গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাঙ্গিচাষিরা ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে লাভের বদলে লোকসানের শঙ্কায় ছিলেন। জাগো নিউজ ২৪-এর গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ৫ এপ্রিল জানান, খরা ও বৃষ্টির অভাবে সে মৌসুমে ফলন আগের বছরের চেয়ে কম হয়েছিল, আর ক্রেতা না থাকায় বাজারে বাঙ্গির দাম পড়ে গিয়েছিল। উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাবে সে বছর কোটালীপাড়ায় ৪৩৪ হেক্টর জমিতে বাঙ্গির চাষ হয়েছিল।
কলাবাড়ি ইউনিয়নের বুরুয়া গ্রামের বাঙ্গিচাষি আলম বিশ্বাস বলেছিলেন, ‘গতবছর প্রকারভেদে একটা বাঙ্গি বিক্রি করছি ৩০ থেকে ৬০ টাকা দামে। কিন্তু এবছর একটা বাঙ্গি ১৫-২০ টাকা করে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রচুর খরা ও বৃষ্টি না হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলনও কম হয়েছে। তারপর আবার দামও কম।’ তাঁর আশঙ্কা ছিল, ওই দামে খরচই উঠবে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলমের মতো শত শত চাষি একই শঙ্কায় ছিলেন।
খরায় ফলন কম, বেড়েছিল খরচ
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যে, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় সে বছর ফলন ভালো হয়নি। একই সময়ে সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাঙ্গি চাষের খরচও বেড়েছিল। ফলে কম ফলন, কম দাম ও বাড়তি খরচ, তিন দিক থেকেই চাপে পড়েছিলেন কৃষকেরা।
হিজলবাড়ী গ্রামের কৃষক মধু বিশ্বাস জানান, আগের বছর বাঙ্গি চাষ করে তিনি বেশ লাভ করেছিলেন এবং এবারও তেমন আশা করেছিলেন। কিন্তু খরা ও বৃষ্টির অভাবে ফলন খারাপ হয়, দামও মেলেনি। তেতুলবাড়ি গ্রামের লোকনাথ মণ্ডল দুই বিঘা জমিতে বাঙ্গি করেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘যে দামে বিক্রি করছি তাতে লাভতো দূরের কথা চালান ঘরে নেওয়াই কষ্ট।’
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার দেবাশীষ দাস জানিয়েছিলেন, কৃষি অফিস থেকে বাঙ্গিচাষিদের সার, বীজ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছিল। তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, সে বছর ফলন একটু দেরিতে আসায় কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছিলেন না।

কালীগঞ্জ বাজারে বেপারী নেই, অলস আড়ত
কোটালীপাড়ার কলাবাড়ি ইউনিয়নের বুরুয়া, মাছপাড়া, নলুয়া, তেতুলবাড়ি ও হিজলবাড়ী গ্রামে বাঙ্গির চাষ সবচেয়ে বেশি। এসব গ্রামের কৃষকদের বছরের আয়ের বড় উৎস তরমুজ ও বাঙ্গি। বাঙ্গি বেচাকেনার জন্য স্থানীয় কালীগঞ্জ বাজারে গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০টি আড়ত। সেখান থেকে বাঙ্গি যায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, খুলনাসহ দেশের নানা এলাকায়।
সে মৌসুমে ওই এলাকাগুলো থেকে বেপারীরা আসছিলেন না। কালীগঞ্জের আড়তদার বিষ্ণু টিকাদার বলেন, প্রতিবছর এ সময়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বেপারীরা বাঙ্গি কিনতে আসতেন, কিন্তু এবার না আসায় আড়তদারদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছিল।

কোটালীপাড়া ও বাঙ্গি ফসল
বাংলাপিডিয়ার তথ্যে, কোটালীপাড়া উপজেলার আয়তন ৩৫৫.৯০ বর্গকিলোমিটার। ঘাঘর ও বিশারকান্দি এর প্রধান নদী, আর জানিহানিয়া খাল ও গোপালগঞ্জ বিল উল্লেখযোগ্য জলাশয়। উপজেলার প্রধান ফলের তালিকায় তরমুজ, ফুটি (বাঙ্গি) ও তাল রয়েছে; প্রধান ফসল ধান, গম, চিনাবাদাম ও মেস্তা।
বাঙ্গি বা ফুটি Cucumis melo প্রজাতির ফল, যে প্রজাতি থেকে নানা জাতের মেলন উদ্ভাবিত হয়েছে। এটি একবর্ষজীবী, মাটিতে লতিয়ে চলা গাছ, যা উষ্ণ আবহাওয়ায় ভালো জন্মায়। এই ফসল উষ্ণ, উর্বর ও পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থাযুক্ত মাটি পছন্দ করে, তবে ডাউনি মিলডিউ ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কাঁচা মেলনের প্রায় ৯০ শতাংশই পানি।

ছবি: Talat 99 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া (কোটালীপাড়া উপজেলা), উইকিপিডিয়া (Cucumis melo)





মন্তব্য
(০)