সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

টেকনাফে বাড়ি থেকে মেছো বাঘের বাচ্চা উদ্ধার, সেদিনই বনে অবমুক্ত

কক্সবাজারের টেকনাফের নাইট্যংপাড়ায় একটি বাড়িতে স্থানীয়দের জালে ধরা পড়া একটি পুরুষ মেছো বাঘের বাচ্চা ২০২৩ সালের ২২ মে উদ্ধার করে বন বিভাগ, আর সেদিন বিকেলেই বেতবাগান-সংলগ্ন সায়রন খাল এলাকায় সেটিকে অবমুক্ত করা হয়।

টেকনাফে বাড়ি থেকে মেছো বাঘের বাচ্চা উদ্ধার, সেদিনই বনে অবমুক্ত
পরিবেশ

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার পাহাড়-সংলগ্ন নাইট্যংপাড়ার একটি বাড়ি থেকে ২০২৩ সালের ২২ মে, সোমবার, একটি পুরুষ মেছো বাঘের বাচ্চা উদ্ধার করে বন বিভাগ, আর সেদিন বিকেলেই সেটিকে বনে অবমুক্ত করা হয়। বেলা ১১টার দিকে মোহাম্মদ শাহ এমরানের বাড়িতে খেলার সময় শিশুরা প্রাণীটিকে দেখতে পায়; এরপর স্থানীয়রা জাল দিয়ে সেটিকে ধরে বন বিভাগে খবর দেন। কর্মকর্তাদের হিসাবে বাচ্চাটির বয়স এক থেকে দেড় বছর। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সরওয়ার আলম উদ্ধার ও অবমুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বন বিভাগের টেকনাফ সদর রেঞ্জের আওতায় বেতবাগান-সংলগ্ন সায়রন খাল এলাকায় প্রাণীটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

যেভাবে উদ্ধার হলো


২০২৩ সালের ২২ মে চারটি সংবাদমাধ্যম ঘটনাটির খবর দেয়: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, দৈনিক ইত্তেফাক ও সাম্প্রতিক দেশকাল। চারটি প্রতিবেদনেই ঘটনাক্রম এক। শিশুরা প্রথমে প্রাণীটিকে দেখে হইচই করে, প্রতিবেশীরা জড়ো হন, তারপর লোকজন জাল দিয়ে সেটিকে ধরে বন বিভাগকে জানান। বনকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে প্রাণীটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে যান। টেকনাফ সদর বিটের বন কর্মকর্তা আবুল কালাম প্রথম আলো ও সাম্প্রতিক দেশকালকে জানান, কার্যালয়ে বাচ্চাটিকে মাছ খেতে দেওয়া হয়েছিল, আর সেটিকে দেখতে সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।

আবুল কালামের বর্ণনায়, প্রাণীটি পুরুষ; উচ্চতা প্রায় দেড় ফুট, দৈর্ঘ্য আড়াই ফুট; গায়ে ডোরাকাটা দাগ, লোম ধূসর, মুখ দেখতে বিড়ালের মতো। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাড়িটি টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যং পাহাড়ের কাছের নাইট্যংপাড়া এলাকায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জায়গাটির নামের বানান ভিন্ন ভিন্নভাবে লেখা হয়েছে; বাংলাপিডিয়ার টেকনাফ উপজেলা ভুক্তিতে নাইট্যং পাহাড়কে একটি বৌদ্ধ মন্দিরের স্থান হিসেবে উল্লেখ করা আছে।

ডিএফও সরওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, "প্রথমে আমরা মেছো বাঘের বাচ্চাটি উদ্ধার করে এনে একটি কক্ষে রেখে পর্যবেক্ষণ করেছি।" কর্মকর্তারা দেখেন প্রাণীটি সুস্থ, তাই তাঁর নির্দেশে সেদিন বিকেলেই সেটিকে অবমুক্ত করা হয়; প্রথম আলোর হিসাবে সময়টি ছিল বিকেল ৩টার দিকে। প্রথম আলো ও সাম্প্রতিক দেশকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিএফওর ধারণা, অবাধে বনজঙ্গল উজাড় হওয়ায় খাদ্যসংকটে পড়ে বাচ্চাটি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল।

প্রতিবেদনগুলো প্রাণীটিকে বাচ্চা বলেছে, তবে কর্মকর্তাদের দেওয়া বয়সটি বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করে। মেল ও ফিওনা সানকুইস্টের সহায়ক গ্রন্থ ‘ওয়াইল্ড ক্যাটস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ অনুযায়ী, মেছো বাঘ প্রায় সাড়ে আট মাস বয়সে পূর্ণবয়স্কের আকার পায়, ১১ মাসের মধ্যে পূর্ণবয়স্কের শ্বদন্ত গজায় এবং প্রায় ১৫ মাসে প্রজননক্ষম হয়। অর্থাৎ এক থেকে দেড় বছর বয়সী প্রাণীটি পূর্ণবয়স্কের আকার পাওয়ার বয়স আগেই পেরিয়ে এসেছিল, যা বিট কর্মকর্তার দেওয়া মাপের সঙ্গেও মেলে।

সমুদ্র থেকে দেখা টেকনাফ উপদ্বীপের স্তরে স্তরে পাহাড় ও বন, গোধূলির আলোয়। ছবি: Emonjnu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সমুদ্র থেকে দেখা টেকনাফ উপদ্বীপের স্তরে স্তরে পাহাড় ও বন, গোধূলির আলোয়। ছবি: Emonjnu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

মেছো বাঘ কেমন প্রাণী


মেছো বাঘ (বৈজ্ঞানিক নাম Prionailurus viverrinus) দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাঝারি আকারের একটি বন্য বিড়াল। ইংরেজ প্রাণিবিদ এডওয়ার্ড টার্নার বেনেট ১৮৩৩ সালে ভারত থেকে পাঠানো একটি চামড়া দেখে প্রজাতিটির বর্ণনা দেন। বাংলায় একে মেছো বিড়াল বা মেছো বাঘ বলা হয়; বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের আট প্রজাতির বন্য বিড়ালের তালিকায় একে রেখেছে। স্থানীয় নামে "বাঘ" থাকলেও এটি বড় বিড়াল বা বাঘ নয়; নিজের গণের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়, আকারে গৃহপালিত বিড়ালের প্রায় দ্বিগুণ।

এর মাথাসহ দেহের দৈর্ঘ্য ৫৭ থেকে ৭৮ সেন্টিমিটার, লেজ ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার। পুরুষের ওজন ৮ থেকে ১৭ কেজি, স্ত্রীর ৫ থেকে ৯ কেজি। গায়ের রং গাঢ় হলদেটে ধূসর থেকে ছাই-ধূসর, তার ওপর কালো রেখা ও ছোপ। পায়ের থাবা আংশিক জালযুক্ত, নখ পুরোপুরি খাপে ঢোকে না। ছোট, ঘন ও স্তরে স্তরে সাজানো লোম পানি আটকাতে সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়; পানির আশপাশে জীবন কাটানোর সঙ্গে এটি একটি অভিযোজন।

এরা ধীরে বয়ে চলা পানির আশপাশের ঘন গাছপালায় ঢাকা জলাভূমিতে থাকে: জলাবন, বিল, মরা নদীর বাঁক বা অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, জোয়ারভাটার খাল ও ম্যানগ্রোভ বন। আইইউসিএনের ২০১৬ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রজাতিটি জলাশয় এবং উঁচু নলখাগড়া ও ঘাসে ঢাকা জলাভূমির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। বেশির ভাগ রেকর্ড নিচু এলাকার, তবে শ্রীলঙ্কায় পাহাড়ি এলাকার জলাভূমিতেও এদের পাওয়া যায়। এরা মূলত নিশাচর; জলধারার কিনারা ধরে শিকার করে, পানি থেকে শিকার ছোঁ মেরে তোলে, কখনো ডুব দিয়েও ধরে, আর শিকারের সময়ের বড় অংশ ওত পেতে অপেক্ষায় কাটায়।

মাছই এদের প্রধান খাবার। ভারতের কেওলাদেও জাতীয় উদ্যানে মল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খাদ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই মাছ। তবে খাবারের ব্যাপারে এরা বাছবিচারহীন; ইঁদুরজাতীয় প্রাণী, পাখি, পোকামাকড়, শামুক-ঝিনুক, সরীসৃপ, ব্যাঙ ও কাঁকড়াও খায়। আইইউসিএনের মূল্যায়নে উদ্ধৃত পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার এক গবেষণার হিসাব, একটি মেছো বাঘ বছরে ৩৬৫ থেকে ৭৩০টি ইঁদুরজাতীয় প্রাণী খায়, আর এর খাদ্যে গবাদি প্রাণী বা হাঁস-মুরগির অংশ ৫ শতাংশেরও কম। আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের লাল তালিকা বলছে, লোকালয়ের কাছে এরা হাঁস, মুরগি, রাজহাঁস এবং ছাগল বা ভেড়ার ছানাও মারতে পারে; মানুষের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত মূলত এখান থেকেই।

বনে এদের মিলন সম্ভবত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে হয়, আর বাচ্চা বেশি দেখা যায় মার্চ ও এপ্রিলে। আবদ্ধ অবস্থায় গর্ভকাল ৬৩ থেকে ৭০ দিন, এক প্রসবে গড়ে দুই বা তিনটি বাচ্চা হয়। জন্মের সময় বাচ্চার ওজন প্রায় ১৭০ গ্রাম; প্রায় দুই মাসে শক্ত খাবার খেতে শুরু করে, ছয় মাসে পুরোপুরি মায়ের দুধ ছাড়ে। নেপালের চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানে রেডিও কলার দিয়ে চালানো এক গবেষণায় তিনটি স্ত্রী মেছো বাঘের বিচরণ এলাকা পাওয়া গেছে ৪ থেকে ৬ বর্গকিলোমিটার, আর একটি পুরুষের ১৬ থেকে ২২ বর্গকিলোমিটার। আইইউসিএন প্রজাতিটির এক প্রজন্মের দৈর্ঘ্য ধরে পাঁচ বছর।

সুন্দরবনে মাছ খাচ্ছে একটি মেছো বাঘ; বাংলাদেশে প্রজাতিটির সবচেয়ে বড় সংখ্যা এই ম্যানগ্রোভ বনেই। ছবি: Anirnoy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সুন্দরবনে মাছ খাচ্ছে একটি মেছো বাঘ; বাংলাদেশে প্রজাতিটির সবচেয়ে বড় সংখ্যা এই ম্যানগ্রোভ বনেই। ছবি: Anirnoy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বিশ্বে ও বাংলাদেশে সংকটে থাকা প্রাণী


আইইউসিএনের লাল তালিকায় মেছো বাঘ "সংকটাপন্ন" (ভালনারেবল) হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল; শমিতা মুখার্জি ও সহকর্মীদের করা এই মূল্যায়নের তারিখ ২০১৬ সালের ২১ জুন। ২০২৩ সালের মে মাসে প্রজাতিটির বৈশ্বিক অবস্থা এটিই ছিল। এর আগে ২০০৮ ও ২০১০ সালে একে "বিপন্ন" (এনডেঞ্জার্ড), ২০০২ সালে "সংকটাপন্ন" এবং ১৯৯৬ সালে "কম ঝুঁকি বা প্রায় সংকটাপন্ন" শ্রেণিতে রাখা হয়েছিল। আইইউসিএন স্পষ্ট করে বলেছে, ২০১৬ সালের এই পরিবর্তন অবস্থার প্রকৃত উন্নতি নয়; এটি কেবল আরও ভালো তথ্যের প্রতিফলন।

২০১৬ সালের মূল্যায়নে ধারণা করা হয়, আবাসস্থল হারানো এবং মানুষের সঙ্গে বিরোধে মেছো বাঘ হত্যার কারণে আগের ১৫ বছরে, অর্থাৎ তিন প্রজন্মে, বিশ্বে এদের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বা তার বেশি কমেছে; পরের ১৫ বছরে আরও ৩০ শতাংশ কমার আশঙ্কাও করা হয়। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং হিমালয়ের পাদদেশের তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলকে প্রজাতিটির জানা প্রধান আশ্রয়স্থল বলা হয়, আর সতর্ক করা হয় যে পরের ১৫ বছরে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপে এদের আবাসস্থলের প্রায় ৩০ শতাংশ স্থায়ীভাবে হারিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশে মূল্যায়নটি সংরক্ষিত সুন্দরবন, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার অরক্ষিত জলাভূমি এবং অল্প কয়েকটি রেকর্ডসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে মেছো বাঘের উপস্থিতি নথিভুক্ত করে, আর সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ও উত্তর-পূর্বের জলাভূমিতে প্রাণীটিকে তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করে।

জাতীয় পর্যায়ে আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালে প্রকাশিত ‘রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ, ভলিউম ২: ম্যামালস’-এ মেছো বাঘকে "বিপন্ন" শ্রেণিতে রাখা হয়; মূল্যায়ন করেন মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ। সেখানে ধারণা করা হয়, আগের দুই দশকে এদের সংখ্যা অর্ধেকের বেশি কমেছে, আর এদের বিচরণ এলাকা ও আবাসস্থলের মান তখনো কমছিল। মূল্যায়নটি জানায়, প্রাণীটি সারা দেশেই আছে: গ্রামাঞ্চলে, বসতবাড়ির বাগানে, প্রাকৃতিক বনে ও জলাভূমিতে; সবচেয়ে বড় সংখ্যা সুন্দরবনে, আর অন্যান্য বনে সংখ্যা কমছে।

দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই এই দুই তালিকা গুলিয়ে ফেলা হয়। ২০২২ সালের মে মাসে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন এবং ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদনসহ কয়েকটি খবরে মেছো বাঘকে বিশ্বব্যাপী বিপন্ন বলা হয়েছে। অথচ ২০১৬ সাল থেকে বৈশ্বিক তালিকায় এটি "সংকটাপন্ন", আর "বিপন্ন" হলো বাংলাদেশের জাতীয় তালিকার শ্রেণি।

বাংলাদেশে মানুষের সঙ্গে সংঘাত


বাংলাদেশে মানুষের সঙ্গে মেছো বাঘের মুখোমুখি হওয়ার সবচেয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালের বসন্তে, আইইউসিএনের প্রজাতি টিকিয়ে রাখা কমিশনের বিড়াল বিশেষজ্ঞ দলের সাময়িকী ‘ক্যাটনিউজ’-এ। সায়েম ইউ চৌধুরী, আবিদা আর চৌধুরী, সাকিব আহমেদ ও সাবির বিন মুজাফফর ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত মেছো বাঘের খবর পর্যালোচনা করেন, প্রতিটি শনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে ছবি যাচাই করেন এবং বন বিভাগের কর্মী ও প্রকৃতি সংরক্ষণকর্মীদের সাক্ষাৎকার নেন। তাঁরা ৮২টি প্রতিবেদন পান। তাঁদের সারণি অনুযায়ী ৩০টির মৃত্যু নিশ্চিত, ১৪টিকে বন বিভাগ উদ্ধার করে ছেড়ে দিয়েছে, আর ৩৮টির পরিণতি জানা যায়নি।

দেশের প্রতিটি বিভাগ থেকেই মেছো বাঘের খবর এসেছে: সিলেট বিভাগ থেকে ১৭টি, খুলনা ও ঢাকা বিভাগ থেকে ১৪টি করে, আর শুষ্ক রংপুর বিভাগ থেকে মাত্র একটি। ৯০ দশমিক ৬ শতাংশ প্রতিবেদনই নভেম্বর থেকে মে মাসের শুষ্ক মৌসুমের। গবেষকদের ধারণা, এই মাসগুলোতে গ্রাম, মাছের খামার ও বিলের মতো জলাভূমির আশপাশে থেকে যাওয়া ছোট জলাশয়ে মেছো বাঘকে শিকার খুঁজতে হয়, যেখানে মানুষও মাছ ধরে।

তাঁরা যেসব মৃত্যুর তথ্য পান, তার প্রায় সবই মানুষের হাতে: দল বেঁধে গ্রামবাসীর পিটুনি, শ্বাসরোধ, ফাঁদ, কিংবা ধরে রাখার পর না খেয়ে মৃত্যু; কখনো মৃত প্রাণী ঝুলিয়ে প্রদর্শনও করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, মানুষ মূলত এই বিশ্বাস থেকে মেছো বাঘ মারে যে এরা গবাদি প্রাণী, মাছ ও হাঁস-মুরগি খেয়ে ফেলে; আর অনেকগুলোকে সম্ভবত ভয়ে বাঘের বাচ্চা বা অন্য মাংসাশী প্রাণী ভেবে ভুল করা হয়েছিল। তাঁদের সিদ্ধান্ত, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া ও খাদ্যসংকট সম্ভবত মেছো বাঘকে লোকালয়ে ঠেলে দেয়, আর সেখানে মানুষ প্রতিক্রিয়ায় এদের মেরে ফেলে।

উদ্ধার করা মেছো বাঘ কোথায় ছাড়া হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলে গবেষণাটি। এতে দেখা যায়, মৌলভীবাজার জেলা থেকে বাচ্চাসহ ১৩টি মেছো বাঘ উদ্ধার করে সবগুলোকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ছাড়া হয়। গবেষকেরা বলেন, ১ হাজার ২৫০ হেক্টরের এই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আধা-চিরসবুজ বন জলাভূমিনির্ভর একটি প্রজাতির জন্য আদর্শ না-ও হতে পারে, আর ধরা পড়ার জায়গা থেকে দূরে ছাড়লে প্রাণীগুলোর মৃত্যুও হতে পারে। তাঁদের সুপারিশ ছিল: সংরক্ষিত এলাকার ভেতরে ও বাইরে মেছো বাঘের সংখ্যা জরিপ, জলাভূমির কাছের জনগোষ্ঠীর জন্য বড় পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম, গ্রামবাসী যাতে মেছো বাঘ দেখলে বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন তার ব্যবস্থা, ক্ষতি কমাতে হাঁস-মুরগির ভালো ঘর, এবং দ্রুত উদ্ধার ও অবমুক্তকরণের প্রশিক্ষণ।

পরের বছরগুলোর খবরে এসব ধারণার কয়েকটির প্রয়োগ দেখা যায়। ২০২২ সালের ১২ মে প্রথম আলো বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলায় ৫৯টি মেছো বাঘ উদ্ধার হয়; এর মধ্যে ৭টি মারা যায়, আর ৫২টিকে জীবিত অবমুক্ত করা হয়, যার ২৬টি বাচ্চা। বেশির ভাগ ধরা পড়ে মাছের খামার, মুরগির খামার, বাড়িঘর ও ধানখেতের কাছে পাতা ফাঁদে। আগে লাউয়াছড়া ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ছাড়া প্রাণীগুলো প্রায়ই খাদ্যসংকটে পড়ে আবার ধরা পড়ত; তাই স্থানীয় মানুষকে প্রাণীটির উপকারিতা বুঝিয়ে এখন যেখান থেকে উদ্ধার, সেখানেই ছাড়া হচ্ছে। বিভাগটির বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সারোয়ার পত্রিকাটিকে বলেন, "এখন আর মেছো বাঘকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে না।"

বাড়িঘরের কাছ থেকে মেছো বাঘের বাচ্চা উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় একটি বাড়ির কাছ থেকে তিন মাস বয়সী চারটি মেছো বাঘের বাচ্চা উদ্ধার করে বন কর্মকর্তারা সেদিন বিকেলেই মুলাগুল বনে ছেড়ে দেন।

টেকনাফ: পাহাড়, নদী ও অভয়ারণ্য


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী টেকনাফ উপজেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে, কক্সবাজার শহর থেকে ৮৬ কিলোমিটার দক্ষিণে। আয়তন ৩৮৮.৬৬ বর্গকিলোমিটার; উত্তরে উখিয়া উপজেলা, দক্ষিণ ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর, আর পূর্বে প্রধান নদী নাফের ওপারে মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্য। উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন: টেকনাফ, বাহারছড়া, সাবরাং, হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপ; আর ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ৪.০৫ বর্গকিলোমিটারের একটি পৌরসভা। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস কৃষি, ৪৪.৯৫ শতাংশ; প্রধান ফসল ধান, পান ও আলু; ২৫৫টি মৎস্য খামারে চিংড়ি চাষ হয়; আর প্রধান রপ্তানিপণ্য সুপারি, পান, মাছ ও লবণ।

উপদ্বীপের পাহাড়ি বন সুরক্ষিত টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) (সংশোধন) আইন ১৯৭৪-এর অধীনে ১৯৮৩ সালে এটিকে গেম রিজার্ভ ঘোষণা করা হয়; আগে এর নাম ছিল টেকনাফ গেম রিজার্ভ। আয়তন ১১ হাজার ৬১৫ হেক্টর; উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন, বাহারছড়া, হ্নীলা, সাবরাং, টেকনাফ সদর ও হোয়াইক্যং জুড়ে এর বিস্তার; পূর্বে নাফ নদী, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর। নাইট্যং পাহাড়, কুদুম গুহা আর প্রায় এক হাজার ফুট উঁচু তৈঙ্গা চূড়া এর উল্লেখযোগ্য স্থান। বাংলাদেশে বুনো এশীয় হাতি দেখা যায় এমন হাতে গোনা কয়েকটি জায়গার একটি এই অভয়ারণ্য। বেতবাগান-সংলগ্ন সায়রন খালের অবমুক্তকরণস্থলটি অভয়ারণ্যের ভেতরে কি না, ২০২৩ সালের মে মাসের প্রতিবেদনগুলোতে তা বলা হয়নি।

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর পাশে টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পাহাড়ি বন। ছবি: Ashif Anam Siddique / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর পাশে টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পাহাড়ি বন। ছবি: Ashif Anam Siddique / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কক্সবাজারের বনের ওপর চাপ


খাদ্যের অভাবে বাচ্চাটি লোকালয়ে এসেছে, ডিএফওর এই ব্যাখ্যা কক্সবাজারের দক্ষিণাঞ্চলের বন নিয়ে কয়েক বছরের সতর্কবার্তার সঙ্গে মেলে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে অন্তত ৬ লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পগুলোর পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আলো জানায়, ইউএনডিপি আশপাশের এলাকায় ১ হাজার ১৫৬ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী গণনা করেছে, যার মধ্যে ৪৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২৪৩ প্রজাতির পাখি, ৫৪ প্রজাতির সরীসৃপ ও ২৭ প্রজাতির উভচর; আর টেকনাফ অভয়ারণ্য, হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান ও প্রস্তাবিত ইনানী জাতীয় উদ্যান ঝুঁকিতে আছে।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া ইউএনডিপির ‘র‍্যাপিড এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, কক্সবাজারের ৬০ হাজার হেক্টর বনভূমির ২৬ হাজার ৬০০ হেক্টর এই আগমনের প্রভাবে পড়েছে, আর উখিয়া, হোয়াইক্যং ও টেকনাফ রেঞ্জের ১ হাজার ৪৮৫ হেক্টর বনভূমি বেদখল হয়েছে, যার ৭০০ হেক্টর ছিল বাগান। আগমন-এলাকার প্রায় অর্ধেক পাহাড় সম্পূর্ণ ন্যাড়া হয়ে গেছে, ১ হাজার ৫০০-র বেশি সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী তাঁদের সুবিধা হারিয়েছেন, আর প্রতিবেদনটি সতর্ক করে যে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ চলতে থাকলে বিস্তীর্ণ বন নিচু ঝোপঝাড়ে পরিণত হতে পারে। হাতির চলাচলের পথের ওপরও ক্যাম্প গড়ে উঠেছিল।

এই দুই প্রতিবেদনের কোনোটিই টেকনাফের মেছো বাঘ নিয়ে গবেষণা নয়, আর ২০২৩ সালের মে মাসের খবরেও এই নির্দিষ্ট প্রাণীটি কেন নাইট্যংপাড়ায় এসেছিল তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে চৌধুরী ও সহকর্মীদের গবেষণা সারা দেশের জন্য একই ধরনের সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল: আবাসস্থল যত নষ্ট ও বেদখল হয়, মানুষ আর মেছো বাঘের সংঘাত তত বাড়ে, আর খাদ্যসংকট প্রাণীগুলোকে গ্রামে ঠেলে দিতে পারে।

কক্সবাজারের বালুখালী ক্যাম্পে একটি পাহাড়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঘর; বসতির জন্য পাহাড়ের গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। ছবি: S. Haiselden (VOA) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
কক্সবাজারের বালুখালী ক্যাম্পে একটি পাহাড়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঘর; বসতির জন্য পাহাড়ের গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। ছবি: S. Haiselden (VOA) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

২০২৩ সালে আইন যা বলত


২০২৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সুরক্ষিত ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ দিয়ে; এটি ২০১২ সনের ৩০ নং আইন, তারিখ ১০ জুলাই ২০১২। আইনের ৬ ধারায় বলা ছিল, লাইসেন্স বা পারমিট ছাড়া কেউ কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করতে পারবেন না। আইনে শিকারের সংজ্ঞাও বিস্তৃত: কোনো বন্যপ্রাণীকে হত্যা করা, ধরা, বিষ প্রয়োগ করা বা অনুরূপ কোনো উদ্যোগ; এসব উদ্দেশ্যে বন্যপ্রাণীকে তাড়িয়ে নেওয়া; এবং কোনো বন্যপ্রাণীকে আহত বা ক্ষতি করা।

৩৯ ধারা অনুযায়ী ৬ ধারা লঙ্ঘনের শাস্তি সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। ৩৬ ও ৩৭ ধারায় বাঘ, হাতি, চিতা বাঘ, লাম চিতাসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রাণী হত্যার জন্য কঠোরতর শাস্তি রাখা হয়েছিল; মেছো বাঘ সেই ধারাগুলোতে নাম ধরে উল্লিখিত প্রজাতির মধ্যে ছিল না। আইনে বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের বিধানও ছিল, যেখানে বিরল, বিপন্ন বা মহাবিপদাপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী আটক বা উদ্ধার করে পুনর্বাসনের জন্য রেখে বংশবৃদ্ধি করা হয়; আর বন্যপ্রাণীর আক্রমণে জানমালের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল।

জাতীয় আইনের বাইরে মেছো বাঘ বিপন্ন বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত কনভেনশন সাইটিসের পরিশিষ্ট ২-এ তালিকাভুক্ত, আর আইইউসিএনের ২০১৬ সালের মূল্যায়নে উল্লেখ আছে, বাংলাদেশে এটি শিকার নিষিদ্ধ। মেছো বাঘের আবাস এমন কয়েকটি জলাভূমি আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ রামসার এলাকা হিসেবে তালিকাভুক্ত, যার মধ্যে বাংলাদেশের সুন্দরবনও আছে। টেকনাফের ঘটনায় যাঁরা প্রাণীটিকে ধরেছিলেন, তাঁরা সেটিকে বন বিভাগের হাতে তুলে দেন; চৌধুরী ও সহকর্মীদের গবেষণা ঠিক এই পদক্ষেপের ওপরই জোর দিয়েছিল, যাতে গ্রামবাসী মেছো বাঘের খবর বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন এবং কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে।

ছবি: Cliff / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, দৈনিক ইত্তেফাক, সাম্প্রতিক দেশকাল, আইইউসিএন লাল তালিকা (মুখার্জি ও সহকর্মী, ২০১৬), আইইউসিএন বাংলাদেশ (রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ, ভলিউম ২: ম্যামালস, ২০১৫), ক্যাটনিউজ (আইইউসিএন এসএসসি ক্যাট স্পেশালিস্ট গ্রুপ, ২০১৫), দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ আইন (লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)