সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

মাদারীপুরে এক বছরে ৩৫৩ জন সাপে কাটা রোগী, সবচেয়ে বেশি শিবচরে

হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জাগো নিউজ ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর জানায়, সে বছর মাদারীপুরের পাঁচ উপজেলায় ৩৫৩ জনকে সাপে কেটেছে, মারা গেছেন আটজন; সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শিবচর। চিকিৎসকেরা ওঝা নয়, দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার তাগিদ দেন।

মাদারীপুরে এক বছরে ৩৫৩ জন সাপে কাটা রোগী, সবচেয়ে বেশি শিবচরে
পরিবেশ

২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজ মাদারীপুর থেকে জানায়, জেলার পাঁচটি উপজেলায় হঠাৎ করে সাপের আক্রমণ বেড়েছে। পত্রিকাটির জেলা প্রতিনিধির উদ্ধৃত হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী, ওই বছর জেলায় ৩৫৩ জন সাপের দংশনের শিকার হন, তাঁদের মধ্যে আটজন মারা যান। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন শিবচর উপজেলার মানুষ। পদ্মা নদীর তীরের এই উপজেলাটি জেলার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত।

প্রতিবেদনটি কেবল সংখ্যার হিসাব ছিল না। একজন আইনজীবী, একটি স্থানীয় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের দুজন চিকিৎসক একই কথা বলেন: মাদারীপুরে এখনো অনেক পরিবার সাপে কাটা মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে ওঝার কাছে নিয়ে যায়, আর এতে নষ্ট হওয়া সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাঁরা গ্রামগুলোতে, বিশেষ করে শিবচরের চরাঞ্চলে সচেতনতামূলক কাজের দাবি জানান। এই প্রতিবেদনে জাগো নিউজের খবরের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া এবং খবরটি প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণা থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য যুক্ত করা হলো।

২০২৫ সালের হাসপাতাল-হিসাব


প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাদারীপুরের পাঁচটি উপজেলায় ৩৫৩ জনকে সাপে কাটে। এর মধ্যে মাদারীপুর সদরের ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন ১০৪ জন রোগী। এ ছাড়া শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০৯ জন, কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন এবং রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব রোগীর মধ্যে বিষধর সাপে কাটার সংখ্যা ছিল ৮৫ জন।

তালিকায় শিবচরের ২০৯ জনই সবচেয়ে বড় সংখ্যা, মাদারীপুর শহরের জেলা হাসপাতালের চেয়েও বেশি। প্রতিবেদনে জেলার পঞ্চম উপজেলার আলাদা কোনো সংখ্যা দেওয়া হয়নি; যে আটজন মারা গেছেন, তাঁদের কোথায় সাপে কেটেছিল বা কোথায় চিকিৎসা হয়েছিল, তা-ও বলা হয়নি; কোন প্রজাতির সাপ কামড়েছে, সে কথাও উল্লেখ নেই। প্রতিবেদনে বৃদ্ধিটিকে হঠাৎ বলা হলেও আগের বছরগুলোর সংখ্যা দেওয়া হয়নি।

এই সংখ্যাগুলো কেবল হাসপাতালে পৌঁছানো মানুষের হিসাব। ডব্লিউএইচও সতর্ক করে বলেছে, যেসব দেশে সাপে কাটা বেশি, সেখানে ক্লিনিক ও হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যে সংখ্যা যায়, তা প্রকৃত বোঝার প্রায়ই সামান্য অংশ; কারণ অনেক আক্রান্ত মানুষ কখনো প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই পৌঁছান না, ফলে তাঁদের কোনো হিসাব থাকে না। ডব্লিউএইচওর মতে, এর পেছনে আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ আছে; অনেকে হাসপাতালের বদলে প্রচলিত লোকজ চিকিৎসা বেছে নেন। মাদারীপুরে যাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তাঁরাও ঠিক এই সমস্যার কথাই বলেছেন।

আগে ওঝা, পরে হাসপাতাল: মাদারীপুরের সতর্কবার্তা


মাদারীপুরের আইনজীবী রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখনো অনেকে সাপে কাটলে আগে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে যান। এতে করে সময় নষ্ট হয়, রোগী আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সবশেষে হাসপাতালে আনলে তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে আনতে হবে। এতে করে রোগীর জীবনের ঝুঁকি কমবে।’

স্থানীয় সংগঠন জাগো উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ফারজানা আক্তার মুন্নি বলেন, ‘গ্রামগুলোতে বিশেষ করে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে উঠান বৈঠক, সভা, স্কুল-কলেজে লিফলেটসহ সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। এতে করে মানুষজনের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।’

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. জহিরুল ইসলাম খান ফিরোজ গ্রামবাসীর অসচেতনতার একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের এখানে দুই বছর বয়সের সাপে কাটা এক শিশুকে নিয়ে আসা হয়েছিল। এরপর আমরা দ্রুত পরীক্ষা করে বুঝতে পারি, তাকে বিষধর সাপে কেটেছে। অ্যান্টিভেনম দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হলে ওই শিশুর অভিভাবক তা দিতে দেয়নি। তারা জোর করে শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়। শিশুটির যে অবস্থা ছিল, তাতে জরুরিভাবে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। তাই গ্রামগুলোতে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তা না হলে অসচেতনতার জন্যই অনেকের প্রাণ চলে যাবে।’ শিশুটির পরে কী হয়েছিল, প্রতিবেদনে তা জানানো হয়নি।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, এখনো অনেকের ধারণা সাপে কাটলে ওঝার চিকিৎসাতেই ভালো হওয়া সম্ভব। কিন্তু সাপে কাটা রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে এনে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হলে রোগী সুস্থ হয়ে যান। অনেকেই এটা বুঝতে চান না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই অভ্যাস যে কত গভীরে, গবেষণাতেও তা দেখা গেছে। গ্রামীণ বাংলাদেশে সাপে কাটা নিয়ে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত একটি জাতীয় খানা জরিপ চালানো হয়, যার ফল রিদওয়ানুর রহমান, এম আবুল ফয়েজ ও সহকর্মীরা ২০১০ সালের অক্টোবরে প্লস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস সাময়িকীতে প্রকাশ করেন। জরিপে দেখা যায়, আক্রান্তদের ৮৬ শতাংশের প্রথম যোগাযোগ ছিল ওঝার সঙ্গে; মাত্র ৩ শতাংশ সরাসরি নিবন্ধিত চিকিৎসক বা হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা ছিল মন্ত্র পড়া, ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে; ক্ষতিকর পদ্ধতিও ছিল ব্যাপক, যেমন কামড়ের জায়গায় একাধিকবার কাটা (৪৩ শতাংশ) এবং মুখ দিয়ে ক্ষত থেকে রক্ত চুষে নেওয়া। গবেষকেরা উপসংহারে বলেন, সাপে কাটায় মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য, আর সরকারি হাসপাতালে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায়, অ্যান্টিভেনম বিনা মূল্যে পাওয়া উচিত।

বহু বছর পরও সতর্কবার্তা বদলায়নি। ২০২৪ সালের জুনে রাসেলস ভাইপার নিয়ে দেশজুড়ে আতঙ্কের সময় বাংলাদেশি সংরক্ষণ সংগঠন ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, মৃত্যু বেশি হয় মূলত রোগীকে দেরিতে হাসপাতালে ভর্তি করার কারণে, আর অনেকে এখনো আগে ওঝা-কবিরাজের কাছে যান।

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার একটি পুরোনো বাড়ি। ছবি: Naquib Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার একটি পুরোনো বাড়ি। ছবি: Naquib Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

মাদারীপুর ও শিবচর: পদ্মাতীরের কৃষিপ্রধান জনপদ


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মাদারীপুর ঢাকা বিভাগের একটি জেলা, আয়তন ১,০৪৯.৫৯ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে বরিশাল ও গোপালগঞ্জ, পূর্বে শরীয়তপুর এবং পশ্চিমে ফরিদপুর জেলা। প্রধান নদী পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ, কুমার ও ঘাগর। ১৮৫৪ সালে বাকেরগঞ্জ জেলার অধীনে মাদারীপুর মহকুমা গঠিত হয়, ১৮৭৩ সালে তা ফরিদপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯৮৪ সালে মাদারীপুর পূর্ণাঙ্গ জেলা হয়। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১০,৯৪,৪৫৮ জন, আর ৬১.৩৩ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস ছিল কৃষি।

শিবচর উপজেলার আয়তন ৩৩২.৯০ বর্গকিলোমিটার। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায়, এর উত্তরে পদ্মা নদী এবং লৌহজং ও সদরপুর উপজেলা, দক্ষিণে রাজৈর ও মাদারীপুর সদর উপজেলা, পূর্বে জাজিরা উপজেলা এবং পশ্চিমে ভাঙ্গা উপজেলা। প্রধান নদী পদ্মা, কুমার, আড়িয়াল খাঁ ও ময়নাকাটা। শিবচর থানা গঠিত হয় ১৯৩০ সালে, উপজেলা হয় ১৯৮৩ সালে। ২০১১ সালে এর ১৯টি ইউনিয়ন ও ৫১৯টি গ্রামে ৩,১৮,২২০ জন মানুষ বাস করতেন। এর অনেক এলাকা চর, অর্থাৎ পদ্মার গড়া ও ভাঙা নদীদ্বীপ ও বালুচর; চর জানাজাত ও পাঁচচরের মতো ইউনিয়নের নামেই সেই ইতিহাস ধরা আছে।

বাংলাপিডিয়ায় দেওয়া আদমশুমারির হিসাবে শিবচরের ৬৩.৯৫ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। উপজেলার প্রধান ফসল ধান, পাট, গম, ডাল, আখ, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা, পান ও চিনাবাদাম; চিনাবাদাম, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, পান ও সরিষা এখান থেকে অন্য এলাকায় যায়। এমন জনপদেই সাপে কাটা পেশাগত ঝুঁকি। ২০১০ সালের জাতীয় জরিপে দেখা যায়, বেশির ভাগ দংশন হয়েছে কাজের সময়, বিশেষ করে চাষাবাদ ও মাঠের কাজে এবং পানিতে: দংশনের স্থানের ২৭ শতাংশ ছিল পানি, ২৪ শতাংশ মাঠ। ৭১ শতাংশ দংশন ছিল পা ও পায়ের নিচের অংশে, ২৭ শতাংশ হাতে।

বাংলাদেশে বছরে কত মানুষকে সাপে কাটে


২০১০ সালের জরিপটি দেশের ৬৪ জেলার ২৪টিতে ১৮,৮৫৭ জন মানুষকে নিয়ে করা হয়। এতে গ্রামীণ বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ ব্যক্তি-বছরে ৬২৩.৪টি সাপে কাটার ঘটনা পাওয়া যায়; সবচেয়ে বেশি হার বরিশাল বিভাগে, প্রতি লাখে ২,৬৬৭.৭। এই হিসাব থেকে গবেষকেরা অনুমান করেন, গ্রামীণ বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৫,৮৯,৯১৯ জনকে সাপে কাটে এবং ৬,০৪১ জন মারা যান; তবে তাঁরা সতর্ক করে দেন, মৃত্যুর অনুমানটি মাত্র একটি পর্যবেক্ষিত মৃত্যুর ওপর দাঁড়ানো বলে পরিসংখ্যানগতভাবে অস্থির। জুন থেকে অক্টোবরে দংশন সবচেয়ে বেশি হয়, এর মধ্যে অক্টোবরে ২২ শতাংশ ও জুলাইয়ে ১৫ শতাংশ; ডিসেম্বরেও ছোট একটি বৃদ্ধি দেখা যায়, যাকে গবেষকেরা ফসল কাটার মৌসুমের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ৩৬ শতাংশ দংশন হয়েছিল রাতে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ডব্লিউএইচওর বাংলাদেশ কার্যালয় জানায়, দেশে প্রতিবছর প্রায় সাত লাখ মানুষ সাপের দংশনের শিকার হন এবং প্রায় ছয় হাজার জন মারা যান; বন্যার সময় মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ সাপে কাটা।

সর্বশেষ জাতীয় হিসাব আসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। অধিদপ্তরের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (এনসিডিসি) ২০২৩ সালের ১৮ জুন ‘ন্যাশনাল সার্ভে অন অ্যানুয়াল ইনসিডেন্স অ্যান্ড এপিডেমিওলজি অব স্নেকবাইট ইন বাংলাদেশ’ প্রকাশ করে, যার তথ্য ২০২১-২২ সালের। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৩ সালের আগস্টে জানায়, জরিপের হিসাবে বছরে প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার মানুষকে সাপে কাটে এবং ৭,৫১১ জন মারা যান। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জানায়, গবেষণা অনুযায়ী আক্রান্তদের ৯৫ শতাংশই গ্রামের মানুষ, আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২৩ সালের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিবছর প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৪৪ জন সাপের দংশনের শিকার হন।

বাংলাদেশের সমস্যাটি একটি বৈশ্বিক সমস্যার অংশ। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ডব্লিউএইচওর সাপে কাটা-বিষক্রিয়া বিষয়ক তথ্যপত্রে বলা হয়, বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ৫৪ লাখ মানুষকে সাপে কাটে, যার মধ্যে ১৮ লাখ থেকে ২৭ লাখ ক্ষেত্রে বিষক্রিয়া হয়, আর মারা যান ৮১,৪১০ থেকে ১,৩৭,৮৮০ জন। এর প্রায় তিন গুণ মানুষ প্রতিবছর অঙ্গহানি বা অন্য স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হন। ডব্লিউএইচওর মতে, কৃষিশ্রমিক ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর শুধু এশিয়াতেই বছরে ২০ লাখ পর্যন্ত মানুষ সাপের বিষে আক্রান্ত হন।

মাদারীপুরের প্রতিবেশী ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলায় পদ্মার একটি চরে মাছ ধরে ফেরা জেলেরা, ২০২৪ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: মোঃ সাকিবুল হাসান / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মাদারীপুরের প্রতিবেশী ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলায় পদ্মার একটি চরে মাছ ধরে ফেরা জেলেরা, ২০২৪ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: মোঃ সাকিবুল হাসান / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাংলাদেশে কোন সাপ বিপজ্জনক


বাংলাদেশের বেশির ভাগ সাপ নিরীহ। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে দেশে প্রায় ৯০ প্রজাতির সাপ আছে, এর তিন-চতুর্থাংশের বেশি নির্বিষ; অত্যন্ত বিষধর স্থলচর সাপ আধা ডজনেরও কম। মানুষের বসতির কাছে থাকা কয়েকটি নির্বিষ সাপ, যেমন দাঁড়াশ, ইঁদুর খেয়ে উপকার করে। প্রকৃত বিষধর সাপ হলো ইলাপিডি গোত্রের গোখরা জাতীয় সাপ ও ক্রেইট, সামুদ্রিক সাপ এবং ভাইপারিডি গোত্রের ভাইপার ও পিট ভাইপার।

বিভিন্ন সূত্রে সংখ্যা ভিন্ন। ২০১৮ সালে ডব্লিউএইচওর বাংলাদেশ কার্যালয় ৮২টি প্রজাতির কথা বলে, যার ২৭টি বিষধর এবং ৬টি মানুষের জন্য উদ্বেগজনক। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে প্রায় ৯৮টি প্রজাতির কথা জানায়, যার ৩১টি বিষধর। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৩ সালেই প্রায় ১০০ প্রজাতির মধ্যে ৩৭টি বিষধর সাপের তালিকা দেয়: ১৬টি সামুদ্রিক সাপ, ৩টি গোখরা জাতীয়, ৫টি ক্রেইট, ২টি কোরাল সাপ, ৬টি সবুজ পিট ভাইপার এবং একটি প্রকৃত ভাইপার, রাসেলস ভাইপার।

খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের একটি গবেষণা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জার্নাল অব টক্সিকোলজিতে প্রকাশিত হয়। তাতে চিকিৎসার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতিগুলোর সারসংক্ষেপ দেওয়া হয়: কমন ক্রেইট (Bungarus caeruleus), গ্রেটার ব্ল্যাক ক্রেইট (Bungarus niger), ওয়ালস ক্রেইট (Bungarus walli), মনোকলড কোবরা (Naja kaouthia), রাসেলস ভাইপার (Daboia russelii) এবং সবুজ পিট ভাইপার। গবেষণাপত্রে উদ্ধৃত গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাপে কাটায় মৃত্যুর অর্ধেকের বেশির জন্য দায়ী কমন ক্রেইট; এর দংশন সাধারণত রাতে হয় এবং দ্রুত পক্ষাঘাত ঘটায়, চিকিৎসা না হলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ আক্রান্ত মারা যান। মনোকলড কোবরা বিষধর দংশনের প্রায় ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী।

সাপের বিষ শরীরে কী করে, ডব্লিউএইচও তা ব্যাখ্যা করেছে। বিষধর সাপের দংশনে এমন পক্ষাঘাত হতে পারে যাতে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা থেকে প্রাণঘাতী রক্তপাত হতে পারে, কিডনি স্থায়ীভাবে বিকল হতে পারে, আর টিস্যুর এমন ক্ষতি হতে পারে যে স্থায়ী প্রতিবন্ধিতা বা অঙ্গহানি ঘটে। শরীরের ওজন কম বলে শিশুদের ওপর প্রভাব প্রায়ই বড়দের চেয়ে বেশি ও দ্রুত হয়; এ কারণেই মাদারীপুরের শিশু বিশেষজ্ঞের বর্ণিত ঘটনাটি ছিল জরুরি।

একটি কমন ক্রেইট (Bungarus caeruleus), প্রজাতিটি চেনানোর জন্য প্রতীকী ছবি। ছবি: Davidvraju / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
একটি কমন ক্রেইট (Bungarus caeruleus), প্রজাতিটি চেনানোর জন্য প্রতীকী ছবি। ছবি: Davidvraju / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

পদ্মার তীরে রাসেলস ভাইপার


প্রতিবেদন প্রকাশের আগের বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল রাসেলস ভাইপার, স্থানীয়ভাবে যাকে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া বলা হয়। বেনারনিউজ ২০২৪ সালের মে মাসে জানায়, ২০০০-এর দশকের শুরুতে প্রজাতিটি বাংলাদেশে বিপন্ন বলে বিবেচিত হতো; ২০০২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এটি দেখা যায়নি, আবার দেখা দেয় ২০১৩ সালে। সংবাদ সংস্থাটির উদ্ধৃত একজন গবেষক বলেন, এরপর সাপটি অন্তত ২৫টি জেলায়, অর্থাৎ দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকায় ছড়িয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক রাসেলস ভাইপারের দংশনে মৃত্যুহার ৩০ শতাংশ বলে জানান, যা অন্যান্য সাপে কাটার প্রায় দ্বিগুণ; ওই হাসপাতালে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০২ জন রাসেলস ভাইপারে কাটা রোগী ভর্তি হন, যাঁদের ৬২ জন অ্যান্টিভেনম পাওয়ার পরও মারা যান।

পদ্মা অববাহিকাই এই সাপের প্রধান এলাকা। ২০২৪ সালের জুনে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে পুনঃপ্রকাশিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশক আগে সাপটি ১৭টি জেলায় পাওয়া যেত, তখন পাওয়া যাচ্ছিল ২৬ থেকে ২৭টি জেলায়; সেই তালিকায় মাদারীপুরের নাম ছিল, একই নদীর তীরের ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ীর সঙ্গে। প্রধান উপদ্রুত এলাকা তখনো রাজশাহী। ২০১৭ সালের আগস্টেই দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছিল, পদ্মাতীরের ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরে ভাইপারের উপদ্রব দেখা দিয়েছে; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার একজন অধ্যাপক সাপটিকে শনাক্ত করে বলেন, সম্ভবত বন্যার পানিতে উত্তর-পশ্চিমের বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে সাপটি চরে এসে সেখানে বংশবিস্তার করেছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের জার্নাল অব টক্সিকোলজির গবেষণায় এই বৃদ্ধির একটি ব্যাখ্যা আছে। ইঁদুরে ভরা নিবিড় কৃষি এলাকা, বিশেষ করে ধানখেত ও গ্রামে, এই ভাইপার দ্রুত বাড়ে; সেচের সুবিধায় কৃষকেরা বছরে দুই ফসলের জায়গায় তিন ফসল করতে শুরু করায় সারা বছর ফসল থাকে, ইঁদুর বাড়ে, আর সাপ পায় খাবার ও বংশবিস্তারের জায়গা। গবেষকেরা বাংলাদেশের রাসেলস ভাইপারের বিষ ভারতে তৈরি একটি পলিভ্যালেন্ট অ্যান্টিভেনমের বিপরীতে পরীক্ষা করে দেখেন, অ্যান্টিভেনমটি আংশিক কার্যকর; তাঁরা এ অঞ্চলের বিষ বিবেচনায় নিয়ে অ্যান্টিভেনম তৈরির আহ্বান জানান।

বিশেষজ্ঞরা আতঙ্ক না ছড়ানোর কথাও বলেছেন। বন অধিদপ্তরের একজন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা ২০২৪ সালের জুনে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, রাসেলস ভাইপার হুমকি না পেলে মানুষকে আক্রমণ করে না এবং মূলত ইঁদুর ও টিকটিকি জাতীয় প্রাণী খায়; পত্রিকাটি উল্লেখ করে, দেশে সাপে কাটায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটায় কমন ক্রেইট, ভাইপার নয়। ধানখেতে নামার আগে শব্দ করা বা টর্চ ব্যবহারের পরামর্শ দেন ওই কর্মকর্তা। সাপটি মারা নিষিদ্ধ: রাসেলস ভাইপার বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর অধীনে সংরক্ষিত, আর প্রতিবেদনে বলা হয়, একে ভেবে নিরীহ অজগর ও ঘরগিন্নি সাপও মারা হচ্ছিল।

অ্যান্টিভেনম: যে চিকিৎসা কাজ করে


ডব্লিউএইচও জোর দিয়ে বলে, অনেক গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার বিপরীতে সাপের বিষক্রিয়ার একটি অত্যন্ত কার্যকর চিকিৎসা আছে। মানসম্মত অ্যান্টিভেনমই বিষধর দংশনের বেশির ভাগ প্রভাব ঠেকানো বা ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায়; এটি ডব্লিউএইচওর অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় আছে এবং যেখানে সাপে কাটার ঘটনা ঘটে, সেখানকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হওয়া উচিত। ডব্লিউএইচওর মতে, নিরাপদ ও কার্যকর অ্যান্টিভেনম আরও সহজলভ্য করা গেলে সাপে কাটায় বেশির ভাগ মৃত্যু ও গুরুতর পরিণতি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যায়।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৩ সালে জানায়, বাংলাদেশে ভারত থেকে আমদানি করা একটি পলিভ্যালেন্ট অ্যান্টিভেনম ব্যবহৃত হয়, যা ক্রেইট, গোখরা ও রাসেলস ভাইপারসহ প্রধান কয়েকটি বিষধর প্রজাতির বিষের বিরুদ্ধে কাজ করে। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৪ সালের জুনে জানায়, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকার বিনা মূল্যে অ্যান্টিভেনম দেয়, আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে জানায়, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে এই অ্যান্টিভেনম ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়।

তবে প্রাপ্যতা সব জায়গায় সমান ছিল না। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জানায়, ২০২২ সালের শুরু পর্যন্ত ৮০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন কার্যালয়, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪১,৪৭০ ডোজ পাঠানো হয়; মজুতের বড় অংশ শহরের হাসপাতালে থাকত এবং অব্যবহৃত অবস্থায় মেয়াদ পেরিয়ে যেত, আর সব উপজেলা হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম ছিল না। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিনের একজন অধ্যাপক পত্রিকাটিকে বলেন, কিছু রোগীর শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দেয়, যার জন্য নিবিড় পরিচর্যা দরকার; উপজেলা হাসপাতালে সে ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসকেরা কখনো কখনো অ্যান্টিভেনম দিতে দ্বিধা করেন।

প্রশিক্ষণও এই উদ্যোগের অংশ। ডব্লিউএইচওর বাংলাদেশ কার্যালয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলে তারা বাংলাদেশের সাপে কাটা চিকিৎসার নির্দেশিকা হালনাগাদ করতে সহায়তা করেছে, সে বছর দেশজুড়ে ৫,০০০ ডোজ অ্যান্টিভেনম বিতরণ করা হয়েছে এবং ২০১৮ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে সব বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৫২ জন চিকিৎসককে সাপে কাটার চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিকভাবে ডব্লিউএইচও ২০১৭ সালের জুনে সাপের বিষক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের অবহেলিত ক্রান্তীয় রোগের তালিকায় যুক্ত করে, আর সংস্থাটির রোডম্যাপের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সাপে কাটায় মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিতা অর্ধেকে নামিয়ে আনা।

হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রাথমিক করণীয়


মাদারীপুরের চিকিৎসকেরা সবচেয়ে জরুরি পরামর্শটিই দিয়েছেন: সাপে কাটা মানুষকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষগুলোও একমত যে চিকিৎসার আগের সময়টুকুই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) সর্বশেষ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পর্যালোচিত নির্দেশনায় বলেছে, সাপে কেটেছে বলে মনে হলেই সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে, আর সাহায্য আসা পর্যন্ত করণীয় হিসেবে বলেছে:

  • শান্ত থাকুন এবং শরীরের যে অংশে কামড় লেগেছে, তা যতটা সম্ভব নড়াচড়া না করে স্থির রাখুন
  • ফোলা দেখা দিতে পারে বলে কামড়ের কাছের আংটি, চুড়ি বা অন্য গয়না খুলে ফেলুন এবং কাপড় ঢিলা করুন
  • চিকিৎসককে জানানোর জন্য সাপটির রং ও নকশা মনে রাখার চেষ্টা করুন
  • সাপের কাছে যাবেন না, সাপ ধরার বা মারার চেষ্টা করবেন না
  • কামড়ের জায়গা কেটে বা চুষে বিষ বের করার চেষ্টা করবেন না
  • কামড়ের অংশে কোনো কিছু শক্ত করে বাঁধবেন না
  • অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন খাবেন না, কারণ এতে রক্তপাত বাড়তে পারে

যে কাজগুলো এড়াতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের বাংলাদেশ জরিপে আক্রান্তদের মধ্যে সেগুলোই সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছিল: কামড়ের জায়গা কাটা এবং ক্ষত চোষা। শ্রীলঙ্কার একটি কৃষিপ্রধান গ্রামে সাপে কাটা নিয়ে প্রচলিত বিশ্বাসের ওপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিএমসি রিসার্চ নোটস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, গাছগাছড়া বা ভেষজে সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় হয়, এমন বিশ্বাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এ ধরনের চিকিৎসা সঠিক চিকিৎসায় দেরি ঘটাতে পারে। এনএইচএস জানায়, হাসপাতালে কামড়ের জায়গা পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ করা হয়, আর বিষধর সাপে কাটা রোগীকে শিরায় স্যালাইনের নলের মাধ্যমে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। মাদারীপুরে এই চিকিৎসার নিকটতম জায়গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল। সাপে কাটলে দেরি না করে সেখানে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

ছবি: Abhinav Chawla / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ডব্লিউএইচও বাংলাদেশ কার্যালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র), প্লস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস (২০১০), জার্নাল অব টক্সিকোলজি (২০২৫), বিএমসি রিসার্চ নোটস (২০২৫), বাংলাপিডিয়া, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন, বেনারনিউজ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর / দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দ্য ডেইলি স্টার

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)