সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টায় অপসারণের লক্ষ্য রংপুর সিটি করপোরেশনের

২০২৬ সালের ঈদুল আজহার তিন দিন আগে, ২৫ মে, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা যাবে। সেদিন ৮৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী পাঁচ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার পান।

কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টায় অপসারণের লক্ষ্য রংপুর সিটি করপোরেশনের
পরিবেশ

২০২৬ সালের ২৫ মে, সোমবার, রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বলেছিলেন, নগর এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য কোরবানির ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে। সেদিন দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের ৮৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। ১২ ঘণ্টার এই সময়সীমা ছিল সিটি করপোরেশনের ঘোষিত লক্ষ্য ও প্রশাসকের প্রত্যাশা; ঈদের তিন দিন আগে জাগো নিউজ খবরটি প্রকাশ করে। সেবার দেশে ঈদুল আজহা পালিত হয় ২৮ মে, বৃহস্পতিবার।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রশাসকের বক্তব্য


জাগো নিউজের রংপুর প্রতিনিধির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে প্রশাসক সরাসরি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উদ্দেশে কথা বলেন। তিনি নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখার প্রচেষ্টায় ঈদের আগে ও পরে কর্মীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং বর্জ্য অপসারণের সময়সীমাকে কর্মীদের আন্তরিকতার সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল এ রকম:

‘আমরা নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে চাই। ঈদের আগে ও পরে সবসময়ই এ প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভূমিকা রাখতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না, যদি আপনারা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। আপনারা নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নিরলসভাবে কাজ করেন বলেই প্রধানমন্ত্রী আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

অর্থাৎ ১২ ঘণ্টার কথাটি তিনি দিয়েছিলেন একটি প্রত্যাশা হিসেবে, যার শর্ত ছিল কর্মীদের আন্তরিক দায়িত্ব পালন। কোরবানির দিন কখন থেকে এই সময় গোনা হবে, কতটি যানবাহন বা কতজন অতিরিক্ত কর্মী মাঠে থাকবেন, নগরের কোন কোন স্থানে পশু জবাইয়ের জায়গা নির্ধারিত থাকবে, এমন খুঁটিনাটি জাগো নিউজের প্রতিবেদনে ছিল না।

৮৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ঈদ উপহার


প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে রসিকের মোট ৮৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এর আগে ঈদুল ফিতরেও তাঁরা একই পরিমাণ অর্থ পেয়েছিলেন। এই অর্থ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার হিসেবে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। উপহার পেয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মঙ্গল কামনা করেন। সে সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তারেক রহমান; ২০২৬ সালের মার্চে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে তাঁকে এই পদে উল্লেখ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও রংপুর মহানগরের সভাপতি ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রাকিব হাসান, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রুবেল রানা এবং প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা নাঈম হাসান খান।

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের মূল কাজটি করেন এই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই; ২০২৪ সালে রসিক যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে রক্তসহ সব বর্জ্য পাড়া-মহল্লা ও রাস্তা থেকে পরিষ্কার করার কথা ছিল। রসিকের আগের বছরগুলোর অভিযানেও এই কর্মীদের সংখ্যা ও তাঁদের কাজের ভাগই ছিল পরিকল্পনার কেন্দ্রে, যা নিচের অংশে আছে।

রসিকের প্রশাসক ও তাঁর দায়িত্ব


রংপুর সিটি করপোরেশনে তখন নির্বাচিত মেয়র ছিলেন না; নগর সংস্থাটি চলছিল সরকার নিযুক্ত প্রশাসকের অধীনে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সেদিনের এক প্রজ্ঞাপনে বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ওই প্রতিবেদনে রংপুরের প্রশাসক হিসেবে মাহফুজ উন নবী চৌধুরীর নাম আসে এবং বলা হয়, তিনি বিএনপির রংপুর মহানগরের সদস্য সচিব। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তাঁকে অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই প্রতিবেদনে বিডিনিউজ জানায়, এর আগে ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসানো হয়েছিল। তারও আগে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯ আগস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহার বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বও রংপুরে পালন করছিল প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন সিটি করপোরেশন, যার সঙ্গে ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তারা।

রংপুর সিটি করপোরেশন: দেড়শ বছরের পৌরসভা থেকে নগর সংস্থা


রংপুর উত্তরাঞ্চলের একটি প্রধান শহর এবং রংপুর বিভাগের প্রশাসনিক কেন্দ্র। শহরটি ঘাঘট নদীর তীরে এবং তিস্তা নদীর কাছাকাছি অবস্থিত। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৬৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর রংপুরকে জেলা সদর ঘোষণা করা হয় এবং ১৮৬৯ সালে এটি পৌরসভা হয়, যা একে দেশের প্রাচীনতম পৌরসভাগুলোর একটি করেছে। ১৮৯২ সালে পৌর ভবন নির্মিত হয়। বাংলা উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, পৌর ভবনটি গড়ে তোলা হয়েছিল ডিমলার জমিদারের দান করা বাগানবাড়ির জমিতে, আর ১৯৮৬ সালে রংপুর পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। বৃহত্তর রংপুর জেলা ১৯৮৪ সালে ভেঙে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর, এই পাঁচ জেলা গঠিত হয়।

২০১২ সালের ২৮ জুন স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের আওতায় রংপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয় এবং একই বছরের ২০ ডিসেম্বর প্রথম নির্বাচন হয়। এটি দেশের দশম সিটি করপোরেশন এবং আয়তনের দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম। রসিকের আয়তন ২০৫.৭০ বর্গকিলোমিটার। এই এলাকায় রংপুর সদরের ১০টি এবং কাউনিয়ার সারাই ও পীরগাছার কল্যাণীসহ মোট ১২টি ইউনিয়নের ১১২টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত; এর মধ্যে ৭টি ইউনিয়ন পুরোপুরি এবং ৫টি আংশিকভাবে নগরের ভেতরে পড়েছে। সেনানিবাস এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ২০২০ সালের ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগরে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৩৩টি।

এত বড় এলাকার কারণে রসিকের ভেতরে ঘনবসতিপূর্ণ পুরোনো শহর যেমন আছে, তেমনি আছে আধা-গ্রামীণ এলাকা, যেখানে গৃহস্থ ও খামারিরা গরু-ছাগল পালন করেন। ২০২৬ সালের মে মাসে বাসসের প্রতিবেদনে নগরের মাহিগঞ্জ, নজিরেরহাট, নিসবেতগঞ্জ, আশরতপুর, দেওডোবা আকালিটারী, সরেয়ারতল ও আমাশু কুকরুল এলাকার খামারিদের কথা আসে, যাঁরা ওই বছর দেশি ও শংকর জাতের গরু ও ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। ফলে কোরবানির সময় নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ শুধু শহরের কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না।

সিটি করপোরেশনের সেবার তালিকায় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রাস্তা পরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা দূর করা এবং মশা নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত। কোরবানির ঈদের বর্জ্য অপসারণ এই নিয়মিত দায়িত্বেরই একটি বড় ও সময়-নির্দিষ্ট রূপ। রসিকের প্রথম মেয়র ছিলেন শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু (২০১২), ২০১৭ সালে মেয়র নির্বাচিত হন মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

রংপুর শহরের টাউন হল। ছবি: Ragib Rownak Shanti / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
রংপুর শহরের টাউন হল। ছবি: Ragib Rownak Shanti / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আগের ঈদগুলোতে রসিক যেভাবে বর্জ্য সরিয়েছে


কোরবানির বর্জ্য দ্রুত সরানোর সময়সীমা ঘোষণা রংপুরে নতুন নয়। ২০২০ সালের ১ আগস্ট, ঈদুল আজহার দিন, ইত্তেফাক জানায়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রসিক বর্জ্য অপসারণ শুরু করে এবং দুপুরে নগরের শাপলা চত্বর থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। তখনকার প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু বলেছিলেন, ঈদের দিন রাতের মধ্যেই প্রায় দুইশ টন বর্জ্য অপসারণ করা হবে। এ কাজে সিটির ১২০টি ট্রলি, রিকশাভ্যান ও ২৫টি ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করছিলেন।

সেবার কোরবানির পশু জবাই ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য নগরের ৩৩টি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছিল। এসব জোনে কাজ করছিলেন এক হাজার ৩৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তারা একটি কন্ট্রোল রুম থেকে কাজ তদারক করছিলেন। প্যানেল মেয়রের ভাষায়, সবাই সচেতন হলে ২৪ ঘণ্টার আগেই বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব ছিল।

চার বছর পর, ২০২৪ সালের ১৭ জুন ঈদের দিন, ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, রসিকের তখনকার মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ঘোষণা দেন যে সিটি করপোরেশনের সব কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করা হবে। শাপলা চত্বরে বর্জ্য পরিষ্কার অভিযানের উদ্বোধনে তিনি বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ সিটি করপোরেশন, এবং বর্জ্য পরিষ্কারে এক হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কয়েকশ ট্রাক নামানো হয়েছে।

সেবার ঈদের আগে মাইকিং করে নগরবাসীকে কোরবানির বর্জ্য সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলার অনুরোধ করা হয়েছিল এবং সেজন্য বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। মেয়র নির্দেশ দিয়েছিলেন, রক্তসহ সব বর্জ্য বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও রাস্তা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করতে হবে। অর্থাৎ ২০২৬ সালে প্রশাসকের ঘোষিত ১২ ঘণ্টার সময়সীমা রসিকের আগের লক্ষ্যের ধারাবাহিকতাতেই এসেছিল; ২০২০ সালে যেখানে ২৪ ঘণ্টার কথা বলা হয়েছিল, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে বলা হয় ১২ ঘণ্টা।

এই তুলনায় একটি বিষয়ও চোখে পড়ে: ২০২০ সালে মাঠে ছিলেন এক হাজার ৩৭ জন কর্মী, ২০২৪ সালে মেয়র বলেছিলেন এক হাজারের বেশি কর্মীর কথা, আর ২০২৬ সালের ঈদ উপহার পান ৮৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এই সংখ্যাগুলো একে অপরের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় কি না, অর্থাৎ ঈদের দিন অস্থায়ী বা অতিরিক্ত কর্মী যুক্ত হয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

রংপুর বিভাগে এবার কোরবানির পশু


ঈদের আগে রংপুর অঞ্চলে কোরবানির পশুর জোগান ছিল প্রচুর, যা বর্জ্যের পরিমাণের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ২০২৬ সালের ৭ মে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ওই বছর রংপুর বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল ১৪ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭টি। এর বিপরীতে পশু ছিল ২০ লাখ ২৩ হাজার ৬৭টি, ফলে উদ্বৃত্ত ছিল ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪১০টি। বিভাগের আট জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২১ হাজার খামার ছিল, যার মধ্যে শুধু রংপুর জেলাতেই নিবন্ধিত খামার প্রায় ৪ হাজার।

বাসসের প্রতিবেদনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক হিসাবও ছিল:

  • রংপুর: পশু ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯১টি, চাহিদা ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৯টি
  • গাইবান্ধা: পশু ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯০০টি, চাহিদা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০টি
  • কুড়িগ্রাম: পশু ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৯টি, চাহিদা ২ লাখ ৬১ হাজার ২৪৬টি
  • নীলফামারী: পশু ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০টি, চাহিদা ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬টি
  • লালমনিরহাট: পশু ২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২টি, চাহিদা ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৮৪টি
  • দিনাজপুর: পশু ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি, চাহিদা ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি
  • ঠাকুরগাঁও: পশু ৯৫ হাজার ৪৩৬টি, চাহিদা ৭৮ হাজার ৮৪৩টি
  • পঞ্চগড়: পশু ১ লাখ ৩০ হাজার ৩০৩টি, চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার ৬৫০টি

একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, রংপুর জেলায় চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত পশু ছিল ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। আগের বছর রংপুর বিভাগের আট জেলায় প্রায় ১৫ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। কোরবানির জন্য প্রায় আড়াই লাখ খামারি সাড়ে ৮ লাখের মতো গরু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, আর ২ লাখের বেশি গৃহস্থ প্রায় ১০ লাখ গরু-খাসি বাজারে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। প্রস্তুত পশুর মধ্যে ছাগল ও ভেড়া ছিল ৩ লাখের বেশি।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার বাসসকে বলেছিলেন, বিভাগের চাহিদা মিটিয়ে সাড়ে ৫ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে এবং এসব পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো যাবে। খামারিরা জানিয়েছিলেন, পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় পরিচর্যার খরচ বেড়েছে, তাই আগের বছরের তুলনায় দামও বেশি হতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছিলেন। দেশি ও শংকর জাতের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় কয়েক মাস আগে থেকেই খামারিরা এসব গরু মোটাতাজা করছিলেন।

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার একটি পশুর হাট; ছবিটি রংপুরের নয়, প্রসঙ্গ বোঝাতে দেওয়া। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশে ঈদুল আজহার একটি পশুর হাট; ছবিটি রংপুরের নয়, প্রসঙ্গ বোঝাতে দেওয়া। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সারা দেশে কোরবানির পশুর হিসাব ও সরকারের প্রস্তুতি


জাতীয় পর্যায়ের হিসাব দিয়েছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা জানায়, ২০২৬ সালের ৩ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ওই বছর কোরবানির জন্য দেশে পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু, আর উদ্বৃত্ত প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি।

মন্ত্রীর দেওয়া হিসাবে কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে ছিল ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া এবং ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী। তিনি জানান, সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে; এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি, মোট ২৭টি হাট। এসব হাটে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়।

ব্রিফিংয়ে আরও কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তবর্তী এলাকায় পশুর হাট না বসানোর নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী। অনলাইনে পশু বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে এবং অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে খাজনা বা হাসিল নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। কোরবানির চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য পেশাদার ও অপেশাদার কসাই এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়। পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

পশুর হাটও বর্জ্যের একটি উৎস। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২০২৬ সালের প্রস্তুতিতে কোরবানির বর্জ্যের পাশাপাশি পশুর হাটের বর্জ্য সরানোর জন্যও আলাদা সরঞ্জাম রাখার কথা বলা হয়, যা পরের অংশে আছে।

একই দিনে ঢাকায় বর্জ্য অপসারণের প্রস্তুতি


রংপুরে প্রশাসকের ঘোষণার দিনই, ২৫ মে সকালে, বাসস ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে; দুপুরে ইত্তেফাকও একই তথ্য প্রকাশ করে। এতে দেশের সবচেয়ে বড় নগর সংস্থাগুলোর একটির পরিকল্পনা দেখা যায়, যা রংপুরের প্রস্তুতি বোঝার একটি মাপকাঠি হতে পারে।

ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের হিসাবে, আগের বছর ঈদুল আজহায় সংস্থাটি মোট ২০ হাজার ৮৮৯ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করেছিল: ঈদের দিন ১০ হাজার ৬১৬ টন, পরদিন ৭ হাজার ৩৫৩ টন এবং তৃতীয় দিন ২ হাজার ৯২২ টন। ২০২৬ সালেও প্রায় একই পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য ধরা হয়। বর্জ্য সরাতে সংস্থার নিজস্ব সাড়ে ৬ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে নিয়োজিত সাড়ে ৪ হাজার কর্মী এবং তদারকির জন্য সাড়ে ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার জনবল রাখার কথা জানানো হয়।

ডিএনসিসির প্রস্তুতির তালিকায় ছিল:

  • বর্জ্য রাখার জন্য ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণ
  • পশুর রক্ত সরানোর পর জীবাণুনাশক হিসেবে ছিটানোর জন্য ২৫ কেজির ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার
  • ভাড়া করা ৪০৫টি, নিজস্ব ২৬১টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৮৬টি মিলিয়ে মোট ৭৫২টি পরিবহনযান
  • গুলশান-২ নগর ভবনে অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম
  • ৫৪টি ওয়ার্ডে এক হাজার মাংস প্রস্তুতকারীকে সঠিকভাবে জবাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ
  • মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে খুতবায় সচেতনতার বার্তা, র‍্যালি, গণমাধ্যম ও মাইকিং

সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন জানান, হাটের বর্জ্য ও কোরবানির বর্জ্য সরানো এবং রাস্তা ধোয়ার জন্য ১ হাজার ৫৪৬টি বেলচা, ১ হাজার ২৮৪টি টুকরি, ১ হাজার ৩৪৮ ক্যান ফিনাইল এবং ৩ হাজার ৯০০ ক্যান স্যাভলনও বিতরণ করা হবে। ঈদের দিন দুপুরে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানানো হয়। রংপুরের প্রতিবেদনে এমন বিস্তারিত তালিকা ছিল না; সেখানে মূল কথা ছিল কর্মীদের ঈদ উপহার আর ১২ ঘণ্টার লক্ষ্য।

ঢাকার বনানীতে রিকশাভ্যানে গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ। ছবি: Kritzolina / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার বনানীতে রিকশাভ্যানে গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ। ছবি: Kritzolina / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ঈদুল আজহা ২০২৬ ও কোরবানির তাৎপর্য


২০২৬ সালের ১৮ মে, সোমবার, সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বৈঠক করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। বাংলা ট্রিবিউন জানায়, বৈঠক শেষে ঘোষণা দেওয়া হয় যে দেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ফলে ২৮ মে বৃহস্পতিবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের চাঁদ দেখার খবর জানান। সে হিসাবে রংপুরের অনুষ্ঠানটি হয়েছিল ঈদের তিন দিন আগে।

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী ঈদুল আজহা নবী ইবরাহীম (আ.), তাঁর স্ত্রী হাজেরা ও ছেলে ইসমাঈলের ত্যাগের স্মৃতিবিজড়িত উৎসব। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য মুসলিমরা এ সময় পশু কোরবানি দেন। দেশে এক কোটির বেশি কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদার এই বছরে সিটি করপোরেশনগুলো ঈদের আগে সময় বেঁধে বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছিল; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যেমন জবাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মাংস প্রস্তুতকারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল, রংপুর সিটি করপোরেশন আগের বছরগুলোতে নগরবাসীকে নির্ধারিত ডাস্টবিনে বর্জ্য ফেলার অনুরোধ জানিয়েছিল।

রংপুর সিটি করপোরেশন ২০২৪ সালে রক্তসহ সব বর্জ্য পরিষ্কারের নির্দেশও দিয়েছিল; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ২০২৬ সালে রক্ত সরানোর পর ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। ২০২৬ সালের ২৫ মে রংপুরে প্রশাসকের বক্তব্যে কর্মীদের প্রতি সেই একই দায়িত্বের কথা বলা হয়: ঈদের আগে ও পরে নগর পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোরবানির পশুর বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে সরানো।

ছবি: Mashkawat.ahsan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা, দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলা ট্রিবিউন, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)