সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কুষ্টিয়ার ‘ইউটিউব ভিলেজ’ পার্ক থেকে মহাবিপন্ন ঘড়িয়াল ও তিনটি কাছিম উদ্ধার

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার খোকসার শিমুলিয়া ইউটিউব ভিলেজ পার্কের একটি চৌবাচ্চা থেকে প্রায় আড়াই ফুট লম্বা একটি মহাবিপন্ন ঘড়িয়াল ও তিনটি কাছিম উদ্ধার করে বন বিভাগ। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক জেলের জালে ধরা পড়ার পর থেকে ঘড়িয়ালটি সেখানে রাখা ছিল।

কুষ্টিয়ার ‘ইউটিউব ভিলেজ’ পার্ক থেকে মহাবিপন্ন ঘড়িয়াল ও তিনটি কাছিম উদ্ধার
পরিবেশ

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়ায় ইউটিউব ভিলেজ পার্কের ভেতরের একটি চৌবাচ্চা থেকে একটি মহাবিপন্ন ঘড়িয়াল ও তিনটি কাছিম উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়। মাছখেকো এই কুমিরজাতীয় প্রাণীটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় দুই ফুট ছয় ইঞ্চি। পার্কের এক দর্শনার্থীর কাছ থেকে খবর পেয়ে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী বিষয়টি জানালে বন বিভাগ এই উদ্ধার অভিযান চালায়।

উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জগতি বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু বকর সিদ্দিক, খোকসা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম কাজী, সাংবাদিকেরা এবং পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আবু বকর সিদ্দিক জানান, ঘড়িয়াল ও কাছিমগুলো প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।

পার্কের চৌবাচ্চায় যেভাবে এল ঘড়িয়ালটি


জাগো নিউজ ও প্রথম আলো স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে শিমুলিয়ার একটি বিলে এক জেলের মাছ ধরার জালে ঘড়িয়ালটি ধরা পড়ে। বিল হলো প্লাবনভূমির নিচু জলাভূমি। এরপর জেলেরা প্রাণীটিকে শিমুলিয়া ইউটিউব ভিলেজ পার্কের মালিক দেলোয়ার হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেন। জাগো নিউজ দামটিকে নামমাত্র বলে উল্লেখ করেছে; প্রথম আলোর হিসাবে দাম ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা। পার্কের মালিক ঘড়িয়ালটিকে পার্কের ভেতরের একটি চৌবাচ্চায় রেখে দেন। দুটি প্রতিবেদনেই প্রাণীটির অবস্থাকে জরাজীর্ণ বলা হয়েছে।

পরে পার্কে বেড়াতে আসা এক দর্শনার্থী চৌবাচ্চায় ঘড়িয়ালটিকে দেখে সাংবাদিকদের জানান। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দর্শনার্থী বিষয়টি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক সংবাদকর্মীকে জানান, আর সেই সংবাদকর্মী খবরটি খোকসা ও কুষ্টিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেন। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বন বিভাগ পার্কে গিয়ে ঘড়িয়াল ও তিনটি কাছিমকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নেয়।

বন বিভাগকে খবর দেওয়া সাংবাদিক নয়ন জাগো নিউজকে বলেন, একজন দর্শনার্থীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বিষয়টি বন বিভাগকে জানান এবং নির্বাচনের কারণে ঘড়িয়ালটি উদ্ধারে দেরি হয়েছে।

কোনো প্রতিবেদনেই তিনটি কাছিমের প্রজাতি জানানো হয়নি, বন কর্মকর্তারাও প্রজাতির নাম বলেননি। উদ্ধারের পর প্রাণীগুলোকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, কিংবা কবে ও কোথায় অবমুক্ত করা হবে, প্রতিবেদনগুলোতে তা-ও উল্লেখ নেই।

বন কর্মকর্তা ও পার্কের মালিক যা বললেন


উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে মো. আবু বকর সিদ্দিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ইউটিউব ভিলেজ পার্ক থেকে মহাবিপন্ন একটি ঘড়িয়াল ও তিনটি কাছিম উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।’ দ্য ডেইলি স্টার বাংলাকে তিনি বলেন, সেখানকার পর্যটক ও সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এগুলো নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হবে।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ঘড়িয়াল ও কাছিম ধরা, মারা ও সংরক্ষণ করা বেআইনি; এ ক্ষেত্রে তিনি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর কথা উল্লেখ করেন। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার বাংলা তাঁর বরাতে আরও জানায়, পরবর্তী সময়ে বিধি অনুযায়ী পার্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে উদ্ধারের দিন ২০১২ সালের আইনটি আর বলবৎ ছিল না: ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে এর জায়গায় কার্যকর ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬। বন্যপ্রাণী রাখা নিয়ে এর মূল বিধানগুলো নিচে দেওয়া হলো।

পার্কের মালিক দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘অক্টোবর মাসে জেলের জালে ধরা পড়েছিল ঘড়িয়ালটি। ওই জেলেকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে ঘড়িয়ালটি ক্রয় করে পার্কে রেখেছিলাম। তবে এভাবে প্রাণীটিকে রাখা অবৈধ, তা জানা ছিল না।’ দ্য ডেইলি স্টার বাংলাকেও তিনি প্রায় একই কথা বলেন।

জাগো নিউজ ও প্রথম আলোর প্রতিবেদনে কুষ্টিয়া বন বিভাগের বরাতে বলা হয়, মিঠাপানির প্রাণী ঘড়িয়াল ১৯৭০-এর দশক থেকেই মহাবিপন্ন হওয়ার পথে, আর বর্তমানে বাংলাদেশের নদীতে চারটির মতো বড় ঘড়িয়াল টিকে থাকার সম্ভাবনা আছে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা একই হিসাব আবু বকর সিদ্দিকের বরাতে প্রকাশ করে। তবে এই হিসাব কোন জরিপের ভিত্তিতে, কোনো প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি।

শিমুলিয়া, খোকসার ‘ইউটিউব গ্রাম’


খোকসা কুষ্টিয়া জেলার সবচেয়ে ছোট উপজেলা। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, উপজেলাটির আয়তন ১০৪.৮৫ বর্গকিলোমিটার এবং ২০১১ সালের আদমশুমারিতে এর জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫। উপজেলার প্রধান নদী গড়াই। ১৯৮৩ সালে খোকসা থানা উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। এর নয়টি ইউনিয়নের একটি শিমুলিয়া, ২০১১ সালের আদমশুমারিতে যেখানে ৬ হাজার ৪৩৫ জন পুরুষ ও ৬ হাজার ৬৬০ জন নারী ছিলেন। ধান, গম, পাট, আলু ও আখ উপজেলার প্রধান ফসল। পুরো কুষ্টিয়া জেলার আয়তন ১ হাজার ৬০৮.৮০ বর্গকিলোমিটার, ২০১১ সালে জনসংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮; জেলার প্রধান নদী পদ্মা, গড়াই, মাথাভাঙ্গা ও কুমার।

এই গ্রামে ধারণ করা ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর শিমুলিয়া ‘ইউটিউব গ্রাম’ নামে পরিচিতি পায়। ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রথম আলো লেখে, গ্রামের মানুষ পাড়াসুদ্ধ সবার জন্য রান্না করছেন, অভিনব উপায়ে খালে-বিলে মাছ ধরছেন, শিশুদের জন্য বাঁশ-খড় দিয়ে অতিকায় হাতি-ঘোড়া বানাচ্ছেন, আর এসবই ভিডিওতে ধারণ করা হচ্ছে। পর্দার সামনে ও পেছনের সবাই এই গ্রামের মানুষ, আর এই ভিডিও থেকে অনেকের আয়ের পথ তৈরি হয়েছে। চ্যানেল দুটি, ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’ ও ‘ভিলেজ গ্র্যান্ডপা’স কুকিং’, ছিল খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) পড়া এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীর। তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, চ্যানেলের আয় দিয়েই রান্নার খরচ এবং চারজন ভিডিওগ্রাফার ও রাঁধুনিসহ প্রায় ৫০ জন মানুষের বেতন-সম্মানী চলে। অ্যারাউন্ড মি বিডির একটি ভিডিও আট কোটিবারের বেশি দেখা হয়েছিল, আর ভিলেজ গ্র্যান্ডপা’স কুকিংয়ের প্রবীণ রাঁধুনিরা পত্রিকাটিকে জানান, তাঁরা দিনে ৪০০ টাকা করে পান।

২০২২ সালের অক্টোবরে সাপ্তাহিক ঢাকা কুরিয়ার জানায়, অ্যারাউন্ড মি বিডির যাত্রা শুরু ২০১৬ সালে, আর ভিলেজ গ্র্যান্ডপা’স কুকিংয়ের ২০২০ সালের জুলাইয়ে। ‘ইউটিউব ভিলেজ’ নামটি দিয়েছিলেন ‘বেস্ট এভার ফুড রিভিউ শো’ চ্যানেলের মার্কিন খাদ্য পর্যালোচক, যিনি সানি সাইড নামে পরিচিত; ২০২০ সালের শুরুতে তিনি শিমুলিয়ায় আসেন। চ্যানেলের দলটি ৩৫ বিঘা জমিতে একটি ইউটিউব ভিলেজ পার্কও গড়ে তোলে, যা ২০২২ সালের মে মাসে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সেখানে ছিল ফ্যামিলি ট্রেন, প্যাডেল বোট, ফুলের বাগান ও বড় বড় কারুশিল্প, আর গ্রামজুড়ে বাংলা ও ইংরেজিতে পথনির্দেশক ফলক।

কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজার ঘাটে গড়াই নদী। গড়াই খোকসা উপজেলার প্রধান নদী। ছবি: Anup Sadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজার ঘাটে গড়াই নদী। গড়াই খোকসা উপজেলার প্রধান নদী। ছবি: Anup Sadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ঘড়িয়াল: মাছখেকো কুমির


ঘড়িয়াল (Gavialis gangeticus) গ্যাভিয়ালিডি গোত্রের কুমিরজাতীয় প্রাণী এবং জীবিত কুমিরজাতীয় প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে লম্বাগুলোর একটি। প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী ঘড়িয়াল ২.৬ থেকে ৪.৫ মিটার এবং পুরুষ ৩ থেকে ৬ মিটার লম্বা হয়। লম্বা, সরু চোয়াল আর পরস্পর খাঁজে বসা প্রায় ১১০টি ধারালো দাঁতের কারণে এরা মাছ ধরায় বিশেষ পারদর্শী, শিকার না চিবিয়ে আস্ত গিলে ফেলে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের নাকের ডগায় মাটির ঘড়ার মতো একটি ফাঁপা স্ফীত অংশ গজায়, সেই ‘ঘড়া’ থেকেই প্রাণীটির নাম ঘড়িয়াল। এই অংশের সাহায্যে পুরুষ ঘড়িয়াল হিসহিস শব্দ করতে পারে, যা বেশ দূর থেকে শোনা যায়। বাংলায় একে ‘মেছো কুমির’ নামেও ডাকা হয়।

কুমিরজাতীয় প্রাণীদের মধ্যে ঘড়িয়ালই সবচেয়ে বেশি জলনির্ভর। কেবল রোদ পোহাতে আর বালুচরে বাসা বানাতে এরা পানি থেকে ওঠে; প্রাপ্তবয়স্ক ঘড়িয়াল অন্য কুমিরের মতো আধা-খাড়া ভঙ্গিতে ডাঙায় হাঁটতে পারে না। আইইউসিএন বাংলাদেশ ২০১৫ সালে যে ‘রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ’ প্রকাশ করে, তাতে বলা হয়েছে, ঘড়িয়াল গভীর ও খরস্রোতা নদীতে থাকে, তবে যেখানে স্রোত কম, সেই জায়গা বেশি পছন্দ করে। স্ত্রী ঘড়িয়াল নদীর ভাঙা বালুময় পাড়ে ১০ থেকে ৯৬টি, গড়ে প্রায় ৪০টি ডিম পাড়ে; ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৭২ থেকে ৯৬ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। এদের প্রধান খাদ্য মাছ, তবে কাছিম, পাখি ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীও খায়; বাচ্চারা খায় পোকামাকড়, ব্যাঙাচি, ছোট মাছ ও ব্যাঙ। এদের প্রজন্মকাল ধরা হয় ২০ বছর।

বাংলাপিডিয়া ঘড়িয়ালকে লাজুক জলজ সরীসৃপ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা একসময় পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও এদের শাখানদীতে ছড়িয়ে ছিল, কিন্তু এখন খুবই কম দেখা যায়। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, শক্ত বর্মের মতো চামড়ার জন্য ঘড়িয়াল শিকার করা হতো; সেই চামড়া দিয়ে ব্যাগ, জুতা ও সাজসজ্জার জিনিস তৈরি হতো। বাংলাদেশে কুমিরজাতীয় প্রাণী তিনটি: ঘড়িয়াল, লোনাপানির বা মোহনার কুমির এবং মিঠাপানির বা মার্শ কুমির।

একসময় পাকিস্তানের সিন্ধু থেকে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র হয়ে মিয়ানমারের ইরাবতী পর্যন্ত ঘড়িয়ালের বিচরণ ছিল। ১৯৪৬ সালে আনুমানিক ৫ থেকে ১০ হাজার ঘড়িয়াল থাকলেও ২০০৬ সালে প্রাপ্তবয়স্ক ঘড়িয়ালের সংখ্যা ২৫০-এর নিচে নেমে আসে। ১৯৭৬ সালের মধ্যেই প্রাণীটি তার ঐতিহাসিক বিচরণ এলাকার মাত্র ২ শতাংশে টিকে ছিল। ২০০৭ সাল থেকে আইইউসিএনের লাল তালিকায় ঘড়িয়াল ‘মহাবিপন্ন’ (Critically Endangered), আর বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক সনদ সাইটিসের পরিশিষ্ট-১-এ তালিকাভুক্ত। ২০১৯ সালের হিসাবে বিশ্বে সর্বোচ্চ ৯০০টি ঘড়িয়াল ছিল, যার মধ্যে প্রায় ৬০০টি প্রাপ্তবয়স্ক, ছয়টি প্রধান উপগোষ্ঠীতে। ভারত ও নেপাল আশির দশকের শুরু থেকে আবদ্ধ অবস্থায় জন্মানো ঘড়িয়াল নদীতে ছাড়ছে। ঘড়িয়ালের আবাসে পাতা ফাঁসজাল (গিল নেট), বাঁধ, ব্যারাজ, সেচখাল ও তীররক্ষা বাঁধ, পলি জমা, বালু উত্তোলন এবং নদীর পাড়ে চাষাবাদ ও গবাদিপশু চরানোকে সংখ্যা কমার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভারতের আহমেদাবাদের কমলা নেহরু চিড়িয়াখানায় একটি অল্পবয়সী ঘড়িয়াল, ১৯৯৪ সালে তোলা। ছবি: Bernard Dupont / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
ভারতের আহমেদাবাদের কমলা নেহরু চিড়িয়াখানায় একটি অল্পবয়সী ঘড়িয়াল, ১৯৯৪ সালে তোলা। ছবি: Bernard Dupont / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

বাংলাদেশে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে


আইইউসিএন বাংলাদেশ ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ ঘড়িয়ালকে বাংলাদেশে ‘মহাবিপন্ন’ হিসেবে মূল্যায়ন করে; ২০০০ সালের জাতীয় মূল্যায়নেও প্রাণীটি একই শ্রেণিতে ছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়, এর সংখ্যা দিন দিন কমছে, দেশে কোনো প্রজননক্ষম গোষ্ঠী নেই এবং গত কয়েক দশকে আবাসস্থল ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলের পদ্মা, যমুনা ও তিস্তায় ঘড়িয়াল পাওয়া যায়; এর বিস্তৃতির এলাকা (extent of occurrence) ৪৭ হাজার ১০৯ বর্গকিলোমিটার আর বাসের এলাকা (area of occupancy) ৫ হাজার ৯৮৩ বর্গকিলোমিটার।

মূল্যায়নে উদ্ধৃত গণনাগুলোই দেখায়, কত কম ঘড়িয়াল টিকে আছে। ১৯৫৭ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে আনুমানিক ৫২টি, ১৯৯১ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ৩২টি ঘড়িয়ালের হিসাব পাওয়া যায়, আর ২০০০ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে পাওয়া যায় মাত্র একটি বাচ্চা। পদ্মায় ২০০৯-১০ সালে নয়টি, ২০১০-১১ সালে সাতটি এবং ২০১১-১২ সালে পাঁচটি ঘড়িয়াল দেখা যায়। সংখ্যার প্রবণতা নিম্নমুখী বলে উল্লেখ করা হয়।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘড়িয়াল ছাড়া বাংলাদেশের সব মহাবিপন্ন সরীসৃপ কেবল রক্ষিত এলাকাতেই পাওয়া যায়; ঘড়িয়াল থাকে সংরক্ষিত এলাকার বাইরে, খোলা নদীতে। প্রতিবেদনের সুপারিশের মধ্যে ছিল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ঘড়িয়ালের অবশিষ্ট আবাসস্থল রক্ষা এবং চিড়িয়াখানায় প্রজনন, কারণ তখন ঢাকা চিড়িয়াখানায় কেবল পুরুষ আর রাজশাহী ও রংপুর চিড়িয়াখানায় কেবল স্ত্রী ঘড়িয়াল ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের তিন প্রজাতির কুমিরজাতীয় প্রাণীর মধ্যে দুটি হুমকির মুখে, আর একটি, মিঠাপানির কুমির, প্রকৃতি থেকে আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত।

এর আগেও পদ্মা অববাহিকায় জালে ধরা পড়েছে ঘড়িয়াল


দেশের এই অঞ্চলে জেলের জালে ঘড়িয়াল ধরা পড়ার ঘটনা খোকসাতেই প্রথম নয়। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার আমবাড়িয়া চরে পদ্মায় এক জেলের জালে ৪.৪ ফুট লম্বা একটি অল্পবয়সী ঘড়িয়াল আটকা পড়ে; ভয় পেয়ে জেলেরা সেটিকে আঘাত করেন। পরে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের একটি পুকুরে ঘড়িয়ালটিকে ছাড়া হয়। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই পত্রিকা জানায়, পদ্মা থেকে ধরা পড়া দুই ফুট লম্বা একটি ঘড়িয়াল কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক জেলে বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন, এমন সময় সেটি উদ্ধার করা হয়।

২০২২ সালের নভেম্বরে ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে এক জেলের জালে একটি ঘড়িয়াল ধরা পড়ে। বন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেদিনই রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রাণীটিকে নদীতে ছেড়ে দেন। ভেড়ামারা উপজেলা বন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম পত্রিকাটিকে বলেন, বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ীই ঘড়িয়ালটি নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

আবদ্ধ অবস্থায় ঘড়িয়ালের প্রজননের চেষ্টাও বেশ পুরোনো। ২০২৫ সালের এপ্রিলে যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট রাজশাহী চিড়িয়াখানায় প্রজননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন সেখানে জেলের জালে ধরা পড়ার পর উদ্ধার হওয়া দুটি স্ত্রী ঘড়িয়াল ছিল। এর একটিকে ঢাকা চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়, নাম রাখা হয় ‘যমুনা’; আর ঢাকা থেকে একটি পুরুষ ঘড়িয়াল এনে রাজশাহীতে ছাড়া হয়, নাম ‘গড়াই’, সেখানকার স্ত্রী ঘড়িয়ালটির নাম রাখা হয় ‘পদ্মা’। প্রজননের অনুপযোগী পরিবেশের কারণে আট বছরেও কোনো জোড়ার বাচ্চা হয়নি।

২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল রাজশাহীর পবায় সামাজিক বন বিভাগের নার্সারির একটি পুকুরে দেশের প্রথম ঘড়িয়াল প্রজনন কেন্দ্র চালু হয়। আইইউসিএন ও সামাজিক বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে গড়া এই কেন্দ্রে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে আনা একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী ঘড়িয়াল ছাড়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, নদীদূষণ, নাব্যতা হ্রাস, অতিরিক্ত মাছ আহরণ, অবৈধ শিকার, পাচার, ডিম নষ্ট হওয়া ও খাদ্যসংকটের কারণে ঘড়িয়ালের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।

চাপের মুখে মিঠাপানির কাছিম


কাছিম, কচ্ছপ ও টেরাপিন সরীসৃপের টেস্টুডাইনস বর্গের প্রাণী, যাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য খোলস। খোলসের দুটি অংশ: পিঠের দিকের ক্যারাপেস আর পেটের দিকের প্লাস্ট্রন, যা হাড়ের সেতু দিয়ে জোড়া থাকে। রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ অনুযায়ী, কাছিম সাধারণত জলচর ও সর্বভুক, ডিম পাড়তে ডাঙায় ওঠে; কচ্ছপ থাকে ডাঙায়, আর টেরাপিন নদী, পুকুর ও হ্রদের পানিতে এবং পানির কাছে দুই জায়গাতেই থাকে। যেসব কাছিম মৃতদেহ এবং দুর্বল বা রোগা প্রাণী খায়, সেগুলো জলাশয় পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে।

২০১৫ সালে বাংলাদেশে মূল্যায়ন করা ৩০ প্রজাতির কাছিম ও কচ্ছপের মধ্যে ২২টি, অর্থাৎ ৭৩.৩ শতাংশ, হুমকির মুখে: ১৪টি মহাবিপন্ন, চারটি বিপন্ন ও চারটি সংকটাপন্ন। মহাবিপন্ন প্রজাতির মধ্যে আছে কড়ি কাইট্টা বা বেঙ্গল রুফ টার্টল (Batagur kachuga), চিম কাছিম বা সরুমাথা সফটশেল কাছিম (Chitra indica) এবং জাতা কাছিম বা এশীয় দৈত্য সফটশেল কাছিম (Pelochelys cantorii)। কালো কাছিম বা কালো দাগি পুকুর কাছিম (Geoclemys hamiltonii) বিপন্ন; জেলেদের জালে আটকা পড়া, পেশাদার শিকারি, অতিরিক্ত আহরণ ও আবাসস্থল হারানোর কারণে এর সংখ্যা অর্ধেকের বেশি কমে গেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, কাছিম নানাভাবে পানির ওপর নির্ভরশীল বলে শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্যে পানিদূষণ সরাসরি এদের ক্ষতি করে; আর কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষিরাসায়নিক বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে জলাভূমিতে মেশা দ্বিতীয় বড় হুমকি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের অনেক জায়গায় স্থানীয় বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে, তখনকার হিসাবে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকায়, কাছিম বিক্রি হয়; চাহিদা এত বেশি যে প্রকৃতিতে কাছিম দুর্লভ হয়ে পড়েছে, আর সরবরাহ আসে আশপাশের জেলা, এমনকি ভারত থেকেও। নদী, নদী ও প্লাবনভূমির মধ্যে সংযোগ তৈরি করা খাল, বিল, হাওর, পুকুর ও ডোবা দেশের মিঠাপানির কাছিমের প্রধান আবাসস্থল।

বাংলাদেশে তোলা একটি ইন্ডিয়ান রুফড টার্টল (Pangshura tecta)। খোকসায় উদ্ধার হওয়া তিনটি কাছিমের প্রজাতি জানানো হয়নি। ছবি: মহা বিদ্রোহী BUT রণ ক্লান্ত / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
বাংলাদেশে তোলা একটি ইন্ডিয়ান রুফড টার্টল (Pangshura tecta)। খোকসায় উদ্ধার হওয়া তিনটি কাছিমের প্রজাতি জানানো হয়নি। ছবি: মহা বিদ্রোহী BUT রণ ক্লান্ত / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

তখন বলবৎ আইনে যা ছিল


অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ অনুমোদন করে। ২০২৬ সালের ৯ নম্বর এই অধ্যাদেশ ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর জায়গায় কার্যকর হয়। প্রথম আলো জানায়, অধ্যাদেশে ১৬০ প্রজাতির সরীসৃপসহ মোট ১ হাজার ৫৯৯ প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদকে সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন অপরাধীকে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পেয়েছেন বন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স, পজেশন সার্টিফিকেট বা পারমিট ছাড়া কেউ কোনো বন্যপ্রাণী লালন-পালন, আবদ্ধ রাখা, দখলে রাখা, ক্রয়, বিক্রয় বা পরিবহন করতে পারবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে, হাট-বাজারে বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্যপ্রাণী কেনাবেচা করা যাবে না, আর সব বন্যপ্রাণী, এদের দেহের অংশ ও মাংস সরকারের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। ৪৪ ধারা অনুযায়ী, ১০ ধারা লঙ্ঘনের শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

প্রথম আলো ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জানায়, ২০১২ সালের আইনে চিতা বাঘ, লামচিতা, কুমির, ডলফিন, সাম্বার হরিণ, তিমি ও উল্লুকের সঙ্গে ঘড়িয়াল হত্যার শাস্তি ছিল সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড, আর দ্বিতীয়বার একই অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড; নতুন অধ্যাদেশেও তা বহাল রাখা হয়েছে। পত্রিকাটি আরও জানায়, বাঘ ও হাতির পাশাপাশি অধ্যাদেশের তফসিল ১(খ)-তে থাকা ২৫০ প্রজাতির যেকোনো বন্যপ্রাণী হত্যা আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধ করা হয়েছে।

উদ্ধারের পর কী হবে, আইনে তারও বিধান আছে। ১৪ ধারা অনুযায়ী, উদ্ধার করা, জব্দ করা বা ধরা পড়া বন্যপ্রাণীকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে হবে; তবে প্রাণীটির মাধ্যমে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকলে বা এর শুশ্রূষার প্রয়োজন হলে আবদ্ধ রাখা যাবে। ৩৪ ধারা বন অধিদপ্তরকে বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা, খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তার জন্য উদ্ধার কেন্দ্র স্থাপনের এবং সেখান থেকে প্রাণীকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার নির্দেশিকা তৈরির ক্ষমতা দিয়েছে।

ছবি: User Greverod on sv.wikipedia / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, যুগান্তর, ঢাকা কুরিয়ার, আইইউসিএন বাংলাদেশ (রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ, চতুর্থ খণ্ড: সরীসৃপ ও উভচর, ২০১৫), বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া, লজ অব বাংলাদেশ (লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)