শিল্পনগর নারায়ণগঞ্জে ছাদকৃষিতে ফিরছে সবুজ
কলকারখানা আর বাণিজ্যের শহর নারায়ণগঞ্জ। প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় আর শিল্পায়নের চাপে দিনে দিনে এখানকার পরিবেশ অনেকটাই হুমকির মুখে পড়ছে। তবে এই সংকটের মাঝেও আশা জাগাচ্ছেন ছাদকৃষি উদ্যোক্তারা।
কলকারখানা আর বাণিজ্যের শহর নারায়ণগঞ্জ। প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় আর শিল্পায়নের চাপে দিনে দিনে এখানকার পরিবেশ অনেকটাই হুমকির মুখে পড়ছে। তবে এই সংকটের মাঝেও আশা জাগাচ্ছেন ছাদকৃষি উদ্যোক্তারা।
ছাদকৃষিবিদেশের আভিজাত্য ছেড়ে মাটির টানে
এক সময়ের পড়ে থাকা শহরের ছাদগুলোই এখন ভরে উঠছে গাছগাছালি আর ফল-ফসলে। চোখ জুড়ানো এই সবুজ শুধু সৌন্দর্য নয়, নগরবাসীদেরকে এনে দিচ্ছে নিরাপদ খাদ্য আর মানসিক প্রশান্তি।
আধুনিক প্রযুক্তি আর সচেতন পরিকল্পনা থাকলে ছাদের উপরেও যে গড়ে তোলা যায় সবুজের সফল কৃষিক্ষেত্র, তা প্রমাণ করে দেখাচ্ছেন ঢাকার উত্তরার আব্দুর রশীদ। অল্প জায়গায়, নান্দনিক বিন্যাসে, তিনি ফলাচ্ছেন নানা জাতের সবজি ও ফসল। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি তার ছাদটি পরিণত হয়েছে অবসর কাটানোর ঠিকানা।
‎মানুষের ক্যালেন্ডারে থার্টি ফার্স্ট নাইট মানে নতুনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে উল্লাস আলো, শব্দ আর রঙের উৎসব। কিন্তু শহরের আকাশের নিচে, গাছের ডালে, নালার পাশে, ছাদের কোণে কিংবা খোলা মাঠে চলে আরেকটি নীরব ক্যালেন্ডার। যেখানে বসবাস করে পাখি ও নানা ধরনের প্রাণী। সেখানে দিন বদলায় না আতশবাজির আলোয়; বদলায়
ছাদকৃষিঢাকার ডেমরার বক্সনগর, যেখানে একসময় ছিল খোলা মাঠ আর সবুজের আধিক্য, আজ সেখানে কংক্রিটের দাপট। কিন্তু এই নগর বাস্তবতার মাঝেই ব্যতিক্রম গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তা শাহ আলম। প্রায় ২২০০ বর্গফুট ছাদজুড়ে তিনি তৈরি করেছেন একটি পরিকল্পিত কৃষিক্ষেত্র, যেখানে চাষ হচ্ছে শতাধিক প্রজাতির ফল, মৌসুমি সবজি ও সৌখিন গাছ।
ছাদকৃষিঢাকা উত্তরা দক্ষিণখানের সালাম শিকদার দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশের মাটির প্রতি ভালোবাসা ও পরিবারের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গড়ে তুলেছেন তার ছাদে ১৯০ বর্গফুটের ফল-ফসলি ছাদকৃষি। ড্রাগন ফল, কলা, ডালিমসহ নানা ফলের গাছের সঙ্গে জৈব অনুশীলনে তিনি করছেন উৎপাদন ও পরিচর্যা। শহরের দূষণ মোকাবেলা ও স্বাস্থ্যসম্ম
নগরায়নের চাপে শহর যতই বাড়ছে, ততই কমছে সবুজের পরিসর। কংক্রিটের দখলে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির স্বাভাবিক রূপ। তবে এই বাস্তবতায়ও কেউ কেউ নিজের উদ্যোগে ফিরিয়ে আনছেন কৃষি ও সবুজ প্রকৃতি। মাটি আর গাছের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থেকেই ছাদে গড়ে তুলছেন ছাদকৃষি। এমনই একজন উদ্যোক্তা ঢাকা ডেমরার শাহ আলম।
ছাদকৃষিফরিদপুরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক শহরে এক টুকরো সবুজ স্বর্গ তৈরি করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন শিপ্রা গোস্বামী। শৈশব থেকেই কৃষি আর প্রকৃতির প্রতি গভীর টান ছিল তার। আর সেই ভালোবাসাকেই বাস্তব রূপ দিয়েছেন নিজের বাড়ির ছাদে গড়ে তোলা অসাধারণ ছাদকৃষিতে।
দেশের অন্যান্য শহরের মতো ফরিদপুর শহরের আয়তনও দিন দিন বেড়েই চলেছে। নগরায়ণের এই বিস্তারে কমছে কৃষিজমি, বাড়ছে পরিবেশের ওপর চাপ। তবে এরই মাঝে একদল মানুষ ব্যতিক্রমী উদ্যোগে শহরে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন হারানো সবুজ। নিজেদের বাড়ির ছাদকে কাজে লাগিয়ে তারা গড়ে তুলছেন ছাদকৃষি।
রাজধানীর দক্ষিণ মাণ্ডা এলাকার ৯ বছর বয়সী শিশু আফসানা মিহি গুঞ্জন বাবার সঙ্গে থেকে ছাদকৃষি অনুশীলনে দক্ষ হয়ে উঠেছে। শিখেছে ফল-ফসল উৎপাদনের নানান কৌশল। পরিবারের মানুষজন বলছেন, এই চর্চা তাকে কৃষি ও প্রকৃতিপ্রেমী করে গড়ে তুলছে।
ছাদকৃষিমুন্সিগঞ্জ সদরের বদ্রযোগিনী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম আইয়ুব। ১৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি গত দুই বছর ধরে তিনি মনেপ্রাণে করছেন ছাদ কৃষি।
নগরকৃষির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন শহরের অনেকেই। শহরে থেকেও খাদ্য উৎপাদনের তাগিদ থেকে যুক্ত হচ্ছেন ছাদকৃষি কার্যক্রমে। রাজধানীর মালিবাগের বাসিন্দা মনির হোসেন মনে করছেন, আগামীর বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে প্রতিটি নাগরিকেরই কৃষির প্রতি মনযোগী হওয়া উচিত।।