছড়া লেক এলাকার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বন বিভাগের বড়তাকিয়া বিট কর্মকর্তা অরুন রায় জানান, উদ্ধারকারী দলের সদস্য তাঁকে অজগরটি উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ধারণা, বর্ষাকাল হওয়ায় খাবারের খোঁজে সাপটি বন ছেড়ে লোকালয়ে চলে এসেছিল।

বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষকদের ২০১৬ সালে ওপেন জার্নাল অব ফরেস্ট্রিতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত। ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল এটিকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়; আয়তন ২৯৩৩.৬১ হেক্টর। উদ্যানটি বারৈয়াঢালা ফরেস্ট রেঞ্জের অধীন। এর মধ্যে আছে বারৈয়াঢালা বিটের বারৈয়াঢালা ও ওয়াহিদপুর ব্লক এবং বড়তাকিয়া বিটের কুন্ডেরহাট ব্লক।
একই গবেষণায় বলা হয়, এখানে ক্রান্তীয় মিশ্র চিরসবুজ, আর্দ্র চিরসবুজ ও আর্দ্র পর্ণমোচী বন, বাঁশঝাড় এবং বাগান বনায়ন রয়েছে। মিরসরাইয়ের পাহাড়ি এলাকায় খৈয়াছড়াসহ বেশ কয়েকটি ঝরনাও আছে।


অজগর ও আইনি সুরক্ষা
প্রতিবেদনে অজগরটির প্রজাতি উল্লেখ করা হয়নি। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বার্মিজ অজগরের প্রাকৃতিক বিচরণক্ষেত্রের অংশ। এটি বিষহীন সাপ এবং আইইউসিএনের লাল তালিকায় 'ঝুঁকিপূর্ণ' (Vulnerable) হিসেবে তালিকাভুক্ত। বনে এ প্রজাতির অজগর গড়ে প্রায় ৩.৭ মিটার (১২ ফুট) লম্বা হয়।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ৬ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করা নিষিদ্ধ। ৩৯ ধারায় এ বিধান লঙ্ঘনের শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
লোকালয়ে অজগর বা অন্য কোনো বুনো সাপ দেখা গেলে নিজে ধরতে বা মারতে যাওয়া উচিত নয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা যেমন করেছিলেন, তেমনি নিরাপদ দূরত্বে থেকে বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়াই নিরাপদ।
ছবি: Adnan azad asif / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ওপেন জার্নাল অব ফরেস্ট্রি (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, ২০১৬), বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ (এফএও ফাওলেক্স), উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)