ইথিওপিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় সেচ উন্নয়নে এক নতুন পথ নিয়েছে, যেখানে সিদ্ধান্ত নেন কৃষক নিজে। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, কৃষক-নেতৃত্বাধীন সেচ উন্নয়ন বা ‘ফ্লিড’ কর্মসূচিতে কৃষক এককভাবে বা দলবদ্ধভাবে ঠিক করেন কোন ধরনের ও কত বড় সেচব্যবস্থা তাঁরা চান, এবং তার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ দেন। সরকার নিজে নির্মাণ না করে দিকনির্দেশনা ও সম্পদ দিয়ে সহায়তা করে। কর্মসূচিটির পেছনে আছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলা ‘ইথিওপিয়া ফুড সিস্টেমস রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ (এফএসআরপি)।
বৃষ্টিনির্ভর কৃষি ও আগের সেচ উদ্যোগের দুর্বলতা
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইথিওপিয়ার কৃষি দীর্ঘদিন অনিশ্চিত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল এবং ভয়াবহ খরার সামনে অরক্ষিত। ক্ষুদ্র সেচের আগের চেষ্টাগুলোর বেশির ভাগই ছিল সরকার-চালিত, আর সেগুলো ভেঙে পড়া অবকাঠামো ও এলোমেলো ব্যবস্থাপনার সমস্যায় ভুগেছে।
খরার চাপ কতটা গভীর, তা বোঝা যায় ২০২২ সালের হিসাবে। সে বছরের ২১ জুন পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ২৩০ কোটি ডলারের খাদ্যব্যবস্থা সহনশীলতা কর্মসূচি অনুমোদনের সময় বিশ্বব্যাংক জানায়, দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র খরার কারণে ইথিওপিয়ায় ২ কোটি ২৭ লাখ পর্যন্ত মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন। কর্মসূচির প্রথম ধাপে সহায়তা পায় ইথিওপিয়া ও মাদাগাস্কার; এই ধাপের মোট অর্থায়ন ছিল ৭৮ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

কৃষক বেছে নেন, খরচ ভাগ হয় দুই পক্ষে
বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞায়, কৃষক-নেতৃত্বাধীন সেচ উন্নয়ন হলো এমন প্রক্রিয়া, যেখানে কৃষক এককভাবে বা সম্মিলিতভাবে সেচকৃষি প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন বা সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দেন। ইথিওপিয়ার কর্মসূচিতে যন্ত্রের খরচ ভাগাভাগির হার ঠিক করা আছে:
- সৌরচালিত সেচব্যবস্থা: সরকার ৭০ শতাংশ, কৃষক ৩০ শতাংশ
- ডিজেলচালিত সেচব্যবস্থা: সরকার ৪০ শতাংশ, কৃষক ৬০ শতাংশ
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মালিকানা কৃষকের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করে এবং সমাধানগুলো স্থানীয় প্রয়োজনের সঙ্গে মেলে। কর্মসূচিটি ইথিওপিয়ার ভেতরের সফল পরীক্ষামূলক উদ্যোগ এবং উগান্ডাসহ অন্যান্য আফ্রিকান দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে; লক্ষ্য বিদ্যমান সরকারি উদ্যোগের পরিপূরক হয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা। উগান্ডার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাইক্রো-স্কেল ইরিগেশন প্রোগ্রামেও কৃষক নিজের সেচযন্ত্র কেনেন, আর সরকার যন্ত্রের মোট দামের ২৫ থেকে ৭৫ শতাংশ দেয়, একরপ্রতি সর্বোচ্চ ৭২ লাখ উগান্ডান শিলিং পর্যন্ত।

তিন ধাপে বাস্তবায়ন
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কর্মসূচির প্রথম ধাপ শেষ হয়েছিল। এই ধাপে আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরসহ অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ, বাস্তবায়ন নির্দেশিকা তৈরি, ৯টি অঞ্চলের ১৫৮ জন কর্মীকে ফ্লিডের প্রক্রিয়া ও কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং ১৬টি সেচযন্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করে কর্মসূচির প্রক্রিয়া বোঝানো হয়।
দ্বিতীয় ধাপ তখন চলছিল। কৃষক সমাজে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছিল, আগ্রহী কৃষকেরা প্রকল্পের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নাম নিবন্ধন করছিলেন, যোগ্যতা যাচাইয়ে খামার মূল্যায়ন হচ্ছিল, আর কৃষকেরা যন্ত্রের আনুমানিক দামের ১০ শতাংশ প্রথম কিস্তি হিসেবে জমা দিচ্ছিলেন। তৃতীয় ধাপে যন্ত্রের দরপ্রস্তাব ও অর্থায়ন, বাকি অর্থ জমা, স্থাপন এবং কৃষকদের যন্ত্র চালানো ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে পরীক্ষামূলক পর্যায় এবং পরের অর্থবছরে সারা দেশে পূর্ণ বিস্তার হওয়ার কথা। বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ইথিওপিয়ার ক্ষুদ্র কৃষকদের নেতৃত্বে আধুনিক ও দক্ষ সেচব্যবস্থায় চলা নতুন খামার কার্যক্রম শুরু হবে বলে কর্মসূচিটি আশা করছে।

ছবি: Niels Van Iperen / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বিশ্বব্যাংক, বিশ্বব্যাংক প্রেস বিজ্ঞপ্তি (২১ জুন ২০২২), বিশ্বব্যাংক: ফার্মার-লেড ইরিগেশন ডেভেলপমেন্ট, উগান্ডার কৃষি, পশুসম্পদ ও মৎস্য মন্ত্রণালয়





মন্তব্য
(০)