২০২০ সালের ১ জানুয়ারি, নতুন বছরের প্রথম প্রহরে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে নেদারল্যান্ডস সীমান্তের কাছের শহর ক্রেফেল্ডের চিড়িয়াখানায় আগুন লেগে পুরো বানরঘর (এপ হাউস) পুড়ে যায়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, এতে ৩০টির বেশি প্রাণী মারা গেছে, যার মধ্যে ছিল পাঁচটি ওরাংওটাং, দুটি গরিলা, একটি শিম্পাঞ্জি, কয়েকটি ছোট বানর, ফলখেকো বাদুড় ও পাখি। পুলিশের ধারণা, বর্ষবরণ উদযাপনে ওড়ানো ফানুস থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
দমকল বাহিনী প্রথম জরুরি ফোন পায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে। আগুনের পর ১ জানুয়ারি চিড়িয়াখানা বন্ধ রাখা হয়।
ফানুস নিয়ে পুলিশ যা জানায়
ক্রেফেল্ড শহরের অপরাধ তদন্ত পুলিশের প্রধান গার্ড হপম্যান বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, মানুষজন চিড়িয়াখানার কাছে নিচু দিয়ে ফানুস উড়তে দেখেছেন, তারপরই সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা মধ্যরাতের কিছু পরে ভেতরে ছোট আগুন জ্বলা নলাকার কাগজের ফানুস উড়তে দেখার কথা জানান।
তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের কাছে মাটিতে আংশিক পোড়া কয়েকটি ফানুস পান। সাদা কাগজের এসব ফানুস প্রায় ৩৪ সেন্টিমিটার লম্বা, নিচের খোলা মুখে ছোট আগুন ঝোলানো থাকে; কয়েকটিতে হাতে লেখা বার্তাও ছিল। ক্রেফেল্ডসহ জার্মানির বেশির ভাগ অঞ্চলে এ ধরনের ফানুস ওড়ানো বেআইনি।
এপির ২ জানুয়ারির খবরে বলা হয়, পুলিশের সংবাদ সম্মেলনের পর ১ জানুয়ারিই এক মা ও তাঁর দুই প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে নিজেরা পুলিশের কাছে গিয়ে জানান, তাঁরা অনলাইনে কেনা পাঁচটি ফানুস উড়িয়েছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা বলেছেন, জার্মানিতে ফানুস নিষিদ্ধ, তা তাঁরা জানতেন না। অবহেলাজনিত অগ্নিসংযোগের সম্ভাব্য অভিযোগে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছিল। হপম্যান তাঁদের এগিয়ে আসাকে সাহসী সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন।

বেঁচে যায় দুটি শিম্পাঞ্জি
দমকলকর্মীরা আগুন থেকে দুটি শিম্পাঞ্জিকে উদ্ধার করতে পারেন: ৪০ বছর বয়সী স্ত্রী শিম্পাঞ্জি বেলি এবং কমবয়সী পুরুষ শিম্পাঞ্জি লিম্বো। দুটিরই শরীর পুড়ে গিয়েছিল, তবে অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। চিড়িয়াখানার পরিচালক ভলফগ্যাং ড্রেসেন বলেন, এই আগুন থেকে বেলি ও লিম্বোর বেঁচে যাওয়া প্রায় অলৌকিক ঘটনা।
পাশের গরিলা গার্ডেনে থাকা গরিলা কিডোগো ও তার পরিবারের আরও ছয় সদস্য আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ড্রেসেন ঘটনাটিকে ‘অকল্পনীয় ট্র্যাজেডি’ বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, মারা যাওয়া প্রাণীদের অনেকগুলো বুনো পরিবেশে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতির।

ক্রেফেল্ড চিড়িয়াখানা ও বানরঘর
ক্রেফেল্ড চিড়িয়াখানা চালু হয় ১৯৩৮ সালের ২২ মে। প্রায় ১৪ হেক্টর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত চিড়িয়াখানাটিতে বছরে সাধারণত প্রায় চার লাখ দর্শনার্থী আসেন। পুড়ে যাওয়া বানরঘরটি (আফেনট্রোপেনহাউস) চালু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রায় দুই হাজার বর্গমিটারের কাচঘরের মতো এই ভবনে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পরিবেশ রেখে বড় বনমানুষ, ছোট বানর, বাদুড় ও পাখি রাখা হতো। গরিলাদের জন্য আলাদা গরিলা গার্ডেন খোলা হয় ২০১২ সালে।
এপির খবরে বলা হয়, ১৯৭০-এর দশকে তৈরি বানরঘরটিতে ফায়ার ডিটেক্টর বা স্প্রিংকলার ছিল না; তৈরির সময় এগুলো বাধ্যতামূলক ছিল না।

ছবি: DER UNFASSBARE / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সিএনএন, দ্য অ্যাগ্রো নিউজ (অনলাইন ডেস্ক), এবিসি নিউজ (অস্ট্রেলিয়া), সিবিএস নিউজ ও এপি, ফক্স নিউজ ও এপি, গ্লোবাল নিউজ, হাফপোস্ট, উইকিপিডিয়া (ক্রেফেল্ড চিড়িয়াখানা)





মন্তব্য
(০)