২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল শনিবার সকালে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালীর ডিমের চর এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বনরক্ষীরা। এ সময় হরিণ ধরার জন্য রশি দিয়ে তৈরি প্রায় ৪ হাজার ফুট মালা ফাঁদ জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। বন বিভাগ আটক ব্যক্তির নাম জানিয়েছে ছগির খান (৪০); তিনি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ চরদুয়ানী গ্রামের বাসিন্দা। বন বিভাগের অভিযোগ, তিনি হরিণ শিকারে জড়িত। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও পাঁচজন পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে বিভাগটি। জাগো নিউজ ২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল আটকের খবরটি প্রকাশ করে; আজকের পত্রিকাও ৪ এপ্রিল সুন্দরবনে মালা ফাঁদসহ হরিণ শিকারি আটকের খবর দেয়।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, কচিখালীর ডিমের চরে মালা ফাঁদসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করা হয়েছে এবং রোববার, ৫ এপ্রিল সকালে তাঁকে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হবে। মামলাটি আইনের কোন ধারায় হয়েছে, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। অভিযোগগুলো বন বিভাগের; প্রতিবেদন প্রকাশের দিন পর্যন্ত আটক ব্যক্তির বিচার হয়নি।
বন বিভাগের ভাষ্যে যেভাবে আটক
বন বিভাগ জানায়, শনিবার সকালে কচিখালীর ডিমের চরে নিয়মিত টহলের সময় বনরক্ষীরা বনের ভেতরে মালা ফাঁদ পাতা দেখতে পান। এরপর তাঁরা এলাকায় তল্লাশি চালান এবং বন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেন। ৪ হাজার ফুট মালা ফাঁদের পাশাপাশি মাংস মাপার একটি দাঁড়িপাল্লা, ২ কেজি সাদা পলিথিন, প্লাস্টিকের বস্তা, চাল, ডালসহ আনুষঙ্গিক মালামাল জব্দ করা হয়।
বন বিভাগ জানায়, বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও পাঁচজন পালিয়ে যান। প্রতিবেদনে তাঁদের নাম বলা হয়নি, তাঁদের খোঁজে অভিযান চলছে কি না তা-ও জানানো হয়নি, আর ঘটনাস্থলে কোনো হরিণ ফাঁদে আটকা বা মৃত অবস্থায় পাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে নেই।
সুন্দরবনে হরিণ শিকার কীভাবে চলে, তা বন কর্মকর্তা ও বনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বর্ণনা করেছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্থানীয় গ্রামবাসী ও আগে শিকারের দায়ে দণ্ডিত কয়েকজন প্রথম আলোকে জানান, শিকারিরা সাধারণত দড়ির বোঝা নিয়ে বনে ঢোকে এবং ভেতরেই ফাঁদ তৈরি করে; পরে ফাঁদগুলো বস্তায় ভরে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়, বারবার ব্যবহারের জন্য। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কয়রার বনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা একই পত্রিকাকে বলেন, শিকারিরা জালের সঙ্গে দড়ি নিয়ে জেলের ছদ্মবেশে বনে ঢোকে, সেখানে ফাঁদ পাতে, আর প্রাণী আটকা পড়লে মাংস কেটে লোকালয়ে এনে বিক্রি করে।
কচিখালী ও শরণখোলা রেঞ্জ
কচিখালী সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জে। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া কচিখালীকে টাইগার পয়েন্ট নামে সুন্দরবনের সবচেয়ে বেশি দেখতে যাওয়া জায়গাগুলোর তালিকায় রেখেছে; অন্যগুলো কটকা, হিরণ পয়েন্ট (নীলকমল) ও দুবলার চর। কটকা পর্যটকদের টানে তার প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বন্যপ্রাণীর জন্য, সেখানে একটি বন বিশ্রামাগার ও একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আছে। ২০২৫ সালের জুনের এক প্রতিবেদনে প্রথম আলো কচিখালী এলাকাকে শরণখোলা রেঞ্জের মধ্যে একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে উল্লেখ করে।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবন দুটি বন বিভাগ এবং চাঁদপাই, শরণখোলা, খুলনা ও বুড়িগোয়ালিনী, এই চারটি প্রশাসনিক রেঞ্জে বিভক্ত; এতে ১৬টি ফরেস্ট স্টেশন আছে, আর পুরো বন ৫৫টি কম্পার্টমেন্ট ও ৯টি ব্লকে ভাগ করা। শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের অধীন, আর এই বিভাগ বন অধিদপ্তরের খুলনা সার্কেলের অংশ। সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করা হয় ১৮৭৫ সালে। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) (সংশোধন) আইন, ১৯৭৪-এর অধীনে বনের দক্ষিণাংশে তিনটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়: সুন্দরবন পশ্চিম, সুন্দরবন দক্ষিণ ও সুন্দরবন পূর্ব। ইউনেসকো জানায়, এই তিন অভয়ারণ্যের আয়তন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ হেক্টর এবং এগুলোকে বেশ কয়েকটি বিপন্ন প্রজাতির মূল প্রজননক্ষেত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সমতল দ্বীপের এক নিচু এলাকা, যা অসংখ্য জলপথে কাটা। বলেশ্বর নদ এখানে কিছু মিঠা পানি আনে, তবে বাকি পানি লোনা এবং জোয়ার-ভাটায় ওঠানামা করে। এখানকার সবচেয়ে সাধারণ গাছ সুন্দরী (Heritiera fomes), যার নাম থেকেই সাধারণভাবে সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে বলে ধরা হয়; সুন্দরীর সঙ্গে মিশে আছে গেওয়া ও পশুর।
রেঞ্জটির নাম বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার নামে। ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্য উদ্ধৃত করে বাংলাপিডিয়া জানায়, উপজেলাটির আয়তন ৭৫৬.৬০ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৪, এবং এর বড় একটি অংশ সুন্দরবনের মধ্যে পড়েছে। এর উত্তরে মোরেলগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে মঠবাড়িয়া ও পাথরঘাটা উপজেলা এবং পশ্চিমে মোংলা উপজেলা। প্রধান নদী বলেশ্বর, হরিণঘাটা ও ভোলা; শরণখোলা থানা গঠিত হয় ১৯০৭ সালে। যে বাগেরহাট জেলার আদালতে আটক ব্যক্তিকে পাঠানোর কথা, তার আয়তন ৩ হাজার ৯৫৯.১১ বর্গকিলোমিটার; ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৭৬ হাজার ৯০।

বলেশ্বরের ওপারে পাথরঘাটা
আটক ব্যক্তির নিজ উপজেলা পাথরঘাটা বরগুনা জেলার দক্ষিণ প্রান্তে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, উপজেলাটির আয়তন ৩৮৭.৩৬ বর্গকিলোমিটার, ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯২৭। এর উত্তরে মঠবাড়িয়া ও বামনা উপজেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বরগুনা সদর উপজেলা ও বিষখালী নদী এবং পশ্চিমে শরণখোলা উপজেলা ও হরিণঘাটা নদী। প্রধান নদী বিষখালী, হরিণঘাটা ও বলেশ্বর। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে উপজেলার ৬০.৩ শতাংশ মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি; ধান, ইলিশ ও চিংড়ি এখানকার প্রধান রপ্তানিপণ্য। উল্লেখযোগ্য হাটবাজারের মধ্যে আছে চরদুয়ানী বাজার।
বলেশ্বর নদ পাথরঘাটাকে বন থেকে আলাদা করেছে। ইউনেসকোর বর্ণনায় সুন্দরবন সংরক্ষিত বন পূর্বে বলেশ্বর ও পশ্চিমে হরিণভাঙ্গা নদীর মাঝখানে অবস্থিত। প্রথম আলো ২০২৫ সালের জুনে লেখে, বলেশ্বর নদের পূর্ব পাড়ে পাথরঘাটা উপজেলা আর পশ্চিমে সুন্দরবন, এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী রাতের আঁধারে নদ পার হয়ে শিকারিরা বনে ঢোকে।
বন কর্মকর্তারা এর আগেও এই পারাপারের কথা বলেছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বন বিভাগ প্রথম আলোকে জানায়, পূর্ব বন বিভাগে সবচেয়ে বেশি ফাঁদ পাতা হয় ঢানমারি, জংরা, মরা পশুর, কোকিলমনি ও কচিখালী এলাকায়, আর কচিখালী ও কোকিলমনিতে পাথরঘাটা থেকে আসা লোকজন বলেশ্বর নদ পার হয়ে বনে ঢুকে ফাঁদ পাতে। কারা ফাঁদ পাতে, জানতে চাইলে ডিএফও রেজাউল করিম বলেন, সুন্দরবন এলাকার অনেকের পেশাই হরিণের মাংস বিক্রি; তিনি পাথরঘাটা উপজেলার কয়েকটি এলাকা ও শরণখোলার নাম উল্লেখ করেন, যেখানে তাঁর ভাষায় যুগ যুগ ধরে হরিণ শিকার হয়ে আসছে।
আগের বছরও কচিখালীতে একই ধরনের আটকের ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৫ সালের ৩০ জুন কচিখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকার সুখপাড়া খালসংলগ্ন বনে অভিযান চালিয়ে পাথরঘাটার এক ব্যক্তিকে ৩০০টি মালা ফাঁদ, একটি ছুরি, করাত ও প্লাস্টিকের রশিসহ আটক করে বন বিভাগ, প্রথম আলো জানায়। তখন ডিএফও বলেন, ফাঁদ পাততে আসা আরও দুজন বনের ভেতরে পালিয়ে গেছেন, আর আগের দুই মাসে তিন হাজারের বেশি হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার হয়েছে। ওই আটক হয়েছিল বন বিভাগের তিন মাসের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে; বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিবছর ১ জুন থেকে এই নিষেধাজ্ঞা চলে, তখন বনজীবী, পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে।

মালা ফাঁদ ও অন্যান্য ফাঁদ
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বন বিভাগ প্রথম আলোকে জানায়, সুন্দরবনে হরিণ ধরতে চোরা শিকারিরা চার ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করে, সবগুলোই নাইলনের রশিতে তৈরি। সবচেয়ে বেশি পাতা হয় মালা ফাঁদ:
- মালা ফাঁদ: এক গাছ থেকে রশি টেনে নির্দিষ্ট দূরত্বে আরেক গাছের সঙ্গে বাঁধা হয়, তারপর ওই রশিতে পাশাপাশি মালার মতো অনেকগুলো ফাঁস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
- ছিটকা ফাঁদ: বৃত্তাকারে পাতা ফাঁদ, বসানো হয় একটি একটি করে।
- গলা ফাঁদ: মাটি থেকে অল্প উঁচুতে পাতা ফাঁস, যাতে হরিণের গলা আটকে যায়।
- হাঁটা ফাঁদ: মাটির কাছাকাছি পাতা ফাঁস, যাতে হরিণের পা আটকে যায়।
২০২৫ সালের মে থেকে ডিসেম্বর, এই আট মাসে পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে ৬১ হাজার ১০ ফুট মালা ফাঁদ, ৩৮০টি ছিটকা ফাঁদ, ২ হাজার হাঁটা ফাঁদ ও ২০ ফুট গলা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। পশ্চিম বন বিভাগ জানায়, দুই বছরে তারা উদ্ধার করেছে ১ হাজার ২০০ ফুট মালা ফাঁদ, ১ হাজার ২০০ ফুট গলা ফাঁদ ও ৭৪৮টি হাঁটা ফাঁদ। একই দুই বছরে দুই বিভাগ শিকারিদের কাছ থেকে ১ হাজার ১৪৮ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করে। পূর্ব বিভাগ ৬৯ জনকে আসামি করে ২২টি মামলা করে এবং তাঁদের ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করে; পশ্চিম বিভাগ ১৩০ জনকে আসামি করে ৫০টি মামলা করে, গ্রেপ্তার হন ১৯ জন। প্রথম আলো জানায়, ফাঁদ পাতার সময় হাতেনাতে চোরা শিকারি ধরার ঘটনা পূর্ব বিভাগেই বেশি।
কয়েক দিনের টহলে কী পরিমাণ রশি পাওয়া যায়, তার উদাহরণ ২০২৫ সালের নভেম্বরের অভিযান। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, টানা তিন দিনে বনের বিভিন্ন টহল ফাঁড়ি এলাকা থেকে ৯ হাজার ৪১০ ফুট ফাঁদ উদ্ধার করে বন বিভাগ; এর মধ্যে চরপুটিয়া টহল ফাঁড়ি এলাকা থেকে ৮০০ ফুট লম্বা একটি ফাঁদ এবং আদানি-গুড়গুড়ি বনাঞ্চলে কেওড়া ও গরান গাছের মাঝে টানানো প্রায় ২০০ ফুট মালা ফাঁদ ছিল। একই সপ্তাহে মোংলার পশুর নদের তীরের কানাইনগরে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি ঝুপড়ি থেকে ৩২ কেজি হরিণের মাংস, দুটি মাথা, আটটি পা ও আড়াই হাজার মিটার লম্বা ফাঁদ উদ্ধার হয় এবং একজনকে আটক করা হয়। গ্রামবাসী পত্রিকাটিকে জানান, যেখানে কেওড়াগাছ বেশি সেখানে হরিণের চলাচলও বেশি, আর শিকারিরা হরিণের চলার পথে দড়ি দিয়ে ‘ডোয়া’ নামে লম্বা ফাঁদ পাতে।
বন বিভাগ ফাঁদ খোঁজার পদ্ধতিও বদলেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ডিএফও রেজাউল করিম জানান, এখন ‘প্যারালাল লাইন সার্চিং’ পদ্ধতিতে বনরক্ষীরা সারিবদ্ধভাবে বনের ভেতর হেঁটে টহল দেন, যাতে চিরুনির মতো এগিয়ে দ্রুত ফাঁদ শনাক্ত করা যায়। বাঘ-কুমিরের ঝুঁকি থাকলেও নিয়মিত গণনা করে ও কথা বলতে বলতে এগোলে নিরাপত্তা থাকে বলে তিনি জানান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘হরিণকে বাঁচাতেই হবে, না হলে বাঘও বাঁচবে না।’ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি জানান, পূর্ব বিভাগের দুটি স্মার্ট প্যাট্রল টিম আছে, মাসে দুটি টহল হয়, আর একবার টহলে গেলে টানা দুই সপ্তাহ থাকতে হয়; পশ্চিম বিভাগেরও এমন দুটি দল আছে।

আগের কয়েক মাসে ফাঁদে আটকা হরিণ ও আটকের ঘটনা
কচিখালীর এই আটকের আগে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে একের পর এক ফাঁদ উদ্ধারের খবর এসেছে। ১৭ জানুয়ারি খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষকের নেতৃত্বে বানিয়াখালী ফরেস্ট স্টেশন, হড্ডা টহল ফাঁড়ি ও নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশনের কর্মীরা কয়রা উপজেলার হড্ডা গ্রামের কাছে ফুলতলার খালের পাশে হেঁটে টহলের সময় একটি হরিণের ছটফটানি শুনতে পান। একটি মাদি হরিণের এক পা ফাঁদে আটকে দড়ির টানে শরীর ঝুলে ছিল। বনকর্মীরা ফাঁদ কেটে দিলে হরিণটি দৌড়ে বনের গভীরে চলে যায়। ১২ জনের দলটি প্রায় ৬০টি ফাঁদ উদ্ধার করে, যার মধ্যে কিছু মালা ফাঁদও ছিল, তবে কোনো শিকারিকে পাওয়া যায়নি, প্রথম আলো জানায়।
খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শরিফুল ইসলাম পত্রিকাটিকে বলেন, ‘মৃত হরিণের মাংস উদ্ধার কোনো কৃতিত্ব নয়। শিকার হওয়ার আগেই হরিণকে রক্ষা করতে পারাটাই আমাদের সফলতা।’ তিনি জানান, শিকারি এবং মাংসের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, আর শিকারিদের ধরতে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ২ মার্চ হায়াতখালী টহল ফাঁড়ির কর্মীরা কেয়াবুনিয়া খালসংলগ্ন বনে ফাঁদে আটকা একটি অন্তঃসত্ত্বা হরিণ মুক্ত করেন এবং দিনভর টহলে ২৭টি ছিটকা ফাঁদ জব্দ করেন, তবে কোনো শিকারিকে পাওয়া যায়নি। ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এলাকাটি উঁচু হওয়ায় জোয়ারে ডোবে না, তাই হরিণের দল সেখানে আশ্রয় নেয়। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, প্যারালাল লাইন সার্চিং পদ্ধতিতে হেঁটে সহকর্মীরা হরিণটি উদ্ধার করে সুস্থ অবস্থায় বনে ছেড়ে দিয়েছেন।
এক সপ্তাহ পর, ৯ মার্চ, কয়রা ও হায়াতখালী টহল ফাঁড়ির যৌথ দল একই কেয়াবুনিয়া খাল এলাকায় দুটি নৌকা আসতে দেখে। নৌকার লোকজন নৌকা ফেলে ঘন জঙ্গলে পালিয়ে যায়। একটি নৌকা থেকে জবাই করা একটি হরিণ, আরেকটি থেকে ২০টি ফাঁদ, দুটি দা ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। আদালতের নির্দেশে হরিণটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। হাছানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘টহল বাড়ানো হয়েছে বলেই এখন বেশি ফাঁদ উদ্ধার হচ্ছে। অনেক সময় ফাঁদে আটকা পড়া জীবিত হরিণ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়।’ তাঁর ভাষায়, শিকারের পর হরিণ উদ্ধার নয়, শিকারের আগেই রক্ষা করাই লক্ষ্য।
সুন্দরবনের চিত্রা হরিণ
সুন্দরবনে মূলত দুই প্রজাতির হরিণ দেখা যায়, চিত্রা হরিণ ও মায়া হরিণ; এর মধ্যে চিত্রা হরিণের সংখ্যাই অনেক বেশি, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। বাংলাপিডিয়া দেশে পাঁচ প্রজাতির হরিণের কথা বলেছে; এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সাম্বার, সবচেয়ে ছোট মায়া হরিণ। জ্ঞানকোষটি বলছে, সুন্দরবনের চিত্রা হরিণ ছাড়া অন্য প্রজাতিগুলোর সংখ্যা নির্বিচার শিকার, মানুষের হস্তক্ষেপ ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, চিত্রা হরিণ (Axis axis) মাঝারি আকারের হরিণ, কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ৭০ থেকে ৯৫ সেন্টিমিটার। লালচে বাদামি গায়ে সাদা ফোঁটা সারা জীবন থাকে, পিঠ বরাবর একটি গাঢ় দাগ, আর পেট, গলা ও পায়ের ভেতরের দিক সাদা; পূর্ণবয়স্ক হরিণের ওজন প্রায় ৮৫ কেজি। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হরিণের শিং তিন শাখার। একসময় দেশের প্রায় সব বনে থাকলেও বাংলাদেশে এই প্রজাতি এখন মূলত সুন্দরবনেই সীমাবদ্ধ, যেখানে বনের কিনারায় দুই-তিনটি পুরুষসহ ১০ থেকে ৩০টির দলে থাকে, আর কয়েক শ হরিণের জমায়েতও অস্বাভাবিক নয়। এরা ঘাস খায়, বিশেষ করে ১০ সেন্টিমিটারের কম উঁচু সবুজ ঘাস পছন্দ করে। এদের প্রজননের নির্দিষ্ট মৌসুম নেই, প্রজননক্ষমতাও বেশি; প্রায় সাত মাস গর্ভধারণের পর একটি বাচ্চা হয়। জ্ঞানকোষটি বলছে, মাংস ও চামড়ার জন্য নির্বিচার শিকারে ১৯৫০-এর দশক থেকে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।
চিত্রা হরিণ সাধারণত আড়াল থেকে প্রায় ৩০০ মিটারের মধ্যে থাকে, আর ভয় পেলে দৌড়ে পালিয়ে ঘন ঝোপে লুকায়। শিকারি প্রাণী ও প্রতিযোগিতার কারণে বনে এদের আয়ু সাধারণত পাঁচ থেকে দশ বছর। খুব বিস্তৃত এলাকায় অনেক বড় বড় দল থাকায় আইইউসিএনের লাল তালিকায় প্রজাতিটি ‘ন্যূনতম উদ্বেগ’ শ্রেণিতে আছে।
দুই দশকে সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা বেড়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানায়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে হরিণ ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি, যেখানে ২০০৪ সালে ছিল ৮৩ হাজার। খুলনা অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, আগে বনে সারা বছর দস্যুরা থাকত, আর বছরের শেষ দিকে দুবলার চরের রাসমেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ আসত, তখন বিপুল সংখ্যায় হরিণ শিকার হতো। নিয়মিত টহল, দস্যু কমে যাওয়া ও রাসমেলা বন্ধ হওয়ায় শিকার অনেক কমেছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি শুকিয়ে গেলে হরিণের চলাচল বাড়ে, তাই তখন চোরা শিকারিরাও বেশি তৎপর হয়।

হরিণ, বাঘ ও ফাঁদের বিপদ
সুন্দরবনে বাঘের প্রধান খাবার হরিণ। সরকারের ‘টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭)’-এ বলা হয়েছে, কোনো এলাকায় কতটি বাঘ থাকতে পারবে তা নির্ভর করে সেখানে কত হরিণ আছে তার ওপর, আর প্রতিটি বাঘের বিপরীতে অন্তত ৫০০ হরিণ থাকা দরকার। সুন্দরবনে বাঘের মূল খাবার চিত্রা হরিণ, এরপর বন্য শূকর ও মায়া হরিণ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বাঘবিশেষজ্ঞ এম এ আজিজ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি সপ্তাহে একটি বাঘের ৫০ বা ৬০ কেজি ওজনের একটি হরিণ লাগে। ২০২৩ সালে তাঁদের গবেষণায় পর্যাপ্ত হরিণ পাওয়া গিয়েছিল, তবে যে হারে ফাঁদ পাতা হচ্ছে তাতে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এসব ফাঁদে বাঘও আটকা পড়ে। ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব বন বিভাগের মোংলা অংশে শরকির খালের কাছে হরিণ ধরার ছিটকা ফাঁদে আটকে পড়া একটি আহত বাঘ উদ্ধার করে বন বিভাগ। প্রথম আলো জানায়, ২০১২ সালে এমন ফাঁদে আটকে একটি বাঘ পা হারিয়েছিল, আর ২০১৪ সালে ফাঁদ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা আরেকটি বাঘ পরে মারা যায়। টাইগার অ্যাকশন প্ল্যানে হরিণের ফাঁদকে বাঘের অন্যতম হুমকি বলা হয়েছে; এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে হরিণের মাংসের চাহিদা থাকায় অনেক বনজীবী আয়ের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে ফাঁদ পাতেন।
বন বিভাগের সর্বশেষ বাঘ জরিপ, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত হয়, বাংলাদেশের সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘ গুনেছে; ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১৪, আর ২০১৫ সালে ১০৬। ২০২৩ সালের জানুয়ারি, এপ্রিল ও নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের মার্চে বনের ২ হাজার ২৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৬৫৭টি ক্যামেরা ফাঁদ বসিয়ে এবং ১ হাজার ৩০৬ কিলোমিটার খালপাড়ে পায়ের ছাপ গুনে জরিপটি করা হয়। এতে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ২.৬২টি বাঘ এবং ২১টি শাবক বা অপরিণত বাঘ পাওয়া যায়, যেখানে আগের দুই জরিপে এ সংখ্যা ছিল ৫। প্রথম আলো জানায়, সাতক্ষীরা অংশে বাঘ কমার কারণ হিসেবে জরিপ দলটি চোরা শিকারিদের প্রভাব ও বাঘের খাবার হরিণ কমে যাওয়াকে চিহ্নিত করেছে।
হরিণের মাংসের চাহিদা
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন গ্রামে প্রতি কেজি হরিণের মাংস ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় পাওয়া যায়, জেলা শহরে দাম ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা, আর জীবিত হরিণের দাম চাওয়া হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। গরু ও খাসির মাংসের চেয়ে দাম কম হওয়ায় হরিণের মাংসের চাহিদা বাড়ছে বলে তাঁরা জানান; ক্রেতারা অনেক সময় প্রতারণার ভয়ে হরিণ নিজের চোখে না দেখে মাংস কিনতে চান না, তাই শিকারিরা কখনো জীবিত হরিণ লোকালয়ে এনে জবাই করে।
খুলনার সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে যে পরিমাণ হরিণের মাংস ও চামড়া আটক হয়, তার কয়েক গুণ বেশি হরিণ শিকার হয়। তাঁর মতে, অভিযানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাংস বহনকারীরাই ধরা পড়ে, মূল শিকারি ও পাচারকারীরা ধরা পড়ে না, আর যাঁরা আটক হন তাঁরা দুর্বল আইনের কারণে কয়েক দিন পর জেল থেকে ফিরে একই কাজে জড়ান। প্রধান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু শিকারের ঘটনা ঘটলেও তা আগের চেয়ে অনেক কম, তবে অল্প জনবল দিয়ে এত বড় বনে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগকে হিমশিম খেতে হয়।
সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য দিলে সরকার পুরস্কার দেয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, হরিণের ক্ষেত্রে বনের ভেতরের অপরাধ উদ্ঘাটনের তথ্য দিলে ২০ হাজার টাকা এবং বনের বাইরের অপরাধের তথ্যে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা আছে।
ঘটনার দিন বন্যপ্রাণী আইনে যা ছিল
২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সুরক্ষার আইন ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯ নং অধ্যাদেশ), যা ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি জারি হয় এবং সেদিন থেকেই কার্যকর হয়। অধ্যাদেশের ৫৪ ধারায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ রহিত করা হয়; তবে পুরোনো আইনে দায়ের হওয়া মামলা এমনভাবে নিষ্পত্তি হবে যেন তা অধ্যাদেশের অধীনেই দায়ের হয়েছে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে শুধু বন আইনে মামলার কথা বলা হয়েছে; অধ্যাদেশ বা কোনো ধারার উল্লেখ নেই।
অধ্যাদেশের তফসিল ১(খ), যার শিরোনাম ‘রক্ষিত বন্যপ্রাণী’, তাতে চিত্রা হরিণ (Axis axis) ও মায়া হরিণ (Muntiacus muntjak) আছে, সঙ্গে আছে পাড়া হরিণ ও সাম্বার। তফসিলে বলা হয়েছে, গবেষণা বা বৈজ্ঞানিক প্রয়োজন ছাড়া অথবা লাইসেন্স বা পজেশন সার্টিফিকেট ছাড়া এসব প্রাণী কোনো অবস্থাতেই শিকার, উত্ত্যক্ত, পরিবহন, ক্রয়, বিক্রয় অথবা আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না। অধ্যাদেশে ‘শিকার’ বলতে বোঝানো হয়েছে কোনো বন্যপ্রাণীকে হত্যা করা, ধরা, বিষ প্রয়োগ বা অনুরূপ উদ্যোগ, এসব উদ্দেশ্যে তাড়িয়ে নেওয়া, কিংবা আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত করা। সরকারের ‘লজ অব বাংলাদেশ’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পাঠ অনুযায়ী হরিণ শিকারের ফাঁদের সঙ্গে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক বিধানগুলো ছিল:
- ধারা ৪১(৩) ও ধারা ৪৪: তফসিল ১(খ)-এর বন্যপ্রাণী শিকারের শাস্তি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
- ধারা ৪১(৫) ও ধারা ৪৪: পারমিট ছাড়া এমন প্রাণীর মাংস, দেহের অংশ বা ট্রফি সংগ্রহ, দখলে রাখা, ক্রয় বা বিক্রয়ের শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
- ধারা ১৯: অভয়ারণ্য বা জাতীয় উদ্যানে অননুমোদিত প্রবেশ, কোনো বন্যপ্রাণী শিকার, উত্ত্যক্ত করা বা ভয় দেখানো, কিংবা শিকারের উপকরণ, অস্ত্র, রাসায়নিক বা বিষ ব্যবহার নিষিদ্ধ; এই বাধানিষেধ লঙ্ঘনের শাস্তি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড, আর পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
- ধারা ১০: সব বন্যপ্রাণী, এদের দেহের অংশ ও মাংস সরকারের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য; লাইসেন্স, পজেশন সার্টিফিকেট বা পারমিট ছাড়া কেউ বন্যপ্রাণী বা এর অংশ দখলে রাখতে, কিনতে, বিক্রি করতে বা পরিবহন করতে পারবেন না।
- ধারা ৩৬ ও ৩৭: অধ্যাদেশের অধীন কর্মকর্তা, সাব-ইন্সপেক্টরের নিচে নন এমন পুলিশ কর্মকর্তা, পেটি অফিসারের নিচে নন এমন কোস্ট গার্ড কর্মকর্তাসহ উল্লিখিত কর্মকর্তারা বন্যপ্রাণী, মাংস এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র, যানবাহন ও যন্ত্রপাতি জব্দ করতে পারেন, আর আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত সন্দেহে কাউকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করে অযথা দেরি না করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে পারেন।
- ধারা ৪৬ ও ৪৭: ধারা ১৯, ৪১(১), ৪১(২) ও ৪১(৩)-এর অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য এবং দায়রা আদালতে বিচার্য; ধারা ৪১(৪) ও ৪১(৫)-এর অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য; ধারা ১৯, ৪১(১), ৪১(২) ও ৪১(৩) ছাড়া অন্য অপরাধ প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচার্য।
৪৭ ধারা অনুযায়ী, প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালত এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করে না।
ছবি: Ashis Kumar Datta / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ, আজকের পত্রিকা, প্রথম আলো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, লজ অব বাংলাদেশ (লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ), ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার, বাংলাপিডিয়া (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি), উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)