সাগরে মাছ কম, দাদনের বোঝা: পেশা ছাড়ছেন চরফ্যাশন-মনপুরার জেলেরা
মাছ কমে যাওয়া, জ্বালানি তেলের দাম, দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আর এনজিও ও মহাজনের ঋণের চাপে ভোলার চরফ্যাশন-মনপুরার জেলেদের অনেকে বিকল্প পেশা খুঁজছেন।
মাছ কমে যাওয়া, জ্বালানি তেলের দাম, দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আর এনজিও ও মহাজনের ঋণের চাপে ভোলার চরফ্যাশন-মনপুরার জেলেদের অনেকে বিকল্প পেশা খুঁজছেন।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর সোনারচর থেকে ৮০-১০০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে শনিবার ভোররাত থেকে ইঞ্জিন বিকল ট্রলারে আটকে আছেন ভোলার চরফ্যাশনের ১৮ জেলে।
বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত; মঙ্গলবার বিকেলে রাঙ্গাবালীতে ঢেউয়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবলেও ৯ মাঝিমাল্লাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এশিয়ার বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হাকালুকি হাওরে এবার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে, স্থানীয় বাজারে মিলছে তুলনামূলক কম দামে।
বরগুনার তালতলীর এফবি জান্নাত-জুনায়েদ ট্রলারটি কুয়াকাটা উপকূল থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ডুবে যায়; ১৩ জেলের ১১ জন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।
বরগুনার পাথরঘাটার এফবি নাজমা ট্রলার গভীর বঙ্গোপসাগরে এক জালে প্রায় ৯৫ মণ ইলিশ পেয়েছে; মণপ্রতি ১৮ থেকে ৪১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে এসেছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
মৎস্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে লোয়ার পদ্মায় ইলিশ আহরণ ২০২০-২১ অর্থবছরের ১,১৫৯ টন থেকে ২০২৪-২৫-এ ৬২২ টনে নেমেছে; দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুরের জেলেরা কৃষিকাজ বা রিকশায় ঝুঁকছেন।
রাজবাড়ীর পদ্মায় জেলে সেকেন হালদারের জালে ধরা পড়া ৩৩ কেজির বাঘাইড় দৌলতদিয়া আড়তে নিলামে ৭২ হাজার ৬০০ টাকায় ওঠে, পরে ঢাকার ব্যবসায়ীর কাছে যায় ৭৯ হাজার ২০০ টাকায়।
কিশোরগঞ্জের ইটনা মৎস্য অফিসের হিসাবে প্রাকৃতিক জলাশয়ের উৎপাদন ২০২২-২৩-এর ৯,০১৪ টন থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬-এ ১৪,৫৩৬ টন হলেও জেলেরা বলছেন গলদা, কাজলি, রুই, বাতাসি, বাছা, রিটা ও আইড় আগের ২৫ শতাংশও মিলছে না; নিষিদ্ধ জাল, ডুবুবাঁধ, নাব্যতা হ্রাস ও কীটনাশককে দুষছেন তাঁরা।
মৌসুমের শেষে পোনাবালিয়া, দেউরি ও নলছিটির মাটিভাঙ্গার জেলেরা জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছেন না; জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলছেন, জুন-সেপ্টেম্বরে আহরণ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি, অন্য জেলায় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মিললেও এখানে নয়, দূষণ ও পলি কারণ হতে পারে।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের নদী-খাল-বিলে কয়েক দশক আগের সিকি ভাগ দেশি মাছও এখন মেলে না; জলাশয় ভরাট, কীটনাশক, রেণু-পোনা নিধন, কারেন্ট ও দুয়ারি জাল আর সময়মতো বৃষ্টি না হওয়াকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা, বাজারে চাষের মাছেরই আধিক্য।
কুয়াকাটার আড়তে নিলামে ওঠা একটি ইলিশ কেজিপ্রতি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে; বড় ইলিশ কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে সতর্ক করছেন গবেষকরা।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ইলিশ আহরণ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে; ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আসছে।