সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বাংলাদেশের মাটি ভেন্না চাষের জন্য উপযোগী

‌'আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।'

‌'আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।'

পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের কালজয়ী কবিতার লাইনগুলো পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আসমানীর সেই জীর্ণ কুটিরের চাল হিসেবে কবি বেছে নিয়েছিলেন ভেন্না পাতাকে। যা আমাদের কাছে চরম দারিদ্র্য আর অবহেলার প্রতীক হয়ে আছে। গ্রামের রাস্তার পাশে বা ঝোঁপঝাড়ে অযত্নে বেড়ে ওঠা গাছটিকে আমরা সাধারণত আগাছা হিসেবেই চিনি। কিন্তু অবহেলিত এই ভেন্না গাছই যে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ক্যাস্টর অয়েলের উৎস, তা অনেকেরই হয়তো অজানা।

ভেন্না বা রেড়ি গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ricinus communis, যা Euphorbiaceae পরিবারের অন্তর্গত। এর পাতাগুলো বেশ বড় এবং করতলাকার, ঠিক হাতের তালুর মতো ছড়ানো। আর এ কারণেই হয়তো আসমানীর ঘরের চালে এই পাতা ব্যবহার করা হয়েছিল। গাছটি সাধারণত মাঝারি আকারের গুল্মজাতীয় হয়। এর সবুজ বা লালচে ডালপালার ফাঁকে ফোটে গুচ্ছ ফুল। এর ফলগুলো দেখতে ছোট ছোট কাঁটাযুক্ত ক্যাপসুলের মতো, যার ভেতরে লুকিয়ে থাকে মহামূল্যবান বীজ।

ভেন্না গাছের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর টিকে থাকার অসাধারণ ক্ষমতা। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায়ই এ গাছ চোখে পড়ে। রাস্তার ধারে, রেললাইনের পাশে, নদীর পাড়ে বা পতিত জমিতে বিনা যত্নেই এরা বেড়ে ওঠে। খরা বা বৈরী আবহাওয়াতেও এই গাছ দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। এর জন্য আলাদা করে কোনো সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না।

ভেন্না গাছের মূল আকর্ষণ এর বীজ। এই বীজ থেকেই তৈরি হয় বিখ্যাত ক্যাস্টর অয়েল বা রেড়ির তেল। একসময় চিকিৎসায় এই তেলের ব্যাপক চল ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার 'আমার ছেলেবেলা' গ্রন্থে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন, ‌'দৈবাৎ কখনো আমার জ্বর হয়েছে; তাকে চক্ষেও দেখি নি। ডাক্তার একটু গায়ে হাত দিয়েই প্রথম দিনের ব্যবস্থা করতেন ক্যাস্টর অয়েল আর উপোস।'

বর্তমানে রূপচর্চা, বিশেষ করে চুল ও ত্বকের যত্নে এই তেলের ব্যাপক কদর। শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও এর গুরুত্ব অনেক। লুব্রিকেন্ট, সাবান, রং এবং বর্তমানে পরিবেশবান্ধব বায়োডিজেল তৈরিতেও এর ব্যবহার বাড়ছে।

প্রকৃতির এক অদ্ভুত খেয়াল দেখা যায় এই বীজে। ভেন্না বীজের আবরণে 'রিসিন' নামের অত্যন্ত শক্তিশালী ও মারাত্মক বিষ থাকে। অথচ সেই বিষাক্ত খোলসের ভেতরেই থাকে এমন উপকারী তেল। তেল বের করে নেওয়ার পর উচ্ছিষ্ট খৈলটুকু ফসলের মাঠের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর জৈব সার ও প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ক্যাস্টর অয়েলের বেশ চাহিদা রয়েছে এবং এর প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অথচ আমাদের দেশের মাটি ও আবহাওয়া ভেন্না চাষের জন্য দারুণ উপযোগী। গ্রামের পতিত, অনুর্বর ও অব্যবহৃত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য আয়ের একটি ভালো উৎস হতে পারে। যেহেতু এর উৎপাদনে খরচ ও শ্রম একদমই কম। তাই গ্রামীণ অর্থনীতিতে এটি বড় ভূমিকা রাখার দারুণ সম্ভাবনা রাখে।

ভেন্না গাছ কেবল অর্থনৈতিক দিক থেকেই লাভজনক নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এর দারুণ ভূমিকা রয়েছে। এই গাছের প্রধান মূল বা শেকড় মাটির বেশ গভীরে প্রবেশ করে। ফলে নদীভাঙন কবলিত এলাকা, চরাঞ্চল কিংবা পাহাড়ের ঢালে মাটি ক্ষয়রোধ করতে ভেন্না অত্যন্ত কার্যকর একটি উদ্ভিদ।

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যখন অনেক এলাকায় খরা বা দীর্ঘসময় বৃষ্টির অভাব দেখা দিচ্ছে; তখন অত্যন্ত কম পানিতে বেঁচে থাকতে সক্ষম গাছটি কৃষকদের জন্য ভরসার জায়গা হতে পারে। কোনো বাড়তি সেচ বা যত্ন ছাড়াই পতিত জমিতে সবুজায়নের পাশাপাশি কার্বন শোষণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যে ভেন্না পাতা একদিন আসমানীর কুটিরের জীর্ণ চাল হিসেবে কবিতায় জায়গা পেয়েছিল, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিলে সেই ভেন্না গাছই আজ আমাদের অর্থনীতিতে শক্ত ছাদ তৈরি করতে পারে।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)