নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সবার জন্য সহজলভ্য করতে প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার বা নির্ভুল কৃষি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং তরুণদের কৃষিতে যুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সেমিনারে এ আহ্বান আসে। প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, সভাপতিত্ব করেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান।
কৃষি সচিব বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য, আর কৃষিকে লাভজনক করতে নির্ভুল কৃষিকে নীতিগত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খামার থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের ড্রোন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে বিশেষ প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধে বিশেষজ্ঞ ইফতেখারুদ্দৌলা বলেন, টেকসই রূপান্তরে জেনেটিক, ব্যবস্থাপনা ও স্থানগত, এই তিন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে; জিনোমিক্স ও বায়োইনফরমেটিক্সের মতো টুলস উৎপাদনশীলতা অনেক বাড়াতে পারে। জিন সম্পাদনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং মিলিয়ে জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি গড়ার পাশাপাশি যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার, আগাম সতর্কতা, বাজার তথ্য ও ক্রপ জোনিংয়ের কথা বলেন তিনি; খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার ওপরও জোর দেন।
আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ভ্যালেন্টাইন আচানচো জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাস্তবায়িত ‘স্মলহোল্ডার অ্যাগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ক্ষুদ্র কৃষক পরিবার মানসম্মত বীজ, ফার্মার বিজনেস স্কুল ও সৌরচালিত সেচের সুফল পাচ্ছে। নতুন ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লাইমেট প্রজেক্ট’ গ্রামীণ বাংলাদেশে ছড়াচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বার্কের সাবেক মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, চাল, গম, ডাল, তেল ও ফলের চাহিদা মেটাতে উৎপাদনের সম্ভাবনা ও অর্জনের ব্যবধান কমাতে হবে। বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সামলাতে সুষম সার, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র কৃষকের দোরগোড়ায় প্রযুক্তি ও বিপণনব্যবস্থা পৌঁছানো দরকার।
প্রতিবেদন: বাংলা নিউজ ২৪-এর সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট।
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)