সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

নগরের জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে ঢাকায় অক্সফাম ও কার্টিনের হাব চালু

শহরের তাপ, দূষণ, বন্যা ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা, নীতি অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন উদ্ভাবনের লক্ষ্যে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ২ জুলাই ঢাকায় নগর জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন হাব চালু করে।

নগরের জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে ঢাকায় অক্সফাম ও কার্টিনের হাব চালু
পরিবেশ

অক্সফাম ইন বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ২ জুলাই, বুধবার ঢাকায় 'আরবান ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন হাব' বা নগর জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন হাবের যাত্রা শুরু করে। বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গবেষণা, নীতি অ্যাডভোকেসি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন উদ্ভাবনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের বিরুদ্ধে শহরের সহনশীলতা গড়ে তোলাই এই হাবের লক্ষ্য। পরদিন জাগো নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত এক লেখায় এই উদ্যোগকে একটি বড় যুক্তির ভেতরে রাখা হয়: শহর, বিশেষ করে ঢাকা, এখন জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকির সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে, আর টেকসই সমাধান খুঁজতে হবে শহরের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই।

জাগো নিউজের লেখায় বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিণতিতে শহরগুলো এক ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি; একই সঙ্গে তারা তাপপ্রবাহ, বায়ুদূষণ, অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকিতে। লেখাটির ভাষায়, ঢাকার মতো মেগাসিটি ঘনবসতি, দূষিত বাতাস ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বহুমাত্রিক সংকটে পড়েছে, যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে। এই প্রতিবেদনে হাব উদ্বোধনে কী বলা হয়েছিল, হাবটি কী করতে চায়, এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ের শুরুতে যেসব পরিসংখ্যান ও কাঠামো নগর জলবায়ু ঝুঁকিকে অগ্রাধিকারের বিষয় করে তুলেছিল, তা তুলে ধরা হলো।

জলবায়ু আলোচনার কেন্দ্রে কেন শহর


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজকেরা হাবের কাজের পেছনের সংখ্যাগুলো তুলে ধরেন। ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ৫৮ শতাংশের বেশি মানুষ শহরাঞ্চলে বাস করে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার ৭০ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে; আর শহরগুলো বৈশ্বিক জ্বালানির ৭৫ শতাংশ ব্যবহার করে এবং ৭০ শতাংশের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করে। আয়োজকেরা আরও বলেন, ২০২৪ ছিল রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ বছর, এবং ঢাকার অনানুষ্ঠানিক বসতির অনেক মানুষসহ শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠী সচ্ছলদের তুলনায় সর্বোচ্চ ১০ গুণ বেশি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে থাকে। জাগো নিউজের লেখাতেও জনসংখ্যা, জ্বালানি ও নিঃসরণের এই সংখ্যাগুলো উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের নিজস্ব জনসংখ্যা হিসাবেও প্রায় একই চিত্র, যদিও সংখ্যাগুলো কিছুটা আলাদা। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ (ইউএন ডেসা) ২০১৮ সালের মে মাসে 'ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস'-এর ২০১৮ সংস্করণে জানায়, বিশ্বের ৫৫ শতাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে বাস করে, এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার ৬৮ শতাংশে উঠবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়। সেখানে বলা হয়, প্রতি আটজনের একজন বাস করে ৩৩টি মেগাসিটিতে, আর ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ১ কোটির বেশি বাসিন্দার মেগাসিটি হবে ৪৩টি। কায়রো, মুম্বাই, বেইজিং ও ঢাকা, প্রতিটিতেই তখন প্রায় ২ কোটি মানুষের বাস ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

ইউএন ডেসার একই প্রকাশনায় বিশ্বের অসম চিত্রও উঠে আসে। উত্তর আমেরিকার ৮২ শতাংশ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৮১ শতাংশ এবং ইউরোপের ৭৪ শতাংশ মানুষ শহরে থাকলেও এশিয়ায় এই হার ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ আর আফ্রিকায় ৪৩ শতাংশ। তবু বিশ্বের শহুরে জনসংখ্যার ৫৪ শতাংশের বাস ছিল এশিয়ায়। ঢাকার অনুষ্ঠানে উদ্ধৃত সংখ্যাগুলো পরের সময়ের এবং ২০১৮ সালের জাতিসংঘ হিসাবের থেকে আলাদা, কিন্তু দুটিই একই প্রবণতা দেখায়: মানুষের ক্রমবর্ধমান অংশ শহরে বাস করে, আর বিশ্বের জ্বালানি ব্যবহার, নিঃসরণ ও জলবায়ু বিপদের সংস্পর্শের বড় অংশও সেখানেই কেন্দ্রীভূত।

ঢাকার রাস্তায় গাড়ি, অটোরিকশা, রিকশা ও পথচারীর সারি। ছবি: ~Pyb / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
ঢাকার রাস্তায় গাড়ি, অটোরিকশা, রিকশা ও পথচারীর সারি। ছবি: ~Pyb / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

শহরের জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে আইপিসিসি যা বলে


জলবায়ু বিজ্ঞান মূল্যায়নকারী জাতিসংঘের সংস্থা আন্তঃসরকার জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (আইপিসিসি) ২০২২ সালে প্রকাশিত ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের দ্বিতীয় কার্যদলের অংশে (প্রভাব, অভিযোজন ও ঝুঁকি) শহর নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে। এর নীতিনির্ধারকদের জন্য সারসংক্ষেপে উচ্চ আস্থার সঙ্গে বলা হয়, শহুরে পরিবেশে পর্যবেক্ষিত জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের স্বাস্থ্য, জীবিকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলেছে। সেখানে বলা হয়, জলবায়ুগত ও অ-জলবায়ুগত নানা বিপদ শহরকে আঘাত করে এবং কখনো একসঙ্গে ঘটে ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়; তাপপ্রবাহসহ চরম গরম শহরে তীব্রতর হয়েছে এবং সেখানে বায়ুদূষণের ঘটনাও বাড়িয়েছে; আর পর্যবেক্ষিত প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রান্তিক শহরবাসীর ওপর, যেমন অনানুষ্ঠানিক বসতির মানুষের ওপর।

সারসংক্ষেপে আরও বলা হয়, চরম ও ধীরগতির ঘটনায় পরিবহন, পানি, পয়োনিষ্কাশন ও জ্বালানি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি, সেবায় বিঘ্ন ও মানুষের কল্যাণহানি ঘটেছে। আইপিসিসির হিসাবে প্রায় ৩৩০ থেকে ৩৬০ কোটি মানুষ এমন পরিস্থিতিতে বাস করে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামনের দিকে তাকিয়ে প্রতিবেদনটি বলে, বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়লে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে শহর, বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জলবায়ু ঝুঁকি দ্রুত বাড়বে, বিশেষ করে যেসব জায়গা আগে থেকেই উচ্চ তাপমাত্রার মুখে, উপকূলে অবস্থিত বা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ; আর নিচু শহর ও বসতিতে জনসংখ্যার পরিবর্তনের কারণে সব পরিস্থিতিতেই মধ্যমেয়াদে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ উপকূলীয় জলবায়ু বিপদের ঝুঁকিতে পড়বে।

সমাধানের দিক থেকে আইপিসিসি বলে, শহুরে বসতি ও অবকাঠামোর নকশা ও পরিকল্পনায় জলবায়ুর প্রভাব ও ঝুঁকি বিবেচনা করা সহনশীলতার জন্য অপরিহার্য, এবং স্থানীয়, পৌর, উপ-জাতীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি এবং আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সম্পদের সহায়তা শহরের রূপান্তরে সাহায্য করে। সরকার, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর অংশীদারত্ব এমনভাবে অবকাঠামো ও সেবা দিতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিবেদনটি আরও লক্ষ করে, বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক ও সামাজিক অবকাঠামোর চেয়ে ভৌত অবকাঠামোয় বেশি অর্থায়ন হয়, এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহরবাসীর আশ্রয় অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বিনিয়োগের প্রমাণ সীমিত।

আইপিসিসির দুটি সিদ্ধান্ত সরাসরি গরমের সঙ্গে জড়িত। খুব উচ্চ আস্থার সঙ্গে প্রতিবেদনটি বলে, গাছ ও অন্যান্য উদ্ভিদ দিয়ে শহর সবুজায়ন স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রা কমাতে পারে; আর উচ্চ আস্থার সঙ্গে বলে, আগাম সতর্কতা ও সাড়াদান ব্যবস্থাসহ 'হিট হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান' চরম গরমের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযোজন উপায়। এতে আরও বলা হয়, শহরে কৃষি ও বনায়ন এবং নদী পুনরুদ্ধারের মতো বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক অভিযোজন শহরাঞ্চলে ক্রমেই বেশি প্রয়োগ হচ্ছে।

২০২৪: রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ বছর


২০২৪ সাল রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ বছর, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এই বক্তব্যের ভিত্তি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সমন্বিত বিশ্লেষণ, যা ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়। ছয়টি আন্তর্জাতিক ডেটাসেট ব্যবহার করে ডব্লিউএমও জানায়, ২০২৪ সালে বিশ্বের গড় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১৮৫০-১৯০০ সালের গড়ের চেয়ে ১.৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, অনিশ্চয়তার সীমা ধনাত্মক-ঋণাত্মক ০.১৩ ডিগ্রি। ছয়টি ডেটাসেটই ২০২৪ সালকে রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে দেখায়, আর ডব্লিউএমও বলে, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দশ বছরই রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ দশটি বছর।

ডব্লিউএমও একই সঙ্গে সতর্ক করে, কোনো একটি বছরে তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি ছাড়ালেই প্যারিস চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি তাপমাত্রা লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে বলা যায় না, কারণ সেই লক্ষ্য মাপা হয় কয়েক দশক ধরে; বিশেষজ্ঞ দলের হিসাবে দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়ন তখন প্রায় ১.৩ ডিগ্রি। জাগো নিউজের লেখা থেকে স্থানীয় সিদ্ধান্তটি আসে: ২০২৪ সালের গরম শহরগুলোর জীবনযাপন ও বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।

ঢাকায় গরম, দূষিত বাতাস ও ঘনবসতি


বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গরম সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয় এপ্রিলে। আল জাজিরা ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল জানায়, আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলামের বরাতে, দেশের তাপপ্রবাহ ২৯তম দিনে পৌঁছেছে, যা ১৯৪৮ সালে সরকারি রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে দীর্ঘ; আগের রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালে ২৩ দিন। মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয় চুয়াডাঙ্গায়, আর আগের সপ্তাহে ঢাকার গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ বছরের গড়ের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি। সেভ দ্য চিলড্রেনের হিসাবে দেশজুড়ে স্কুল বন্ধের সময় প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী ঘরে ছিল।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক আল জাজিরাকে বলেন, এই গরমের পেছনে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং দ্রুত নগরায়ণ, বন উজাড়, জলাশয় কমে যাওয়া ও শীতাতপ যন্ত্রের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের মতো স্থানীয় কারণ। ঢাকার মুগদা হাসপাতালের প্রধান জানান, হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, অবসাদ ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে অনেক রোগী আসছেন।

শহরের বাড়তি গরমের একটি অংশকে বিজ্ঞানীরা বলেন 'আরবান হিট আইল্যান্ড' বা নগর তাপদ্বীপ প্রভাব: নির্মিত এলাকা আশপাশের গ্রামাঞ্চলের চেয়ে বেশি গরম থাকে, কারণ ভূমির উপরিভাগ বদলে যায়, ভবন ও পাকা রাস্তা সূর্যের তাপ শোষণ করে ধরে রাখে, সবুজ ও জলাশয় হারিয়ে যায় এবং বাতাস চলাচল কমে; জ্বালানি ব্যবহারের বর্জ্য তাপও এতে যোগ হয়। গাছপালা ও সবুজ এলাকা ছায়া দিয়ে এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বাতাস ঠান্ডা করে এই প্রভাব কমায়। জলবায়ু পরিবর্তন নগর তাপদ্বীপ সৃষ্টি করে না, তবে ঘন ঘন ও তীব্রতর তাপপ্রবাহ এর প্রভাব আরও বাড়িয়ে দেয়।

ঢাকার বাতাস দ্বিতীয় বোঝা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের '২০২৪ ওয়ার্ল্ড এয়ার কোয়ালিটি রিপোর্ট' অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সবচেয়ে দূষিত দেশ বাংলাদেশ ২০২৪ সালে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। প্রথম আলো ২০২৫ সালের ১২ মার্চ জানায়, ২০২৪ সালে দেশের বাতাসে পিএম২.৫-এর গড় ঘনত্ব ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৭৮ মাইক্রোগ্রাম, ২০২৩ সালে যা ছিল ৭৯.৯, এবং তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক মানদণ্ড ৫ মাইক্রোগ্রামের চেয়ে অন্তত ১৫ গুণ বেশি। ঢাকা ছিল তৃতীয় অবস্থানে, ২০২৩ সালে যা ছিল দ্বিতীয়; ঢাকার গড় ছিল ৭৮ মাইক্রোগ্রাম, আগের বছর ৮০.২। পত্রিকাটি বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের একটি হিসাবও উল্লেখ করে, যাতে বলা হয়, চার ধরনের পরিবেশদূষণে বাংলাদেশে ২ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষের অকালমৃত্যু হয়, যার ৫৫ শতাংশের কারণ বায়ুদূষণ।

ঢাকার আকাশে বায়ুদূষণ। ছবি: Mirza Khalid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার আকাশে বায়ুদূষণ। ছবি: Mirza Khalid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

তৃতীয় চাপ ঘনবসতি। প্রথম আলো ২০২২ সালের জুলাইয়ে জানায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) 'জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২' অনুযায়ী ঢাকা শহরে ১ কোটি ২ লাখের বেশি মানুষ বাস করে: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫৩৭ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৫ জন। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৩ সালের নভেম্বরে জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বরাতে জানায়, দেশের সমন্বিত জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১, যার ৩১.৬৬ শতাংশ শহরে এবং ৬৮.৩৪ শতাংশ গ্রামে বাস করে।

হাব ও এর ছয়টি মূল বিষয়


কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় নগর জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন হাবকে বিশ্ববিদ্যালয়টি ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে, যার উদ্দেশ্য শহরের জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা, অ্যাডভোকেসি, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত কার্যক্রমের একটি প্ল্যাটফর্ম হওয়া। উদ্বোধনে জানানো হয়, হাবের কাজ ছয়টি মূল বিষয় ঘিরে:

  • নগরের তাপ ও দূষণ: শহরের গরম ও দূষিত বাতাস নিয়ন্ত্রণ।
  • জ্বালানি রূপান্তর: নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাত্রা।
  • সবুজ অবকাঠামো: সবুজ ও সহনশীল নগর অবকাঠামো গড়ে তোলা।
  • ভূ-স্থানিক বিজ্ঞান: ঝুঁকি বুঝতে উপগ্রহ, মানচিত্র ও অবস্থানভিত্তিক তথ্যের ব্যবহার।
  • জলবায়ু ন্যায়বিচার: সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য জলবায়ু ন্যায়বিচার ও সামাজিক সাম্য।
  • জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা: জরুরি সাড়াদান ও পূর্বপ্রস্তুতি।

হাবের প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এর দুই প্রধান: অক্সফাম ইন বাংলাদেশের জলবায়ু ন্যায়বিচার ও প্রাকৃতিক সম্পদ অধিকার বিভাগের প্রধান ড. মোহাম্মদ এমরান হাসান এবং কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান। কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় আশরাফ দেওয়ানকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় এর স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেসের গবেষণা পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করে, এবং হাবের কাজ হিসেবে বর্ণনা করে বিশ্ববিদ্যালয়, এনজিও ও কমিউনিটির সঙ্গে যৌথ গবেষণা; তাপজনিত চাপ, নগর বন্যা ও দূষণ নিয়ে প্রায়োগিক গবেষণা; এবং নগর উন্নয়ন নীতিতে অভিযোজন ও প্রশমন কৌশল যুক্ত করায় সহায়তা।

অনুষ্ঠানে দুজন গবেষক তাঁদের কাজ তুলে ধরেন। চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ড. ফেই ইয়াং অনানুষ্ঠানিক বসতিতে নগর তাপজনিত চাপ নিয়ে গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন, আর যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের ড. মো হক তথ্য ও প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। অধিবেশন সঞ্চালনা করেন অক্সফাম ইন বাংলাদেশের ইনফ্লুয়েন্সিং, কমিউনিকেশনস, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের প্রধান মো. সারিফুল ইসলাম। ইউএনবি জানায়, অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সহযোগী ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জাগো নিউজের লেখায় যুক্তি দেওয়া হয়, নগর জলবায়ু সংকট ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলার সময় এসেছে: আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তির সহায়তায় বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ দরকার; অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণ ও সুশাসনের মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি; সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার সম্প্রসারণ প্রয়োজন; এবং কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন উদ্ভাবন ও স্থানীয় উদ্যোগে জোর দেওয়া যায়। জলবায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের বরাতে লেখাটি বলে, শহরগুলো এখন পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু: সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা উদ্ভাবন ও অভিযোজনেরও কেন্দ্র, তাই বিজ্ঞান ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

ঢাকার গুলশানের কড়াইল অনানুষ্ঠানিক বসতি। ছবি: Aditya Kabir / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার গুলশানের কড়াইল অনানুষ্ঠানিক বসতি। ছবি: Aditya Kabir / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা যা বলেন


ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশিস দামলে বলেন, ঢাকা একাধিক পরস্পর-জড়িত সংকটের মুখে, এবং এসব চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আরও গভীর ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেসের প্রধান অধ্যাপক মার্টিন ভ্যান ক্রানেনডংক বলেন, নগরায়ণ ঝুঁকির ধরন নতুন করে গড়ে দিচ্ছে। ঢাকায় সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের উপপ্রধান নায়োকা মার্তিনেজ-বেকস্ট্রম বলেন, নগর উন্নয়ন জলবায়ু সহনশীলতাকে উপেক্ষা করতে পারে না।

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষে বক্তব্য দেন তাদের প্রশাসকেরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বন্যা ও তাপজনিত চাপ মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপের ওপর জোর দেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ অভিযোজনমূলক কৌশল, সমন্বিত নেতৃত্ব এবং কমিউনিটি-চালিত নকশার আহ্বান জানান; জাগো নিউজের লেখাতেও একই কথা আসে, যেখানে বলা হয়, প্রয়োজন অভিযোজিত ও বাস্তবসম্মত কৌশল, বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত নেতৃত্ব এবং কমিউনিটি-নির্ভর নকশা ও পরিকল্পনা।

একটি প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের সরদার এম আসাদুজ্জামান। এতে অংশ নেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের হাসিন জাহান, সুইডেন দূতাবাসের টমাস ভরলুন্ড রিলেনিয়াস, ব্র্যাকের ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের ড. মো. গোলাম রাব্বানী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোহাম্মদ বারাদ হোসেন চৌধুরী। জাগো নিউজের লেখাটি শেষ হয় এই যুক্তিতে যে আজকের জটিল নগর পরিস্থিতিতে জলবায়ু সহনশীলতা কোনো বিলাসিতা নয়, নীতিগতভাবে অপরিহার্য, এবং আগামী দিনের শহরকে টেকসই, নিরাপদ ও মানবিক করতে সমন্বিত ও সহযোগিতামূলক অভিযোজনই একমাত্র পথ।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন


দুই প্রশাসক যে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেগুলোই ঢাকার নাগরিক সেবা চালায়। একক ঢাকা সিটি করপোরেশন বিলুপ্ত হয় স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন বিল ২০১১-এর মাধ্যমে, যা ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর সংসদে পাস হয়; ১ ডিসেম্বর ২০১১ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর অস্তিত্ব শেষ হয় এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু হয়। দুটিই স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯-এর অধীনে চলে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ড, আয়তন প্রায় ১৯৬.২২ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা ও উত্তরা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ড, আয়তন প্রায় ১০৯.২৪ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর রয়েছে।

দুই করপোরেশনের পূর্বসূরি ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট। ১৯৭৮ সালে এটি ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি করপোরেশন এবং ১৯৯০ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন হয়; সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম মেয়র দায়িত্ব নেন ১৯৯৪ সালে। হাব উদ্বোধনের সময় দুই করপোরেশনই সরকার-নিযুক্ত প্রশাসকের অধীনে ছিল, তাই নির্বাচিত মেয়র নয়, প্রশাসকেরাই করপোরেশনের পক্ষে কথা বলেন।

দুর্যোগ ঝুঁকি ও অভিযোজনের কাঠামো


আন্তর্জাতিকভাবে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের পথনির্দেশক 'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন ২০১৫-২০৩০', যা জাপানের সেন্দাইয়ে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনে ২০১৫ সালের মার্চে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো গ্রহণ করে এবং একই বছরের জুনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অনুমোদন করে। এটি হিয়োগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর অ্যাকশনের (২০০৫-২০১৫) উত্তরসূরি। সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কে কাজের চারটি অগ্রাধিকার:

  • দুর্যোগ ঝুঁকি বোঝা।
  • দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
  • সহনশীলতার জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিনিয়োগ।
  • কার্যকর সাড়াদানের জন্য দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি বাড়ানো, এবং পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে 'বিল্ড ব্যাক বেটার' বা আগের চেয়ে ভালোভাবে গড়ে তোলা।

এর সাতটি বৈশ্বিক লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্যোগে মৃত্যু ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো, সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি কমানো, এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বহুবিপদ আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা ও দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্যের প্রাপ্যতা ও সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সূচক ১৩.১.২ দিয়ে মাপা হয়, কতগুলো দেশ এই কাঠামোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

দেশের ভেতরে বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার (ন্যাপ) মেয়াদ ২০২৩ থেকে ২০৫০ সাল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়ার সময় তৎকালীন সরকারপ্রধান বলেন, দেশি ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লাগবে; রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের বরাতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এ খবর দেয় এবং জানায়, পরিকল্পনাটি বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর পরিপূরক হবে। অক্সফাম-কার্টিন হাব নিজেকে এই প্রচেষ্টায় শহর পর্যায়ের একটি অবদান হিসেবে তুলে ধরে: শহরের মুখোমুখি বিপদগুলো ঘিরে গবেষণা, সিটি কর্তৃপক্ষ ও কমিউনিটিকে একসঙ্গে আনা।

দুই অংশীদার প্রতিষ্ঠান


অক্সফাম দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে কাজ করা স্বাধীন বেসরকারি সংস্থাগুলোর একটি আন্তর্জাতিক কনফেডারেশন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধজনিত ক্ষুধা লাঘবে ১৯৪২ সালে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে 'অক্সফোর্ড কমিটি ফর ফেমিন রিলিফ' নামে এর যাত্রা শুরু, আর এর নেতৃত্বে রয়েছে অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল। বাংলাদেশে এর দলে রয়েছে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও প্রাকৃতিক সম্পদ অধিকার বিভাগ, যার প্রধান নতুন হাবের সহ-নেতৃত্বে আছেন।

কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থের বেন্টলিতে অবস্থিত একটি সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি হিসেবে এর শুরু, আর ১৯৮৬ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে আইন পাসের পর এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জন কার্টিনের নামে এর নামকরণ; এটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও মরিশাসে এর ক্যাম্পাস আছে। হাবে কার্টিনের অংশের কেন্দ্র এর স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস, যার প্রধান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

ছবি: Adam Jones / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ইউএনবি, কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তঃসরকার জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (আইপিসিসি, ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদন, দ্বিতীয় কার্যদল, নীতিনির্ধারকদের জন্য সারসংক্ষেপ, ২০২২), বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (১০ জানুয়ারি ২০২৫), জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ (ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০১৮), আল জাজিরা (২৮ এপ্রিল ২০২৪), প্রথম আলো (জুলাই ২০২২ ও ১২ মার্চ ২০২৫), ঢাকা ট্রিবিউন (নভেম্বর ২০২৩), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (ডিসেম্বর ২০২২), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)