বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ২০২৬ সালের ২০ জুলাই (সোমবার) জানায়, পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি বা অবনতি হতে পারে। কোথাও কোথাও আকস্মিক ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কাও ছিল। পূর্বাভাসে রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী ও জেলার নাম আলাদা করে উল্লেখ করা হয়।
উত্তরাঞ্চল: তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার
কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক অথবা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। আগের দিন ১৯ জুলাই চ্যানেল আই অনলাইন কেন্দ্রের তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, টানা ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়ছিল এবং এই তিন নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
তিস্তা পূর্ব হিমালয়ের পাওহুনরি পর্বত এলাকা থেকে উৎপন্ন প্রায় ৪১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী। ভারতের ভেতর দিয়ে এসে এটি রংপুর বিভাগে বাংলাদেশে ঢোকে এবং কুড়িগ্রাম অঞ্চলে ব্রহ্মপুত্রে মেশে। আকস্মিক বন্যা বলতে বোঝায় এমন বন্যা, যা বৃষ্টির পর সাধারণত ছয় ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে নিচু এলাকা প্লাবিত করে।

সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চল: সুরমা-কুশিয়ারা, কংস ও সোমেশ্বরী
পূর্বাভাসে বলা হয়, সুরমা-কুশিয়ারা নদী সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে অথবা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদী শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলায় এবং সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদী সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, অথবা উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।
এই অঞ্চলে কয়েক দিন ধরেই নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁয়ে বা ছাড়িয়ে বইছিল। আজকের পত্রিকা ১৮ জুলাই জানায়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিতে ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। আগের ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডালিয়ায় ১৯০ মিলিমিটার ও ছাতকে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, আর ভারতের মেঘালয়ের মৌসিনরামে ৩৮৯ মিলিমিটার ও চেরাপুঞ্জিতে ২৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। সুরমা ও কুশিয়ারা দুটিই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বরাক নদী দুই ভাগ হয়ে তৈরি, তাই উজানের বৃষ্টি সরাসরি এই নদীগুলোর পানি বাড়ায়।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও আত্রাই অববাহিকা
কেন্দ্রের হিসাবে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে। আত্রাই ও ছোট যমুনা নদী নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত করতে পারে বলেও জানানো হয়।
চ্যানেল আই অনলাইনের ১৯ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যমুনার পানি আগের ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছিল এবং এই ধারা পরের পাঁচ দিন চলতে পারে বলে কেন্দ্র জানিয়েছিল। একই প্রতিবেদনে রংপুর ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে দুই দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কেন্দ্র দেশের নদ-নদীর পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিত বন্যার পূর্বাভাস দেয়।
ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড), চ্যানেল আই অনলাইন, আজকের পত্রিকা, আউটলুক বাংলা, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)