সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

রামুতে বন্যহাতির পালের আক্রমণে মা ও শিশুকন্যার মৃত্যু

২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল ভোরে কক্সবাজারের রামু উপজেলার পশ্চিম খুনিয়াপালংয়ের সৈয়দ কলোনিতে তিনটি বন্যহাতির একটি পাল ঢুকে পড়লে তাদের আক্রমণে এক নারী ও তাঁর শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। বন বিভাগ জানায়, পালটিকে গভীর বনে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

রামুতে বন্যহাতির পালের আক্রমণে মা ও শিশুকন্যার মৃত্যু
পরিবেশ

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নে বন্যহাতির একটি পালের আক্রমণে এক নারী ও তাঁর শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ভোরে তিনটি হাতির পালটি পশ্চিম খুনিয়াপালংয়ের সৈয়দ কলোনি নামে পরিচিত একটি বসতিতে ঢুকে পড়ে, কয়েকটি বসতঘরের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং গাছপালা উপড়ে দেয়। ওই নারীর স্বামী দম্পতির ছয় বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে সরে যেতে পারলেও মা ও মেয়ে হাতির সামনে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে, আর বন বিভাগ জানায়, হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে পাঠানো হয়েছে।

একই দিনে জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, যুগান্তর ও দৈনিক ইত্তেফাক ঘটনাটির খবর প্রকাশ করে। নিচের বিবরণ সেসব প্রতিবেদন অনুসরণ করে লেখা। নিহত মা ও মেয়ের নাম এখানে দেওয়া হয়নি, কারণ পত্রিকাগুলো তাঁদের নাম ও বয়স ভিন্ন ভিন্নভাবে লিখেছে এবং তাঁদের একজন ছিল ছোট শিশু।

সৈয়দ কলোনিতে যেভাবে আক্রমণ ঘটে


স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের জানান, ভোরের দিকে হঠাৎ করে হাতির পালটি বসতিতে ঢুকে পড়ে। হাতিগুলো কয়েকটি বসতঘরের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে দেয়, ফলে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে সামান্য পার্থক্য ছিল। জাগো নিউজ ২৪ সময়টি ভোর সাড়ে ৫টার দিকে, বাংলা ট্রিবিউন ও যুগান্তর ভোর ৫টার দিকে এবং প্রথম আলো ভোর সোয়া ৫টার দিকে উল্লেখ করে। দৈনিক ইত্তেফাক অবশ্য আরও আগের সময়ের কথা লেখে: বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে।

স্থানীয় মাদরাসাশিক্ষক জুবাইরুল ইসলাম জাগো নিউজ ২৪ ও বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মানুষের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে একরাম মিয়া ও তাঁর স্ত্রী ঘর থেকে বের হন, তাঁদের সঙ্গে ছিল দুই সন্তান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে একরাম মিয়া ছয় বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হন, কিন্তু তাঁর স্ত্রী ও ছোট মেয়ে হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল উদ্দিনের বরাতে ইত্তেফাক জানায়, দুটি হাতি পরিবারটির দিকে তেড়ে এলে বাবা ছেলেকে নিয়ে বাড়ির পেছনে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

প্রথম আলো একই মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দিয়েছে বাবার দিক থেকে। পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকজনের চিৎকার শুনে ৩৫ বছর বয়সী একরাম মিয়া স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েই হাতির পালের সামনে পড়েন। হাতির কাছাকাছি থাকা ছেলেকে কোলে নিয়ে তিনি দৌড়ে নিরাপদ দূরত্বে চলে যান এবং সেখান থেকে দেখেন, হাতিগুলো তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের ওপর আক্রমণ করছে। তাঁদের বাঁচাতে তিনি কিছুই করতে পারেননি। সৈয়দ কলোনির বাসিন্দা কৃষক বেলাল উদ্দিন পত্রিকাটিকে বলেন, লোকজনের হইচই শুনে তিনিও ঘর থেকে বের হয়ে হাতির সামনে পড়ে যান।

পত্রিকাগুলোতে ওই নারীর বয়স ২৫ বা ২৭ বছর এবং মেয়েটির বয়স দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে লেখা হয়েছে। জাগো নিউজ ২৪, বাংলা ট্রিবিউন ও যুগান্তরের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারটি রোহিঙ্গা এবং বন বিভাগের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করছিল।

জনপ্রতিনিধি, বন কর্মকর্তা ও পুলিশ যা বলেছেন


খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন জাগো নিউজ ২৪-কে বলেন, হাতির পালে তিনটি হাতি ছিল এবং সেগুলো অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করছিল। হঠাৎ সামনে পড়ে যাওয়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। পরে হাতিগুলো ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, আশপাশের গাছের ফল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায়। বাংলা ট্রিবিউন, যুগান্তর ও প্রথম আলো জানায়, হাতিগুলো গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়েছিল; প্রথম আলোকে তিনি বলেন, হাতির পালটি ক্ষুধার্ত ছিল।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হক জাগো নিউজ ২৪-কে জানান, হঠাৎ করে বন্যহাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে ঘরবাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হাতির আক্রমণে ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জাগো নিউজ ২৪, বাংলা ট্রিবিউন ও ইত্তেফাককে বলেন, ঘটনার পরপরই হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে পাঠানো হয়েছে এবং বন্যহাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রথম আলোকে এই রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, খাদ্যের সন্ধানে হাতির পাল লোকালয়ে নেমে এসেছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। কোনো প্রতিবেদনেই সহায়তার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জাগো নিউজ ২৪-কে জানান, মা-মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়; পরিবারের সিদ্ধান্তে মরদেহ দাফন করা হবে। থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ প্রথম আলো, যুগান্তর ও ইত্তেফাককে বলেন, ঘটনাস্থলেই সুরতহাল সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে; প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, হস্তান্তর করা হয় দুপুরে। তিনি জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।

যুগান্তর স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অভিযোগও তুলে ধরে। তাঁদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের সন্ধানে হাতির পালটি খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকায় ঘোরাফেরা করছে, ফলে পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং তাঁদের মতে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এই অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে বন বিভাগের আর কোনো বক্তব্য ছিল না।

রামু উপজেলা ও খুনিয়াপালং ইউনিয়ন


রামু বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের জেলা কক্সবাজারের একটি উপজেলা। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, উপজেলাটির আয়তন ৩৯১.৭১ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে চকরিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলা, দক্ষিণে নাইক্ষ্যংছড়ি ও উখিয়া উপজেলা, পূর্বে নাইক্ষ্যংছড়ি এবং পশ্চিমে কক্সবাজার সদর ও বঙ্গোপসাগর। রামু থানা গঠিত হয় ১৯০৮ সালে, উপজেলা হয় ১৯৮৩ সালে। উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন, ৩৯টি মৌজা ও ১০২টি গ্রাম রয়েছে; প্রধান নদী বাঁকখালী।

বাংলাপিডিয়ায় ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী রামুর জনসংখ্যা ২,৬৬,৬৪০ জন। আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, ৪৭.০১ শতাংশ; প্রধান ফসল ধান, পান ও রাবার, আর প্রধান রপ্তানিপণ্যের মধ্যে রয়েছে পান, চিংড়ি ও রাবার। যে খুনিয়াপালং ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটে, বাংলাপিডিয়ার ইউনিয়ন-সারণিতে তার আয়তন ১৯,০১৮ একর; ২০১১ সালে সেখানে পুরুষ ১৮,৪৯৭ জন ও নারী ১৭,৮১৮ জন এবং সাক্ষরতার হার ২৮.১ শতাংশ। স্থানীয়রা হাতির পালটির সাম্প্রতিক বিচরণের এলাকা হিসেবে রামুর যে আরেক ইউনিয়ন দক্ষিণ মিঠাছড়ির নাম বলেছেন, তার আয়তন ১০,০৮৮ একর।

খুনিয়াপালংয়ে হাতির উপস্থিতি নতুন নয়। ২০২০ সালের ২১ মার্চ দৈনিক সমকাল জানায়, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের গোয়ালিয়া এলাকায় একটি ধানক্ষেতে একটি বন্যহাতি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়; সেদিন ভোরে রামু ও চকরিয়ায় দুটি হাতির মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, হাতিটি আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী পুরুষ এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। কক্সবাজারের পরিবেশবিষয়ক সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপলের প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ পত্রিকাটিকে বলেন, হাতির আবাসস্থল ধ্বংস করা হয়েছে এবং খাদ্যসংকটে পড়ে হাতিগুলো লোকালয়ে ছুটে আসছে।

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলা সদর। ছবি: Asivechowdhury / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলা সদর। ছবি: Asivechowdhury / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কক্সবাজারের হাতি


দেশে টিকে থাকা বন্যহাতির বড় একটি অংশের বাস কক্সবাজারের বনে। ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো জানায়, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ-উখিয়া সার্কেলের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মনিরুল ইসলামের হিসাবে কক্সবাজারে হাতি আছে ২০৩টি, যার মধ্যে ২৫টি শাবক; এর মধ্যে ৩৭টি টেকনাফের ও ৩০টি উখিয়ার বনে। তিনি বলেন, একটি হাতির দিনে প্রায় ৮৭ কিলোমিটার হাঁটতে হয়, কিন্তু বনের ভেতরে শরণার্থীশিবির গড়ে ওঠায় টেকনাফের হাতি উখিয়ার দিকে এবং উখিয়ার হাতি টেকনাফের দিকে যেতে পারছে না।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, উখিয়া ও টেকনাফে ৭ হাজার একর বনভূমিতে ৩৪টি রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির গড়ে ওঠায় হাতি চলাচলের পাঁচটি করিডোর ও ১৫টির বেশি জলাধার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, আর এলাকার ৬০টির বেশি হাতি তীব্র খাদ্য ও পানির সংকটে পড়েছে। বন বিভাগের তথ্যমতে, কক্সবাজারে হাতি চলাচলের আটটি করিডোর আছে, যার পাঁচটি উখিয়া ও টেকনাফে। শিবিরের কারণে উখিয়ার কুতুপালংয়ের তিনটি করিডোর সাত বছর ধরে বন্ধ, আর মিয়ানমার কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পর ঘুমধুম সীমান্তের দুটি করিডোর বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রথম আলো আরও জানায়, আগের এক বছরে মানুষের পাতা বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদ, গুলি, দুর্ঘটনা ও রোগে সাতটি হাতি মারা গেছে: টেকনাফে দুটি, রামুতে তিনটি এবং ঈদগাঁও ও চকরিয়ায় দুটি। বন বিভাগের হিসাবে আগের ছয় বছরে হাতির আক্রমণে ১৩৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আর হাতি হত্যার ঘটনায় ১৬টি মামলা হলেও একটিরও নিষ্পত্তি হয়নি। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক প্রান্তোষ চন্দ্র রায় বলেন, তিন বছরে বন বিভাগ প্রায় এক কিলোমিটার করে লম্বা ৫২টি বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদ সরিয়েছে, আর এই সময়ে বনে ২৫টি হাতির বাচ্চার জন্ম হয়েছে।

আইইউসিএন ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাতির আক্রমণে ২৩ জন মারা যান, যাঁদের ১২ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী; একই সময়ে শিবিরের আশপাশে হাতি ঢুকে পড়ার ৩৭৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়।

কক্সবাজার জেলায় নাফ নদীর পাশে টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পাহাড়ি বন। ছবি: Ashif Anam Siddique / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কক্সবাজার জেলায় নাফ নদীর পাশে টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পাহাড়ি বন। ছবি: Ashif Anam Siddique / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাংলাদেশে এশীয় হাতি


বাংলাদেশের হাতি এশীয় হাতি (Elephas maximus) প্রজাতির। আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রকাশিত ২০১৬ সালের এক সমীক্ষায় দেশে স্থায়ী বন্যহাতি পাওয়া যায় ২৬৮টি; এ ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে আসা-যাওয়া করা ৯৩টি পরিযায়ী হাতি এবং ৯৬টি পোষা বা আবদ্ধ হাতি ছিল। একই প্রকাশনায় প্রজাতিটিকে বাংলাদেশে মহাবিপন্ন এবং সাইটিসের পরিশিষ্ট-১ভুক্ত বলা হয়েছে। সমীক্ষায় ৪৪টি বন রেঞ্জের হাতি চলাচলের পথের মানচিত্র তৈরি হয়, ১২টি হাতি করিডোর চিহ্নিত ও মানচিত্রভুক্ত করা হয় এবং সীমান্তে ৫৭টি পারাপারের স্থান পাওয়া যায়; এর মধ্যে ৩৯টি প্রাকৃতিক পথ যা হাতি নিয়মিত ব্যবহার করে, ৭টি কালেভদ্রে ব্যবহৃত হয় এবং ১১টি পরিত্যক্ত।

২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ শতকের মাঝামাঝি বাংলাদেশে ৫০০-এর বেশি বন্যহাতি ছিল। পত্রিকাটির তথ্য অনুযায়ী, আইইউসিএনের সমীক্ষায় পাওয়া ১২টি করিডোরের পাঁচটি কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে, তিনটি কক্সবাজার দক্ষিণে এবং চারটি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগে। ২০২৫ সালের মার্চে মোঙ্গাবে আইইউসিএনের তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ১,৫১৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ৪৪টি বন রেঞ্জে হাতির উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী এশীয় হাতি ১৯৮৬ সাল থেকে আইইউসিএনের লাল তালিকায় বিপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত, কারণ গত তিন প্রজন্মে, অর্থাৎ প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ বছরে, এদের সংখ্যা অন্তত ৫০ শতাংশ কমেছে। প্রধান হুমকি আবাসস্থল হারানো, এর অবক্ষয় ও খণ্ডিত হয়ে যাওয়া এবং শিকার। ২০১৯ সালে বিশ্বে বন্য এশীয় হাতির সংখ্যা ধরা হয়েছিল ৪৮,৩২৩ থেকে ৫১,৬৮০টি।

বাংলাপিডিয়া জানায়, প্রাপ্তবয়স্ক হাতির উচ্চতা প্রায় ২.৫ মিটার, একটি দলে সাধারণত ৫ থেকে ২০টি হাতি থাকে এবং হাতি পুরোপুরি তৃণভোজী: ঘাস, কলাগাছ, বাঁশ, গাছের বাকল, পাতা, ফল ও ফুল খায়। মা হাতি ২০ থেকে ২২ মাস গর্ভধারণের পর সাধারণত একটি বাচ্চা জন্ম দেয়, আর হাতির আয়ু প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর। একসময় সিলেট ও মধুপুরের বনেও হাতি ছিল; এখন বন্যহাতি টিকে আছে কেবল চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু এলাকায়, আর মাঝেমধ্যে ভারত থেকে হাতির দল উত্তরের সীমান্ত এলাকায় ঢোকে। একটি এশীয় হাতি দিনে ১৫০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত উদ্ভিজ্জ খাবার খেতে পারে এবং দিনের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ সময় খাওয়ায় কাটায়। মা হাতি ও বাচ্চারা পারিবারিক দলে চলাচল করে, আর কৈশোরে পৌঁছালে পুরুষ হাতি মাকে ছেড়ে যায়।

ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্তবর্তী বনে বন্য এশীয় হাতি; প্রসঙ্গচিত্র হিসেবে ব্যবহৃত। ছবি: Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্তবর্তী বনে বন্য এশীয় হাতি; প্রসঙ্গচিত্র হিসেবে ব্যবহৃত। ছবি: Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কেন হাতি ও মানুষ মুখোমুখি হয়


বন সংকুচিত ও খণ্ডিত হয়ে যাওয়াকেই সংরক্ষণবিদ ও কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের আক্রমণের সঙ্গে যুক্ত করে আসছেন। ২০১৮ সালের এপ্রিলে ঢাকা ট্রিবিউন আইইউসিএনের যে সমীক্ষা উদ্ধৃত করে, তাতে বলা হয়, হাতি সব সময় নিজেদের প্রথাগত পথ ও করিডোর ধরে চলাচল করে, আর কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে গড়ে ওঠা কুতুপালং শিবির একটি সক্রিয় করিডোরের মধ্যে পড়েছে, যেখানে ন্যাড়া পাহাড়ে তৈরি ফাঁকা পথ দিয়ে হাতি ঢুকে পড়তে পারে। পত্রিকাটি জানায়, শিবিরের মৃত্যুগুলো বাদ দিয়েও আগের ১৫ বছরে দেশে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বে অন্তত ৯৩ জন মারা গেছেন।

হাতির প্রাণহানিও কম নয়। ২০২৩ সালের মে মাসে মোঙ্গাবে জানায়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মানুষের সঙ্গে সংঘাতে ও বিদ্যুতায়িত হয়ে অন্তত ৫০টি হাতি মারা গেছে, যার ৩৪টি কেবল ২০২১ সালে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান মোঙ্গাবেকে বলেন, কৃষকেরা প্রায়ই নিজেদের ফসল বাঁচাতে বনের এই প্রতীকী প্রাণীকে হত্যা করেন, আর যেখানে প্রচুর খাবার আছে, সেই ফসলের মাঠে বন্যহাতি অবশ্যই ঢুকবে।

উন্নয়ন প্রকল্পও চাপ বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে মোঙ্গাবে জানায়, ১০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের প্রায় ২৭ কিলোমিটার তিনটি রক্ষিত এলাকা, চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বলেন, রেলপথটি বর্তমান স্থান থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে নেওয়া গেলে হাতির করিডোর এড়ানো যেত।

২০২৪ সালের জুনে প্রথম আলো বন বিভাগের বরাতে জানায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৯০ থেকে ১১০ জন মানুষ হাতি, ভালুক, বাঘ ও কুমিরের আক্রমণে মারা যান।

নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ


কিছু বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মৃত্যু ও আহত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় ‘বন্য প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী। ২০২৪ সালের জুনে প্রথম আলো জানায়, এই বিধিমালায় বাঘ, হাতি, কুমির ও ভালুকের আক্রমণে মৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, আর ২০২১ সালের সংশোধনীতে সাফারি পার্কে যেকোনো প্রাণীর আক্রমণের শিকার হলেও ক্ষতিপূরণের বিধান যুক্ত হয়েছে।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী বিধিমালায় রয়েছে:

  • এই প্রাণীগুলোর আক্রমণে কারও মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ৩ লাখ টাকা;
  • গুরুতর আহত হলে অনধিক ১ লাখ টাকা;
  • সরকারি বনাঞ্চলের বাইরে লোকালয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনধিক ৫০ হাজার টাকা।

২০২৫ সালের মার্চে মোঙ্গাবে জানায়, ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাটি চালু হয় ২০১০ সালে, আর ২০২১ সালের পরিবর্তনে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ১ লাখ টাকা থেকে এবং আহত হওয়ার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়ানো হয়। বন বিভাগ সূত্রে প্রথম আলো জানায়, ক্ষতিপূরণের জন্য নিহতের পরিবারকে নির্দিষ্ট ফরমে প্রমাণসহ আবেদন করতে হয়; প্রক্রিয়াটি জটিল হওয়ায় অনেকে আবেদন করতে পারেন না।

নতুন বন্যপ্রাণী আইনেও ক্ষতিপূরণকে বন বিভাগের কাজের অংশ করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬-এর ৫ ধারায় বন অধিদপ্তরের দায়িত্বের তালিকায় মানুষ-বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব নিরসন ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা, ক্ষতিপূরণ প্রদান, আইনি প্রক্রিয়া, উদ্দীপনামূলক কর্মসূচি ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ৯ ধারায় একটি বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের বিধান রয়েছে, যার উদ্দেশ্যের মধ্যে বন্যপ্রাণী ও মানুষের সহাবস্থান বিষয়ে কাজও আছে।

বন্যহাতি নিয়ে আইন যা বলে


রামুর ঘটনার দিন বলবৎ ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৬ নং আইন), যার তারিখ ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল। আইনের ১ ধারা অনুযায়ী এটি ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। এই আইন ৭ জানুয়ারি থেকে বলবৎ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ রহিত করে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অধ্যাদেশটি অনুমোদনের সময় প্রথম আলো জানায়, বাঘ ও হাতিকে প্রতীকী (ফ্ল্যাগশিপ) প্রজাতি হিসেবে তফসিল ১(ক)-এ রাখা হয়েছে।

আইনের সরকারি পাঠে হাতিসংক্রান্ত বিধানগুলো এ রকম:

  • ধারা ৪১(১): কোনো ব্যক্তি তফসিল ১(ক)-এ উল্লিখিত বাঘ বা হাতি শিকার করতে পারবেন না।
  • ধারা ৪৪: বাঘ বা হাতি শিকারের দণ্ড সর্বনিম্ন ২ বছর ও সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
  • ধারা ৪৬: ধারা ৪১(১)-এর অধীন অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য।
  • ধারা ১২: কোনো বন্যপ্রাণী মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হলে প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন কারণ উল্লেখ করে প্রাণীটির অপসারণ, কালিং বা পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি উপদেষ্টা বোর্ড ও বৈজ্ঞানিক কমিটিতে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করবেন।
  • ধারা ৫ ও ২৪: বন অধিদপ্তর বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও করিডোর চিহ্নিত ও সুরক্ষিত রাখবে, আর সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোর জোন, বাফার জোন ও করিডোর ঘোষণা করতে পারবে।

রামুর ঘটনায় বন বিভাগ জানায়, তাদের কর্মীরা হাতির পালটিকে বনে ফিরিয়ে দিয়েছেন; হাতিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়নি।

রেসপন্স টিম ও দ্বন্দ্ব কমানোর আগের উদ্যোগ


কক্সবাজারে মানুষকে হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষার সবচেয়ে পরিচিত উদ্যোগটি শুরু হয় রোহিঙ্গা শিবিরে। ২০১৮ সালের ২ মার্চ আইইউসিএন ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর কুতুপালং-বালুখালী বসতির জন্য একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে; তখন সেখানে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী থাকতেন এবং মানুষ-হাতি সংঘাতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ৭০ বর্গকিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় আইইউসিএনের জরিপে দেখা যায়, ওই এলাকার আশপাশে ৪৫টি পর্যন্ত হাতি সক্রিয় থাকতে পারে। পরিকল্পনায় ছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ১০ জন করে শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম, কোন এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে তা বোঝাতে হাতি চলাচলের পথ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা এবং সচেতনতামূলক প্রচার। আইইউসিএনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাকিবুল আমিন বলেন, তাৎক্ষণিক এই পদক্ষেপগুলো অনেক বড় একটি পরিবেশগত সমস্যার ওপর কেবল সাময়িক প্রলেপ। ঢাকা ট্রিবিউন ২০১৮ সালের এপ্রিলে জানায়, আইইউসিএন শিবিরের চারপাশে ২৫টি রেসপন্স টিম গঠন করেছে এবং বাঁশের ৫৪টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে।

মোঙ্গাবের তথ্য অনুযায়ী, সরকার ২০১৮ সালে হাতি সংরক্ষণের ১০ বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের আওতায় বন বিভাগ ও আইইউসিএন বাংলাদেশ সংঘাতপ্রবণ এলাকায় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করে; এসব দলের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা হাতির পালের চলাচলের খবর জানান এবং হাতি কাছে এলে নিরাপদে কী করতে হবে, তা বাসিন্দাদের শেখান। তবে ২০২৩ সালের মে মাসে সংরক্ষণ সংস্থা নেকমের নির্বাহী পরিচালক এস এম মুনজিরুল হান্নান খান মোঙ্গাবেকে বলেন, সদস্যরা কোনো পারিশ্রমিক বা অন্য সুবিধা ছাড়া স্বেচ্ছায় কাজ করায় দলগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না।

ছবি: AKM Emdadul Islam Bitu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, যুগান্তর, দৈনিক ইত্তেফাক, সমকাল, বাংলাপিডিয়া, আইইউসিএন বাংলাদেশ, আইইউসিএন, ঢাকা ট্রিবিউন, মোঙ্গাবে, উইকিপিডিয়া, বাংলাদেশ আইন (লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)