সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত বন্য মা হাতি, পেটে আঘাত

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়ায় ২০২৬ সালের ১১ জুলাই বিকেলে পাহাড়ের খাড়া ঢাল থেকে পড়ে একটি বন্য মা হাতি গুরুতর আহত হয়েছে। বন বিভাগের ধারণা, বৃষ্টিভেজা ঢালে পা পিছলে হাতিটি পড়ে যায়; ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা চলছিল।

টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত বন্য মা হাতি, পেটে আঘাত
পরিবেশ

কক্সবাজারের টেকনাফে খাড়া পাহাড়ের ঢাল থেকে পড়ে একটি বন্য মা হাতি গুরুতর আহত হয়েছে। ২০২৬ সালের ১১ জুলাই শনিবার বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যংপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাগো নিউজ জানায়, পাহাড়টি প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু এবং হাতিটির পেটের নিচে সামান্য চিড়ে গেছে। অন্যদিকে দ্য ডেইলি স্টার বাংলা টেকনাফ ও উখিয়ার সহকারী বন সংরক্ষকের বরাত দিয়ে জানায়, হাতিটি আনুমানিক ২০০ ফুট ওপর থেকে পড়েছে এবং এর পেটে দুটি গুরুতর আঘাত রয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তা ও পশু চিকিৎসকেরা যেখানে হাতিটি পড়ে ছিল, সেখানেই তার চিকিৎসা শুরু করেন।

যেভাবে পাহাড় থেকে পড়ে যায় হাতিটি


জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন বিভাগের ধারণা, পাহাড়ে লতাপাতা খাওয়ার সময় হাতিটি পা পিছলে গভীর ঢালে পড়ে যায়। পড়ে গিয়ে প্রাণীটি গুরুতর আহত হয় এবং এরপর আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। দ্য ডেইলি স্টারও বন বিভাগের সূত্রে একই কথা জানায় এবং মাটির অবস্থার কথা যোগ করে: পাহাড়ে খাবার খাওয়ার সময় বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া মাটিতে পা পিছলে হাতিটি খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়।

আহত হাতিটিকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বন বিভাগকে খবর দেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন এবং একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক হাতিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন (আইটিভি) ঘটনাস্থলকে নাইট্যংপাড়া এবং টেকনাফের সদর বনবিটের শিয়ালেরঘোনা এলাকা হিসেবে উল্লেখ করে এবং জানায়, ভারী বৃষ্টিতে নরম মাটি ধসে গিয়েছিল।

পাহাড়ের উচ্চতা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। জাগো নিউজ ও আইটিভি পাহাড়টিকে প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু বলেছে। টেকনাফ ও উখিয়ার সহকারী বন সংরক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, হাতিটি আনুমানিক ২০০ ফুট ওপর থেকে পড়ে গেছে। দুটি সংখ্যাই সেদিন দেওয়া আনুমানিক হিসাব; মেপে দেখা কোনো উচ্চতার কথা প্রতিবেদনগুলোতে আসেনি।

আঘাতের ধরন ও পাহাড়েই চিকিৎসা


টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক হাতিটির চিকিৎসা দিচ্ছেন। কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসা দেওয়া গেলে হাতিটি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, 'পাহাড় থেকে পড়ার পর হাতিটি গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে এটি মাটিতে শুয়ে আছে এবং খুব সামান্য নড়াচড়া করতে পারছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাতিটি পেটে গুরুতর আঘাত পেয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'হাতিটির চিকিৎসার জন্য ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। হাতিটিকে সুস্থ করার পর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বনে অবমুক্ত করা হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পাঠানো হবে।' দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ইউএনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বলেন, হাতিটি সামান্য নড়াচড়া করতে পারলেও পেছনের দুই পা নাড়াতে পারছে না।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহকারী বন সংরক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, হাতিটির পেটে দুটি গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং এটি পেছনের দুই পা নাড়াতে পারছে না। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, টেকনাফ উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকদের সহায়তায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণে রাখা গেলে হাতিটি সেরে উঠতে পারে বলে কর্মকর্তারা আশাবাদী ছিলেন।

১১ জুলাই রাতে প্রকাশিত আইটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, হাতিটি পেছনের পা ও বুকে আঘাত পেয়েছে, পেছনের দুই পা-ই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, পেটেও আঘাত আছে, এবং পা ও বুকের ক্ষতস্থানে সেলাই দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগের কর্মকর্তা, পুলিশ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে যান এবং চিকিৎসা চলছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এলাকাটি দুর্গম পাহাড়ি হওয়ায় হাতিটি যেখানে পড়ে ছিল, সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল। ১১ জুলাই প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনে হাতিটির বয়স বা তার সঙ্গে কোনো বাচ্চা ছিল কি না, তা জানানো হয়নি।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বনঘেরা পাহাড়। ছবিটি এলাকার ভূপ্রকৃতির, হাতি পড়ে যাওয়ার স্থানের নয়। ছবি: Patrickabridio / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বনঘেরা পাহাড়। ছবিটি এলাকার ভূপ্রকৃতির, হাতি পড়ে যাওয়ার স্থানের নয়। ছবি: Patrickabridio / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের সতর্কতার সপ্তাহ


হাতিটি পড়ে যায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কয়েক দিনের অতিভারী মৌসুমি বৃষ্টির মধ্যে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) ২০২৬ সালের ৭ জুলাই বিকেল ৪টায় প্রকাশিত পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানায়, একটি মৌসুমি নিম্নচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় জোরালো মৌসুমি বায়ুর কারণে কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) চট্টগ্রামে ২৮৩ মিলিমিটার, কুতুবদিয়ায় ১৯৫ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৯ মিলিমিটার এবং বান্দরবানে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করে।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৭ জুলাইয়ের পাহাড়ধস সতর্কবার্তায় টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলাকে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ৬ জুলাই ভোররাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড়ধসে পাঁচ শিশুসহ আটজন মারা যান এবং কক্সবাজার পৌরসভায় আলাদা এক পাহাড়ধসে আরও একজনের মৃত্যু হয়। ৫ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ৩৩টি শিবিরে আবহাওয়াজনিত ১৭০টি ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু ও ৮৮ জন আহত হওয়ার হিসাব দেয় প্রতিবেদনটি।

৮ জুলাই আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির জন্য আরেকটি পাহাড়ধস সতর্কবার্তা দেয়, যার মেয়াদ ছিল হাতিটি পড়ে যাওয়ার দিন, অর্থাৎ ১১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সতর্কবার্তায় বলা হয়, ৯ থেকে ১১ জুলাই এসব জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে এবং মোট বৃষ্টিপাত ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদরকে আবারও পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকায় রাখা হয় এবং মানুষকে পাহাড়ের ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা ছেড়ে নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়। তবে হাতিটি যে ঢালে পড়েছে সেখানে পাহাড়ধস হয়েছিল, এমন কথা ১১ জুলাইয়ের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়নি; দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত বন বিভাগের ভাষ্য ছিল, বৃষ্টিতে নরম হওয়া মাটিতে হাতিটির পা পিছলে যায়।

টেকনাফ, নাইট্যং পাহাড় ও অভয়ারণ্যের বন


টেকনাফ কক্সবাজার জেলার সবচেয়ে দক্ষিণের উপজেলা, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, উপজেলাটির আয়তন ৩৮৮.৬৬ বর্গকিলোমিটার এবং এটি কক্সবাজার শহর থেকে ৮৬ কিলোমিটার দক্ষিণে। এর উত্তরে উখিয়া উপজেলা, পূর্বে নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্য এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর। উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন রয়েছে: টেকনাফ, বাহারছড়া, সাবরাং, হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। পৌরসভার আয়তন ৪.০৫ বর্গকিলোমিটার, ওয়ার্ড নয়টি। বাংলাপিডিয়া উপজেলার উল্লেখযোগ্য স্থানের মধ্যে নাইট্যং পাহাড়ের কথা বলেছে, যেখানে একটি বৌদ্ধ মন্দির আছে। পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, ৪৪.৯৫ শতাংশ; প্রধান ফসল ধান, পান ও আলু।

টেকনাফ উপদ্বীপের পাহাড়ি বনের বড় অংশ টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত। প্রায় ১১,৬১৫ হেক্টরের এই পাহাড়ি বনের পূর্বে নাফ নদী, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর। ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) (সংশোধন) আইন, ১৯৭৪-এর অধীনে এটিকে গেম রিজার্ভ ঘোষণা করা হয় এবং দীর্ঘদিন এটি টেকনাফ গেম রিজার্ভ নামে পরিচিত ছিল। অভয়ারণ্যটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন, বাহারছড়া, হ্নীলা, সাবরাং, টেকনাফ সদর ও হোয়াইক্যং জুড়ে বিস্তৃত। নাইট্যং পাহাড়, কুদুম গুহা, কুঠি পাহাড় এবং প্রায় এক হাজার ফুট উঁচু তৈঙ্গা চূড়া এর পরিচিত স্থান। বাংলাদেশে যে অল্প কয়েকটি জায়গায় এখনো বন্য এশীয় হাতি দেখা যায়, এটি তার একটি। তবে হাতিটি যেখানে পড়েছে, সে জায়গা অভয়ারণ্যের সীমানার ভেতরে কি না, ১১ জুলাইয়ের প্রতিবেদনগুলোতে তা বলা হয়নি।

নাফ নদীর পাশে টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পাহাড়ি বন। ছবি: Ashif Anam Siddique / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
নাফ নদীর পাশে টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পাহাড়ি বন। ছবি: Ashif Anam Siddique / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

টেকনাফ ও কক্সবাজারের হাতি


পড়ে যাওয়া হাতিটি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টিকে থাকা বন্য হাতির শেষ ছোট দলগুলোর একটির সদস্য। ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ-উখিয়া এলাকার সহকারী বন সংরক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, কক্সবাজারে ২৫টি বাচ্চাসহ ২০৩টি হাতি আছে; এর মধ্যে ৩৭টি টেকনাফের বনে এবং ৩০টি উখিয়ার বনে।

ওই প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা শিবির কীভাবে হাতির বিচরণক্ষেত্র কেটে ছোট করেছে, তার বিবরণ ছিল। বন বিভাগের বরাতে বলা হয়, উখিয়া ও টেকনাফে প্রায় সাত হাজার একর বনভূমিতে ৩৪টি শিবির গড়ে উঠেছে; এতে পাঁচটি হাতি চলাচলের পথ (করিডর) এবং ১৫টির বেশি জলাধার বন্ধ হয়ে গেছে, আর এলাকার ৬০টির বেশি হাতি খাবার ও পানির তীব্র সংকটে পড়েছে। কক্সবাজারের আটটি করিডরের পাঁচটি উখিয়া ও টেকনাফে: কুতুপালংয়ের তিনটি করিডর সাত বছর ধরে শিবিরের কারণে বন্ধ, আর ঘুমধুম সীমান্তের দুটি বন্ধ হয়েছে মিয়ানমার কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পর। সহকারী বন সংরক্ষক বলেন, শিবিরের কারণে টেকনাফের হাতি আর উখিয়ার দিকে এবং উখিয়ার হাতি টেকনাফের দিকে যেতে পারে না।

একই প্রতিবেদনে আইইউসিএন ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাতির আক্রমণে ১২ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ ২৩ জন নিহত হন এবং ওই সময়ে শিবিরের আশপাশে হাতি ঢুকে পড়ার ৩৭৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়। বন বিভাগের হিসাবে প্রতিবেদনটির আগের ছয় বছরে হাতির আক্রমণে ১৩৫ জন মারা যান। অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দৌজা বলেন, শিবিরের কারণে উখিয়া-টেকনাফের বনে হাতির অবস্থা সংকটাপন্ন, তবে হাতি চলাচলের জন্য শিবিরের বাইরে বিকল্প পথ তৈরি করা হয়েছে।

এশীয় হাতি: বাংলাদেশে মহাবিপন্ন


এ ঘটনার কেন্দ্রে থাকা প্রাণীটি এশীয় হাতি, বৈজ্ঞানিক নাম Elephas maximus। আইইউসিএন বাংলাদেশের তথ্যমতে, আইইউসিএনের লাল তালিকায় প্রাণীটি বাংলাদেশে মহাবিপন্ন (ক্রিটিক্যালি এনডেঞ্জারড) এবং বিশ্বে বিপন্ন। ২০১৭ সালের ২১ মার্চ সরকার জাতীয় হাতি জরিপের ফল প্রকাশ করলে আইইউসিএন জানায়, দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্য হাতি ২৬৮টি, সবগুলোই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বনে; আর চারটি বন বিভাগে বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আসা-যাওয়া করে ৭৯ থেকে ১০৭টি পরিযায়ী হাতি, গড়ে ৯৩টি। মোট হিসাবের ১১ শতাংশ ছিল বাচ্চা হাতি। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বন অধিদপ্তরের জীববিজ্ঞানীরা ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জরিপটি চালান।

জরিপে সারা বছর হাতির চলাচলের পথও মানচিত্রে আঁকা হয়। বন থেকে বনে যাতায়াতের জন্য হাতি ব্যবহার করে এমন ১২টি ছোট করিডর এবং ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে ৫৭টি পারাপারের স্থান চিহ্নিত হয়। হাতির সম্ভাব্য বিচরণক্ষেত্র ধরা হয় প্রায় ১,৫১৮ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের আয়তনের প্রায় ১ শতাংশ। আইইউসিএন বলেছিল, হাতির আবাসে মানুষের দখল করিডর বন্ধ করে দিচ্ছে এবং মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব তৈরি করছে; সংস্থাটি বাংলাদেশ হাতি সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা ২০১৬-২০২৫-এর কথা উল্লেখ করে হাতির বিচরণ এলাকা থেকে শুরু করে বড় আকারে ক্ষয়িষ্ণু বন পুনরুদ্ধারকে জরুরি অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করে। ২০২৬ সালের মে মাসে বন অধিদপ্তরের হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের প্রধান, বন সংরক্ষক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন মংগাবেকে বলেন, বর্তমানে হাতির সঠিক সংখ্যা জানা নেই এবং নতুন শুমারির পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল জু-র তথ্যমতে, প্রাপ্তবয়স্ক এশীয় হাতি কাঁধ পর্যন্ত ১.৮ থেকে ৩.৮ মিটার উঁচু হয় এবং ওজন ২,৭৫০ থেকে ৫,৪২০ কেজি। এরা মূলত ঘাস খায়, সঙ্গে পাতা, শিকড়, লতা, ডালপালা, কচি ডগা, বাকল ও ফল; বনে দিনে ৭৪ থেকে ১৫০ কেজি খাবার খায় এবং প্রায় ১৮৯ লিটার পানি পান করে। স্ত্রী হাতি মেয়ে ও অল্পবয়সী পুরুষ সন্তানদের নিয়ে ছোট দলে থাকে; পুরুষ হাতি সাধারণত ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিতে দল ছেড়ে যায়। গর্ভকাল প্রায় সাড়ে ২১ থেকে ২২ মাস, যা যেকোনো প্রাণীর মধ্যে দীর্ঘতম; সাধারণত একটি বাচ্চা হয়, ওজন ৬৮ থেকে ১৫৮ কেজি। বাংলাপিডিয়া জানায়, বাংলাদেশে হাতির দল সাধারণত ৫ থেকে ২০টি হাতি নিয়ে গঠিত হয় এবং এরা ঘাস, কলাগাছ, বাঁশ, গাছের বাকল, পাতা, ফল ও ফুল খায়।

কক্সবাজারের পাহাড়ে আগের দুর্ঘটনা ও মৃত্যু


পাহাড় থেকে পড়ে এ জেলায় আগেও হাতি মারা গেছে। ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল রাত ১টার দিকে ঈদগাঁও রেঞ্জের পানেরছড়া এলাকা দিয়ে একটি হাতির দল পার হওয়ার সময় একটি বয়স্ক মাদি হাতি পা পিছলে পাহাড়ের ঢাল থেকে নিচের সড়কে পড়ে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাতে মারা যায়। ইউএনবির বরাতে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস বন বিভাগের সূত্রে এ খবর দেয়। উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তহিদুল ইসলাম বলেছিলেন, নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে।

প্রথম আলোর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের এক বছরে কক্সবাজারে সাতটি হাতি মারা গেছে: টেকনাফে দুটি, রামুতে তিনটি এবং ঈদগাঁও ও চকরিয়ায় দুটি। মৃত্যুর কারণ ছিল মানুষের পাতা বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদ, গুলি, দুর্ঘটনা ও রোগ। হাতি হত্যার ঘটনায় করা ১৬টি মামলার একটিরও নিষ্পত্তি হয়নি। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক প্রান্তোষ চন্দ্র রায় জানান, তিন বছরে প্রায় এক কিলোমিটার করে লম্বা ৫২টি বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদ সরানো হয়েছে।

সারা দেশের হিসাবে, মংগাবে ২০২৬ সালের ৭ মে বন অধিদপ্তরের তথ্যের বরাতে জানায়, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে স্থায়ী, অস্থায়ী ও পোষা মিলিয়ে অন্তত ১৪৮টি হাতি মারা গেছে, আর ২০২৬ সালের তিনটি মৃত্যু মিলিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১৫১-তে। এর মধ্যে ছিল ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাঙামাটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৬০ বছর বয়সী একটি পুরুষ হাতি। প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ১০৩ কিলোমিটার রেলপথের ২৭ কিলোমিটার গেছে তিনটি রক্ষিত এলাকা, চুনতি ও ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে, যেখানে দেশের স্থায়ী হাতির প্রায় অর্ধেকের বাস।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ও আইনের বিধান


যে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক থেকে চিকিৎসক দল টেকনাফে পাঠানো হয়, সেটি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়, চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার দূরে। ১৯৯৯ সালে প্রায় ২,২২৪ একর উঁচু-নিচু জমিতে পার্কটি গড়ে তোলা হয়; বন অধিদপ্তর এটি পরিচালনা করে ইকোট্যুরিজম, গবেষণা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিলে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য হাতিটিকে এখানেই পাঠানোর কথা বলেছিলেন ইউএনও।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, যেখানকার চিকিৎসকেরা হাতিটির চিকিৎসায় যোগ দেন। ছবি: Haneen Bég / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, যেখানকার চিকিৎসকেরা হাতিটির চিকিৎসায় যোগ দেন। ছবি: Haneen Bég / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

২০২৬ সালের ১১ জুলাই বলবৎ ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৬ নং আইন), যা ৭ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য এবং যা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আইনের সরকারি পাঠ অনুযায়ী, বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা, কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব বন অধিদপ্তরের। প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন ও অন্যান্য ওয়ার্ডেনদের মাধ্যমে অধিদপ্তরের যে দায়িত্বগুলো আইনে বলা আছে, তার কয়েকটি হলো:

  • ঝুঁকিতে থাকা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও করিডর চিহ্নিত ও সুরক্ষিত রাখা এবং প্রাকৃতিক আবাসে ও আবাসের বাইরে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া (ধারা ৫);
  • জনসচেতনতা, ক্ষতিপূরণ, আইনি প্রক্রিয়া, উদ্দীপনামূলক কর্মসূচি ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় মানুষ-বন্যপ্রাণী দ্বন্দ্ব নিরসন ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা (ধারা ৫);
  • উদ্ধার করা ও আহত বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং বন্যপ্রাণীর শুশ্রূষা ও চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া (ধারা ৫);
  • নির্দেশিকা অনুসরণ করে বন্যপ্রাণীর কল্যাণ ও সুরক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন (ধারা ৫)।

আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, বন্যপ্রাণীর কল্যাণ ও সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসা কেন্দ্র ও চিকিৎসকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগ নেবে। ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, উদ্ধার করা, জব্দ করা বা ধরা বন্যপ্রাণীকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে হবে; তবে প্রাণীটির শুশ্রূষার প্রয়োজন হলে বা তার মাধ্যমে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকলে আটকে রাখা যাবে। ৩৪ ধারা বন অধিদপ্তরকে বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা, খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তার জন্য উদ্ধার কেন্দ্র স্থাপন এবং সেখান থেকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষমতা দিয়েছে। ২১ ধারায় সরকার প্রাকৃতিক আবাসে ও আবাসের বাইরে সংরক্ষণের জন্য সাফারি পার্ক ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ঘোষণা করতে পারে।

আইনে সবচেয়ে কঠোরভাবে সুরক্ষিত প্রাণীদের একটি হাতি। ৪১ ধারায় তফসিল ১(ক)-তে উল্লিখিত বাঘ বা হাতি শিকার নিষিদ্ধ, আর আইনের সংজ্ঞায় শিকার বলতে বন্যপ্রাণীকে হত্যা করা, ধরা বা বিষ প্রয়োগ করাও বোঝায়। ৪৪ ধারা অনুযায়ী, এমন বাঘ বা হাতি শিকারের শাস্তি সর্বনিম্ন ২ বছর ও সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড। তবে ১১ জুলাইয়ের প্রতিবেদনগুলোতে টেকনাফের এ ঘটনায় কোনো মানুষের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত ছিল না; বন বিভাগ একে পিচ্ছিল পাহাড়ি ঢালে পা পিছলে পড়ার ঘটনা বলেছে।

আদালতের বাইরেও হাতি রক্ষায় সরকারের কিছু উদ্যোগ তখন চালু ছিল। মংগাবে ২০২৬ সালের মে মাসে জানায়, সরকার ২০১৮ সালে হাতি সংরক্ষণের ১০ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে, এবং টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের আওতায় বন অধিদপ্তর ও আইইউসিএন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংস্থা দ্বন্দ্বপ্রবণ এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করেছে। বন্যপ্রাণীর আক্রমণে ক্ষতির জন্য ২০১০ সালে চালু হওয়া ক্ষতিপূরণ ২০২১ সালে বাড়ানো হয়: নিহতের পরিবারের জন্য ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তির জন্য ১ লাখ টাকা এবং ঘরের জিনিসপত্র ও ফসলের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান মংগাবেকে বলেন, ইআরটির সদস্যরা বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন, যা তাঁর মতে উদ্যোগটিকে কম কার্যকর করছে।

ছবি: AKM Emdadul Islam Bitu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, দ্য ডেইলি স্টার, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন (আইটিভি), বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, প্রথম আলো, আইইউসিএন বাংলাদেশ, স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল জু, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (ইউএনবি), মংগাবে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ (bdlaws.minlaw.gov.bd)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)