দেশের আবাদি জমির মাটিতে অম্লতা বাড়ছে এবং এর ফলে কমছে ফসলের উৎপাদন। ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসে এ সতর্কতা দেন দেশের মৃত্তিকাবিজ্ঞানীরা। সেদিন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দৈনিক আজকের পত্রিকা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) বিশেষজ্ঞদের বরাতে জানায়, একদিকে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছেন না, অন্যদিকে তাঁদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। মাটির অম্লতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে সংকট আরও বাড়বে এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেন তাঁরা।
বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসে মৃত্তিকাবিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা
অম্ল মাটি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মো. নাজমুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, গঙ্গা অববাহিকা ছাড়া দেশের সব অঞ্চলের মাটিতে অম্লতার পরিমাণ বাড়ছে। তাঁর ভাষায়, ‘অম্লতা যত বাড়বে, ফসলের উৎপাদনও তত কমবে। মাটিতে অম্লতার পরিমাণ বেশি হলে গম, ভুট্টা, আলু, সবজি, ডালসহ রবি শস্যে কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলবে না।’ বাংলাপিডিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, রবি মৌসুম শুরু হয় নভেম্বরে, যখন দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বিদায় নেয়, আর চলে মার্চের শেষ পর্যন্ত। এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকে, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি থাকে ঠান্ডা। এই মৌসুমের প্রধান ফসলের মধ্যে আছে গম, ভুট্টা, যব ও বোরো ধান; আলু ও মিষ্টি আলু; সরিষা, তিল ও চীনাবাদাম; ছোলা, মসুর ও খেসারি; এবং বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, টমেটোর মতো শীতের সবজি।
এসআরডিআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অম্ল মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. নূরুল ইসলাম পত্রিকাটিকে বলেন, এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে জমিতে দিন দিন অম্লতার পরিমাণ বাড়বে। সার ব্যবহারে কৃষকের খরচ বাড়বে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলবে না। প্রতিকার হিসেবে তিনি ডলোচুন ও জৈব পদার্থ ব্যবহারের কথা বলেন, যার বিস্তারিত এই প্রতিবেদনের শেষ অংশে রয়েছে।
সতর্কবার্তাটি এসেছিল সরকারের নিজস্ব মৃত্তিকা জরিপ সংস্থা থেকে। এসআরডিআই দেশের মাটির নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও মানচিত্র তৈরির কাজ করে, আর এর অম্ল মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি জাতীয় জরিপগুলোর মধ্যে কৃষিজমির মাটির বিক্রিয়া কীভাবে বদলেছে, তার হিসাব রাখে। বিজ্ঞানীরা যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেন, তা এই কর্মসূচিরই তথ্য।
বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস ও পরিসংখ্যানের পেছনের প্রতিষ্ঠান
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ মাটির গুরুত্বের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ এবং মাটিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার পক্ষে কথা বলার জন্য প্রতিবছর ৫ ডিসেম্বর বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালিত হয়। মাটির জন্য একটি আন্তর্জাতিক দিবসের সুপারিশ প্রথম করে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব সয়েল সায়েন্সেস, ২০০২ সালে। ২০১৩ সালের জুনে এফএও সম্মেলন দিবসটি অনুমোদন করে, আর ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১৪ সালের ৫ ডিসেম্বরকে প্রথম আনুষ্ঠানিক বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস ঘোষণা করে। তারিখটি বেছে নেওয়া হয় থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের আনুষ্ঠানিক জন্মদিন হিসেবে, যিনি আয়োজনটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছিলেন।
২০২৪ সালের জন্য এফএও ও এর গ্লোবাল সয়েল পার্টনারশিপ প্রতিপাদ্য ঠিক করে ‘কেয়ারিং ফর সয়েলস: মেজার, মনিটর, ম্যানেজ’, অর্থাৎ মাটির যত্ন: পরিমাপ, পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা। এফএও জানায়, এই প্রতিপাদ্য মাটির বৈশিষ্ট্য বোঝা এবং খাদ্যনিরাপত্তার জন্য টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নিতে নির্ভুল মৃত্তিকা-তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে। ২০২৪ সালের আয়োজন ছিল বিশ্বব্যাপী দিবসটির দশম উদ্যাপন, আর মূল অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল থাইল্যান্ড, যা এফএও সদর দপ্তরের বাইরে প্রথম আনুষ্ঠানিক আয়োজন। প্রতিপাদ্যটি বাংলাদেশের সতর্কবার্তার সঙ্গে মিলে যায়: অম্লতা নিয়ে উদ্বেগের ভিত্তি ছিল দুই দশকের বেশি সময় ধরে সারা দেশ থেকে সংগ্রহ করা মাটির নমুনার ওপর এসআরডিআইয়ের পরিমাপ।
এসআরডিআই কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি সংযুক্ত দপ্তর। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালে এফএও ও ইউএনডিপির সহায়তায় দেশের মাটি ও ভূমিসম্পদের দ্রুত তালিকা তৈরির লক্ষ্যে তৎকালীন পাকিস্তানের সয়েল সার্ভে প্রজেক্টের পূর্বাঞ্চলীয় পরিদপ্তর হিসেবে এর যাত্রা শুরু। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বন ছাড়া সারা দেশের অনুসন্ধানমূলক মৃত্তিকা জরিপ সম্পন্ন হয়। ১৯৮২-৮৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান নাম পায়, আর ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অ্যানালিটিক্যাল সার্ভিসেস ডিভিশন ও এর চারটি আঞ্চলিক গবেষণাগার এর সঙ্গে একীভূত হয়।
দেশের মাটি ও ভূমিসম্পদের তালিকা তৈরি, সম্ভাবনা অনুযায়ী সেগুলোর শ্রেণিবিন্যাস, মাটি, ভূমি, পানি ও কৃষি-জলবায়ুর বিস্তারিত তথ্যভান্ডার গড়া এবং সমস্যাগ্রস্ত মাটি চিহ্নিত ও ব্যবস্থাপনা করা প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে। বাংলাপিডিয়া এর আঞ্চলিক কার্যালয় ও গবেষণাগার, সার পরীক্ষাগার, জেলা কার্যালয় ও দুটি গবেষণাকেন্দ্রের পাশাপাশি ১২টি ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষাগারের কথা উল্লেখ করেছে, যেগুলো খেতে গিয়ে মাটি পরীক্ষা করে কৃষকদের সুষম সারের সুপারিশ দেয়। কৃষি সম্প্রসারণ ও গবেষণাকর্মীদের জন্য প্রতিটি উপজেলার মাটি ও কৃষি উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে সহজ নির্দেশিকাও তৈরি করে এসআরডিআই।
এসআরডিআইয়ের হিসাবে অম্ল জমির বিস্তার
আজকের পত্রিকায় উদ্ধৃত এসআরডিআইয়ের অম্ল মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির তথ্য অনুসারে, প্রতিটি জরিপে দেশের আবাদযোগ্য জমিতে অধিক থেকে অত্যধিক অম্ল জমির অংশ বেড়েছে। ১৯৯৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। ২০১০ সালে তা বেড়ে হয় ৪১ দশমিক ২৩ শতাংশ, আর ২০২০ সালে দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ৬৭ শতাংশে।
এসআরডিআইয়ের গবেষণার তথ্যমতে, ২০২০ সালের হিসাবে বাংলাদেশে মোট ফসলি জমির পরিমাণ প্রায় ৮৫ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার হেক্টর জমির মাটি অত্যধিক অম্ল (পিএইচ মান ৪.৫-এর নিচে) এবং প্রায় ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর জমির মাটি অধিক অম্ল (পিএইচ মান ৪.৫ থেকে ৫.৫)। অর্থাৎ প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট আবাদি জমির প্রায় অর্ধেকের, ৪৫ দশমিক ৬৭ শতাংশের মাটি অধিক থেকে অত্যধিক অম্ল। ২০২০ সালের এই হেক্টরভিত্তিক হিসাব এক বছরেরও বেশি আগে, ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর, ডেইলি অবজারভারে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তুলে ধরেছিলেন এসআরডিআইয়ের ফরিদপুর আঞ্চলিক গবেষণাগারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. নূরুল হুদা আল মামুন।
অম্ল মাটি থেকে সবার আগে যে দুটি পুষ্টি উপাদান হারিয়ে যায়, সেগুলো নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির ২০২০ সালের তথ্য দেন আল মামুন। তিনি লেখেন, ২০২০ সালের সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ২ দশমিক ১০ মিলিয়ন হেক্টর আবাদি জমিতে ক্যালসিয়ামের মাত্রা খুব কম থেকে কম, যা দেশের মোট আবাদি জমির ২৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ; আর প্রায় ১ দশমিক ০৫ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা খুব কম থেকে কম, যা ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ। তিনি আরও লেখেন, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের মাটিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ অন্যান্য ক্ষারীয় উপাদানের ঘাটতি রয়েছে, যা মাটির অম্লতা বাড়ার অন্যতম কারণ।
মাটির পিএইচ কী বোঝায়
গবেষকেরা মাটির অম্লতা মাপেন পিএইচ দিয়ে। মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের শক্তিকেই পিএইচ বলা হয়, যা ১ থেকে ১৪-এর মাপকাঠিতে প্রকাশ করা হয়। হাইড্রোজেন আয়ন বেশি থাকলে পিএইচ কম হয় এবং মাটি অম্লীয় হয়; পিএইচ ৭-এর কাছাকাছি হলে মাটি নিরপেক্ষ, আর ৭-এর বেশি হলে ক্ষারীয়। আজকের পত্রিকা ও বাংলাপিডিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী এসআরডিআই মাটিকে এভাবে ভাগ করে:
- অত্যধিক অম্ল: পিএইচ ৪.৫-এর নিচে
- অধিক অম্ল: পিএইচ ৪.৫ থেকে ৫.৫
- মৃদু অম্ল: পিএইচ ৫.৬ থেকে ৬.৫
- নিরপেক্ষ: পিএইচ ৬.৬ থেকে ৭.৩
- মৃদু ক্ষারীয়: পিএইচ ৭.৪ থেকে ৮.৪
গবেষকদের তথ্যমতে, মাটির অম্লত্ব কিংবা ক্ষারীয় অবস্থার ওপর ফসলের বৃদ্ধি ও ফলন অনেকাংশে নির্ভর করে, আর ফসলের জন্য মাটির আদর্শ পিএইচ ধরা হয় ৬ দশমিক ৫। ২০২৩ সালের অক্টোবরের নিবন্ধে এসআরডিআইয়ের ওই বিজ্ঞানী ব্যাখ্যা করেন, মাটির অম্লতা ও ক্ষারত্বের ভারসাম্য না থাকলে মাটিতে যথেষ্ট পুষ্টি উপাদান থাকলেও গাছ তা সঠিক পরিমাণে নিতে পারে না; তাই কোনো পুষ্টির ঘাটতির লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমেই দেখতে হবে মাটির পিএইচ ঠিক আছে কি না। তিনি লেখেন, মাটির পিএইচ ৫.৬ থেকে ৭.৩-এর মধ্যে, অর্থাৎ মৃদু অম্ল থেকে মৃদু ক্ষারীয় হলে পুষ্টি উপাদান ফসলের কাছে সহজলভ্য হয়, আর এই মাত্রা মাটির অণুজীবের জন্যও অনুকূল, যারা ফসলের প্রয়োজনীয় পুষ্টির প্রাপ্যতা বাড়ায়।
বাংলাপিডিয়ার মৃত্তিকা উর্বরতা নিবন্ধে বাংলাদেশের মাটির গড় পিএইচ ধরা হয়েছে পিএইচ মাপকাঠির অম্লীয় দিকে, ৫.৫ থেকে ৬.৫-এর মধ্যে। গাঙ্গেয় পলিমাটি, বিশেষ করে চুনযুক্ত মাটির পিএইচ ৭.৫-এর বেশি, কখনো ৮.৩ পর্যন্ত পৌঁছায়, কারণ এতে মুক্ত কার্বনেট থাকে। মালভূমি, উঁচু জমি ও পাহাড়ের মাটি সাধারণত অম্লীয়। জ্ঞানকোষটি জানায়, নিচু জমির ধান মাটির মূল বিক্রিয়ায় খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, কারণ পানিতে ডুবে থাকলে মাটির পিএইচ ৬.৫ থেকে ৭.৫-এর মধ্যে চলে আসে। বিশেষজ্ঞরা যে ফসলগুলোর কথা বলেছেন, গম, ভুট্টা, আলু, সবজি ও ডাল, সেগুলো চাষ হয় শুষ্ক রবি মৌসুমে।

মাটি কেন অম্লীয় হয়ে উঠছে
এসআরডিআইয়ের কর্মসূচিতে মাটিতে অম্লতা বাড়ার যে কারণগুলো বলা হয়েছে, সেগুলো হলো জলবায়ু পরিবর্তন, ইউরিয়া সারের অধিক ব্যবহার, ক্যালসিয়ামসহ ক্ষারীয় উপাদান কমে যাওয়া, একই জমিতে বছরে বহুবার চাষাবাদ, এবং ফসল তোলার পর গাছের অবশিষ্টাংশ খেতের মাটির সঙ্গে মিশতে না দিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা।
ইউরিয়ার বিষয়টির পেছনের রসায়ন ব্যাখ্যা করেছে বাংলাপিডিয়া। জমিতে ইউরিয়া দিলে শুরুতে মাটির পিএইচ সামান্য বাড়ে, কিন্তু পরের ধাপে ইউরিয়া ভেঙে তৈরি হওয়া অ্যামোনিয়াম জারিত হয়ে নাইট্রেটে পরিণত হয় এবং সেই সঙ্গে হাইড্রোজেন আয়ন তৈরি হয়, ফলে মাটি আরও অম্লীয় হয়। বাংলাদেশের মতো আর্দ্র অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবেও অম্ল মাটি তৈরি হয়, কারণ বৃষ্টির পানি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ ক্ষারীয় উপাদান উপরিস্তর থেকে নিচে ধুয়ে নিয়ে যায়; মাটির অম্লতার জন্য মূলত দায়ী হাইড্রোজেন ও অ্যালুমিনিয়াম আয়ন। জ্ঞানকোষটি জানায়, নদীবাহিত পলি প্রথম জমার সময় সাধারণত প্রায় নিরপেক্ষ থেকে মাঝারি ক্ষারীয় থাকে; কিন্তু নতুন পলি জমা অব্যাহত না থাকলে চুনবিহীন পলির উপরিস্তর সাধারণত প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে মাঝারি অম্লীয় হয়ে যায়, আর চুনযুক্ত উপরিস্তর তার চুন হারিয়ে কখনো অম্লীয়ও হয়ে পড়ে।
২০২৩ সালের নিবন্ধে এসআরডিআইয়ের বিজ্ঞানী অম্লতা বাড়ার চারটি পথের কথা লেখেন: অম্লবৃষ্টি, যার পানির পিএইচ প্রায় ৫.৭; শিকড়ের শ্বসনে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, যা মাটিতে কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে; গাছের অসম হারে খনিজ আয়ন গ্রহণ; এবং রাসায়নিক সার, যার অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে রূপান্তরের সময় হাইড্রোজেন আয়ন ছাড়ে। দেশে নাইট্রোজেন সারের ব্যবহারের চিত্রও দিয়েছে বাংলাপিডিয়া: ২০০০-০১ সালে ইউরিয়া বিক্রি হয়েছিল ২,১২১ হাজার টন, আর ২০১০-১১ সালে ২,৬৫৭ হাজার টন।
২০২৪ সালের ১০ মার্চ রাজশাহীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘অম্লীয় মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা, যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবাদি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, নদী শুকিয়ে যাওয়া এবং মাটির নিচের পানির স্তর নেমে যাওয়াকেও ক্ষতি বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অম্লতা যেভাবে ফলন কমায়
এসআরডিআইয়ের গবেষণা অনুযায়ী, অধিক অম্ল মাটিতে ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও মলিবডেনামের স্বল্পতা এবং অ্যালুমিনিয়াম, আয়রন ও ম্যাঙ্গানিজের আধিক্য থাকায় ফসলের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং ফলন কমে যায়। এফএওর বর্ণনাও একই: বছরের বেশির ভাগ সময় যে মাটির পিএইচ ৫.৫-এর নিচে থাকে, সেটিই অম্ল মাটি, আর এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিষাক্ততা, সবচেয়ে বেশি অ্যালুমিনিয়ামের, এবং মলিবডেনামের মতো উপাদানের ঘাটতি, পাশাপাশি গাছের বৃদ্ধি সীমিত করার আরও নানা অবস্থা।
ফসফরাস এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ। বাংলাপিডিয়া জানায়, ফসফরাসের প্রাপ্যতা পিএইচের ওপর নির্ভর করে, আর বাংলাদেশের মাটিতে প্রাপ্য ফসফরাস কম থেকে মাঝারি। দেশের প্রায় ৬ শতাংশ জমিতে ফসফরাসের তীব্র ঘাটতি, ৫০ শতাংশে প্রবল ঘাটতি এবং ৪৪ শতাংশে মাঝারি ঘাটতি রয়েছে। জ্ঞানকোষটি আরও জানায়, প্রবল অম্লীয় মধুপুর গড়ের মাটি মূলত ফসফেট আটকে রাখে, অর্থাৎ ফসফেট গাছের নাগালের বাইরে চলে যায়, আর এ মাটিতে পটাশিয়াম, গন্ধক ও ক্যালসিয়ামও কম।
বাংলাপিডিয়া বলছে, অম্লতা মাটির গঠন, মাটির পানি ও বাতাসের ভারসাম্য এবং জৈব পদার্থ ভাঙার কাজে নিয়োজিত অণুজীবের কার্যক্রমকেও প্রভাবিত করে। কৃষকের জন্য এর ফল সেটাই, যা ড. মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন: একই জমির জন্য বেশি সার কেনা, অথচ জমি যতটা দিতে পারত, ফসল তার চেয়ে কম।
যেসব অঞ্চলে অম্লতা সবচেয়ে বেশি
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল এবং বরেন্দ্র ও মধুপুর গড় অঞ্চলের অধিকাংশ মাটি অধিক থেকে অত্যধিক অম্ল, আর এসব অঞ্চলের কৃষিজমি থেকে ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি-পরিবেশ অঞ্চলভিত্তিক মাটির উর্বরতা নিয়ে বাংলাপিডিয়ার বর্ণনাও এই চিত্রের সঙ্গে মেলে:
- পুরাতন হিমালয় পাদভূমি: উপরিস্তরের মাটি প্রবল অম্লীয় এবং নিচের স্তর মাঝারি অম্লীয়; নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, গন্ধক, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও বোরন দ্রুত ধুয়ে যায়।
- উঁচু বরেন্দ্র ভূমি: অম্লীয় থেকে প্রবল অম্লীয়, জৈব পদার্থ কম এবং সাধারণ উর্বরতা নিম্ন; উত্তর-পূর্ব বরেন্দ্র ভূমি প্রবল অম্লীয়।
- মধুপুর গড়: প্রবল অম্লীয়, জৈব পদার্থ কম, মাটি ফসফেট আটকে রাখে এবং পটাশিয়াম, গন্ধক ও ক্যালসিয়াম কম।
- উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়: অম্লীয়, জৈব পদার্থ কম এবং সাধারণ উর্বরতা নিম্ন।
- আখাউড়া সোপান: প্রবল অম্লীয়, জৈব পদার্থ কম।
- সিলেট অববাহিকা: মূলত অম্লীয়; উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় পাদভূমি মৃদু থেকে প্রবল অম্লীয়।
বরেন্দ্র ভূমি বঙ্গ অববাহিকার সবচেয়ে বড় প্লাইস্টোসিন ভূমি-একক, যার আয়তন প্রায় ৭ হাজার ৭৭০ বর্গকিলোমিটার। বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট ও নওগাঁর বেশির ভাগ অংশজুড়ে এর বিস্তার। বাংলাপিডিয়া একে খরাপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেখানে গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ১ হাজার ৯৭১ মিলিমিটার, যার বেশির ভাগ হয় বর্ষায়। জামালপুরের দক্ষিণ থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত ৪ হাজার ২৪৪ বর্গকিলোমিটারের মধুপুর গড়ের মাটি মূলত মধুপুর কাদার ওপর গড়ে উঠেছে, যা পুষ্টিতে দরিদ্র, কিছুটা অম্লীয় এবং লাল বা বাদামি রঙের।
বিশেষজ্ঞরা ব্যতিক্রম হিসেবে গঙ্গা অববাহিকার কথা বলেছেন। বাংলাপিডিয়া উঁচু গঙ্গা নদী প্লাবনভূমিকে মৃদু ক্ষারীয় এবং সক্রিয় গঙ্গা প্লাবনভূমিকেও মৃদু ক্ষারীয় হিসেবে বর্ণনা করেছে; চুনযুক্ত গাঙ্গেয় মাটির পিএইচ ৮.৩ পর্যন্ত উঠতে পারে। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী চা চাষ শুধু সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলেই সীমিত, আর এই অম্লীয় পাহাড়ি মাটিতে চায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা: জ্ঞানকোষটি জানায়, যেসব মাটির পিএইচ ৪.৫-এর নিচে, সেখানে চা ছাড়া অন্য ফসলের জন্য চুন প্রয়োগ প্রয়োজন, আর এ অবস্থা বেশি দেখা যায় অ্যাসিড সালফেট মাটি ও পাহাড়ি মাটিতে।

২০২৩ ও ২০২৪ সালের আগের সতর্কবার্তা
বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসের এই সতর্কতার আগের মাসগুলোতেও এসআরডিআইয়ের বিজ্ঞানীরা একই বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর ডেইলি অবজারভারের নিবন্ধে আল মামুন মাটির অম্লতাকে ফসল উৎপাদনের নানা সমস্যার একটি বলে উল্লেখ করেন এবং লেখেন, রাসায়নিক সারের অপরিকল্পিত ব্যবহারে অম্লতা বাড়ছে। কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে উত্তরাঞ্চল, বরেন্দ্র, মধুপুর ও পাহাড়ি অঞ্চলের মাটির অত্যধিক ও অধিক অম্লতা কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও লেখেন তিনি।
২০২৪ সালের ১০ মার্চ রাজশাহীর সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এসআরডিআইয়ের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আফম মনজুরুল হক। সেখানে বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ৪৬ শতাংশেরও বেশি জমিতে অম্লত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রাজশাহী বিভাগের কয়েকটি স্থানের মাটিতে গবেষণা চালিয়ে ডলোচুন প্রয়োগের মাধ্যমে অম্লত্ব দূরীকরণে সফলতা পেয়েছেন। তবে বক্তারা জোর দেন, শুধু ডলোচুন যথেষ্ট নয়: নিয়মানুসারে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, জৈব ও কেঁচো সারের ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিও জরুরি।
২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস রাজশাহী থেকে জানায়, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জন্য এসআরডিআইয়ের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় দুই দিনের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। সেখানে মৃত্তিকা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, উঁচু বরেন্দ্র এলাকার বেশির ভাগ জমি অম্লীয় হয়ে পড়ায় ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, আর চুন ও জৈব পদার্থ দিয়ে মাটি ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি, যা সেখানে ফসলের ফলন গড়ে ২৫ শতাংশ বাড়াতে পারে। মূল প্রবন্ধে এসআরডিআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নূরুল ইসলাম বলেন, উঁচু বরেন্দ্রে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে ফলন বাড়াতে চুন ও জৈব সার প্রয়োগ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
পরিবেশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মোঙ্গাবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মাটির সার্বিক অবনতির কথা তুলে ধরে, যার কারণের মধ্যে ছিল মাটির অম্লতা, বন উজাড়, পুষ্টি উপাদান ধুয়ে যাওয়া ও প্রয়োজনের তুলনায় কম জৈব সার ব্যবহার। প্রতিবেদনে এসআরডিআইয়ের বরাতে বলা হয়, ভালো মাটিতে অন্তত ২.৫ শতাংশ জৈব পদার্থ থাকে, অথচ দেশের বেশির ভাগ মাটিতে জৈব পদার্থ ১.৫ শতাংশের কম।
প্রতিকার: ডলোচুন ও জৈব পদার্থ
ড. মো. নূরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, মাটির অম্লতা কমিয়ে আনতে জমিতে ডলোচুন ব্যবহার ভালো সমাধান হতে পারে। এ জন্য সাধারণত প্রতি শতাংশ জমিতে ৪ কেজি থেকে ৮ কেজি ডলোচুন প্রয়োগ করা যেতে পারে, তবে মাটির বুনটের ওপর নির্ভর করে প্রয়োগের মাত্রা কম-বেশি হতে পারে। তা ছাড়া জমিতে জৈব পদার্থ ব্যবহারের ওপরও জোর দিতে হবে বলে জানান তিনি। এফএও জমির চাষযোগ্য উপরিস্তরে চুন বা ডলোমাইট মিশিয়ে দেওয়াকে অম্ল মাটি উন্নয়নের একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে, চুন ঘাটতিগ্রস্ত মাটিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামও জোগায়, যে দুটি উপাদান এসআরডিআইয়ের ২০২০ সালের সমীক্ষায় বিপুল পরিমাণ জমিতে খুব কম থেকে কম পাওয়া গেছে। এফএও আরও জানায়, চুন প্রয়োগে পিএইচ বাড়ে, ফলে নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া বাধাহীনভাবে কাজ করতে পারে এবং নাইট্রোজেন সংবন্ধন বাড়ে।
এসআরডিআই কীভাবে ডলোচুন প্রয়োগের পরামর্শ দেয়, তা আল মামুনের ২০২৩ সালের নিবন্ধে রয়েছে। তিনি লেখেন, মাটির পিএইচ ৫.৫-এর কম হলে চুন দিয়ে মাটি শোধন করা অবশ্যই প্রয়োজন, আর অধিক অম্ল মাটিতে ডলোচুনের সুপারিশকৃত মাত্রা প্রতি শতাংশে ৪ কেজি, অর্থাৎ একরপ্রতি ৪০০ কেজি বা হেক্টরপ্রতি ১ হাজার কেজি। একবার প্রয়োগের পর তিন বছর আর ডলোচুন দেওয়ার দরকার হয় না। তাঁর বর্ণিত পদ্ধতি:
- জমির জন্য নির্ধারিত মোট ডলোচুন দুই সমান ভাগে ভাগ করতে হবে।
- সমানভাবে ছড়াতে এক ভাগ উত্তর-দক্ষিণ বরাবর এবং অন্য ভাগ পূর্ব-পশ্চিম বরাবর ছিটাতে হবে।
- আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে ডলোচুন মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।
- বীজ বোনা বা চারা লাগানোর আগে অন্তত সাত দিন অপেক্ষা করতে হবে, কারণ ডলোচুন দেওয়ার পরপরই বীজ বুনলে অঙ্কুরোদ্গমের হার কমে যেতে পারে এবং চারার শিকড় ও কাণ্ডের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
- জমি শুকনা থাকলে খালি জমিতে ডলোচুন ছিটিয়ে চাষ ও মই দিয়ে সমান করতে হবে, হালকা সেচ দিতে হবে, তারপর অন্তত সাত দিন পর বীজ বুনতে হবে।
অম্ল মাটির জন্য তিনি আরও কিছু ব্যবস্থার কথা লেখেন: ধানখেতে পানি ধরে রাখলে প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে অম্লতা নিয়ন্ত্রণে আসে, কাঠ বা তুষের টাটকা ছাই প্রয়োগে অ্যালুমিনিয়ামের বিষাক্ততার প্রভাব কমে, আর পর্যাপ্ত পরিমাণে ভালো মানের জৈব সার উপকারী। বাংলাপিডিয়া জানায়, রাসায়নিক সারের সঙ্গে জৈব পদার্থ দিলে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মাটিতে ভালো ফল পাওয়া যায়; টাটকা বা আংশিক পচা গোবরের সুপারিশকৃত মাত্রা হেক্টরপ্রতি ৫ থেকে ১০ টন, আর ধৈঞ্চার (সেসবানিয়া রোস্ট্রাটা) মতো সবুজ সারের ফসলও উৎসাহিত করা হয়। জ্ঞানকোষটির ভাষায়, বাংলাদেশের মাটির জৈব পদার্থের অবস্থা বিশ্বে সবচেয়ে নিম্নগুলোর একটি।
অম্ল মাটি নিয়ে এফএওর নির্দেশনাও একই দিকে: প্রতিটি জমির উপযোগী করে চুন প্রয়োগ, অম্লসহিষ্ণু ফসল, সারের দক্ষ ব্যবহার, উপযুক্ত শস্যপর্যায় ও ফসলের বৈচিত্র্য মিলিয়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা; জমিতে কতটা চুন লাগবে তা বের করতে দুই থেকে তিন বছর পরপর মাটি পরীক্ষা; আর মাটিতে উচ্চমাত্রার জৈব পদার্থ বজায় রাখা, যা অম্লতার ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে দেয়। সঠিক মাত্রা যেহেতু জমির পিএইচ ও বুনটের ওপর নির্ভর করে, তাই মাটি অম্লীয় বলে সন্দেহ হলে কৃষকেরা এসআরডিআইয়ের গবেষণাগার বা ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষাগারে মাটির নমুনা পরীক্ষা করাতে পারেন, আর চুন কেনার আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ছবি: Reaid Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা (৫ ডিসেম্বর ২০২৪), মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, ডেইলি অবজারভার (২৬ অক্টোবর ২০২৩), যুগান্তর (১০ মার্চ ২০২৪), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (৩১ আগস্ট ২০২৪), মোঙ্গাবে (৩০ ডিসেম্বর ২০২২), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস; এফএও সয়েলস পোর্টাল), বাংলাপিডিয়া (এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ)





মন্তব্য
(০)