ছাদে ৪০ ধরনের ফল সবজি
তিন তলা বাড়ির ছাদজুড়ে নানা প্রজাতির ফল। এখানে ৪০ ধরনের ফল ও সবজি। তিন বছর ধরে বাগানটি গড়ে তুলেছেন চাকরিজীবী মিজানুর রহমান। শখের বশে ছাদবাগান শুরু করলেও গত কয়েক বছর এখানে উৎপাদি
তিন তলা বাড়ির ছাদজুড়ে নানা প্রজাতির ফল। এখানে ৪০ ধরনের ফল ও সবজি। তিন বছর ধরে বাগানটি গড়ে তুলেছেন চাকরিজীবী মিজানুর রহমান। শখের বশে ছাদবাগান শুরু করলেও গত কয়েক বছর এখানে উৎপাদি
জীবনকে সুন্দর করে গুছিয়ে নিতে ছাদকৃষির উদ্যোগ নিচ্ছেন অনেকেই। তাদেরই একজন ধানমণ্ডি শংকরের পুষ্টিবিদ নূসরাত ফাতেমা পলি। তার কাছে পুষ্টির পাশাপাশি সুখময় জীবনের এক বড় নিয়ামক হতে পারে ছাদকৃষি।
অবসর জীবনে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ছাদকৃষি রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অনেকের মতই এই সুফল ভোগ করছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আজিজুল হক। ঢাকার মহাখালীতে বাসভবনের ২ হাজার ৩’শ বর্গফুটের ছাদে গড়ে তুলেছেন তিনি মনোরম ছাদকৃষি।
কর্মহীন অবসর জীবনকে ছন্দময় ও অর্থবহ করে তুলতে গত আড়াই বছর ধরে ছাদকৃষির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন রাজধানীর মিরপুরের অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক অধ্যাপক আজিজুর রহমান।
স্থাপত্যবিদ্যার সুবিন্যাসে নিজ বাড়ির ছাদকে সাজিয়েছেন মিরপুরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হাসান। মাত্র ২৬শ বর্গফুটের ছাদে প্রযুক্তি নির্ভর কৃষির আয়োজন করে উৎপাদন করছেন দরকারি শাক সবজি আর ফল ফসল।
সুর আর সংগীতের মতোই ফুলফল আর বনস্পতির সাথে গভীর ভালোবাসায় জড়িয়ে ছিলেন শাহনাজ রহমতউল্লাহ। সংগীত জীবনের তারুণ্যদীপ্ত দিনগুলো পেরিয়ে তিনি মগ্ন ছিলেন দেশপ্রেম, পারিবারিক বন্ধন, কৃষি আর প্রকৃতি নিয়ে। বারিধারার সুসজ্জিত বাসভবনের ছাদে গড়ে তুলেছিলেন নিজের মনের মতো এক সবুজ প্রাঙ্গন। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয
ছাদে শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি বিষমুক্ত ফল-ফসল উৎপাদনে ঝুঁকছেন উদ্যোক্তারা। ফল ফসলের রোবালাই দমন থেকে শুরু করে সব বিষয়ে তারা রপ্ত করছেন অভিজ্ঞতা ও কৌশল।
ছাদকৃষি নিয়ে নানামুখি গবেষণা চলছে। গবেষণার জন্য মডেল ছাদকৃষি গড়ে তুলেছে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ। ছাদকৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে সেখানে।
রাজধানীর মনিপুরি পাড়ায় নিজ বাড়ির ছাদে সমৃদ্ধ ছাদকৃষি গড়েছেন বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক কৃষিবিদ এম এনামুল হক। গত ১৮ বছর সবজি, ফুল ও ফলের দেশি বিদেশি গাছের চারাকে ছাদকৃষি উপযোগী করা চেষ্টায় গবেষণা করছেন তিনি।
গাছপালা আর প্রকৃতিকে ভালোবেসে নিজের ভুবন সাজিয়েছেন উত্তরার ফায়দাবাদের সূচিশিল্পী আমিনুল ইসলাম। এখন বিষমুক্ত ফল ফসল আর সৌখিন কৃষির সঙ্গেই তার বসবাস। বলেছেন, এখান থেকেই তিনি খুঁজে পান প্রকৃত ভালোবাসার প্রাণশক্তি।
শ্যামলীর আশা টাওয়ারের বিশাল ছাদের এক অংশে গড়ে তোলা ছাদকৃষি থেকে মিলছে বিষমুক্ত ফল-ফসল। উদ্যোক্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে এটিকে গড়া হবে ছাদকৃষির মডেল রূপে, যেখান থেকে যে কেউ নিতে পারবে ছাদকৃষি সম্পর্কে সম্যক ধারণা।
বিষমুক্ত ফল-সবজি আর সবুজ নিঃশ্বাসের উৎস হিসেবে ছাদকৃষি গড়ে তুলতে চিকিৎসকরা অনেক বেশি উৎসাহী। ধানমন্ডির ডাক্তার প্রাণ গোপাল দত্ত এবং ডাক্তার জয়শ্রী রায় তেমনি এক চিকিৎসক দম্পতি। শত ব্যস্ততার মাঝেও ছাদকৃষিতে নিয়োজিত থেকে নানা ভাবে উপকৃত হচ্ছেন তারা।
মহাখালী ডিওএইচএস-এর জারনিগার চৌধুরী বাসভবনের ছাদে গড়ে তুলেছেন ফুল-ফল-ফসলের মনোরম ছাদকৃষি। এই ছাদকৃষি যেমন তার ব্যক্তিজীবনকে সমৃদ্ধ করছে, তেমনি শারীরিক অসুস্থতা নিরাময়েও হয়ে উঠেছে কার্যকরী।