যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস) ২০২৬ সালের ১৬ জুন একটি চার্ট প্রকাশ করে দেখায়, মাঠের প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি নিয়ে মার্কিন কৃষকেরা যত সমস্যায় পড়েন, তার মধ্যে ভূমিক্ষয় ও পানির মানের সমস্যাতেই কারিগরি সহায়তা মিলেছে সবচেয়ে বেশি। পানির টানে হওয়া ভূমিক্ষয়ে আক্রান্ত ভুট্টা, সয়াবিন, তুলা ও গমের জমির ৩৬ শতাংশ এই সহায়তা পেয়েছে।
‘রিসোর্স কনসার্ন’ বা সম্পদ-উদ্বেগ কী
ইআরএসের ব্যাখ্যায়, চাষাবাদ মাটি ও পানির মতো নানা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে। চাষের পদ্ধতির কারণে এমন কোনো সম্পদ, যেমন মাটি, এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে জমির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা ব্যাহত হয়, তখন সেটিকে ‘রিসোর্স কনসার্ন’ বা সম্পদ-উদ্বেগ বলা হয়। এমন সমস্যা মোকাবিলায় উৎপাদকেরা লক্ষ্যভিত্তিক কারিগরি সহায়তা পেতে পারেন, অর্থাৎ খামারের কাজ ভালো করার ব্যক্তিগত পরামর্শ।
তথ্যগুলো এসেছে কৃষি সম্পদ ব্যবস্থাপনা জরিপ বা এগ্রিকালচারাল রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সার্ভে (এআরএমএস) থেকে, যা ইআরএস ও ইউএসডিএর ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (এনএএসএস) পরিচালনা করে। ইআরএসের ভাষায়, এই জরিপ মার্কিন খামারের উৎপাদন পদ্ধতি, সম্পদের ব্যবহার ও আর্থিক অবস্থার তথ্যের প্রধান উৎস। চার্টে চার ফসলের জরিপ একসঙ্গে ধরা হয়েছে: ভুট্টা ২০২১ সালের, সয়াবিন ২০১৮ সালের, তুলা ২০১৯ সালের এবং গম ২০২২ সালের।
কোন সমস্যায় কতটা সহায়তা
সহায়তা চেয়েছেন এমন উৎপাদকদের জরিপ-তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন ইআরএস গবেষক অ্যান্ড্রু বি. রোজেনবার্গ ও কেট বিনজেন ফুলার। প্রতিটি সমস্যায় আক্রান্ত জমির কত শতাংশ কারিগরি সহায়তা পেয়েছে, চার্টে তা এভাবে দেখানো হয়েছে:
- পানির টানে ভূমিক্ষয়: ৩৬ শতাংশ
- মাঠের পানির মান: ৩৩ শতাংশ
- বাতাসে ভূমিক্ষয়: ২২ শতাংশ
- দুর্বল পানিনিষ্কাশন: ২০ শতাংশ
- জৈব পদার্থের ঘাটতি: ২০ শতাংশ
- মাটি শক্ত হয়ে যাওয়া (সয়েল কমপ্যাকশন): ১৬ শতাংশ
- তালিকার বাইরের অন্যান্য মাটি ও পানির সমস্যা: ২৬ শতাংশ
কোনো কৃষক একাধিক সমস্যার কথা জানালে একই জমি একাধিক সমস্যার হিসাবে এসেছে। সহায়তা তাই সব সমস্যায় সমান পৌঁছায়নি: ভূমিক্ষয় ও পানির মানে সহায়তার হার সবচেয়ে বেশি, মাটি শক্ত হয়ে যাওয়া, দুর্বল নিষ্কাশন বা জৈব পদার্থের ঘাটতিতে তা কম।

পরামর্শ আসে কোথা থেকে
ইআরএস জানায়, মাঠের সম্পদ-উদ্বেগে কারিগরি সহায়তার সবচেয়ে বড় উৎস ইউএসডিএর ন্যাচারাল রিসোর্সেস কনজারভেশন সার্ভিস (এনআরসিএস)। সহায়তা আসে সরাসরি এনআরসিএস থেকে, অথবা এনআরসিএস যাদের খরচ পরিশোধ করে এমন তৃতীয় পক্ষের কারিগরি সেবাদাতাদের মাধ্যমে। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণকর্মী, অঙ্গরাজ্যের সংস্থা ও অন্যান্য উৎস থেকেও পরামর্শ আসে।
বিষয়টি নতুন নয়। ২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত ইআরএসের আরেকটি বুলেটিনে রোজেনবার্গ ও স্টিভেন ওয়ালান্ডার ওট, তুলা, গম ও সয়াবিনের জমি পরীক্ষা করেছিলেন। কৃষকদের দেওয়া তথ্যে সেখানে দেখা যায়, এসব জমির ৪৯ শতাংশে অন্তত একটি এবং ২৬ শতাংশে একাধিক সম্পদ-উদ্বেগ ছিল। অন্তত একটি সমস্যা থাকা জমির ২৪ শতাংশ কারিগরি সহায়তা পেয়েছিল, আর সহায়তা পাওয়া জমির ৬৭ শতাংশের সহায়তা এসেছিল এনআরসিএস থেকে।

ভূমিক্ষয় ঠেকাতেই যে সংস্থার জন্ম
এনআরসিএসের আগের নাম সয়েল কনজারভেশন সার্ভিস। এর শুরু ১৯৩৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র বিভাগে গঠিত সয়েল ইরোশন সার্ভিস হিসেবে, যার প্রধান ছিলেন মৃত্তিকা সংরক্ষণের পথিকৃৎ হিউ হ্যামন্ড বেনেট। ১৯৩০-এর দশকের ‘ডাস্ট বোল’ বিপর্যয়ের পেছনে থাকা ভূমিক্ষয়ের ক্ষতিই ছিল তাঁর প্রেরণা। ১৯৩৫ সালে সংস্থাটি কৃষি বিভাগে আসে, আর ১৯৯৪ সালে বৃহত্তর দায়িত্ব বোঝাতে এর নাম হয় এনআরসিএস।

ইআরএসের ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘স্ট্যাটাস অ্যান্ড ট্রেন্ডস অব ইউএসডিএ কনজারভেশন প্রোগ্রামস, ২০০২-২০২৫’-এ বিশ্লেষণ করা পাঁচটি প্রবণতার একটি এই সম্পদ-উদ্বেগ। প্রতিবেদনটিতে ২০০২, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফার্ম বিলের আওতায় ইউএসডিএর প্রধান সংরক্ষণ কর্মসূচিগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে, যেগুলো মাটির স্বাস্থ্য, বন্যপ্রাণীর আবাস এবং পানি ও বাতাসের মান উন্নয়নে উৎপাদকদের সহায়তা করে।
ছবি: Lynn Betts, USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস), ইআরএস বুলেটিন ‘ইউএসডিএ কনজারভেশন টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড উইদিন-ফিল্ড রিসোর্স কনসার্নস’ (২০২২), ইআরএসের এআরএমএস তথ্যপাতা, উইকিপিডিয়া (ন্যাচারাল রিসোর্সেস কনজারভেশন সার্ভিস)





মন্তব্য
(০)