সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ফেনীর পরশুরামে বন্যার পানি নামার পর সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

২০২৫ সালের ১১ জুলাই বিকেলে ফেনীর পরশুরাম পৌর এলাকার সলিয়া গ্রামে বন্যার পানি নামার পর রান্নাঘরে বিষধর সাপের কামড়ে রোকেয়া আক্তার রিনা (৪৮) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

ফেনীর পরশুরামে বন্যার পানি নামার পর সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
পরিবেশ

ফেনীর পরশুরাম পৌর এলাকার সলিয়া গ্রামে ২০২৫ সালের ১১ জুলাই শুক্রবার বিকেলে বিষধর সাপের কামড়ে রোকেয়া আক্তার রিনা (৪৮) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। জাগো নিউজ ২৪ সেদিন জানায়, রোকেয়া ওই গ্রামের শফিকুল ইসলাম শহীদের স্ত্রী। কয়েক দিনের বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর রান্না করতে গিয়ে তিনি সাপের কামড়ের শিকার হন।

রান্নাঘরে সাপের কামড়, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু


স্থানীয় ও পরিবার সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যার পানি শুকিয়ে গেলে খাবার রান্না করতে রোকেয়া রান্নাঘরে যান। বিকেল ৫টার দিকে রান্নার সময় ঘরের একটি গর্ত থেকে বিষধর সাপ বের হয়ে তাঁর পায়ে কামড় দেয়। চিৎকার শুনে স্বামী শফিকুল ইসলাম তাঁকে প্রথমে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে চিকিৎসা না নিয়ে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. রেদোয়ান সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জনের ভাষ্য


ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাহয়াত বিন করিমের ভাষ্য ছিল ভিন্ন। তিনি জানান, রোকেয়া আক্তার রিনা পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। এরপর স্বজনরা ফেনীতে নিয়ে চিকিৎসা করাবেন জানিয়ে ছাড়পত্র চান। এর মধ্যে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক অ্যান্টিভেনম প্রস্তুত করতে শুরু করেন। সিভিল সার্জনের ভাষ্যে, অ্যান্টিভেনম প্রস্তুতের পর স্বামী শফিকুল ইসলাম রোগীকে ফেনীতে রেফার করতে বলেন এবং পরবর্তী চিকিৎসা ফেনীতেই করাবেন বলে নিজের সই করা লিখিত কাগজ দেন। ফেনী নেওয়ার পথেই রোগীর মৃত্যু হয়।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় এমন একটি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় এমন একটি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জুলাইয়ের বন্যায় পরশুরাম


পরশুরাম চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী জেলার একটি উপজেলা। এর আয়তন ৯৫ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার; একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলায় ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ১ লাখ ১৩ হাজার ৩১৭ জনের বাস।

২০২৫ সালের জুলাইয়ের শুরুতে ভারী বৃষ্টি ও উজানের পানিতে ফেনীতে বন্যা দেখা দেয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ৮ জুলাই জানায়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফেনী কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়, মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল এবং মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পাঁচ জায়গায় ভেঙে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা প্লাবিত হয়। দ্য ডেইলি স্টার ১১ জুলাই জানায়, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধে ২১টি ভাঙনে পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও সদর উপজেলার একাংশে ১০০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল এবং প্রায় ৭ হাজার মানুষ ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন। বৃষ্টি কমায় সেদিন পরশুরামের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছিল।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পরদিন বাংলাদেশে একটি নদীর চারপাশে প্লাবিত গ্রাম ও খেত। ছবি: Staff Sergeant Val Gempis (USAF) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পরদিন বাংলাদেশে একটি নদীর চারপাশে প্লাবিত গ্রাম ও খেত। ছবি: Staff Sergeant Val Gempis (USAF) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

দেশে সাপের কামড়ের চিত্র


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২৩ সালের জুলাইয়ের জাতীয় জরিপের বরাতে ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, দেশে বছরে চার লাখের বেশি মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং অন্তত ৭ হাজার ৫১১ জন মারা যান; আক্রান্তদের ৯৫ শতাংশ গ্রামের মানুষ। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম না থাকায় অনেক রোগীকে শহরের হাসপাতালে যেতে হয়, এতে চিকিৎসায় দেরি হয়।

পিএলওএস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস সাময়িকীতে ২০১০ সালে প্রকাশিত গ্রামীণ বাংলাদেশের এক গবেষণায় দেখা যায়, ৭১ শতাংশ কামড় লাগে পায়ে বা শরীরের নিচের অংশে, আর ১২ শতাংশ কামড়ের ঘটনা ঘটে ঘরের ভেতরে। গবেষণায় বর্ষাকালের জুলাই মাসে ১৫ শতাংশ কামড়ের ঘটনা পাওয়া যায়।

একটি কালাচ বা কমন ক্রেইট সাপ (Bungarus caeruleus)। ছবি: Davidvraju / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
একটি কালাচ বা কমন ক্রেইট সাপ (Bungarus caeruleus)। ছবি: Davidvraju / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০১৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাণঘাতী সাপের কামড়ের সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা সঠিক অ্যান্টিভেনম, এবং কামড়ের পর যত দ্রুত সম্ভব দিলে এর ফল সবচেয়ে ভালো হয়, কারণ বিষের অনেক প্রভাব পরে আর ফেরানো যায় না। সংস্থাটির পরামর্শ:

  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্থির রাখুন, নড়াচড়া করতে দেবেন না।
  • দেরি না করে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিন; সম্ভব হলে স্ট্রেচারে কাত করে শুইয়ে।
  • সরু শক্ত বাঁধন দেবেন না, ক্ষতস্থান কাটবেন না, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের মতো রাসায়নিক লাগাবেন না।
  • বাড়ির আশপাশ, চলাচলের পথ ও শিশুদের খেলার জায়গার ঘাস ছোট ও পরিষ্কার রাখুন।

ছবি: Thomas Jaehnel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ঢাকা ট্রিবিউন, পিএলওএস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)