সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

টনি সমাচার

কাজী এনায়েত উল্লাহ, উত্তর পশ্চিম স্পেন

কাজী এনায়েত উল্লাহ, উত্তর পশ্চিম স্পেন

ট্রাডিশনাল ক্রিসমাস, উত্তর পশ্চিম স্পেনে কাটানোটা এখন একটা স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের শেষ প্রান্তের ক'টা দিন ছুটি হিসাবে নিলেও পারিবারিক আন্তরিকতায় তা আরও আনন্দমুখর হয়ে ওঠে। পাহাড়ীয়া অঞ্চল বলে আবহাওয়া বিশুদ্ধ, যেমন ঘুম আসে, তেমনি ক্ষুধার উদ্রেক মারাত্মক। যেন অন্যগ্রহের মানুষ আমরা, সব মিলে সময়টা চমৎকার, খুব তাড়াতাড়ি কেটে যায়।

কানাডা থেকে রিমান, সিংঙ্গাপুর থেকে রায়হান সময় মতোই বড়দিনের ছুটি কাটাতে ফিরে এসেছে। প্যারিস থেকে আমরা পাঁচজনই করোনাবিধি মেনে বিমানে প্রথমে মাদ্রিদ এবং পরবর্তীতে গাড়িতে ৪০০ কি.মি. অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছালাম।

গাড়ি থেকে নেমেই রোমান, রিমান চিৎকার করে উঠলো, আব্বা, এই যে টনি, কুকুরটা যেন আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো। আমিও আনন্দের সঙ্গেই ব্যাপারটা উপভোগ করলাম। আশ্চর্যের ঘটনাগুলো অনেক সময়ই একা আসে না, লক্ষ্য করলাম প্রতি বছরের সেই বিড়ালটাও এখন ফুল টাইম এ বাড়িতেই বসবাস শুরু করেছে।

আমার ছেলেদের একমাত্র মামা, যিনি বিড়ালের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্মত একটা ছোট টং বাড়ি তৈরি করে দিয়েছেন, তার আদরের বিড়ালসহ মোট চারটা বিড়াল তাদের আস্তানা তৈরি করে নিয়েছে এই বাড়িতে।

প্রথম রাতেই লক্ষ্য করলাম, টনি সেই গতবারের মতো মনিবের বাসায় সারাদিন কাটিয়ে ডিনারের পর যেভাবে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছিলো, তা আর গেলো না। এই ক'মাসের ব্যবধানে এই পরিবর্তনের কি কারণ হতে পারে জানি না। তবে তার প্রেমিকার সঙ্গে যদি সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে থাকে, তবে মনিবের ভালোবাসা আর যত্নশীলতার প্রতি কৃতজ্ঞতার কারণেই বোধহয় টনি তার পূর্ব পরিচয়ে ফিরে এসেছে।

আরও দেখলাম টনির জন্য একটা বিশেষ আরামদায়ক বিছানার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তিন, তিনটা গায়ে দেওয়ার কম্বলও তাকে বরাদ্দ করা হয়েছে। একটা ছোট্ট ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে, খাবারের সময়গুলোতে টনিকে একটা বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়, ডাইনিংয়ের টেবিলের নিচে তার ঘুর ঘুর করার অভ্যাস।

আমরাও অনেকটা বিধিনিষেধ অমান্য করে গোপনে বাড়ির সবার চক্ষুর আড়ালে কিছু টুকরো মাছ, মাংস, এবং অন্যান্য খাবার টনিকে ছুঁড়ে মারলে, সে অনেক তৃপ্তি সহকারে তা খেতো। কিন্তু তা সে কতটুকু হজম করতে পারবে তা আমরা ভাবিনি। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারলাম ব্যাপারটা, টনি বিভিন্ন রকম খাবার খেয়ে তা হজম করতে না পেরে, বমি করে সমস্ত ঘর ভরিয়ে ফেলেছে। অতএব কঠিন নির্দেশ, টনিকে তার জন্য কেনা বিশেষ ক্রকেট ছাড়া অন্যকোনো খাবার দেওয়া যাবে না। ব্যাপারটা আমাদের মনোপুত না হলেও করার কিছু ছিলো না। তবুও আমি সাহস করে নিয়ম ভেঙে কিছু মাংসের টুকরা টনির জন্য টেবিলের নিচে ছুঁড়ে দিয়ে ছিলাম।নিতান্ত কেউ দেখে ফেল্লেও আমাকে তেমন কিছু বলার সাহস রাখে না। এটা শুধু আমার জন্য কার্যকরী হলেও ছেলেরা কিন্তু তা করার সাহস পায়নি।

স্বভাবগতভাবেই আমরা যখন দুপুরের খাবারের পর পাহাড়ের দিকে হাঁটতে বের হতাম, টনি আমাদের পথ প্রদর্শক হিসাবে কখনো সামনে দূরে চলে যেতো আবার বিপরীতে আমাদের অতিক্রম করে অনেক পোছনে চলে যেতো। তার আনন্দের অতিসজ্জার যেন কোনো শেষ নাই।

আমাদের পেয়ে এই চতুষ্পদ প্রাণীটির অসামান্য উপলব্ধি আমাদের আর আশ্চর্য করে না। আমার নিজের এবং তিন সন্তানের মধ্যে টনি তার শক্তিশালী ভালোবাসায় যে জায়গা করে নিয়েছে, তা আজ অনবদ্য। টনি আজ আমাদের সমস্ত আনন্দ বেদনার সঙ্গী। জানি না তা সে উপলব্ধি করতে পারে? কি-না।

সরবেদা ডেল সিল, উত্তর পশ্চিম স্পেন।

এমআরএম/জিকেএস

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)