সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

প্রকৃতি সংরক্ষণ সবার নৈতিক দায়িত্ব, বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসের আগে আহ্বান

২০২৬ সালের ২৮ জুলাই বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসের আগে জাগো নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়, বন কমে যাওয়া, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে প্রকৃতি রক্ষা কেবল সরকারের নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

প্রকৃতি সংরক্ষণ সবার নৈতিক দায়িত্ব, বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসের আগে আহ্বান
পরিবেশ

২০২৬ সালের ২৬ জুলাই, ২৮ জুলাইয়ের বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসের দুই দিন আগে, জাগো নিউজ ২৪-এর কৃষি ও প্রকৃতি বিভাগে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে লেখক যুক্তি দেন যে প্রকৃতি সংরক্ষণের দায়িত্ব কেবল সরকার বা কোনো সংস্থার নয়, প্রতিটি নাগরিকের। তাঁর মতে আলো, পানি, বাতাস, গাছপালা, পাহাড় ও ফসলের মাঠ সবই সৃষ্টিকর্তার দান, আর এসবের পরিমিত ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। লেখক মনে করিয়ে দেন, অবারিত ফসলের মাঠ, বৈচিত্র্যময় বন আর সবুজে ভরা বাংলাদেশে প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় বন্ধনেই মানুষের জীবন গড়ে উঠেছে।

নগরায়ন, দূষণ ও হারিয়ে যাওয়া বন


প্রবন্ধে বলা হয়, জীবনযাত্রার মান বদলের সঙ্গে চাহিদা বাড়ছে; শিল্পকারখানা, রাস্তাঘাট, উঁচু ভবন ও দ্রুত নগরায়ন সবুজ প্রকৃতিকে সংকুচিত করছে। আপাতদৃষ্টিতে লাভজনক মনে হলেও এতে বনাঞ্চল কমছে, পরিবেশ ভারসাম্য হারাচ্ছে এবং বহু প্রজাতির পাখি ও প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। লেখক মনে করিয়ে দেন, ঝড় ও বন্যার মতো দুর্যোগ থেকে বন মানুষকে কিছুটা রক্ষা করে, অথচ সেই বনই নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে। প্রবন্ধ লেখার সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বন্যাকবলিত ছিল, যাকে তিনি প্রকৃতির প্রতি অবিচার ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবের ফল বলে উল্লেখ করেন।

লেখকের মতে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ ও লাগামহীন দূষণে বাতাসে ক্ষতিকর গ্যাস বাড়ছে, পৃথিবী উষ্ণ হচ্ছে এবং আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। দূষণে পানিতে অক্সিজেন কমে জলজ প্রাণী কষ্ট পায়, বন উজাড় হওয়ায় বন্যপ্রাণী আবাস হারায়, আর এসব পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় মানুষেরই।

প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের মোট ভূমির ২৫ শতাংশ বনভূমি প্রয়োজন, কিন্তু বাংলাদেশে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বন অধিদপ্তরের হিসাবে দেশের বনভূমি মোট আয়তনের ১২.১ শতাংশ, আর কেবল স্থলভাগ ধরলে ১৩.৩ শতাংশ। বন অধিদপ্তর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং সিলভাকার্বনের কারিগরি সহায়তায় ও ইউএসএআইডির অর্থায়নে বাংলাদেশ ফরেস্ট ইনভেন্টরি পরিচালনা করে; ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মাঠ জরিপে ১ হাজার ৮৫৭টি নমুনা প্লটের মধ্যে ১ হাজার ৭৮১টি জরিপ করা হয় এবং ৬ হাজার ৪০০ খানার আর্থসামাজিক জরিপ হয়।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, বন্যা ও লবণাক্ততা


লেখক সতর্ক করেন, বিশ্বজুড়ে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, দাবানল ও খরার মতো দুর্যোগ বাড়ছে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় উপকূলীয় অঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। এই আশঙ্কা আন্তর্জাতিক পরিসরেও উঠে এসেছে: ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে তৎকালীন জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ শতাংশ এলাকা তলিয়ে যেতে পারে এবং ২ কোটি মানুষ গৃহহীন হতে পারে।

২০০৯ সালের ডিসেম্বরে সুন্দরবনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত ম্যানগ্রোভ বন। ছবি: David M. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে সুন্দরবনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত ম্যানগ্রোভ বন। ছবি: David M. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

প্রবন্ধে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনে উপকূলের মাটিতে লবণাক্ততা ও বন্যা বাড়ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য ডেইলি স্টার ২০১৯ সালে জানায়, ১৯৭৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৩৫ বছরে দেশে লবণাক্ততায় আক্রান্ত জমি প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে।

২০১৬ সালে বাংলাদেশে বন্যার দৃশ্য। ছবি: Nahid.rajbd / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
২০১৬ সালে বাংলাদেশে বন্যার দৃশ্য। ছবি: Nahid.rajbd / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

লেখকের প্রস্তাব: দূষণ কমানো ও সামাজিক আন্দোলন


পরিবেশের এই বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রবন্ধে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলা হয়:

  • প্রচলিত জ্বালানির বদলে বায়ু, সৌর ও জলবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো
  • শিল্পকারখানার বর্জ্য পরিশোধন করে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা
  • কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমানো
  • পরিবেশ দূষণ রোধের কাজকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া

লেখক সবাইকে নিজে সচেতন হতে, অন্যকে সচেতন করতে এবং সময় থাকতেই প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, 'প্রকৃতিকে ভালোবাসুন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করুন'। তিনি মনে করিয়ে দেন, মানুষ নিজেও প্রকৃতির অংশ এবং প্রকৃতির মাঝেই তার বসবাস, তাই বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসে প্রকৃতি রক্ষার প্রত্যয়ই হোক সবার।

বগুড়ায় কাটার উপযোগী হয়ে ওঠা ধানের মাঠ। ছবি: Syed Touhid Hassan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
বগুড়ায় কাটার উপযোগী হয়ে ওঠা ধানের মাঠ। ছবি: Syed Touhid Hassan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বন অধিদপ্তর, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), দ্য ডেইলি স্টার

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)