রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। ১১ জুলাই, শনিবার, বৃষ্টিপাত কমে আসায় বিলাইছড়ির রাইখ্যং নদীর পানি ও স্রোত কমতে শুরু করে এবং বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ধীরে ধীরে পানি নামতে থাকে। জাগো নিউজ ২৪ এ খবর প্রকাশ করে ১২ জুলাই। পানি কমায় তলিয়ে যাওয়া ফারুয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা আবার দৃশ্যমান হতে শুরু করে, আর বাঘাইছড়িতে পানিবন্দি বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় দুর্গত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বসতভিটায় ফিরতে শুরু করেন।
বাঘাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমেনা মারজান জাগো নিউজকে জানান, পানি কমতে শুরু করেছে এবং অনেক দুর্গত এলাকায় জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তাঁর হিসাবে তখনো উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ১ হাজার ৪৪৫ জন দুর্গত মানুষ অবস্থান করছিলেন।
রাইখ্যংয়ের স্রোতে বিচ্ছিন্ন ফারুয়া ইউনিয়ন
বিলাইছড়ির দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে ক্ষতি ছিল সবচেয়ে বেশি। দৈনিক ইত্তেফাক ১১ জুলাই জানায়, ভারতের মিজোরাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় দ্বিতীয় দফার ঢলে পুরো ফারুয়া বাজার পানির নিচে চলে যায়; ডুবে যায় বাজারের প্রায় ১৫০টি দোকান। ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বহু পরিবার আশ্রয় নেয়, বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উইকিপিডিয়ার সংকলিত বিবরণ অনুযায়ী ফারুয়া বাজারসহ ১৪টি গ্রামের প্রায় ১১ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছিলেন।
১১ জুলাই রাইখ্যং নদীতে পাহাড়ি ঢল ও তীব্র স্রোতের কারণে ফারুয়ার সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ফলে উপজেলা প্রশাসন সরাসরি ত্রাণ নিয়ে সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন তখন স্থানীয়ভাবে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে ফারুয়ার ১০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করে।
বিলাইছড়ির ইউএনও মো. জাকির হোসেন জাগো নিউজকে জানান, স্রোত কমে আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসন ফারুয়ায় ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে। তিনি বলেন, বৃষ্টি না হলে নিম্নাঞ্চল থেকে দ্রুত পানি সরে যাবে। তাঁর তথ্যমতে, শনিবার রাত পর্যন্ত ফারুয়ার একমাত্র আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৫০ জন আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং প্রশাসন তাঁদের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করে।

জেলাজুড়ে বন্যার চিত্র
ভোরের কাগজের ১২ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী টানা বর্ষণ ও সীমান্তের ওপার থেকে আসা ঢলে বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলা জলমগ্ন হয়, জেলায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হন এবং ৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়।

সীমান্তঘেঁষা দুই উপজেলা
আয়তনে রাঙ্গামাটি দেশের সবচেয়ে বড় জেলা, ৬ হাজার ১১৬ বর্গকিলোমিটারের বেশি; এর ১০টি উপজেলার মধ্যে বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়ি দুটিই ভারতের সীমান্তঘেঁষা। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বিলাইছড়ির জনসংখ্যা ২৯ হাজার ৫৪০, আর ফারুয়া এর চারটি ইউনিয়নের একটি; উপজেলাটির পূর্বে ভারতের মিজোরাম ও মিয়ানমারের চিন রাজ্য। বাঘাইছড়ির জনসংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ২৮৭; এর উত্তরে ত্রিপুরা ও পূর্বে মিজোরাম। জেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে ১৯৬১ সালে তৈরি হয় কাপ্তাই হ্রদ।
ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক ইত্তেফাক, ভোরের কাগজ, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)