সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার আহ্বান এনসিপির আসিফ মাহমুদের

২০২৬ সালের ৬ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিকল্প নেই।

পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার আহ্বান এনসিপির আসিফ মাহমুদের
পরিবেশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ২০২৬ সালের ৬ জুন, শনিবার, ঢাকায় বলেছিলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষ বিতরণ ও সচেতনতামূলক আলোচনা-সেমিনার কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জাগো নিউজ ২৪ সেদিন সন্ধ্যায় তাঁর বক্তব্য প্রকাশ করে।

জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বনভূমি কমে যাওয়া, নির্বাচনের আগে দেওয়া ২৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি, রাজধানীর বায়ুদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। এই প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তাঁর নামেই উদ্ধৃত হয়েছে; বক্তব্যে উঠে আসা বিষয়গুলোর পটভূমি দেওয়া হয়েছে সরকারি নথি, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের সেই তারিখের আগের প্রকাশিত তথ্য থেকে।

সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিতে যা ছিল


বাংলা ট্রিবিউনের ৬ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে কর্মসূচির ঘোষণা দেন এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি জানান, রাজধানীর ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০০টি গাছের চারা রোপণ করা হবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে একটি সেমিনার আয়োজনের কথাও জানানো হয়। আরিফুল ইসলাম আদীব নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবুজায়নে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিনও উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেমিনারের বিষয় হবে দখল, দূষণ ও দাহ রোধে করণীয়। কর্মসূচির মেয়াদ নিয়ে দুই সংবাদমাধ্যমের বর্ণনায় সামান্য পার্থক্য ছিল: বাংলা ট্রিবিউন ৬ থেকে ১১ জুন এবং ঢাকা টাইমস ৬ থেকে ১২ জুন লিখেছিল। দুই প্রতিবেদনেই কর্মসূচিটি ছিল সপ্তাহব্যাপী এবং শুরু ৬ জুন।

জাগো নিউজ জানায়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে খুব বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ তাঁদের সীমিত, তবে মানুষ তাঁদের কথা শোনে ও অনুসরণ করে; সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়েছে। তিনি সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণসহ জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষে তিনি সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষ বিতরণ, সেমিনার ও আলোচনা সভার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জাগো নিউজের বর্ণনায়, তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি বা প্রতীকী বৃক্ষরোপণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, নীতি ও বাস্তবায়নের বিষয়, এবং এ ক্ষেত্রে সরকারকে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের পরিবেশবিষয়ক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের নীতিতে পরিবেশ অগ্রাধিকারে নেই, এবং এই সরকার কাজ না করলে পাঁচ বছর পর যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের জন্য ক্ষতি আরও বাড়বে।

বনভূমি নিয়ে বক্তব্য এবং বন অধিদপ্তরের হিসাব


জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের বনভূমির পরিমাণ ক্রমেই কমে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষায়, বনভূমি এখন প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে, অথচ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় তা অন্তত ২৫ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। এই হিসাব তিনি কোন উৎস থেকে দিয়েছেন, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ নেই।

বাংলাদেশে বনের হিসাব নির্ভর করে কোন সংজ্ঞা ও কোন পদ্ধতি ধরা হচ্ছে তার ওপর। বন অধিদপ্তর ২০১৭ সালে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডসের (সিআইএফ) ফরেস্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের সভায় যে উপস্থাপনা দেয়, তাতে দেশের বনভূমি দেখানো হয় ২৬ লাখ হেক্টর, যা দেশের আয়তনের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এই হিসাব ২০০৭ সালের জাতীয় বন মূল্যায়নের ভিত্তিতে, এবং এতে বসতবাড়ির বাগানও ধরা হয়েছে। একই উপস্থাপনায় দূর অনুধাবন (রিমোট সেন্সিং) তথ্যের ভিত্তিতে দেখানো হয়, দেশের বনাঞ্চল ১৯৭৫ সালের ১৬ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর থেকে কমে ২০১৪ সালে ১৪ লাখ হেক্টরে নেমেছিল। বছরে বন উজাড়ের হার দেখানো হয় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।

বন অধিদপ্তরের ওই নথিতে বনের ধরন অনুযায়ী আয়তনও দেওয়া আছে: পাহাড়ি বন ও অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বনসহ ক্রান্তীয় চিরসবুজ বন ১৪ লাখ হেক্টর, সুন্দরবন ও অন্যান্য ম্যানগ্রোভ ৭ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর, শালপ্রধান ক্রান্তীয় পাতাঝরা বন ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর, মিঠাপানির জলাবন ২০ হাজার হেক্টর এবং বসতবাড়ির বাগান ২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর।

শীতে গাজীপুরের শালবন। ছবি: A junaid alam khan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
শীতে গাজীপুরের শালবন। ছবি: A junaid alam khan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

লক্ষ্যমাত্রার প্রশ্নে বন অধিদপ্তরের নথি বলে, ১৯৯৪ সালের বননীতি ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল দেশের ২০ শতাংশ ভূমি বন বা বৃক্ষাচ্ছাদনের আওতায় আনা এবং বনে ৭০ শতাংশ চাঁদোয়া ঘনত্ব নিশ্চিত করা। নথিতে বন পুনরুদ্ধারের নীতিগত লক্ষ্যও লেখা আছে দেশের ভূপৃষ্ঠের ২০ শতাংশ। আসিফ মাহমুদ যে ২৫ শতাংশের কথা বলেছেন, তা বন অধিদপ্তরের এই নথির সরকারি লক্ষ্যের চেয়ে বেশি।

বন উজাড়ের কারণ হিসেবে বন অধিদপ্তর জাতিসংঘের ইউএন-রেড প্রকল্পের বরাতে যেগুলো তালিকাভুক্ত করেছে, তার মধ্যে আছে বিপুল জনসংখ্যার চাপ, জ্বালানি কাঠ ও অন্যান্য বনজ পণ্যের বাড়তি চাহিদা, অবৈধ গাছ কাটা, অতিরিক্ত ও অটেকসই আহরণ, জবরদখল, বনভূমিকে অন্য কাজে রূপান্তর, কিছু অঞ্চলে বনের সীমানা ও ভূমিস্বত্ব অস্পষ্ট থাকা, বন খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ, এবং ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক কারণ।

একই নথি অনুযায়ী, বন খাত দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে ৩ শতাংশ অবদান রাখে, বনের বাস্তুতন্ত্র সেবা ধরলে যা ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ বনের ওপর নির্ভরশীল, আর গ্রামীণ বন পরিবারের আয়ে ৮ দশমিক ৯ থেকে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখে। আবহাওয়াজনিত ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি ও সম্পদহানির বিচারে বাংলাদেশকে আঞ্চলিকভাবে সবচেয়ে এবং বিশ্বে ষষ্ঠ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বনায়ন নিয়ে সরকারের তখনকার পরিকল্পনার কথাও নথিতে আছে। এতে বলা হয়, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদানে (এনডিসি) বন খাতের চারটি প্রশমন কৌশল রাখা হয়েছে: উপকূলে ম্যানগ্রোভ বনায়ন অব্যাহত রাখা, সংরক্ষিত বনে পুনর্বনায়ন ও বনায়ন, দ্বীপাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ এবং সামাজিক ও বসতবাড়ির বনায়ন অব্যাহত রাখা; তবে এগুলো শর্তসাপেক্ষ অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল এবং এনডিসিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা আয়তন বলা হয়নি। নথি অনুযায়ী, সরকার ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য আইডিএর ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ ও সরকারের ২ কোটি ডলারের একটি বন পুনরুদ্ধার প্রকল্প হাতে নিচ্ছিল। বন খাতে ২০১৫ সালে পূর্ণকালীন হিসাবে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ছিল, যার মধ্যে নারী ৬ লাখ, এবং দেশের শ্রমশক্তির ২ শতাংশ বনসংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত ছিল।

২৫ কোটি গাছের প্রতিশ্রুতি


জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

প্রতিশ্রুতিটি ছিল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিএনপির অন্যতম প্রধান পরিবেশ প্রতিশ্রুতি ছিল পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণ করা। দলটি বলেছিল, এই কর্মসূচিতে সাড়ে তিন লাখের বেশি সবুজ কর্মসংস্থান হবে এবং নতুন নার্সারি উদ্যোগের মাধ্যমে আরও আড়াই লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ইশতেহারে জিআইএসভিত্তিক ভূমি মানচিত্র ব্যবহার করে উপযোগী জায়গা ও অঞ্চলভিত্তিক প্রজাতি বাছাই এবং গাছ টিকে থাকা ও রক্ষণাবেক্ষণ তদারকিতে একটি ডিজিটাল ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ চালুর কথাও ছিল।

একই দিন, ৬ জুন, সরকারের দিক থেকেও কর্মসূচিটি নিয়ে আলোচনা হয়। দৈনিক ইত্তেফাক সেদিন বিকেলে জানায়, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জলবায়ু বার্তা ও বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচি নিয়ে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সরকারি কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বৈঠকে জানানো হয়, পরের সপ্তাহে চট্টগ্রাম থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। বৈঠকে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচির প্রস্তুতি ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়।

নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ এবং বিশেষজ্ঞদের মত


দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিএনপির ইশতেহারে গাছ লাগানো ছাড়াও ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন, জ্বালানি, কৃষি, বর্জ্য ও বনায়ন খাতের কার্বন নিঃসরণ মাপতে কেন্দ্রীয় পরিমাপ, প্রতিবেদন ও যাচাই (এমআরভি) ব্যবস্থা, পাঁচ বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানো, প্রতিটি বিভাগে আঞ্চলিক উপকরণ পুনরুদ্ধার কেন্দ্র ও ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রায় দুই লাখ অনানুষ্ঠানিক বর্জ্যকর্মীকে ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। একই বিশ্লেষণে জামায়াতে ইসলামীর ‘থ্রি-জিরো ভিশন’-এর কথা আছে: ২০৩০ সালের মধ্যে শূন্য পরিবেশগত অবক্ষয়, শূন্য বর্জ্য ও শূন্য বন্যাঝুঁকি, সঙ্গে দেশীয় প্রজাতি দিয়ে বনায়ন ও বন উজাড় বন্ধের অঙ্গীকার।

পরিবেশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মোংগাবে ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জানায়, এনসিপির ইশতেহারে কারখানায় বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) বাধ্যতামূলক করা, অবৈধভাবে ব্যাটারি ফেলা ও সিসাদূষণ নিয়ন্ত্রণ, উপগ্রহচিত্রের সাহায্যে নদী খনন ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি ছিল। মোংগাবের প্রতিবেদনে বিএনপির বন্যপ্রাণীর আবাসে বন উজাড় ও শিল্পায়ন বন্ধের প্রতিশ্রুতির কথাও বলা হয়।

একই প্রতিবেদনে পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা ইশতেহারগুলো নিয়ে অসন্তোষ জানান। সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করা বা ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য অবাস্তব। ইয়ুথনেট গ্লোবালের সোহানুর রহমানের মতে, ইশতেহারগুলোতে জলবায়ুজনিত অভিবাসন, শহুরে বস্তির সহনশীলতা এবং বায়ু ও সিসাদূষণ অনেকটাই উপেক্ষিত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মূল বিষয়টি যথাযথভাবে আসেনি।

ঢাকার বাতাস: আইকিউএয়ারের ২০২৫ সালের হিসাব


জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, বায়ুদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঢাকা দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে এবং দূষিত পরিবেশের কারণে নগরবাসী নানা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

বক্তব্যের আড়াই মাস আগে, ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত সুইস প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের বিশ্ব বায়ুমান প্রতিবেদনের বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ২৪ মার্চ জানায়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে বাতাসে অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম২.৫-এর বার্ষিক গড় ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৬৬ দশমিক ১ মাইক্রোগ্রাম। এতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত দেশ হয়, পাকিস্তানের (৬৭ দশমিক ৩ মাইক্রোগ্রাম) পরে; ২০২৪ সালেও অবস্থান একই ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকায় বার্ষিক গড়ের সীমা প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম, আর প্রতিবেদনটি জানায় বাংলাদেশের মাত্রা সেই সীমার ১৩ গুণের বেশি।

একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যেসব রাজধানীতে দূষণ বিশেষভাবে তীব্র ছিল, ঢাকা তার একটি; দুশানবে ও দিল্লির সঙ্গে ঢাকায় অন্তত দুই মাস পিএম২.৫-এর মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ১০০ মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়েছিল। আইকিউএয়ার দূষণের কারণ হিসেবে শিল্প ও যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা, নির্মাণকাজের ধুলা এবং মৌসুমি ফসলের অবশিষ্ট পোড়ানোর কথা বলেছে।

বাংলাদেশের একটি ইটভাটায় শ্রমিকেরা। ছবি: Frameofashik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের একটি ইটভাটায় শ্রমিকেরা। ছবি: Frameofashik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবরের তথ্যপত্র বলে, ২০১৯ সালে বিশ্বে বাইরের বায়ুদূষণে ৪২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছিল, যার ৮৯ শতাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে। এসব মৃত্যুর ৬৮ শতাংশ ইস্কেমিক হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকে, ১৪ শতাংশ দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ সিওপিডিতে, ১৪ শতাংশ শ্বাসতন্ত্রের নিচের অংশের তীব্র সংক্রমণে এবং ৪ শতাংশ ফুসফুসের ক্যানসারে। সংস্থাটির হিসাবে ২০১৯ সালে বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষ এমন জায়গায় বাস করত, যেখানে তাদের বায়ুমান নির্দেশিকা মানা হয়নি। শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথার মতো উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বর্জ্য ও বাসযোগ্যতা নিয়ে আগের প্রতিবেদন


ঢাকার বর্জ্য পরিস্থিতি নিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর জানায়, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়, যার মাত্র ৩৭ শতাংশ আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় সংগ্রহ হয়; বাকিটা নালায় যায়, খোলা জায়গায় পোড়ানো হয় বা অনিয়ন্ত্রিত ভাগাড়ে জমে। মাথাপিছু দৈনিক বর্জ্য ২০১৭-১৮ সালের শূন্য দশমিক ৫৭৫ কেজি থেকে বেড়ে ২০১৯-২০ সালে শূন্য দশমিক ৭২ কেজি হয়েছিল। রাজধানীর চারপাশে আমিনবাজার, মাতুয়াইল, বেড়িবাঁধ ও উত্তরায় বড় ভাগাড় রয়েছে।

একই প্রতিবেদনে সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জানান, ঢাকার বর্জ্যের তাপমান ৬০০ থেকে ৭০০, অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদনে অন্তত ১ হাজার ৫০০ দরকার; ফলে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিবেশগতভাবে সমস্যাজনক। প্রতিবেদনে দেশে বছরে ৩০ লাখ টন ই-বর্জ্য তৈরি হওয়ার কথাও বলা হয়।

ঢাকার মিরপুরে একটি বর্জ্য ফেলার জায়গায় একজন মানুষ। ছবি: Frameofashik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার মিরপুরে একটি বর্জ্য ফেলার জায়গায় একজন মানুষ। ছবি: Frameofashik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাসযোগ্যতার আন্তর্জাতিক তুলনায়ও ঢাকা পিছিয়ে ছিল। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৫ সালের ২৫ জুন জানায়, ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচক ২০২৫-এ ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকা ছিল ১৭১তম; কেবল লিবিয়ার ত্রিপোলি ও সিরিয়ার দামেস্ক এর নিচে ছিল। ২০২৪ সালে ঢাকা ছিল ১৬৮তম এবং ২০২৩ সালে ১৬৬তম। ১০০-র মধ্যে ঢাকার সামগ্রিক স্কোর ছিল ৪১ দশমিক ৭; স্থিতিশীলতায় ৪৫, স্বাস্থ্যসেবায় ৪১ দশমিক ৭, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪০ দশমিক ৫, শিক্ষায় ৬৬ দশমিক ৭ এবং অবকাঠামোয় ২৬ দশমিক ৮।

সিটি করপোরেশন চলছিল প্রশাসক দিয়ে


জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির অপেক্ষায় না থেকে বর্তমান দায়িত্ব পালনকালেই পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত, কারণ পরিবেশ সংরক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা কোনো নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে পারে না।

২০২৬ সালের জুনে ঢাকার সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচিত মেয়র ছিলেন না, চলছিল সরকার নিযুক্ত প্রশাসক দিয়ে। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ সেদিনের প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহানকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক নিয়োগ দেয়। তাঁর আগে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ এজাজ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ২৫ক(১) ধারায় এই দায়িত্ব দেওয়া হয়, এবং প্রশাসক মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ নগরের বর্জ্য, সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতার মতো কাজে সিদ্ধান্তের দায়িত্ব তখন প্রশাসকদের হাতেই ছিল।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬


প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) গণমাধ্যম বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দিবসটি পরিবেশ নিয়ে জনসংযোগের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক মঞ্চ, যা ইউএনইপির নেতৃত্বে ১৯৭৩ সাল থেকে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে। ২০২৬ সালের দিবসের মূল বিষয় ছিল জলবায়ু পদক্ষেপ, আর আয়োজক দেশ আজারবাইজান; মূল অনুষ্ঠান হয় রাজধানী বাকুতে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি, পরিবহন, ভবন ও খাদ্যব্যবস্থায় অনেক পরিচ্ছন্ন সমাধান আর সীমিত পরিসরে নেই, সেগুলো স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এনসিপির সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৬ জুনের বৈঠক, দুটিই এই দিবসকে কেন্দ্র করে ছিল।

এনসিপি ও তার মুখপাত্র


জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠিত হয় ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে দলটি আত্মপ্রকাশ করে; এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর দলটি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পায়।

প্রথম আলোর ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সেদিন এনসিপিতে যোগ দেন এবং দলের মুখপাত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পান। দল তখন জানায়, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না, বরং দলের মনোনীত প্রার্থীদের জন্য কাজ করবেন। ২০২৬ সালের ৬ জুনের অনুষ্ঠানে তিনি এই মুখপাত্রের পরিচয়েই বক্তব্য দেন।

ছবি: Shmunmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলা ট্রিবিউন, ঢাকা টাইমস, দৈনিক ইত্তেফাক, বন অধিদপ্তর (ফরেস্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম, ২০১৭), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, মোংগাবে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (আইকিউএয়ার বিশ্ব বায়ুমান প্রতিবেদন), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ঢাকা ট্রিবিউন, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি, প্রথম আলো, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)