সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

জ্যৈষ্ঠের রসালো ফল: আম, কাঁঠাল, জাম ও লিচুর মৌসুমে বাজারে দেশি ফলের সমারোহ

২০২৬ সালের ৬ জুন জাগো নিউজে প্রকাশিত ড. মো. ফোরকান আলীর লেখায় জ্যৈষ্ঠে দেশি ফলের সমারোহের বর্ণনা ছিল। সে মৌসুমে দেশে প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার হেক্টরে আম চাষ হয়, দিনাজপুরে লিচুর বাজার জমে ওঠে।

জ্যৈষ্ঠের রসালো ফল: আম, কাঁঠাল, জাম ও লিচুর মৌসুমে বাজারে দেশি ফলের সমারোহ
ফল

২০২৬ সালের ৬ জুন, বাংলা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজ ২৪ তাদের ফিচার বিভাগে 'রসালো ফলে হাওয়ায় ভাসে মৌ মৌ ঘ্রাণ' শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশ করে। লেখক গবেষক ও সাবেক অধ্যক্ষ ড. মো. ফোরকান আলী। লেখায় তিনি বর্ণনা করেন, গ্রীষ্মের শেষ মাস জ্যৈষ্ঠে আম, জাম, কাঁঠাল ও লিচুসহ নানা দেশি ফল পেকে বাংলাদেশের গ্রাম ও শহরের বাজার ভরে যায়, ফলকে ঘিরে আত্মীয়বাড়িতে যাওয়া, ফল উৎসব আর মৌসুমি ব্যবসা জমে ওঠে। লেখার শেষে তিনি সতর্ক করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত পাকানো ও চকচকে দেখানোর জন্য ফলে রাসায়নিক মেশান।

লেখাটি প্রকাশিত হয় এমন এক সময়ে, যখন দেশের আমের মৌসুম পুরোদমে চলছিল। রাজশাহীতে জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিন, ১৫ মে, থেকে বাগান থেকে আম নামানো শুরু হয়েছিল, দিনাজপুরে জুনের শুরু থেকে লিচুর বাজার জমে উঠেছিল। এই প্রতিবেদনে লেখকের বক্তব্যের পাশাপাশি সরকারি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য থেকে জ্যৈষ্ঠের প্রধান চারটি ফলের পরিচিতি, উৎপাদনের হিসাব এবং সে সময়ের বাজারের চিত্র তুলে ধরা হলো। লেখার যেসব তথ্য অন্য সূত্রে মেলেনি বা ভুল পাওয়া গেছে, সেগুলো সংশোধন করা বা বাদ দেওয়া হয়েছে।

জ্যৈষ্ঠ মাস ও 'মধুমাস' নাম


বাংলা বর্ষপঞ্জিতে বৈশাখের পরের মাস জ্যৈষ্ঠ, বছরের দ্বিতীয় মাস। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মিলে গ্রীষ্ম ঋতু। বাংলাদেশে প্রচলিত বর্ষপঞ্জিতে জ্যৈষ্ঠ মাস ৩১ দিনের এবং তা ইংরেজি মে-জুন মাসে পড়ে। ২০২৬ সালে জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিন ছিল ১৫ মে। মাসটির নাম এসেছে জ্যেষ্ঠা নক্ষত্রের নাম থেকে।

ড. ফোরকান আলী লেখেন, এত ফল আর কোনো মাসে আসে না বলে অনেকেই জ্যৈষ্ঠকে 'মধুমাস' বলেন। তবে তাঁর ভাষ্যে, আভিধানিক অর্থে মধুমাস হলো চৈত্র, বসন্ত ঋতুর মাস, যখন গাছ রংবেরঙের ফুলে ভরে ওঠে আর কোকিল ডাকে। প্রচলিত ব্যবহারে অবশ্য জ্যৈষ্ঠই মধুমাস নামে পরিচিত। দৈনিক সমকাল ২০২২ সালের ৬ জুন 'আম-কাঁঠালের সময়' শিরোনামের এক ফিচারে জ্যৈষ্ঠকে মধুমাস বলেছিল, আর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ২০২৬ সালের ১ জুন দিনাজপুরের লিচুর বাজার নিয়ে প্রতিবেদনে লেখে, 'মধু মাস হিসেবে পরিচিত জ্যৈষ্ঠ মাসে' লিচু কেনাবেচার মহোৎসব চলছে।

জ্যৈষ্ঠে বাজারে আসা ফলের যে তালিকা লেখক দিয়েছেন, তাতে আম, জাম, কাঁঠাল ও লিচুর পাশাপাশি আছে আনারস, তরমুজ, ডেউয়া, লটকন, কালো জাম, গোলাপজাম, বেতফল, গাব, জামরুল, আতাফল, কাউ, পানিতাল, বেল, পেঁপে, করমচা, চালতা, কামরাঙা, জলপাই, আঁশফল, দেশি ড্রাগন ও শরিফা। সমকালের ২০২২ সালের ফিচারেও জ্যৈষ্ঠের ফলের প্রায় একই তালিকা ছিল: জাম, লিচু, আনারস, বেল, ডেউয়া, লটকন, গোলাপজাম, বেতফল, গাব, জামরুল, কাঁচা তাল, জাম্বুরা, আতাফল, কাউফল, শরিফা, করমচা, ফুটি ও কামরাঙা।

দেশি ফলের বাজার, উৎসব ও মৌসুমি ব্যবসা


লেখকের বর্ণনায়, জ্যৈষ্ঠে গ্রামের ফল ছড়িয়ে পড়ে শহরের অলিগলি ও বাজারে। গ্রামে ফলকে কেন্দ্র করে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে নিমন্ত্রণ চলে, নিজের গাছের ফল নিয়ে মানুষ আত্মীয়বাড়িতে বেড়াতে যান। শহরে ফল উৎসব হয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কার্যালয়ে সহকর্মীদের নিয়ে ফল উৎসব করে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও এমন আয়োজন হয়। গ্রামাঞ্চলের কিছু স্কুল-কলেজও ফল উৎসবের আয়োজন করে।

ব্যবসার দিকটিও লেখায় উঠে এসেছে। অস্থায়ী তাঁবুতে ফল বিক্রি হয়, অনলাইনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেচাকেনা জমে ওঠে, আম-লিচুর জন্য পরিচিত এলাকায় অস্থায়ী ব্যবসা গড়ে ওঠে। অন্য পেশার মানুষ, এমনকি অনেক সবজি বিক্রেতাও এ মৌসুমে ফল বিক্রি করেন। লেখকের মতে, পাকা ফল বেশি দিন ঘরে রাখা যায় না এবং মৌসুম অল্প সময়ের, তাই অনেকে খণ্ডকালীন কাজ হিসেবে ফলের ব্যবসা করে লাভবান হন, আর অনেক কৃষক অন্য ফসলের পাশাপাশি দেশি ফল চাষ করে বাড়তি আয় করেন। তিনি আরও লেখেন, সারা বছর বিদেশি ফলের দাপট থাকলেও জ্যৈষ্ঠে বাজার থাকে দেশি ফলের দখলে।

সরকারি তথ্যেও দেশি ফলের এই বিস্তার দেখা যায়। জাগো নিউজ ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ হেক্টর জমিতে ১ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার টন ফল উৎপাদিত হয়েছে। এক যুগ আগে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে, উৎপাদন ছিল ৯৯ লাখ ৭২ হাজার টন, জমি ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৪৫ হেক্টর। ২০১২-১৩ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে প্রধান দশটি ফলের মধ্যে আম, জাম, লিচু, কলা, বরই, পেঁপে, পেয়ারা ও আনারসের উৎপাদন বেড়েছে, কমেছে কাঁঠাল ও নারকেলের। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ৩৮ ধরনের ফল আমদানি হয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশি ফল আমদানিতে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

দেশি ফলের প্রচারে সরকারিভাবে প্রতিবছর জাতীয় ফল মেলাও হয়। বাসস জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ১৯ থেকে ২১ জুন ঢাকার খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন চত্বরে তিন দিনের জাতীয় ফল মেলা হয়, প্রতিপাদ্য ছিল 'দেশি ফল বেশি খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই'। সরকারি ২৬টি ও বেসরকারি ৪৯টি মিলিয়ে ৭৫টি প্রতিষ্ঠান তাতে অংশ নেয় এবং দেশের ৬৪ জেলার ৪৩১টি উপজেলায়ও মেলা হয়।

আম: জাতীয় বৃক্ষ ও তার দীর্ঘ ইতিহাস


লেখক মনে করিয়ে দেন, আম শুধু ফলের রাজা নয়, আমগাছ বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ। ২০১০ সালের ১৫ নভেম্বর আমগাছকে জাতীয় বৃক্ষ ঘোষণার খবর প্রকাশ করেছিল বিডিনিউজ২৪। আমের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica, এটি অ্যানাকার্ডিয়েসি পরিবারের গাছ। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, আমের উৎপত্তি ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলে, বাংলাদেশ, ভারতের আসাম ও মিয়ানমার মিলিয়ে যে অঞ্চল। যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত উদ্যানবিদ জুলিয়া মর্টনের 'ফ্রুটস অব ওয়ার্ম ক্লাইমেটস' গ্রন্থেও বলা হয়েছে, আম দক্ষিণ এশিয়ার, বিশেষ করে পূর্ব ভারত, মিয়ানমার ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের আদি ফল, প্রাচীনকাল থেকে সেখানে এর চাষ ও কদর।

আমের কদরের পুরোনো সাক্ষ্যও আছে। মধ্যযুগের ইন্দো-ফারসি কবি আমির খসরু আমকে 'হিন্দুস্তানের সবচেয়ে সুন্দর ফল' বলেছিলেন। বাংলাপিডিয়া জানায়, চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং (৬৩২-৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দ) প্রথম বাইরের দুনিয়ার কাছে আমের কথা তুলে ধরেন বলে ধরা হয়, আর সম্রাট আকবর ভারতের দারভাঙ্গার কাছে 'লাখবাগ' নামে প্রায় এক লাখ আমগাছের বাগান করেছিলেন। প্রাচীন সংস্কৃতে আমকে বলা হতো 'আম্র'। লেখক উল্লেখ করেছেন, মার্কিন উদ্যানবিদ উইলসন পোপেনো আমের প্রশংসা করেছিলেন; মর্টনের গ্রন্থেও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আমেরিকায় আম ছড়িয়ে দেওয়ায় ড. পোপেনোর বড় ভূমিকার কথা আছে।

আম কীভাবে পৃথিবীতে ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে লেখার কয়েকটি সাল অন্য সূত্রের সঙ্গে মেলেনি, তাই এখানে মর্টনের গ্রন্থ ও উইকিপিডিয়ার বিবরণ অনুসরণ করা হলো। মর্টনের ভাষ্যে, খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ-পঞ্চম শতকে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিয়ে যান, দশম শতকের দিকে পারস্যের লোকেরা আম নিয়ে যান পূর্ব আফ্রিকায়। চতুর্দশ শতকে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা সোমালিয়ার মোগাদিশুতে আম দেখার কথা লিখেছেন। পর্তুগিজরা সপ্তদশ শতকের শুরুতে পশ্চিম আফ্রিকায় এবং পরে ব্রাজিলে আম নিয়ে যায়। ১৭৪২ সালের মধ্যে আম পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বার্বাডোজে, ১৭৮২ সালে জ্যামাইকায় এবং উনিশ শতকের শুরুতে মেক্সিকোতে। ১৮২৪ সালে ম্যানিলা থেকে হাওয়াইয়ে আমের চারা যায়, আর ১৮৬২-৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আমের বীজ পৌঁছায়। আলেকজান্ডারের সিন্ধু উপত্যকায় আম খাওয়া, ইংল্যান্ডে ১৬৯০ সালে কাচের ঘরে আমচাষ বা ১৭৭৪ সালে মেক্সিকোতে আম পৌঁছানোর যে বিবরণ লেখায় ছিল, তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে মেলেনি বলে বাদ দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীর একটি আমগাছ। ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
রাজশাহীর একটি আমগাছ। ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

দেশি জাত থেকে বারির উদ্ভাবিত আম


বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের উৎকৃষ্ট আমের জাত হিসেবে ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাত, আশ্বিনা, কিষাণভোগ, কুয়াপাহাড়ি, লতা বোম্বাই, ফোরিয়া, বোম্বাই, কোহিতুর, লক্ষ্মণভোগ, মোহনভোগ ও মিছরিভোগের নাম দিয়েছে। আম প্রধানত রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুরে হয় বলে সেখানে উল্লেখ আছে। আমের সেরা ব্যবহার তাজা ফল হিসেবে, তবে জ্যাম, জেলি, স্কোয়াশ, চাটনি ও আচারেও প্রচুর আম লাগে। লেখক দেশি জাতের মধ্যে সূর্যপুরী, কুয়াপাহাড়ি ও বোম্বাইকে নাবী, মোহনভোগকে মধ্য-মৌসুমি এবং লতা বোম্বাইকে ছোট গাছে ছোট ফলের মধ্য-মৌসুমি জাত বলেছেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উচ্চফলনশীল আমের ১১টি জাত উদ্ভাবন করেছে বলে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ আছে। এর মধ্যে বারি আম-৩ মাঠপর্যায়ে 'আম্রপালি' নামে পরিচিত; গাছ খাটো, প্রতিবছর নিয়মিত ফল দেয়, থোকায় ছোট আকারের ফল ধরে এবং ফল অনেক দিন ভালো থাকে। বারি আম-৪ দেশি আশ্বিনা জাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এম৩৮৯৬ জাতের একটি সংকরের মিলনে পাওয়া, এই আম জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাজারে থাকে। গবেষণাপত্রটি জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম্রপালি ও বারি আম-৪ এখন সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া সংকর জাত, কারণ গাছ বেশি উঁচু হয় না এবং কম জায়গা লাগে। লেখায় বারি আম-২-কে আম্রপালি বলা হয়েছিল; সূত্র অনুযায়ী আম্রপালি হলো বারি আম-৩, তাই তা সংশোধন করা হয়েছে। লেখার 'দেশে প্রায় হাজার জাতের আম আছে' তথ্যটি কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে মেলেনি বলে রাখা হয়নি।

২০২৬ মৌসুমে আমের উৎপাদন ও ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার


লেখাটি প্রকাশের আগে, ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল, বাসস জানায় যে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ মৌসুমে দেশে রেকর্ড আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে, উৎপাদন ২৭ লাখ টন ছাড়াতে পারে। ডিএইর রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, এ মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। ডিএইর তথ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে আম উৎপাদন হয়েছিল ২৬ লাখ ৭০ হাজার টন, রপ্তানি হয়েছিল রেকর্ড ২ হাজার ১৯৪ টন, ৩৮টি দেশে। আগের বছর প্রথমবার চীনে আম রপ্তানি হয়েছিল। প্রধান উৎপাদক জেলা হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও দিনাজপুরের নাম আসে।

অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে জেলা প্রশাসনগুলো আম পাড়ার সময়সূচি বা 'ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার' ঘোষণা করে। প্রথম আলোর ২০২৬ সালের ১০ মে প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর ক্যালেন্ডারে আম পাড়ার তারিখগুলো ছিল এরকম:

  • ১৫ মে: সব ধরনের গুটি আম
  • ২২ মে: গোপালভোগ
  • ২৫ মে: রানিপসন্দ ও লক্ষ্মণভোগ
  • ৩০ মে: হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি
  • ১০ জুন: ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ল্যাংড়া
  • ১৫ জুন: আম্রপালি ও ফজলি
  • ৫ জুলাই: বারি আম-৪; ১০ জুলাই: আশ্বিনা; ১৫ জুলাই: গৌড়মতি
  • কাটিমন ও বারি আম-১১: সারা বছর

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম সেদিন বলেন, অপরিপক্ব আম গাছ থেকে নামিয়ে বাজারে নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নওগাঁয় আম পাড়া শুরুর তারিখ ছিল ২২ মে, জিআই স্বীকৃতি পাওয়া নাক ফজলি ৫ জুন থেকে। সেখানে ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৬১ টন এবং প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার আম-বাণিজ্যের আশা করেছিল কৃষি বিভাগ। সাতক্ষীরায় আম পাড়া শুরু হয় ৫ মে, চুয়াডাঙ্গায় ১৩ মে।

দেশের সবচেয়ে বড় আম উৎপাদক জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবশ্য ২০২৬ সালে কোনো ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার করা হয়নি। বাসসের ১৬ মে প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জানান, ১১ মের সভায় চাষিদের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে গাছে আম পাকলেই বাজারে বিক্রি করা যাবে। জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ টন। একই প্রতিবেদনে শিবগঞ্জের এক চাষি অভিযোগ করেন, ৪০ কেজিতে মণ হওয়ার কথা থাকলেও জায়গাভেদে ৫০ থেকে ৫৫ কেজিতে এক মণ দিতে হয়; এই অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা জানান।

কাঁঠাল: জাতীয় ফল


লেখক কাঁঠালকে জাতীয় ফল ও 'গরিবের ফল' বলে বর্ণনা করেছেন, যা কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসেবে খাওয়া হয়, পাকা কাঁঠাল দুধ-ভাতের সঙ্গে বা আলাদাভাবে খাওয়া যায়, আর বীজ সেঁকে, সেদ্ধ করে বা তরকারিতে খাওয়া হয়। লেখায় কাঁঠালকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফল বলা হয়েছিল; বাংলাপিডিয়ার ভাষায় কাঁঠাল 'জানা সবচেয়ে বড় ভোজ্য ফলগুলোর একটি', তাই সেভাবেই লেখা হলো। কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus heterophyllus।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, কাঁঠালগাছে ফুল আসে ডিসেম্বর থেকে মার্চে, ফল পাকে মে থেকে আগস্টে। দেশে কাঁঠালের তিনটি প্রধান ধরন: খাজা, যার কোষ শক্ত; গালা বা গলা, যার কোষ খুব রসালো ও নরম; আর দোরসা, যার কোষ মাঝারি শক্ত ও রসালো। কাঁচা কাঁঠালের শাঁস সবজি হিসেবে খাওয়া হয়, বড় বীজ সেদ্ধ বা ভেজে নানা রান্নায় লাগে, আর কাঁঠালগাছের হলুদ কাঠ মূল্যবান, তা থেকে হলুদ রংও হয়।

প্রথম আলো ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, কাঁঠাল উৎপাদনে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ৫৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ১৮ লাখ ৩০ হাজার ১৩১ টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। বাণিজ্যিক উৎপাদনে শীর্ষে গাজীপুর, বান্দরবান, রাঙামাটি, টাঙ্গাইল ও খাগড়াছড়ি। ডিএইর উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. মইনুল হক বলেন, লালচে ও উঁচু মাটিতে কাঁঠাল ভালো হয়। একই অর্থবছরে বাংলাদেশ কাঁঠাল রপ্তানি করেছিল মাত্র ২ হাজার ৮১ টন। বারির ফল বিভাগের পরিচালক মশিউর রহমান জানান, দেশে কাঁঠালের ছয়টি জাত আছে এবং সারা বছর কাঁঠাল পাওয়ার মতো জাতও উদ্ভাবন হয়েছে। জাগো নিউজের নভেম্বর ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে কাঁঠাল উৎপাদন ছিল ৩২ লাখ ১২ হাজার টন এবং জমি ছিল ৮২ হাজার ৬৯১ হেক্টর; মইনুল হকের মতে, কাঁঠালের বাণিজ্যিক চাষ না হওয়ায় উৎপাদন কমছে।

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

জাম: পাকা জামের মধুর রস


জামের কথায় লেখক পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের পরিচিত পঙ্‌ক্তি স্মরণ করেছেন: 'পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ'। সমকালের ২০২২ সালের ফিচারেও কবিতাটির এই অংশ উদ্ধৃত হয়েছিল: 'মামার বাড়ি ঝড়ের দিনে আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ।' লেখকের ভাষ্যে, জাম সাধারণত দুই রকম: বড় আকারের কালো জাম আর ছোট বুনো জাম। তাঁর মতে কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, দিনাজপুর ও পাবনায় জাম বেশি পাওয়া যায়।

জামের বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium cumini, ইংরেজিতে একে জাভা প্লাম, ব্ল্যাক প্লাম বা জামুন বলা হয়। গাছটি ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আদি চিরসবুজ গাছ; বাংলাদেশও এর আদি এলাকার মধ্যে পড়ে। গাছটি ১০০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে এবং ১০০ বছরের বেশি বাঁচে। মার্চ-এপ্রিলে ফুল আসে, মে-জুনে ফল হয়। পাকার সময় ফলের রং সবুজ থেকে গোলাপি, তারপর গাঢ় লাল হয়ে কালো হয়; স্বাদে মিষ্টি, হালকা টক ও কষা, খেলে জিভ বেগুনি হয়ে যায়। জাম কাঁচা খাওয়া হয়, জ্যাম, সস, জুস ও শরবতও হয়; পানিরোধী কাঠ আসবাব ও রেলের স্লিপারে ব্যবহৃত হয়েছে।

ডিএইর তথ্য উদ্ধৃত করে জাগো নিউজ জানিয়েছিল, ২০১২-১৩ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে দেশে জামের উৎপাদন ৩৭ হাজার টন থেকে বেড়ে ৪৫ হাজার টন হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও পুরোনো জামগাছ কমে যাওয়ার খবরও আছে। আজকের পত্রিকা ২০২২ সালের ১৬ জুন মানিকগঞ্জের ঘিওর থেকে জানায়, রসে ভরা কালো জামের জন্য এলাকাটি একসময় বিখ্যাত ছিল, কিন্তু নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে জামগাছ আর আগের মতো চোখে পড়ে না, বাজারে জাম দামি ফলের তালিকায় উঠেছে।

পাকা কালো জাম (Syzygium cumini); ছবিটি মোজাম্বিকের পেম্বায় তোলা। ছবি: Ton Rulkens / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
পাকা কালো জাম (Syzygium cumini); ছবিটি মোজাম্বিকের পেম্বায় তোলা। ছবি: Ton Rulkens / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

লিচু: দিনাজপুরের খ্যাতি


লেখক লিচুকে জ্যৈষ্ঠের আরেক রসালো ফল বলেছেন, যার রসালো সাদা শাঁসের ভেতরে ছোট খয়েরি বীজ। লিচু বিক্রি হয় গুনে, ৫০ বা ১০০টির তোড়ায়, দাম ঠিক হয় শ' হিসেবে, আর জাতভেদে দাম ও স্বাদ আলাদা। দিনাজপুরের লিচুর খ্যাতির কথাও তিনি বলেছেন। লেখায় যে এলাকার নাম 'মাছুমপুর' ছাপা হয়েছিল, বাসসের প্রতিবেদনে দিনাজপুর সদরের উন্নত মানের লিচুর এলাকার তালিকায় তা 'মাছিমপুর' নামে আছে।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, লিচুর বৈজ্ঞানিক নাম Litchi chinensis, আদি নিবাস চীন; সপ্তদশ শতকের শেষে এটি মিয়ানমার ও ভারতে আসে। বাংলাদেশে প্রধানত রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জে লিচু হয়। লিচুর খাওয়ার অংশ পুরো ফলের ওজনের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ। ডিএইর তথ্যে, ২০১২-১৩ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে লিচুর উৎপাদন ১ লাখ ১৯ হাজার টন থেকে বেড়ে ২ লাখ ৩০ হাজার টন হয়েছে।

২০২৬ সালের মৌসুমে দিনাজপুরের চিত্র পাওয়া যায় লেখাটি প্রকাশের আগের কয়েকটি প্রতিবেদনে। আজকের পত্রিকা ২৪ মে জানায়, জেলার ১৩টি উপজেলাতেই কমবেশি লিচু হয়, তবে সদর, বিরল ও চিরিরবন্দরে উৎপাদন বেশি। চিরিরবন্দরে ৫৬৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়, উৎপাদনের লক্ষ্য ৬ হাজার ৬৮০ টন; উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহারা সুলতানা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম হতে পারে। সেখানে মাদ্রাজি, বেদানা, হাড়িয়া বেদানা, বোম্বাই, চায়না-থ্রি, চায়না-টু, কাঁঠালি ও মোজাফফরি জাতের লিচু হয়।

বাসস ১ জুন দিনাজপুর থেকে জানায়, জিআই স্বীকৃতি পাওয়া বেদানাসহ সব ধরনের লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে, কালিতলা ও পুলহাটের পাইকারি বাজার জমজমাট। সেদিন প্রতি ১০০টি মাদ্রাজি লিচু বিক্রি হচ্ছিল ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকায়, বেদানা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় এবং চায়না-৩ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। দিনাজপুরের লিচুর প্রায় ২০ শতাংশ জেলার চাহিদা মেটায়, বাকি ৮০ শতাংশ যায় অন্য জেলায়। হর্টিকালচার বিভাগের উপপরিচালক মো. এজামুল হক জানান, জেলায় ৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে লিচুবাগান আছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৯ হাজার ৫৫০ টন, আর চাষিরা ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি করতে পারেন বলে আশা। ডিএইর আঞ্চলিক অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, আগের বছর দিনাজপুরের বেদানা লিচু ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।

দিনাজপুরের লিচু। ছবি: Sd Raihan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
দিনাজপুরের লিচু। ছবি: Sd Raihan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

রাসায়নিক নিয়ে লেখকের সতর্কতা


লেখার শেষ অংশে ড. ফোরকান আলী ফলকে মহান আল্লাহর নিয়ামত বলে উল্লেখ করেন, যা রান্না ছাড়াই খাওয়া যায়, এবং পাঠকদের এ মৌসুমে প্রচুর ফল খাওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত পাকানো ও চকচকে দেখানোর জন্য ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশান। তাঁর আহ্বান, এমন ব্যবসায়ীদের এড়িয়ে চলা এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সহযোগিতা করা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

সে মৌসুমে প্রশাসনও রাসায়নিক নিয়ে সতর্ক ছিল। ১০ মে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আম পাকানো, সংরক্ষণ বা বাজারজাতকরণে কোনো রাসায়নিক মেশানো যাবে না এবং ভেজাল ঠেকাতে প্রশাসন বিশেষ নজরদারি রাখবে। ডিএইর নওগাঁর উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, ভোক্তাদের পরিপক্ব ও ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত আম খাওয়াতেই আম সংগ্রহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরায় সময়ের আগে আম পাড়া ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত, চেকপোস্ট ও তদারকি দল কাজ করবে বলে জানানো হয়েছিল।

ফল পাকানোর রাসায়নিক নিয়ে বিতর্ক অবশ্য পুরোনো। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২০১৮ সালের ২৪ মে এক সম্পাদকীয়তে জানায়, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) চেয়ারম্যান একটি দৈনিককে বলেছিলেন, কম ঘনত্বে ইথোফন প্রয়োগ বৈধ, তবে কার্বাইড ব্যবহার অবৈধ। পত্রিকাটি তখন লিখেছিল, কোন রাসায়নিক কতটা ব্যবহার হয়েছে তা পরীক্ষা না করেই অনেক সময় ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাই বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার।

ছবি: Mostafizur Rahman Sawon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (ড. মো. ফোরকান আলীর লেখা, ৬ জুন ২০২৬), বাসস, প্রথম আলো, আজকের পত্রিকা, সমকাল, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, বাংলাপিডিয়া, পারডু বিশ্ববিদ্যালয় (জুলিয়া মর্টন, ফ্রুটস অব ওয়ার্ম ক্লাইমেটস), এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবাউব জার্নাল, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)