সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ে হাতির বিচরণ এলাকায় সিসি ব্লক কারখানার অভিযোগ

২০২৬ সালের ১৪ মার্চ জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে গারো পাহাড়ের গহিন বনে, বন্যহাতির বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এলাকায়, স্থানীয় দুই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সিসি ব্লক কারখানা চালানোর অভিযোগ উঠেছে; অভিযুক্ত একজন বলেছেন ব্লক পুকুরপাড়ের জন্য, আর বন বিভাগ কাজ বন্ধ করে সরঞ্জাম জব্দ করার কথা জানিয়েছে।

নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ে হাতির বিচরণ এলাকায় সিসি ব্লক কারখানার অভিযোগ
পরিবেশ

শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ে, বন্যহাতির আশ্রয় হিসেবে পরিচিত এক গহিন বনে সিমেন্ট-কংক্রিটের (সিসি) ব্লক তৈরির কারখানা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় দুই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে। ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ জাগো নিউজ২৪-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, পাহাড়ি ঝরনা থেকে অবৈধভাবে তোলা বালু, নুড়ি ও পাথর দিয়ে এসব ব্লক বানানো হচ্ছে এবং শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলার ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। বন বিভাগের একজন বিট কর্মকর্তা প্রতিবেদককে জানান, তাঁদের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ব্লক তৈরির সব কাজ বন্ধ করে সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নালিতাবাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, কাজটি আইনসিদ্ধ কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানাটি এমন এক দুর্গম জায়গায়, যেখানে বন্যহাতির অবাধ চলাচলের কারণে সাধারণত মানুষ যায় না। স্থানীয় একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠন সতর্ক করে যে গাড়ি ও পাথর ভাঙার যন্ত্রের শব্দে এলাকার প্রাণী ও পাখি বিপাকে পড়ছে। অভিযুক্ত দুই ইউপি সদস্যের একজন বলেন, নিজের পুকুরের পাড় মেরামতের জন্য তিনি ব্লকগুলো বানিয়েছেন।

কোনাবাড়ী বড়খোলে প্রতিবেদনে যা উঠে আসে


জাগো নিউজের প্রতিনিধি সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, কারখানাটি উপজেলার ১ নম্বর পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমশ্চুড়া গ্রামে, ভারত সীমান্তঘেঁষা 'কোনাবাড়ী বড়খোল' নামের জায়গায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যহাতির অবাধ বিচরণক্ষেত্র হওয়ায় এই দুর্গম এলাকায় সাধারণত মানুষের যাতায়াত নেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সুযোগে স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য, প্রতিবেদনে যাঁদের নাম ওমর (বা উমর) ফারুক ও নবী হোসেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, রঞ্জনা ঝরনা থেকে বালু, নুড়ি ও সিঙ্গেল পাথর তুলে বড় পরিসরে সিসি ব্লক তৈরি করছিলেন।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত স্থানীয় বাসিন্দারা এর একটি কারণও তুলে ধরেন। তাঁদের ভাষ্য, নালিতাবাড়ীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দুটি নদীর বালুমহাল তখন বন্ধ ছিল, ফলে স্থানীয়ভাবে বালু তোলা ও পরিবহন পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল। তাঁদের মতে, এ কারণেই গহিন পাহাড়ে সিসি ব্লক বানিয়ে ভিন্ন রূপে বালু ও পাথর বিক্রির পথ বের করা হয়েছে। তাঁরা জানান, তৈরি ব্লক জেলা ও অন্যান্য এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল। এগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যা সংবাদপত্রটি প্রকাশ করেছে; প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কোনো আদালত বা সরকারি তদন্তে এসব অভিযোগ যাচাই হয়নি।

সেভ দ্য ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচারের (সোয়ান) শেরপুরের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান লিজান সংবাদপত্রটিকে বলেন, গারো পাহাড়ের গহিনে এভাবে ব্লক তৈরির কারখানা মানে বনভূমি দখল। তাঁর ভাষ্য, গাড়ি ও পাথর ভাঙার যন্ত্রের শব্দে সেখানে থাকা পশুপাখিসহ নানা প্রাণীর ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ওই এলাকার প্রাণীরা অন্যত্র চলে যাবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

অভিযুক্তের বক্তব্য ও প্রশাসনের অবস্থান


অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. উমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, নিজের পুকুরপাড়ে ব্লক বসিয়ে মেরামতের জন্য তিনি এসব সিসি ব্লক তৈরি করেছেন। তাঁর কথায়, এখন এসব বেআইনি হলে কিছুই করার নেই, যা হওয়ার হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুকুরের পাড় মেরামতে এত বেশি ব্লক কেন লাগছে, নাকি এগুলো ব্যবসার জন্য তৈরি, এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি। দ্বিতীয় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নবী হোসেনের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে ছিল না।

বন বিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জের বনবিট কর্মকর্তা মো. কাউসার আহম্মেদ জাগো নিউজকে বলেন, কারখানাটি যেখানে বসানো হয়েছে, সেখানে বন বিভাগের লোকজনের খুব একটা যাতায়াত নেই, তাই আগে তাঁরা বিষয়টি জানতেন না। তথ্য পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, সিসি ব্লক তৈরির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেন এবং ব্লক তৈরির সব সরঞ্জাম জব্দ করেন। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

নালিতাবাড়ীর ইউএনও রেজওয়ানা আফরিনের বক্তব্য ছিল তুলনামূলক সতর্ক। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তিনি জেনেছেন, আগে থেকে তুলে রাখা বালু ও পাথর দিয়ে তাঁরা নিজেদের জায়গায় ব্লক তৈরি করছেন। এটি আইনসিদ্ধ নাকি অবৈধ, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। ফলে দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে জমির আইনি অবস্থা অমীমাংসিত থেকে যায়: বন বিভাগ জায়গাটিকে নিজেদের ব্যবস্থা নেওয়ার আওতায় ধরে কাজ বন্ধ করেছে, আর ইউএনও বলেছেন ব্যক্তিগত জমির দাবি এখনো যাচাই করা বাকি।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও ২০২৫ সালের মে মাসের ঘটনা


জাগো নিউজে উদ্ধৃত বাসিন্দারা আরও বড় একটি অভিযোগ তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে গারো পাহাড়ে অনেকে নানা অপকর্ম করছেন এবং প্রতিবাদ করতে গেলে মব তৈরি করে হেনস্তা করা হয়। তাঁরা বলেন, এই কারবারিরা এর আগেও এই পাহাড়ে পরিবেশ উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে মব তৈরি করেছিলেন। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে উপদেষ্টার নাম 'রেজওয়ানা চৌধুরী' লেখা হয়েছিল; তখন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা ছিলেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আর বাসিন্দারা যে ঘটনার কথা বলেছেন, সেটি ২০২৫ সালের ২৬ মে তাঁর নালিতাবাড়ী সফরের ঘটনা বলে প্রতীয়মান হয়।

সেদিনের প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নালিতাবাড়ীর দাওধারা-কাটাবাড়ি এলাকা পরিদর্শনে যান, যেখানে সরকারিভাবে একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রথম আলো জানায়, বন বিভাগ এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছিল, কারণ তাদের মতে জায়গাটি বন্যহাতির চলাচলের পথ এবং সামাজিক বনায়নের আওতাভুক্ত। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকেরা ওই এলাকায় অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন এবং বনের মধ্যে বিদ্যুৎ-সংযোগ নিয়ে উপদেষ্টার অবস্থান জানতে চান। এ প্রশ্নে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন; উপদেষ্টা কয়েকজন স্থানীয়ের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে গাড়িবহর নিয়ে এগিয়ে যান। প্রথম আলোর খবরে বলা হয়, এরপর সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয় এবং চারজন সাংবাদিক আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, তিনি উপদেষ্টার গাড়ির সঙ্গে ছিলেন, পেছনে হট্টগোলের কথা শুনে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়, এবং অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রথম আলোর ২০২৫ সালের ২৬ মের আরেক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সফরে উপদেষ্টা বলেন, গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসন করে হাতির জন্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হবে। তিনি জানান, তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই ১২টি হাতি মারা গেছে, যা মোটেও স্বাভাবিক নয়। কতটুকু জায়গা হাতির উপযোগী আছে এবং কতটুকু উপযোগী করা সম্ভব, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে, যাতে হাতি বন ছেড়ে লোকালয়ে না আসে, বলেও তিনি জানান।

নালিতাবাড়ীর হাতিপাগারে ভোগাই নদী, নালিতাবাড়ী-ডালু সড়ক থেকে তোলা, ডিসেম্বর ২০১৫। ছবি: Anup Sadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
নালিতাবাড়ীর হাতিপাগারে ভোগাই নদী, নালিতাবাড়ী-ডালু সড়ক থেকে তোলা, ডিসেম্বর ২০১৫। ছবি: Anup Sadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

নালিতাবাড়ী, পোড়াগাঁও ও মধুটিলা


নালিতাবাড়ী শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার একটি; শেরপুর মহকুমা ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, উপজেলাটির আয়তন ৩২৭.৬০ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন ১২টি। এর উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, পূর্বে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা, পশ্চিমে ঝিনাইগাতী উপজেলা এবং দক্ষিণে শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলা। ভোগাই, কংস, মালঝি ও থলং এই উপজেলার নদী, আর আছে কয়েকটি বিল। প্রধান ফসল ধান, পাট, গম, আলু, সরিষা ও শাকসবজি। বাঙালিদের পাশাপাশি এখানে গারো, হাজং, হদি, মান্দাই ও কোচ জনগোষ্ঠীর মানুষ বাস করেন। বাংলাপিডিয়া উপজেলার উল্লেখযোগ্য স্থানের মধ্যে মধুটিলা ইকোপার্ক ও ভোগাই নদীর রাবার ড্যামের নাম দিয়েছে।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, পুরো শেরপুর জেলার আয়তন ১,৩৬৪.৬৭ বর্গকিলোমিটার এবং ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৫। জেলার নদীর তালিকায় আছে চেল্লাখালী, ভোগাই, সোমেশ্বরী, কংস ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র। জেলার উত্তর সীমান্তের পাহাড়গুলো গারো পাহাড়ের প্রান্ত; এই পর্বতশ্রেণির মূল অংশ ভারতের মেঘালয়ে, যার সর্বোচ্চ চূড়া নকরেকের উচ্চতা ১,৪১২ মিটার।

মধুটিলা ইকোপার্কের নামেই সেই ফরেস্ট রেঞ্জ, যার কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বক্তব্য দিয়েছেন। পার্কটি পোড়াগাঁও ইউনিয়নে, অর্থাৎ পশ্চিম সমশ্চুড়া যে ইউনিয়নে, সেখানেই। বিশ্বকোষীয় তথ্যসূত্রে এটিকে সীমান্তের কাছে প্রায় ৩৮০ একরের একটি ইকোপার্ক বলা হয়েছে, যা ১৯৯৯ সালে গড়ে তোলা হয়। ২০২৪ সালের মে মাসে ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, ৫০ থেকে ৬০টি হাতির একটি দল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মধুটিলা ইকোপার্কের বেতকুচি পাহাড়ে অবস্থান করছিল। এ থেকে বোঝা যায়, পার্কের বন আর হাতির চলাচল কতটা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নে চেল্লাখালী নদী, ডিসেম্বর ২০১৫। ছবি: Anup Sadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নে চেল্লাখালী নদী, ডিসেম্বর ২০১৫। ছবি: Anup Sadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সীমান্তের পাহাড়ের হাতি


এশীয় হাতি (Elephas maximus) বাংলাদেশে আইইউসিএনের তালিকায় মহাবিপন্ন। বন অধিদপ্তর ও আইইউসিএন বাংলাদেশের উদ্ধৃত ২০১৬ সালের গণনা অনুযায়ী, দেশে স্থায়ী বন্যহাতি ছিল ২৬৮টি, যার সবই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বনে। হাতির উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৪৪টি ফরেস্ট রেঞ্জে, যার আয়তন ১,৫১৮ বর্গকিলোমিটার, আর ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে দেশে ঘোষিত হাতি চলাচলের করিডোর ১২টি। বন অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মানুষ-হাতি সংঘাত ও বিদ্যুতায়িত করে অন্তত ৫০টি হাতি মারা হয়েছে, যার ৩৪টি শুধু ২০২১ সালেই।

শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার সীমান্ত এলাকার হাতিরা আলাদা একটি দল। মোঙ্গাবে ২০২৫ সালের মার্চ ও জুনের প্রতিবেদনে এদের ভারতের মেঘালয়ের পাহাড় থেকে আসা অস্থায়ী (নন-রেসিডেন্ট) দল বলে বর্ণনা করে, যারা প্রথাগতভাবে ডিসেম্বর থেকে মে মাসে ধান কাটার মৌসুমে নেমে আসে এবং পরে ফিরে যায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ মোঙ্গাবেকে বলেন, ২০১৯ সাল থেকে সীমান্ত বেড়ার ফটকগুলো বন্ধ থাকায় যে হাতিগুলো এপারে এসেছে, তারা আর ফিরতে পারছে না এবং খাবারের খোঁজে ফসলি জমিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রধান বন সংরক্ষক ২০২৫ সালের মার্চে জানান, সীমান্ত পারাপারকারী হাতি নিয়ে ২০২০ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রটোকলের আওতায় তৈরি একটি আদর্শ কার্যপ্রণালী (এসওপি) মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ভারতের সঙ্গে ভাগ করা হবে।

দুই পক্ষেরই ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। বন বিভাগ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য উদ্ধৃত করে ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৪ সালের মে মাসে জানায়, আগের এক দশকে শেরপুরের গারো পাহাড়ে হাতির আক্রমণে ৩৪ জন মারা গেছেন এবং ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন; একই সময়ে মানুষের আক্রমণসহ নানা কারণে ৩০টি হাতি মারা গেছে। মোঙ্গাবে ২০২৩ সালের এপ্রিল ও মে মাসে শেরপুরে তিনজনের মৃত্যুর কথা লিখেছে, আর ২০২৩ সালের ৬ মে ঝিনাইগাতীর একটি ধানখেতে একটি হাতি মৃত পাওয়া যায়, যেখানে হাতি ঠেকাতে বিদ্যুতের তার পাতা হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুনে মোঙ্গাবে জানায়, সরকার শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা সীমান্তের প্রায় ৪১ কিলোমিটার এলাকাকে রক্ষিত এলাকা ঘোষণার পরিকল্পনা করছে; অধ্যাপক ফিরোজের হিসাবে সীমান্ত থেকে ভেতরের দিকে পাঁচ কিলোমিটার ধরলে এলাকাটি প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার, তবে তিনি সতর্ক করেন যে এর বেশির ভাগই এখন বসতি ও ফসলি জমি।

বাংলাপিডিয়া জানায়, হাতি সাধারণত ৫ থেকে ২০টির দলে থাকে; ঘাস, কলাগাছ, বাঁশ, গাছের বাকল, পাতা, ফল ও ফুল খায়; একটি বাচ্চা জন্ম দিতে গর্ভকাল ২০ থেকে ২২ মাস; আর আয়ু ৬০ থেকে ৭০ বছর। এত ধীর প্রজননের কারণেই সংরক্ষণবিদেরা প্রতিটি হাতির মৃত্যু ও বনের প্রতিটি বিঘ্নিত অংশকে গুরুত্ব দেন। মোঙ্গাবের তথ্যমতে, সরকার ২০১৮ সালে দশ বছর মেয়াদি হাতি সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে, আর বন্যপ্রাণীর কারণে ক্ষতির জন্য ২০১০ সালে চালু হওয়া ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা ২০২১ সালে হালনাগাদ করা হয়। সুফল প্রকল্পের আওতায় বন অধিদপ্তর ও আইইউসিএন বাংলাদেশের মতো সংস্থাগুলো সংঘাতপ্রবণ এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করে।

রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে একটি এশীয় হাতি, ২০১৮ সালে তোলা; প্রসঙ্গের ছবি, নালিতাবাড়ীর ঘটনাস্থলের নয়। ছবি: AKM Emdadul Islam Bitu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে একটি এশীয় হাতি, ২০১৮ সালে তোলা; প্রসঙ্গের ছবি, নালিতাবাড়ীর ঘটনাস্থলের নয়। ছবি: AKM Emdadul Islam Bitu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

শেরপুরের পাহাড়ে পাথর উত্তোলনের পুরোনো ইতিহাস


শেরপুরের পাহাড় থেকে পাথর ও বালু তোলা নতুন নয়। ২০০৫ সালের ১৫ জুন দ্য ডেইলি স্টার জানায়, প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ে সংঘবদ্ধ চক্রের অবৈধ পাথর উত্তোলন আবার শুরু হয়েছে, এবং দুই উপজেলায় অন্তত ৩৫টি অবৈধ কোয়ারির কথা উল্লেখ করে। স্থানীয়রা পত্রিকাটিকে জানান, ভালো পাথরের জন্য শ্রমিকেরা মাটির ২০ থেকে ৩০ ফুট গভীর পর্যন্ত খোঁড়েন এবং প্রতি ঘনফুট পাথর তোলার জন্য ২৫ থেকে ৩০ টাকা পান। একজন উপঠিকাদার নালিতাবাড়ীর বারোমারী ও লাউচাপড়াকে বড় কোয়ারির জায়গা হিসেবে উল্লেখ করেন।

ময়মনসিংহ বন বিভাগের তখনকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে বলেন, পাহাড় কাটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, তাই পাহাড় থেকে পাথর তোলা অবৈধ। তিনি স্বীকার করেন, এই উত্তোলন পরিবেশের ভারসাম্যকে হুমকিতে ফেলছে এবং বর্ষায় ভূমিধস ঘটাতে পারে; তাঁর ভাষ্য, এতে মাটির নিচের পানিপ্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়, যা শেষ পর্যন্ত পাহাড়কে অনুর্বর করে দিতে পারে। তখনও স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, যেমনটি ২০২৬ সালে আবার শোনা গেছে, প্রভাবশালীদের আশীর্বাদেই এই কারবার চলে।

সিসি ব্লক কী এবং কেন এতে বালু-পাথর লাগে


সিসি (সিমেন্ট কংক্রিট) ব্লক হলো ছাঁচে ঢালাই করা কংক্রিটের ব্লক; জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী নালিতাবাড়ীর ব্লকগুলো পাহাড়ি ঝরনার বালু, নুড়ি ও পাথর দিয়ে তৈরি হচ্ছিল। বাংলাদেশে নদীর পাড় রক্ষায় এমন ব্লক একটি প্রচলিত উপকরণ, আর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বলেছেন, তিনি পুকুরপাড় বাঁধাইয়ের জন্য এগুলো বানিয়েছেন। কে. ওবারহাগেমান ও এ. আমিনুল হকের ২০১৬ সালের একটি গবেষণাপত্র, যা স্কাওয়ার ও ক্ষয়বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই দশকে গড়ে তোলা নদীতীর রক্ষার পদ্ধতির বর্ণনা দেয়: পানির নিম্নসীমার নিচে বালুভর্তি জিওটেক্সটাইল ব্যাগের কয়েক স্তর, আর তার ওপরে কংক্রিট ব্লকের একটি স্তর। এ ধরনের তীর রক্ষার কাজ করে ঠিকাদারেরা, আর বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী নালিতাবাড়ীর কারখানার ক্রেতাও ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এই চাহিদাই ব্লক কারখানাকে পাহাড়ের সঙ্গে যুক্ত করে। খোলা বালু ও পাথর ভারী ও কম দামি, আর রাস্তায় পরিবহনের সময় সহজেই চোখে পড়ে; ব্লকে রূপ নিলে সেগুলো তৈরি পণ্য হিসেবে বের হয়ে যায়। জাগো নিউজে উদ্ধৃত বাসিন্দাদের ভাষ্য ছিল ঠিক এটাই: নদীর বালুমহাল বন্ধ থাকায় বনের ভেতরে ব্লক বানানো হচ্ছিল।

২০২৬ সালের মার্চে আইন যা বলত


প্রতিবেদন প্রকাশের দিন বন্যপ্রাণী ও রক্ষিত এলাকা পরিচালিত হচ্ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ দিয়ে, যা ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে কার্যকর এবং যা ২০১২ সালের আইন রহিত করে। এর রক্ষিত এলাকাসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে এবং এলাকার ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর মতামত নিয়ে অভয়ারণ্য ঘোষণা করতে পারে, যার একটি ধরন হাতি অভয়ারণ্য। ঘোষিত অভয়ারণ্য বা জাতীয় উদ্যানে অন্যান্যের মধ্যে যেসব কাজ নিষিদ্ধ:

  • কোনো শিল্প কারখানা স্থাপন বা পরিচালনা;
  • বন্যপ্রাণী শিকার, উত্ত্যক্ত করা বা ভয় দেখানো, কিংবা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বিনষ্ট হতে পারে এমন কিছু ব্যবহার;
  • ময়লা-আবর্জনা বা যেকোনো খনিজ পদার্থ ডাম্পিং বা স্তূপ করা;
  • কোনো খনিজ পদার্থ আহরণের জন্য অনুসন্ধান বা গর্ত করা;
  • প্রাকৃতিক বংশবিস্তারের জন্য সিলভিকালচারাল কাজ ছাড়া অন্য কারণে উদ্ভিদ কাটা।

অধ্যাদেশে অভয়ারণ্যের সীমানা থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যে শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ইটভাটা স্থাপন বা পরিচালনাও নিষিদ্ধ, এবং বন্যপ্রাণীর জন্য কোর জোন, বাফার জোন, করিডোর ও ল্যান্ডস্কেপ জোন ঘোষণার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে। অভয়ারণ্যের বিধিনিষেধ ভাঙলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি নতুন অধ্যাদেশ নিয়ে ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনেও একই কথা বলা হয়: রক্ষিত এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ইটভাটা নয়, আর অভয়ারণ্যে চাষাবাদ, খনিজ আহরণ ও আগুন লাগানো নিষিদ্ধ। জাগো নিউজ এলাকাটিকে হাতির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত বলে বর্ণনা করেছে; জায়গাটি গেজেটভুক্ত অভয়ারণ্যের ভেতরে কি না, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি, আর ২০২৫ সালের জুনে মোঙ্গাবে উত্তর-পূর্বের হাতির জন্য রক্ষিত এলাকাকে একটি পরিকল্পনা হিসেবেই উল্লেখ করেছিল।

আরও দুটি পুরোনো আইনও এমন ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৯৯০ সালে সংশোধিত বন আইন, ১৯২৭ অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনে পাথর তোলা বা কাঠ ছাড়া অন্য বনজ দ্রব্য সরানোর শাস্তি সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানা, আর আইনটি বনে পাওয়া পাথর, উপরিভাগের মাটি ও খনিজকে বনজ দ্রব্য হিসেবে গণ্য করে। ২০২৩ সালে সংশোধিত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৬২ নং আইন) অনুযায়ী, সরকারি মালিকানাধীন উন্মুক্ত স্থান, চা বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে বালু বা মাটি তোলা যাবে না, যদি তা বন বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে হয়, পাহাড় বা টিলার ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, কিংবা প্রাণী, উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে, আর ব্যবহৃত যানবাহন ও সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত হয়; বিচার হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। কোনাবাড়ী বড়খোলে এর কোন বিধান প্রযোজ্য, তা নির্ভর করছিল জমির আইনি অবস্থা এবং বালু-পাথরের উৎসের ওপর, যা খতিয়ে দেখার কথাই ইউএনও বলেছিলেন।

ছবি: Shariful Islam Masum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ২৪, প্রথম আলো, মোঙ্গাবে, দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, ঢাকা টাইমস, বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ আইন (লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ), এইচআর ওয়ালিংফোর্ড (আইসিএসই ২০১৬)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)