সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

সীতাকুণ্ডে রান্নাঘরে ১০ ফুট লম্বা অজগর, ছেড়ে দেওয়া হলো পাহাড়ে

২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের একটি বাড়ির রান্নাঘরে আঁড়ায় পেঁচিয়ে থাকা প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি অজগর পাওয়া যায়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যুবসমাজের সদস্যরা সাপটিকে বস্তায় ভরে কাছের পাহাড়ের গহীনে ছেড়ে দেন।

সীতাকুণ্ডে রান্নাঘরে ১০ ফুট লম্বা অজগর, ছেড়ে দেওয়া হলো পাহাড়ে
পরিবেশ

২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর, শুক্রবার, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার একটি বাড়ির রান্নাঘরে আঁড়ার সঙ্গে পেঁচিয়ে থাকা অবস্থায় একটি অজগর পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, সাপটি প্রায় ১০ ফুট লম্বা। বাড়ির লোকজন সাপটি দেখে চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ জড়ো হন। পরে যুবসমাজ নামে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা এসে অজগরটিকে নামিয়ে বস্তায় ভরে বাড়ির কাছের পাহাড়ের গহীনে ছেড়ে দেন। ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর জাগো নিউজ ২৪ এই খবর প্রকাশ করে।

বাড়িটি উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের পূর্ব সোনার পাড়া এলাকায়। বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটারের মধ্যেই পাহাড়ের একটি টিলা রয়েছে। স্থানীয় ব্যক্তিদের ধারণা, অজগরটি খাবারের সন্ধানে ওই টিলা থেকে লোকালয়ে নেমে এসেছিল, খুব সম্ভবত বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময়ে, এবং চোখে পড়ার আগ পর্যন্ত রান্নাঘরের আঁড়ায় পেঁচিয়ে ছিল।

যেভাবে সাপটি পাওয়া গেল এবং সরিয়ে নেওয়া হলো


জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অজগরটি পাওয়া যায় খলিলুর রহমান নামে এক বাসিন্দার রান্নাঘরে। সাপটি রান্নাঘরের আঁড়ায় পেঁচিয়ে ছিল। গ্রামের অনেক রান্নাঘরে কাঠ বা বাঁশের এই কাঠামোয় সংসারের জিনিসপত্র রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা সাপটি দেখে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা দেখতে আসেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন পত্রিকাটিকে বলেন, শুক্রবার সকালে অজগরটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা, কিন্তু কেউ সেটিকে ধরার সাহস করছিলেন না। পরে বাসিন্দারা এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যুবসমাজের সদস্যদের খবর দেন। সংগঠনের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটিকে আঁড়া থেকে টেনে নামান। এরপর বস্তায় ভরে সেটিকে বাড়ির কাছাকাছি পাহাড়ের গহীনে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে সাপটির দৈর্ঘ্য কেবল স্থানীয়দের অনুমান হিসেবে, প্রায় ১০ ফুট বা মোটামুটি তিন মিটার, উল্লেখ করা হয়। অজগরটি কোন প্রজাতির, সেটির শরীরে কোনো আঘাত ছিল কি না পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, কিংবা বন বিভাগকে জানানো হয়েছিল কি না, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। কোনো মানুষ বা সাপের আহত হওয়ার খবরও প্রতিবেদনে ছিল না।

সীতাকুণ্ড, কুমিরা এবং গ্রামের ওপরের পাহাড়


এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রকাশিত জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, সীতাকুণ্ড চট্টগ্রাম জেলার একটি উপজেলা, যার আয়তন ৪৮৩.৯৬ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলা, দক্ষিণে পাহাড়তলী থানা, পূর্বে ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলা এবং পশ্চিমে সন্দ্বীপ উপজেলা ও সন্দ্বীপ চ্যানেল। সীতাকুণ্ড থানা গঠিত হয় ১৯৭৯ সালে এবং ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলায় রূপান্তরিত হয়।

বাংলাপিডিয়ায় উদ্ধৃত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩২। অজগরটি যে ইউনিয়নে পাওয়া যায়, সেই কুমিরার আয়তন ৮ হাজার ৫৩৪ একর; একই শুমারিতে সেখানে ২০ হাজার ৭২৪ জন পুরুষ ও ১৮ হাজার ১৭২ জন নারী গণনা করা হয়, সাক্ষরতার হার ৫৭.৭ শতাংশ। বাংলাপিডিয়া উপজেলার উল্লেখযোগ্য হাটবাজারের তালিকায় কুমিরা বাজার এবং প্রত্নসম্পদের তালিকায় কুমিরার হারমাদিয়া জামে মসজিদের নাম রেখেছে।

উপজেলাটি সমুদ্র ও পাহাড়শ্রেণির মাঝখানে একটি সরু ভূখণ্ড। বাংলাপিডিয়া এর দর্শনীয় স্থান হিসেবে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, উপকূলীয় বনায়ন এলাকা, চন্দ্রনাথ মন্দির ও পাহাড় এবং ইকোপার্ক ও উদ্ভিদ উদ্যানের কথা বলেছে। এখানকার প্রধান ফসল ধান, পান, আদা, হলুদ, পেঁয়াজ, রাবার ও শাকসবজি; প্রধান ফলের মধ্যে আছে আম, কাঁঠাল, পেঁপে, পেয়ারা, নারকেল, সুপারি, তরমুজ ও আনারস। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে ২৪.১২ শতাংশ মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি, আর চাকরি ২৮.৭৬ শতাংশের।

গ্রামের ওপরের পাহাড়গুলো বনে ঢাকা। বাংলাপিডিয়া জানায়, সীতাকুণ্ড উদ্ভিদ উদ্যান ও ইকোপার্ক চিরসবুজ চন্দ্রনাথ সংরক্ষিত বন রেঞ্জে অবস্থিত, আর চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উচ্চতা ৪১০ মিটার। বনভূমির পাহাড় আর জনবসতিপূর্ণ নিচু জমির এই মিশ্রণ, যেখানে পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত ঘরবাড়ি উঠেছে, সেখানেই সীতাকুণ্ডে অজগর আর মানুষের দেখা হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ থেকে দেখা সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়। ছবি: Jyot1.5hompad0k / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ থেকে দেখা সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়। ছবি: Jyot1.5hompad0k / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাংলাদেশে কোন কোন অজগর আছে


অজগর বড় আকারের বিষহীন সাপ। বাংলাপিডিয়ায় এস এম হুমায়ুন কবিরের লেখা অজগর ভুক্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দুই প্রজাতির অজগর পাওয়া যায়: রক পাইথন, যার বৈজ্ঞানিক নাম সেখানে Python molurus দেওয়া হয়েছে, এবং রেটিকুলেটেড পাইথন। রক পাইথন আকারে বড়, প্রায় ৫.৭ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। দুটিই দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মিশ্র চিরসবুজ বনে থাকে, আর রক পাইথন সুন্দরবনেও পাওয়া যায়। জ্ঞানকোষটি বলছে, দুটিই বিরল হয়ে পড়েছে; বাংলাদেশে রক পাইথনকে মহাবিপন্ন এবং রেটিকুলেটেড পাইথনকে বিপন্ন হিসেবে ধরা হয়।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ের অজগরকে এখন সাধারণত বার্মিজ পাইথন বলা হয়, বৈজ্ঞানিক নাম Python bivittatus। যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল জু অ্যান্ড কনজারভেশন বায়োলজি ইনস্টিটিউট জানায়, বার্মিজ পাইথনকে একসময় ভারতীয় অজগর Python molurus-এর একটি উপপ্রজাতি ধরা হতো; এখন বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ একে আলাদা প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেন। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে এর প্রাকৃতিক বিস্তৃতির মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশ, পূর্ব ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ চীনের অন্যান্য অঞ্চলের নাম রয়েছে।

২০১২ সাল থেকে বার্মিজ পাইথন আইইউসিএনের লাল তালিকায় সংকটাপন্ন (ভালনারেবল) হিসেবে তালিকাভুক্ত, কারণ হিসাব অনুযায়ী এই শতকের প্রথম দশকে আবাসস্থল হারানো ও মাত্রাতিরিক্ত আহরণে বুনো অবস্থায় এর সংখ্যা অন্তত ৩০ শতাংশ কমেছে। বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক কনভেনশন সাইটিসের পরিশিষ্ট ২-এর আওতায় এই প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রিত। স্মিথসোনিয়ান জানায়, চামড়ার জন্য লাখ লাখ অজগর মারা হয়, যা দিয়ে জুতা, বেল্টসহ নানা পণ্য তৈরি হয়; আর বনে-জঙ্গলে দেখা পেলে প্রায়ই কেবল সাপ বলেই এদের মেরে ফেলা হয়।

জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদনে সীতাকুণ্ডের রান্নাঘরের সাপটির প্রজাতি শনাক্ত করা হয়নি। দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের বনঢাকা পাহাড়ের পাশে পাওয়া প্রায় তিন মিটার লম্বা একটি অজগর এসব সূত্রে বর্ণিত আকার ও আবাসের সঙ্গে মেলে, তবে প্রতিবেদনে প্রজাতি নিশ্চিত করা হয়নি।

অজগর কীভাবে বাঁচে, কেন ঘরে ঢোকে


স্মিথসোনিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, বার্মিজ পাইথন পৃথিবীর বৃহত্তম ছয়টি সাপের একটি। ১৫ ফুটের (৪.৬ মিটার) বেশি লম্বা হওয়া সাধারণ ঘটনা, আর গড় দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৬ ফুট (৩ থেকে ৪.৯ মিটার); স্ত্রী সাপ সাধারণত পুরুষের চেয়ে বড় হয়। কাজেই কুমিরার রান্নাঘরের অজগরের মতো প্রায় ১০ ফুটের একটি সাপ প্রাপ্তবয়স্ক অজগরের স্বাভাবিক আকারের মধ্যেই পড়ে। এর শরীরের রং হালকা বাদামি, হলদে-বাদামি বা ধূসর, তার ওপর ক্রিম বা সোনালি রেখায় ঘেরা বড় বড় গাঢ় বাদামি বা জলপাই রঙের ছোপ থাকে।

অজগর পেঁচিয়ে শিকার মারে। এদের বিষদাঁত বা বিষ নেই, তবে পেছনের দিকে বাঁকানো অনেক দাঁত আছে, যা দিয়ে শিকার আঁকড়ে ধরে রাখে। বাংলাপিডিয়া জানায়, বাংলাদেশের অজগর স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি ও সরীসৃপ খায়, তবে স্তন্যপায়ীই বেশি পছন্দ করে বলে মনে হয়; ইঁদুর, খরগোশ, ছাগল, ভেড়া, শিয়াল ও হরিণ এর সাধারণ শিকার। ছাগল শিকারের অভ্যাস থেকেই এর স্থানীয় নাম অজগর। শিকারকে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মারে এবং আস্ত গিলে ফেলে। স্মিথসোনিয়ান যোগ করেছে, অজগর প্রতিদিন খায় না; সফল শিকারের পর খাবার হজম করতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ শরীর গরম রেখে কাটায়।

খামার ও গৃহস্থালিও অজগরকে টানে। স্মিথসোনিয়ান বলছে, গৃহপালিত হাঁস-মুরগি ও শূকর বার্মিজ পাইথনকে কৃষিনির্ভর বসতির দিকে টেনে আনে, আর অজগর সকালবেলা রোদ পোহায়, তারপর শিকারের খোঁজে চলাফেরা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ২০১৬ সালে প্রকাশিত সাপের দংশন ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সাপ খাবারের খোঁজে বা লুকানোর জায়গা পেতে ঘরে ঢুকতে পারে; ঘরের ভেতরে রাখা গবাদি প্রাণী, বিশেষ করে মুরগি বড় সাপের সম্ভাব্য শিকার, আর মজুত খাবার ইঁদুর টানে, যে ইঁদুর অনেক সাপের খাদ্য। কুমিরার ঘটনায়ও স্থানীয়দের ধারণা ছিল, অজগরটি খাবারের খোঁজে টিলা থেকে নেমে এসেছিল।

প্রজনন মৌসুমও অজগর দেখা যাওয়ার সময়কে প্রভাবিত করে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, বাংলাদেশে অজগরের প্রজনন শুরু হয় ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এবং তিন-চার মাস পর ডিম পাড়ে; এরপর স্ত্রী অজগর ডিমগুলো পেঁচিয়ে ধরে তা দেয়, তবে বাচ্চা ফোটার পর আর যত্ন নেয় না। স্মিথসোনিয়ানের হিসাবে এক দফায় গড়ে ৩০ থেকে ৬০টি, কখনো ১০০টি পর্যন্ত ডিম হয়। তা দেওয়ার সময় স্ত্রী অজগর পেশি কাঁপিয়ে নিজের কুণ্ডলীর ভেতরের তাপমাত্রা বাতাসের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে রাখে। সদ্য ফোটা বাচ্চা ৩১ থেকে ৪৬ সেন্টিমিটার লম্বা হয় এবং নিজেরাই টিকে থাকার লড়াই শুরু করে। বার্মিজ পাইথন চার-পাঁচ বছরে প্রজননক্ষম হয় এবং মানুষের তত্ত্বাবধানে ২০ থেকে ২৫ বছর বাঁচে; বুনো পরিবেশে এদের আয়ু জানা নেই।

২১টি ডিম পেঁচিয়ে তা দিচ্ছে একটি স্ত্রী বার্মিজ পাইথন; ছবিটি তা দেওয়ার আচরণ দেখায়, বাংলাদেশে তোলা নয়। ছবি: Tigerpython / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
২১টি ডিম পেঁচিয়ে তা দিচ্ছে একটি স্ত্রী বার্মিজ পাইথন; ছবিটি তা দেওয়ার আচরণ দেখায়, বাংলাদেশে তোলা নয়। ছবি: Tigerpython / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সীতাকুণ্ডে আগের অজগর উদ্ধার ও চিড়িয়াখানার অজগরছানা


সীতাকুণ্ডে লোকালয়ে অজগর দেখা যাওয়ার ঘটনা কুমিরার রান্নাঘরেই প্রথম নয়। ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, আগের দিন শুক্রবার সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবিরহাট এলাকা থেকে ১৫ ফুট লম্বা ও ২২ কেজি ওজনের একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। ফৌজদারহাটের একজন বন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয়রা সাপটি দেখে বন বিভাগকে খবর দেন, বন কর্মকর্তারা গিয়ে সেটি উদ্ধার করেন এবং পরে ভাটিয়ারী গার্ডেনের বনে ছেড়ে দেন। ওই কর্মকর্তা বলেছিলেন, সাপটি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে থাকতে পারে।

সীতাকুণ্ডের বনে কৃত্রিম উপায়ে ফোটানো অজগরছানাও ছাড়া হয়েছে। ২০২২ সালের ২৪ জুন দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রায় ৬৫ দিন ইনকিউবেটরে রাখা ডিম থেকে ১১টি অজগরছানা জন্ম নিয়েছে। চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ও চিকিৎসক শাহাদাৎ হোসেন শুভ পত্রিকাটিকে বলেছিলেন, ছানাগুলোকে এক মাস ইনকিউবেটরে রাখা হবে, ১৫ দিন পর এরা খোলস বদলাবে, তারপর প্রকৃতিতে ছাড়া হবে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের ২৩ জুন ইনকিউবেটরের ৩১টি ডিম থেকে ২৮টি বাচ্চা ফুটেছিল, আর ২০১৯ সালের জুনে চিড়িয়াখানার ইনকিউবেটরে ২৫টি অজগরছানা ফোটানো হয়, যা ছিল বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইনকিউবেটরে অজগরের জন্ম।

২০২৩ সালের ২০ জুলাই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম উপায়ে জন্ম নেওয়া ১৬টি অজগর এবং বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা আরও ১০টি বড় সাপ লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করেছে। ডেপুটি কিউরেটর সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ২০১৯ সাল থেকে চার বছরে কৃত্রিম উপায়ে মোট ৮০টি অজগরের জন্ম হয়েছে, আর প্রথম তিন বছরের ৬৪টি বাচ্চা সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে ছাড়া হয়েছিল। বড় সাপগুলোর বয়স ছিল তিন থেকে ১৫ বছর; এগুলো বিভিন্ন স্থানে আহত অবস্থায় বা পাচারের সময় উদ্ধার করে চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছিল, কয়েকটি এনেছিলেন সাধারণ মানুষ।

২০২৪ সালের এপ্রিলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২২ ফুট প্রস্থের কাচঘেরা একটি ‘স্নেক কর্নার’ চালু হয়েছে, যেখানে ১৪ প্রজাতির সাপ রাখা যাবে। ডেপুটি কিউরেটর সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ভ্রান্ত ধারণার কারণে অনেকে বিষহীন সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলেন; আবার অনেকে সাপ পেলে আহত বা জীবিত অবস্থায় চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসেন, যেগুলোকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে সংরক্ষণ করা হয়।

সীতাকুণ্ড উদ্ভিদ উদ্যান ও ইকোপার্ক


বাংলাপিডিয়ার সংজ্ঞায় ইকোপার্ক হলো বনের এমন একটি অংশ, যাকে নিবিড় ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়, যাতে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি না করে দর্শনার্থীরা প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন। বন বিভাগ দেশজুড়ে নয়টি ইকোপার্ক গড়েছে, তার মধ্যে সীতাকুণ্ডেরটি সবচেয়ে পুরোনো। ১৯৯৯ সালে চিরসবুজ চন্দ্রনাথ সংরক্ষিত বন রেঞ্জের ৮০৮ হেক্টর জমিতে এটি গড়ে তোলা হয়। পার্কের প্রধান ফটক থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দির, সেখানে পৌঁছাতে তীর্থযাত্রীদের প্রায় ১ হাজার ৬০০ সিঁড়ি ভাঙতে হয়।

জ্ঞানকোষটি জানায়, পার্কে ফলদ, কাঠ ও ঔষধি গাছসহ ১৫৪ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে, আর বিরল সাইকাস গাছের জন্য পার্কটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, পিকনিক স্পট, অর্কিড হাউস, ক্যাকটাস হাউস, গোলাপ বাগান, মৌসুমি ফলের বাগান ও শাপলায় ভরা একটি বড় পুকুর রয়েছে, আর আছে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও পাখি। ইকোপার্ক গড়ার ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে আছে বিরল উদ্ভিদ ও প্রাণী রক্ষা, বিদ্যমান উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা, স্থানীয় মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং অধ্যয়ন ও গবেষণার সুযোগ তৈরি।

বাংলাপিডিয়ার হিসাবে দেশের বনভূমি ২৫ লাখ ২০ হাজার হেক্টর, যা মোট আয়তনের ১৭.০৮ শতাংশ; এর মধ্যে বন বিভাগ পরিচালনা করে ১৫ লাখ ২০ হাজার হেক্টর, দেশের আয়তনের ১০.৬ শতাংশ। সীতাকুণ্ডের পার্কটি কুমিরা ও ভাটিয়ারীর একই উপজেলায়, যেখানে এই প্রতিবেদনে বর্ণিত অজগরগুলো পাওয়া গিয়েছিল।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উদ্ভিদ উদ্যান ও ইকোপার্কের প্রবেশপথ, ছবিটি ২০১২ সালের জুলাইয়ে তোলা। ছবি: Moheen Reeyad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উদ্ভিদ উদ্যান ও ইকোপার্কের প্রবেশপথ, ছবিটি ২০১২ সালের জুলাইয়ে তোলা। ছবি: Moheen Reeyad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বন্যপ্রাণী আইন কী বলে


২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সুরক্ষিত ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৩০ নং আইন, ১০ জুলাই ২০১২) দিয়ে। আইনে ‘শিকার’-এর সংজ্ঞা ব্যাপক: কোনো বন্যপ্রাণীকে হত্যা করা, ধরা, বিষ প্রয়োগ করা বা অনুরূপ কোনো উদ্যোগ; এসব উদ্দেশ্যে বন্যপ্রাণীকে তাড়িয়ে নেওয়া; এবং কোনো বন্যপ্রাণীকে আহত বা ক্ষতি করা, এর কোনো অংশ নেওয়া বা বন্য পাখি বা সরীসৃপের বাসা বা ডিম সংগ্রহ বা ধ্বংস করা, সবই শিকারের মধ্যে পড়ে।

আইনের ৬(১) ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন লাইসেন্স বা ক্ষেত্রমতো পারমিট গ্রহণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করতে পারবেন না। ৩৯ ধারা অনুযায়ী, ৬ ধারা লঙ্ঘন অপরাধ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

উদ্ধার করা প্রাণীর ক্ষেত্রে আইনের দৃষ্টিভঙ্গির কথাও কর্মকর্তারা বলেছেন। চুনতিতে অবমুক্তি নিয়ে ২০২৩ সালের জুলাইয়ের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা বলেন, আইন অনুযায়ী উদ্ধার করা বন্যপ্রাণী নিরাপদ আবাসস্থলে ছাড়ার বিধান আছে, আর সে কারণেই ৭ হাজার ৭৬৪ হেক্টরের এবং পাঁচ ধরনের বনাঞ্চলের চুনতি অভয়ারণ্যকে বেছে নেওয়া হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভাটিয়ারীর ঘটনায় ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী স্থানীয়রা বন বিভাগকে খবর দিয়েছিলেন এবং বন কর্মকর্তারাই অজগরটি উদ্ধার করে ছেড়ে দেন।

ঘরে সাপ ঢুকলে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ


অজগর বিষধর নয়। বাংলাপিডিয়া বলছে, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ প্রজাতির সাপের তিন-চতুর্থাংশের বেশি বিষহীন, আর স্থলভাগের মাত্র অর্ধডজনের কম সাপ মারাত্মক বিষধর। তবু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা সতর্ক করে যে বড় অজগর কখনো কখনো মানুষকে আক্রমণ করে, আর বিষহীন সাপের কামড়কে বিষধর সাপের কামড় বলে ভুল করা হতে পারে, ফলে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হয়। ঘরবাড়ির জন্য সংস্থাটির পরামর্শ সাধারণ, ঘরে বা আশপাশে পাওয়া যেকোনো সাপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:

  • কখনো সাপ হাতে ধরবেন না, ভয় দেখাবেন না বা আক্রমণ করবেন না, এবং জেনেশুনে কোনো বদ্ধ জায়গায় সাপকে আটকে ফেলবেন না বা কোণঠাসা করবেন না; সাপ মানুষের মতো বড় প্রাণীর মুখোমুখি হতে চায় না, তাই একে সরে যাওয়ার সব সুযোগ দিন।
  • এ অঞ্চলের অনেক জায়গায় ঘরবাড়ি ও বাগান থেকে সাপ সরানোর জন্য নির্দিষ্ট সাপ ধরার লোক আছেন; যেখানে সাপ থাকে বলে জানা, সেখান থেকে ছোট শিশুদের দূরে রাখুন।
  • ঘরের ভেতরে গবাদি প্রাণী, বিশেষ করে মুরগি রাখবেন না, আর খাবার ইঁদুর ঢুকতে পারে না এমন পাত্রে রাখুন, কারণ দুটিই শিকারের খোঁজে সাপকে টানে।
  • নিয়মিত ঘরে সাপ আছে কি না দেখুন, আর সম্ভব হলে এমন নির্মাণ এড়িয়ে চলুন যা সাপকে লুকানোর জায়গা দেয়, যেমন খোলা চালার কিনারা, ফাটলওয়ালা মাটির দেয়াল ও মেঝের নিচের খোলা ফাঁকা জায়গা।
  • বাড়ির কাছ থেকে উইয়ের ঢিবি, আবর্জনা ও নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে ফেলুন, ঘাস ছোট করে রাখুন এবং গাছের ডাল যেন ঘর ছুঁয়ে না থাকে।
  • রাতে বাইরে হাঁটার সময় আলো ব্যবহার করুন, আর সম্ভব হলে উঁচু বিছানায় ভালোভাবে গুঁজে দেওয়া মশারির ভেতরে ঘুমান।

নির্দেশিকা আরও বলছে, এমন কোনো রাসায়নিক এখনো পাওয়া যায়নি যা সাপ তাড়ায় অথচ শিশু ও গৃহপালিত প্রাণীর জীবনের জন্য বিপজ্জনক মাত্রায় বিষাক্ত নয়। কাউকে সাপে কামড়ালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাপটিকে মারার চেষ্টা না করার পরামর্শ দেয়, কারণ তা বিপজ্জনক হতে পারে। ক্ষতস্থান কাটা, মুখ দিয়ে বিষ টেনে বের করা, শক্ত বাঁধন দেওয়া, সাপের পাথর, লতাপাতা বা বরফ ব্যবহারের মতো প্রচলিত প্রাথমিক চিকিৎসা উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে আশ্বস্ত করে দেরি না করে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে হবে।

পরিসংখ্যানে বাংলাদেশে সাপের দংশন


অজগর বিষধর না হলেও গ্রামীণ বাংলাদেশে সাপ জনস্বাস্থ্যের বড় বিষয়। ২০২৩ সালের ১৮ জুন দ্য ডেইলি স্টার বাংলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের এক গবেষণার ফল প্রকাশ করে: দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার মানুষকে সাপে কামড়ায় এবং তাঁদের মধ্যে ৭ হাজার ৫১১ জন মারা যান। সাপের কামড়ের সব ঘটনার প্রায় এক-চতুর্থাংশ বিষধর সাপের, ভুক্তভোগীদের ৯৫ শতাংশ গ্রামীণ এলাকার, আর নারীদের চেয়ে পুরুষেরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে স্থানীয়ভাবে কোনো অ্যান্টিভেনম উৎপাদিত হয় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৬ সালের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নির্দেশিকায় সংক্ষেপে তুলে ধরা আগের জরিপগুলো ভিন্ন সংখ্যা দেয়। সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০০৯ সালের এক জরিপে হিসাব করা হয়, গ্রামীণ বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৯১৯ জন মানুষকে সাপে কামড়ায় এবং ৬ হাজার ৪১ জন মারা যান। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ডাকযোগে পরিচালিত এক জরিপে সারা দেশে বছরে প্রতি লাখে ৪.৩টি দংশনের কথা বলা হয়েছিল, যা চট্টগ্রাম বিভাগের মতো এলাকায় প্রতি লাখে ৭। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বেশির ভাগ রোগী প্রথমে প্রচলিত ওঝা বা কবিরাজের কাছে যান।

বিশ্বজুড়ে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের তথ্যপত্র অনুযায়ী প্রতিবছর আনুমানিক ৫৪ লাখ মানুষকে সাপে কামড়ায়, যার ১৮ লাখ থেকে ২৭ লাখ ক্ষেত্রে শরীরে বিষ ঢোকে, আর মারা যান ৮১ হাজার ৪১০ থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮০ জন; অঙ্গহানি ও অন্যান্য স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার সংখ্যা এর প্রায় তিন গুণ। এশিয়ায় প্রতিবছর ২০ লাখ পর্যন্ত মানুষ সাপের বিষে আক্রান্ত হন, আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিশ্রমিক ও শিশুরা। ২০১৭ সালের জুনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাপের দংশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের অবহেলিত ক্রান্তীয় রোগের তালিকায় তোলে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সাপের দংশনে মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিতা অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য ঠিক করে।

সাপ কৃষকের উপকারও করে। বাংলাপিডিয়া জানায়, ঘরবাড়ির কাছে থাকা কয়েকটি বিষহীন প্রজাতি ইঁদুর দমনে সাহায্য করে, আর স্মিথসোনিয়ান সাপকে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের অপরিহার্য প্রাণী বলেছে, যা না থাকলে ইঁদুরের উপদ্রবে অনেক ফসল নষ্ট হয়। কুমিরার রান্নাঘরে পাহাড় থেকে নেমে আসা অজগরটিও সেই বন্যপ্রাণীর অংশ, যা আইনে সুরক্ষিত এবং সংকটাপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত।

ছবি: TimVickers / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া (এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (আদমশুমারি ২০১১), স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল জু অ্যান্ড কনজারভেশন বায়োলজি ইনস্টিটিউট, আইইউসিএন লাল তালিকা, সাইটিস, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ (বাংলাদেশের আইন), দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (সাপের দংশন ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০১৬; সাপের দংশন তথ্যপত্র, ২০২৩), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)